ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর
সোনিয়া আবেদীন
তৃপ্তি বেলকনি দাড়িয়ে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, ভাবে আগামীতে কি হবে ওদের জীবনে।নাকি আবারো ওর আকাশে কালো মেঘ এসে হানা দেয়, ও তো দূর্বল মনের মেয়ে, কারো সাথে চাইলেও শক্ত হতে পারে না। পারবে কি আপনজনদের শাস্তি দিতে, নাকি এই আপনজনদের কারনে আবারো ওর সুখের সংসার আগুন জ্বলবে।না না আমি এইবার নিজের সাথে হওয়া অন্যায় মেনে নিয়েছি কিন্তু এইবার আর না, ওরা যেমন আমাকে তেমন হতে হবে।
রুমে শব্দ পায়, তাইতো বেলকনি থেকে রুমে আসে, মেয়েটা ঘুমিয়ে আছে টেডি নিয়ে। ও লাকেসে কাপর গুছিয়ে রেখেছে,সকাল এগারোটায় ওদের ফ্লাইট। অবশেষে ও সেই শহরে যাচ্ছে, যে শহরের আপনজন নামক মানুষ গুলো ওর সাথে বেইমানি করেছে। ভয় হয় যদি নতুন করে কাউকে হারিয়ে ফেলে, যদি মা, ভাই বোনকে খুঁজে না পাই।
আয়মান রুমে দেখে প্রিয়সীর উদাসীনতা চেহারা, দীর্ঘস্বাস ফেলে কাছে যায়। পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে চুমু দেয়, জান ভয় পেও না, আমি সব ঠিক করে দিবো। মনে রেখো তোমার স্বামী দূর্বল কেউ না, আজকের এই দিনটার জন্য এতো বছর অপেক্ষা করছি। আমজাদ ও নিখিল আমাদের কিছুই করতে পারবে না। এতো বছর যাদের পাওয়ারে সে নেচেছিল সেই পাওয়ারের লোকেরাই তার বিরুদ্ধে কথা বলবে তুমি দূর্বল হয়ে পড় না, নিজেকে শক্ত রেখে সামনে আগাবে।
কারো মায়া কান্নায় পরে নিজের কষ্টের কথা ভুলে যেও না, মনে রাখবে ওরা আপনজন হওয়ার আগে তোমার কাঠগড়ার আসামী। আর আসামীদের শান্তি দিতে হয়,ক্ষমা নয়।
পরের দিন সকালে সবাই এয়ারপোর্টে রওনা হয়, এয়ারপোর্ট যাওয়ার পরে সেখানে রাফ ও আসে। রাফকে দেখে তৃপ্তি ভ্রু কুঁচকে বলে, তুমিও কি যাবে নাকি।
মিরাফ: কি করবো পুতুল বৌ, ঐ ভিলেনের সাথে তো তোমাকে একা ছাড়তে পারি না। তাছাড়া বাচ্চারা ও যাবে তোমার সাথে ,এখন তোমাকে ছাড়া থাকি মানা যায় কিন্তু আমার বাচ্চাদের ছাড়া থাকবো কেমন করে।ওদের ড্যাডা ওদের জান উজার করে ভালোবাসে, সেই ভালোবাসাটা ওর মা বুঝল না। আমার মতো একটা হট ,হ্যান্ডসাম ছেলে রেখে, তুমি বুড়োর পিছনে সময় নষ্ট করছো পুতুল বৌ।
তাবিন্দা ওর ড্যাডার কথা শুনে খিল খিল করে হেসে উঠে, ওর কাছে ও ড্যাডাকে খুব ফানি লাগে। এইযে পিছনে ওর বাবা দাড়িয়ে তার কমেডি দেখছে ,একটু পরেই কানে ধরে মোচড় দিলেই চিচিয়ে মাম্মাকে ডাকবে।
তৃপ্তি: তোমার খেয়ে দেয় কাজ নাই সব সময় মানের পিছনে পরে থাকো, শুনতে পারলে খবর আছে।
মিরাফ: আমি ভয় পাই না কি ভাইয়াকে, আমি যানি ফুলের কাঁটা থাকে তাই সেই কাঁটাকে উপরে ফেলে আমি ফুলকে হাসিল করতে চাই।
আয়মান: ঐ তুই কি বললি, দাড়া আজ তোকে প্লেন থেকে ফেলে দিব।তোকে না বলেছি আমার জানের সামনে যাবি না,, এখন ওর সামনে দাড়িয়ে কি করছিস।
