ষষ্ট পর্ব ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর


ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর

সোনিয়া আবেদীন

তৃপ্তিকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে বসে তখন মিরাফ বলে , মাম্মা এই পুতুল বৌটাকে আমাকে দিয়ে দাও তুমি ভাইয়ার বিয়ে আবার দাও। আমার সাথে দেখো এই পুতুল বৌকে কতো বানাবে , আমি কিছুতেই এই বৌকে ভাইয়ার হতে দিবো না।

মিয়ামী: হারামজাদা ভাইয়া এখনো সংসার করতে পারলো না এখনি তার বৌকে তোর লাগবে , দাড়া তোকে বিয়ে করাচ্ছি।

মিরাফ বোনের তাড়া খেয়ে তৃপ্তির পিছনে লুকায় , তখন তৃপ্তি বলে। মেরোনা আমার বরের উপরের দেবরকে , ওকে আমার খুব ভালো লেগেছে। চলোনা দেবর আমি তোমার সাথে খেলবো , আমি আমার দেবরের সাথে যাই ভাইয়াআআআ।

মিয়ামী হাসতে হাসতে শেষ , এই ভাবী তুমি তোমার বরকে ভাইয়া ডাকছো কেনো ?

তাহলে কি ডাকবো আপু।

শোনো আমাকে মিয়ামী , ওকে মিরাফ আর ভাইয়া ওগো শুনছো , তানা হলে জান , না হলে আয়মান বলে ডাকবে।

তৃপ্তি গালে হাত দিয়ে বলে , তাহলে আমি তাকে মান বলে ডাকবো , বরের নাম ধরে ডাকতে নেই।

মিরাফ:তাহলে আমাকে কি বলে ডাকবে পুতুল বৌ?

তোমাকে রাফ বলবো , ওকে মান তোমাকে রাফ সুন্দর না য়ামী।

এই ভাইয়া তোমার বৌ এসে দেখি সবার নাম ছোটো করে দিলো।

আয়মান: এই বুচি তোর বর কোথায় , আমাকে বললো বাসায় থাকবে । এখন এসে দেখি নাই , তুই ওকে কিছু বলেছিস নাকি।

ভাইয়া তোমার কি মনে হয় আমি তন্ময়কে কিছু বলবো , তোমরা দুজনি একি রকম। আমাকে বললো এক ঘন্টা পরে এসে পড়বে , এখন তিন ঘন্টা হতে চলছে তার খবর নাই।

ওকে তোরা থাক আমি ফ্রেশ হয়ে আসি , তৃপ্তি আসো আগে ফ্রেশ হয়ে কিছু খাবে তারপর ঘুমিয়ে তোমার রাফ দেবরের সাথে খেলবে।
আয়মান ফ্রেশ হয়ে খেয়ে তৃপ্তিকে নিয়ে ঘুমাতে গেলো , এখানে দুদিন থেকে পড়ে নিজের ফ্ল্যাটে যাবে।

রাতের তন্ময় আসে তখন আয়মানের সাথে কথা বলে , তৃপ্তিকে দেখে বন্ধুর মুখের দিকে তাকায়। আর মনে মনে বলে , যাক মেয়েটার মুখে অনেক মায়া তাইতো আমার বন্ধুর মনটা জয় করতে পেরেছে।

দুদিন পরে নিজের ফ্ল্যাট গুছিয়ে তৃপ্তিকে নিয়ে যায় , হাসপাতালে জয়েন্ট হয়ে আসে। তন্ময় ও আয়মানের ফ্ল্যাট পাশাপাশি থাকায় ওর সুবিধা হবে , ফ্ল্যাটে এসে তৃপ্তি খুশিতে নেচে উঠে।বারান্দায় একটা দোলনা সেখানে বসে দোল খায় , আয়মান মিয়ামীর কাছে তৃপ্তিকে রেখে হাসপাতালে যায়।

একটা অপারেশন শেষ করে কবিনে এসে কফি খায় , কল করে তৃপ্তির সাথে কথা বলে ।তারপর একটা ক্লাস নিতে যায় , ক্লাসে ডুকে তখন সব ছেলে মেয়েরা এতো দিন পরে স্যারকে দেখে ভয়ে চুপসে যায়।

আবার কেউ কেউ স্যারকে দেখে খুশি হয় , আয়মান ক্লাস নেওয়ার সময় ঈশা সিকদার নামের মেয়েটা মুচকি হাসে। তার প্রিয় পুরুষটা কতো দিন পরে দেখলো , এবার তার মনের অনুভূতি আয়মানকে যানাবে বলে ঠিক করে।