মিরাফ: আরে ভাইয়া তুমি, আমি তো পুতুল বৌকে বলছিলাম তুমি তাকে রেখে দাড়িয়ে আছো কেনো। যাও যাও পুতুল বৌ ভাইয়ার কাছে যাও, তোমার বিরহে ভাইয়া কেমন কাহিল হয়ে গেছে।আয় বাচ্চারা আমার সাথে তোদের জন্যই তো এসেছি, বলে বাচ্চাদের নিয়ে যায়। তৃপ্তি হেসে মানের সামনে যায়। দুই ছেলে হাসতে হাসতে বলল, ড্যাডা তুমি একটু আগে মাম্মামের সাথে ফ্লাট করলে এখন পাপাকে দেখে ভালো মানুষ হয়ে গেলে।
চুপ কর ড্যাডার বাচ্চা তোর পাপা শুনলে আমার পিঠের ছাল রাখবেনা, তোদের মায়ের জন্য তোদের পাপা আমাকে কতো মে*রেছে তার হিসাব নেই।তোর পাপাকে খেপাতে ভালো লাগে, আমাকে তোদের মাম্মামের পাশে দেখলেই কেমন ফুঁসতে থাকে।
ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর, হৃদয় নিয়ে খেলতে এসেছি,
কাঁধে নিয়ে অগণিত অপূর্ণতার ভার।
এ শহরের পথে পথে ছড়িয়ে আছে ভাঙা প্রতিশ্রুতি,
আর দেয়ালজুড়ে লেখা নীরব অভিমানের ইতিহাস।
এখানে হাসিগুলোও যেন অভিনয়ের মুখোশ পরে,
চোখের ভাষা লুকিয়ে রাখে অজানা যন্ত্রণার গল্প।
কলমে- সোনিয়া
দেশের এয়ারপোর্ট এসে পা রাখতেই মনটা ভরে যায় তৃপ্তির ,আমি এসেছি দেশে আপনজনকে খুঁজতে।এক দিন এখানে থেকে সব হারিয়ে দুরে গিয়েছিলাম ,আজ ওদের সব হারাতে এসেছি। গুলসানের ফ্ল্যাটে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার খায়, বান্ধবীদের সাথে কথা বলে। আয়যান ওর গার্ডদের সাথে কথা বলে, তারপর সেই বাড়িতে উঠবে সেই ব্যাপারে কথা বলে।
তৃপ্তি এতো গার্ড দেখা বুঝে যায় ওর স্বামী নিশ্চয়ই বড় মাপের কেউ, ও কথা বাড়ায় না, বাচ্চাদের ঘুমাতে দিয়ে নিজেই শুয়ে পড়ে। আয়মান একটু পরে এসে তৃপ্তির পাশে এসে শুয়ে ওকে বুকে জড়িয়ে নেয়।
মান আমার ভয় করছে,যদি তোমাকে হারিয়ে ফেলি। আমি ঐ লোক গুলোর সামনে কেমন করে যাব আমার ভয় করছে, যানিনা কি হয়।
কপালে চুমু দিয়ে বলে , কিচ্ছু হবেনা জান। তোমার স্বামী সেই আগের মতো দূর্বল না, ওবার ওদের প্রতিটা কাজের জবাব পারে।এদেশের মন্ত্রীরাও পর্যন্ত তোমার স্বামীকে ভয় পায় তাই বুঝে নেও সে কি করতে পারে। আমার অর্ধাঙ্গিনী তুমি তাই তোমাকে এতো ভয় পেলে চলবে না, তুমি শক্ত হাতে শত্রুদের মোকাবেলা করবে।
” তাবিন্দা মহল ” খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে, কয়েক দিন পরে নাকি এই মহলের মালিক তার পরিবার নিয়ে থাকতে আসছে। পুরো মহলে গার্ড দিয়ে ভরা ,আজিম শেখ বারান্দায় বসে দেখছে। শুনেছে এই বাড়ির মালিক নাকি কম বয়সের, তার দুটো ছেলে একটি মেয়ে। মেয়েটার নামে নাকি এই বাড়িটার নাম রেখেছে।