ক্লাস শেষে আয়মান তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যায় , ঈশা তাড়াতাড়ি বের হয়েও ওকে পায়না। তখন ওর বান্ধবী মেরিনা বলে , কিরে স্যারের পিছনে দৌড়ে গেলি স্যারকে পেলি না। দেড়মাস পরে স্যারের বার্থডে কিছু কি ভাবলি , প্রতিবারের মতো এবারো কি গোপনে গিফট পাঠাবি নাকি।

ঈশা: না এইবার পাঠাবো না , এইবার তাকে আমি প্রোপোজ করবো।আমি বিশ্বাস করি তিনি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না , তিনটা বছর ধরে আমি তাকে পাগলের মতন ভালোবাসি। এইবার আমার মনে হচ্ছে তাকে না বললে আমার দিন চলবেনা , ছেলেটা এতো মুডি মুড নিয়ে চলে না দেখলেই গলা শুকিয়ে যায় ।এবার ভয়ে জয় করতে হবে তবেই শখের পুরুষের বুকে মাথা রেখে নিশ্বাস নিতে পারবো।

দেখতে দেখতে দেড় মাস চলে গেছে , রাতে আয়মান জন্মদিন উপলক্ষে মিয়ামী ও তন্ময় মিলে আয়মানের জন্য কিছু প্লান করে। রুমটা ফুল দিয়ে সাজিয়ে তৃপ্তিকে পাশের রুমে রেডি করে বসিয়ে রেখে। মিয়ামী দেখতে আসে সবটা সাজানো শেষ হয়েছে কিনা। তখন তন্ময় মিয়ামীকে ধরে চুমু খেতে থাকে , মিয়ামী সরিয়ে দেয়।

কি করছো , এইটা ভাইয়ার রুম , এখানে এইসব চলবে না , আমাদের ফ্ল্যাটে চলো তখন দেখাচ্ছি মজা।

আরে ধুর তোমার ভাইয়ের জন্য বাসর সাজালাম ঠিকা , কিন্তু তোমার নিরামিষ ভাই বাসর না করে ঘুমিয়ে থাকবে । বুকের মাঝে নিজের বৈধ স্ত্রীকে নিয়ে ঘুমায় , শালার কোনো ফিল হয়না নাকি। দেড়মাসেও শালায় বাসর করতে পারলো না , এতো কষ্ট করে সাজালাম তাই একটু বৌটাকে আদর করে উসুল করছি।

বলে তন্ময় আবারো চুমু খেতে থাকে , এদিকে তৃপ্তি মিয়ামীকে ডাকতে এসে দেখে ওদের এইসব করতে।

তুমি কি খাচ্ছো য়ামী আপু , তৃপ্তির গলা শুনে দুজনে ছিটকে সরে যায়। তন্ময় হেসে চলে যায় , আর বলে যায় ওকে বলো ও তোমাকে বলবে ও কি খেয়েছে।

তন্ময় যেতে যেতে মিয়ামীকে চোখ টিপে যায় , মিয়ামী তন্মেয় কাজে অবাক হয়ে তাকিয়ে ভাবে , কতো পাজি আমাকে ফাঁসিয়ে গেলো।

তৃপ্তি মিয়ামীকে ধরে কি খেয়েছে যানার জন্য , মিয়ামী একদিকে যেমন লজ্জা পায় আরেকদিকে তন্ময়কে বকতে থাকে।

বসো ভাবি আমি কি খেয়েছি তোমাকে বলছি , আমি যা খেয়েছি তা প্রতিটা স্বামী স্ত্রী খায়। আমার ভাইকি তোমার সাথে এমনটা করে নি।

না তো , সেতো মাঝে মাঝে আমাকে চকলেট দেয় খেয়ে , আর মান তো আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে থাকে।আমাকে কেনো এসব খেতে দিলো না , তৃপ্তির কথা শুনে দুষ্টু হেসে মোবাইল বের করে পরে ওকে একে একে দেখাতে থাকে এটা কিভাবে খেতে হয় , তারপরের কি করবে সব।