ছেলেটা হয়তো ওর মেয়েকে অনেক ভালোবাসে অথচ আজ কতোগুলো বছর পাড় হয়ে গেল ওর ছেলে মেয়েকে দেখে না। বড়টাকে তো হারিয়েছে অবহেলা করে, বাকি দুজনকেও হারিয়ে ফেলেছে। খোদার কাছে কতো মৃত্যু কামনা করছে কিন্তু খোদাও ওর দিকে মুখ তুলে তাকায়নি, হয়তো এটাই ওর পাপের শাস্তি।ফাতেমা আমাকে ক্ষমা করো আমি তোমাদের সাথে অন্যায় করেছি, আমি কেনো ওদের কথায় নিজের স্ত্রী সন্তানদের প্রতি অবিচার করলাম।
কোথায় আছ যানিনা তবে এভাবে হারিয়ে যাবে ভাবতেই পারিনি। একবার ফিরে এসো আমি তোমার পায়ে ধরে ক্ষমা চাইবো, আমার বাচ্চারা তোরাও বুঝি তোর বাবাকে অনেক ঘৃনা করিস।
আজিজ: আজিম খাবিনা, কি ভাবছিস ভাই।আজো কি আমার সাথে কথা বলবিনা, আমাকে আগের মতো ভাইজান বলে ডাকবি না।
আজিম বড় ভাইয়ের ডাকে পিছনে ফিরে তাকিয়ে আবারো সামনে তাকায়। সেই দিন ভাই যদি ওর পায়ের কাছে বসে তার মেয়ের জন্য তৃপ্তিকে না চাইত , তাহলে হয়তো তার মেয়েটা বেঁচে থাকত। কৈ তার মেয়ে তো ঠিকি মা হল, মাঝখান থেকে আমার সংসার নষ্ট হয়ে গেল।
আজিম সেই দিনের পর থেকে কারো সাথে কথা বলে না, দুই ভাইবোনের প্রতি ওর আকাশ সমান অভিমান। ঐদিন বোনটা যদি ওর বাচ্চাদের ধরত তাহলে কি ফাতেমা ওদের নিয়ে নিখোঁজ হত।
আজিজ ভাইয়ের কাছে কোনো জবাব পায়না, তাই আবার চলে যায়। রুমে গিয়ে চুপ করে খাটে বসে থাকে, তখন নাজমুন আসে।
স্বামীকে চুপ করে থাকতে দেখে বুঝতে পারে ভাইয়ের সাথে কথা বলতে গিয়ে ফিরে এসেছে। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।মেয়েটা ঐ দিন যদি ওদের সত্য বলত তাহলে হয়তো আজ এই বাড়িতে সুখের হাসি উঠত ।স্বামীর অপকর্ম লুকাতে একটা সংসার ধবংস করে দিয়েছে, কৈ পারল না তো স্বামীর চরিত্র ঠিক করতে।
মেয়ে হওয়ার পরে যখন অন্য মেয়েকে নিয়ে বিছানায় ধরা খায়, সেই দিন কেঁদে কেঁদে সব সত্য বলেছিল।আজ প্রতিদিন স্বামীকে বিভিন্ন নারীর সাথে দেখে মুখ বুজে সহ্য করে। এটাই হয়তো নিয়তি।
চোখের পানি মুছে স্বামীর কাধে হাত রাখে, আজিজ নাজমুনকে দেখে আবারো মাথা নিচু করে ফেলে। আজো আজিম কথা বলেনি তাই না, কেনো যান ওর সাথে কথা বলতে। বেশি গেলে দেখা যাবে আবারো চলে যাবে ।
আজিজ: কি করবো নাজমুন, আমার কারনে ভাইটার জীবন তছনছ হয়ে গেল ।এই হাতে ওদের জীবন গুছিয়ে দিয়েছিলাম, সেই হাতে সব নষ্ট করে দিলাম। আমি কেনো ঐ দিন তৃপ্তির কথা বিশ্বাস করলাম না ,ছোটো থেকে মেয়েটাকে দেখে আসছি কখনো মিথ্যা কথা বলেনি। তাহলে কেনো সেই দিন ওর কথা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিলাম, নিজের সন্তান নয় বলে। অথচ নিজের সন্তানগুলো কেমন প্রতিনিয়ত আমাকে মিথ্যা বলে গেছে,দেখো আমাদের সন্তানদের ।দুজনেই মিথ্যুক হয়েছে, আবিদার সাথে হাত মিলিয়ে ছোট্ট মেয়েটার অনুভূতি নিয়ে খেলেছে।