তৃপ্তি লজ্জা পায় , ছি ছি আপু এইসব করে নাকি। আমি মানের সাথে এইসব করবো না।

আহা বোকা মেয়ে সবাই এমন করে তোমার তন্ময় ভাই ও আমি,,,, শোন ভাইয়া আসলে তুমি এইটা খেতে চাইবে , যদি ভাইয়া এইটা না খাইয়ে তোমাকে ঘুমাতে বলে তাহলে তুমি ঘুমাবে না বলবে তুমি অনেক আদর চাও  । তানা হলে তোমার ঘুম আসবে না , দেখো ভাইয়া তোমাকে এইটা খাওয়াবে সাথে অনেক আদর করবে।

রাত এগারোটার দিকে একটা অপারেশন শেষ করে ফ্ল্যাটে আসে , দেখে তন্ময় , মিয়ামী , তৃপ্তি বসে আছে। আজ তৃপ্তি শাড়ি পড়ে বসে আছে , আয়মান ওর মুখের পানে তাকিয়ে থাকে। কথায় আছে না বাঙ্গালী শাড়ীতে নারী , যখন ফ্রেশ হতে রুমে যেতে চায় তখন তন্ময় বাধা দেয়।

মিয়ামী সব বাহিরে এনে রেখেছে তাই অন্য রুমে ফ্রেশ হয়ে সবাইকে নিয়ে খেয়ে নেয় , বারোটা বাজলে মিয়ামী কেক কেক নিয়ে আসে।

ঐবুচি আমার কি কেক কাটার বয়স আছে , তোকে না করলে শুনিসনা কেনো।

আমি যতোদিন আছি আমার ভাইয়ের বার্থডে পালন করবো , এখন তাড়াতাড়ি কেক কাটো তো আমার ঘুম পাচ্ছে। কেক কেটে সবাইকে খাইয়ে দেয় , তন্ময় ও মিয়ামী ওদের ফ্ল্যাটে চলে যায় যেতে যেতে তন্ময় বলে , বন্ধু আজকের রাতটা তোর খুব আনন্দেই কাটবে। আয়মান বন্ধুর কথা শুনে কপাল কুঁচকে কিছু বলতে চেয়েও বলে না , মনে মনে বকে দেয়। দরজা বন্ধ করে দেখে তৃপ্তি নেই , ভাবে মনে হয় বেশি ঘুম পেয়েছে তাই চলে গেছে।

রুমে এসে দেখে হালকা আলো রুমে , একটু খেয়াল করে দেখে মোমবাতি জ্বলছে।তাকিয়ে দেখে তৃপ্তি এক গুচ্ছ ফুল নিয়ে দাড়িয়ে আছে , তখন কাছে আসে ,হ্যাপি বার্থডে মান। এবার আমাকে একটু আদর করো তো , তার আগে আমি এইটা খাবো। মোবাইল দেখিয়ে বলে , আয়মান তাকিয়ে দেখে সেখানে এক দম্পতি কিস করছে।

আয়মান: বুঝতে পারে এগুলো মিয়ামী ও তন্ময়ের কাজ , তাই তৃপ্তির হাত থেকে মোবাইল নিয়ে বলে। এগুলোর জন্য তোমার এখনো বয়স হয়নি , তুমি আরেকটু বড়ো হয়ে নাও। এখন গুড গার্লের মতো এই শাড়ি খুলে টিশার্ট আর প্লাজু পড়ে আসো , অনেক রাত হয়েছে ঘুমাবে ।

মান তুমি আমাকে এইটা খাওয়াবে না তাই না , তাহলে আমি রাফের কাছ থেকে খাবো। ও আমাকে কখনোই মানা করবে না , তুমি সব কিছুতেই না করবে তন্ময় ভাই বলেছে।

আয়মান তৃপ্তির মুখের পানে তাকিয়ে দেখে মেয়েটা রাগে কেমন করছে , ওকে ধরে দুই গালে কিস করে বলে এই নাও দিয়েছি। এবার ঘুমাতে চলো , আমাকে কাল দশটার দিকে যেতে হবে ক্লাস আছে।

আমি কি বাবু তুমি আমাকে এই ভাবে আদর করলে যে , আমি তোমার এইখানের চকলেট খাবো ।যেই চকলেট ম্যারিড কাপলরাই খেতে পারে , তুমি আমি ম্যারিড তাহলে আমরা কেনো খেতে পারবো না।

আয়মান রেগে ওকে ধমক দিয়ে ঘুমাতে যেতে বলে , তখনি তৃপ্তি চিৎকার করে কেঁদে দেয়। একটু সময়ের মধ্যে কেঁদে মুখের সমস্ত সাজ নষ্ট করে ফেলে , কাঁদার কারনে চোখ , গাল , নাক লাল হয়ে যায়। আয়মান নিশ্বাস ছেড়ে বলে আসো তোমাকে চকলেট খাওয়াই। আগে তুমি মুখ ধুয়ে আসো , ওয়াসরুমে গিয়ে মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে।