কান্তা: মা তোমার ভাইয়ের ছেলে আমাকে এইসব বলল আর তুমি চুপ করে থাকবে। দিন দিন ও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে, আমি কি করি, না করি কিছুর খেয়াল রাখে না। আজকাল ওর মাও আমাকে দেখতে পারে না, বলে বিয়ে হয়েছে সংসার না করে খালি বাপের বাড়ি আর ঘোরাঘুরি করিস। যানো আমাকে রান্না বান্না করতে বলে, বলে একটা বাচ্চা দিতে পারিস না, রান্না করতে পারিস না অথচ এই বাড়ির বৌ হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলি।
দোলা (আহাদের বউ) : যাই করূক না কেনো এখনো তোমাকে ঐ বাড়ি থেকে বের করেনি এটাই বেশি। যে মেয়ে এতো বছরে মা হতে পারেনা তাকে কি বসিয়ে পুজো করবে নাকি, তোমার মা হলে তো কবেই বিদাই করে তোমার ভাইকে বিয়ে করাত। ভুলে গেছো না কি বাচ্চা নেইনি বলে সে কি ব্যবহারটাই না করেছে আমার সাথে। আর বৌ হয়েছো বাড়ির কাজ করবেনা, মানুষ এক বছর হেসে খেলে বেড়ায় তুমি তো পায় ১০ বছর হতে চলছে খালি ঘুরে বেড়াচ্ছো।
তোমার মাই কি এমন বৌ বাড়িতে রাখতে চাইতো, আজিজ মামাকে বোকা পেয়ে তোমরা মা মেয়ে মিলে খালি ধোঁকা দিচ্ছো।
আবিদা: বৌমা তোমার সাহস তো কম না, আমার মেয়েকে কথা শুনাও। আজ আহাদ আসুক ওকে বলে তোমাকে বিদাই করার ব্যবস্থা করছি। যতো বড় মুখ নয় ততো বড় কথা, আমার মেয়ের মতো বড় ঘরের মেয়ে নাকি তুমি যে তোমাকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো।
দোলা: হ্যাঁ তাই করেন অনন্ত আপনার মুখটা দেখতে হবে না, আপনার ছেলেকে বলে দেখেন সে কি চায়। বড় ঘরের মেয়ে আসলে আপনাকে নিয়ে অনন্ত খেতো না, আসার পরের দিন আপনাকে রান্না ঘরে পাঠাতো।
তখনি আহাদ বাড়িতে আসে ওর বাবাকে নিয়ে। আবিদা ছেলেকে দেখে চিৎকার করে উঠে ,দেখ বাবা দেখ এই ফকিন্নির মেয়ে আমার মেয়েকে কথা শুনায়।
আহাদ বিরক্ত হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে কি কথা বলেছে দোলা, তোমার মেয়ে স্বামীর সংসার রেখে সারাদিন এখানে সেখানে কি করে। সংসারের কাজ যাতে করতে না হয় সেই জন্যই কি নাজিমকে ফাঁসিয়ে বিয়ে দিয়েছো। এখনো সময় আছে নাজিমের মন যোগার করে চলতে বলো তানা হলে অতি তাড়াতাড়ি ঐ বাড়ি থেকে ওকে এই বাড়িতে আসতে হবে।
আর এই বাড়িতে এসে আমার বউয়ের উপরে হুকুম জারি করবে সেটা চলেবেনা।ওর কারনে কাল আমার ছেলেটা ব্যথা পেয়েছে, তাই এখন থেকে আসলে ওকে বলবে নিজের খাবার যেনো নিজে নিয়ে খায় ।আমার ছেলে মেয়ের কাছ থেকে যেনো দুরে থাকে, ও তো একটা বেয়াদব হয়েছে সেই সাথে আমার বাচ্চাদের কানে এই সব কি বলে। আমার স্ত্রী তোমার মতো মা হক আমি চাই না, ও গরীব না ধনী সেই গুলো দেখে আমি বিয়ে করছি। তুমি ধনীর ঘরের সন্তান হয়ে কি করছো মা, নিজের সাথে সাথে মেয়েটা ও তেমনটা বানিয়েছো।
ছেলের কথা শুনে স্বামীকে কিছু বলতে চাইলে, কাদের হাত উঠিয়ে থামিয়ে দোলাকে বলে চা দিতে ।মেয়ের অপকর্মের কথা শুনেছে, তাইতো এখন নিজের স্ত্রী ও মেয়েকে দু চোখে দেখতে পারেনা। আবিদা স্বামীর আচরনের ফুঁসতে থাকে, ঐ দিন ফাতেমার সাথে কথা বলাটা সে শুনেছে, তাছাড়া মেয়ের পরকীয়া কথা শুনে তাকে যা নয় তাই বলেছে। শুধু মান সম্মান যাবে বলে নাকি সংসার করছে তানা হলে নাকি তাকে ছেড়ে দিত। আগে ছেলেটা তার কথা শুনে চলত এখন তাও চলে না ,কাদের মেয়ের পরকিয়ার কথা শুনে এখন আলাদা ঘরে থাকে।
তৃপ্তি : মান আমি সিলেট যেতে চাই, আমাকে মা রাহেলা খালার বাসায় পাঠাতে চেয়েছিল। যদি সেখানে গিয়ে আমি মায়ের কোনো সন্ধান পাই।
ওকে জান তাহলে আমরা পরশু যাচ্ছি সিলেট, তুমি সব গুছিয়ে নাও। পরের দিন তৃপ্তিসহ সবাই সিলেটের উদ্দেশ্য রওনা হয়, দুপুরের দিকে ওরা সিলেটের হোটেলে উঠে, ফ্রেশ হয়ে খেয়ে একটু বিশ্রাম নেয়,বিকালের দিকে সেই ঠিকানা অনুযায়ী রওনা হয়।
রাস্তায় মেয়ে বেলুন দেখে বায়না করে কিনবে, গার্ডরা এনে দিতে চাইলে নিবে না। বাবা মাকে নিয়ে কিনবে, মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে আয়মান তৃপ্তিকে নিয়ে গাড়ি থেকে বের হয়। ওরা বেলুন কিনছে তখনি মিরাফ ছবি তুলছে, আয়ান, আয়াজ ওর ড্যাডার কান্ডে খিলখিল করে হাসছে।
এই যে ওর ড্যাডা বেলুন ধরতে গিয়ে দুটো ফুটিয়ে ফেলেছে তার জন্য তার পাপা তাকে জঙ্গলী বলে রাগ দেখাচ্ছে।
তৃপ্তির নাকে সেই চিরচেনা পিঠার ঘ্রাণ আসে তাকিয়ে দেখে সামনে একটা পিঠার দোকান, সেখানে মানুষ ভির করে পিঠা খাচ্ছে তো কেউ নিচ্ছে। সামনে এগিয়ে যায়, দোকানে সাজানো পিঠা দেখে ওর মায়ের কথা মনে পড়ে ওর মা এই সব পিঠা বানাত। ও সেখানকার ছেলেকে বলে একটা পিঠা নেয়, মুখে দিতেই মনে হলো মায়ের হাতে পিঠা খাচ্ছে। মুহুর্তে চোখে পানি এসে পড়ে, দোকানের ছেলেটা তৃপ্তির মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
আপু পিঠাতে কোনো সমস্যা ?
নাআআআ, আমাকে আরো কিছু পিঠা দাও বলে পিঠা নিয়ে গাড়ির দিকে যায়। তখনি ফাতেমা ভিতর থেকে আরো পিঠা নিয়ে কাঁচের ভিতরে রাখতে রাখতে বলছে।
কি রে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো?
খালামনি একটা মেয়ে পিঠা খেয়ে কেঁদে দিয়েছে।
কি বলিস, কৈ মেয়েটা?
ঐযে গাড়ির কাছে, ফাতেমা তাকিয়ে দেখে মেয়েটা একটা ছেলেকে কি যেনো বলে কাঁদছে।
সবাই তারপর গাড়িতে উঠবে, তখন তৃপ্তি আবারো দোকানটার দিকে তাকায়। সেখানে লেখা ” তৃপ্তি পিঠা ঘর “।বুকটা কেমন মোচর দিয়ে উঠে, গাড়িতে বসে চলে যায়।
মেয়েটা যখন গাড়ির কাছে গিয়ে দোকানে তাকায় দেখে তৃপ্তির মতো, কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বুঝতে পারে এটাই তৃপ্তি ততোক্ষনে গাড়িটা ছেড়ে দেয়। ফাতেমা গাড়ির পিছনে দৌড়াতে থাকে আর তৃপ্তির নাম ধরে ডাকতে থাকে, ডাকতে ডাকতে মুখ থুবড়ে পড়ে যায়।
বাকি পর্ব পড়ুন-





