বাহিরে আসলে আয়মান দেখে মুখের পানি মুছেনি , সেই পানি গলা বেড়ে নিচের দিকের শাড়ি ভিজিয়ে ফেলেছে। তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে ওকে বসায় , এদিকে তৃপ্তি বার বার চকলেট খাওয়ার জন্য তাড়া দেয়। আয়মান কাঁপতে কাঁপতে তৃপ্তির ঠোঁটে ঠোঁট ডুবায় , একটু পরে ছেড়ে নিয়ে আয়মান হাপাতে থাকে , বেশিক্ষন থাকলে নিজের উপরে কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলবে।

তৃপ্তি কিছুই বুঝতে পারে না তাই মিয়ামীর কথা মতো তৃপ্তি আয়মানকে ধরে কিস করতে থাকে। তৃপ্তির এমন কাজে আয়মান জমে যায় , ওকে সরাতে চাইলেও পারে না। না চাইতেই তৃপ্তির মাঝে পড়ে থাকে , কিছুক্ষন পরে তৃপ্তি ওকে ছাড়তে চায় কিন্তু আয়মান ছাড়ে না।

দশমিনিট পরে আয়মান ওকে ছেড়ে অন্য রুম থেকে চলে যেতে চাইলে তৃপ্তি ওকে জড়িয়ে ধরে। মান আমাকে অনেক আদর দাও , তানা হলে আমি কাঁদবো।

প্লিজ তৃপ্তি আমাকে তুমি সামলাতে পারবে না , তুমি ঘুমিয়ে থাকো , আমি একটু পরে আসছি।

না মান তুমি যাবে না , বলে আয়মানকে জড়িয়ে ধরে আবারো কিস করে। এইবার আয়মান নিজের হুস হারিয়ে ওকে টেনে ধরে , কোলে তুলে খাটে শুয়ে বলে।তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনা তারপরেও দিলাম , বলে গলায় মুখ লুকায়।

প্রচন্ড কষ্টের মাঝেও তৃপ্তি আয়মানকে আপন করে নেয় , কাঁদতে কাঁদতে আয়মানের বুকের মাঝে ঘুমিয়ে পড়ে। আয়মান উপরের দিকে তাকিয়ে তৃপ্তিকে জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমু দিয়ে ভাবে। জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করলাম , প্রথম কোনো নারীর নিকট নিজেকে বিলিয়ে দিলাম। ধন্যবাদ জান শতো কষ্টের মাঝেও আমাকে আপন করার জন্য।

সকালে উঠে আয়মান তৃপ্তিকে নিয়ে শাওয়ার নেয় , তৃপ্তি আয়মানের সামনে খুব লজ্জা পাচ্ছে।ওর সাথে শাওয়ার নিবেনা , আয়মান জোড় করে শাওয়ার নেওয়ায়।ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে তৃপ্তি খাটে শুয়ে পড়ে , আয়মান তাড়াতাড়ি ওর জন্য হালকা নাস্তা বানিয়ে জোড় করে খাইয়ে দেয় , তারপর কিছু ঔষধ দেয়।

আমি এই ঔষধ খাবো না মান , ভালো লাগেনা।

খেয়ে নাও জান , এটা খেলে তোমার শরীর ব্যথা , জ্বর চলে যাবে।

মান আমার পেটে অনেক ব্যাথা করছে।

এই ঔষধ খাও দেখো ঠিক হয়ে যাবে , তৃপ্তি খেয়ে নেয়। তারপর কমফোট টেনে শুয়ে পড়ে , আয়মান ওর চুল গুলো ঝেড়ে শুকিয়ে দেয়। তৃপ্তি ঘুমিয়ে গেছে , তাই আর ডাকে না , কপালে একটা চুমু দিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে মিয়ামীকে ওর ফ্ল্যাটে থাকতে বলে যায় , দুই ঘন্টা পরেই চলে আসবে।

নিচে এসে গাড়িতে উঠবে তখন দেখে মিতালী ও মিরাফ এসেছে।

আয়মান সালাম দিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে।

শুভ জন্মদিন বাবা , হাসপাতালে যাচ্ছিস , আসবি কখন।

দুই তিন ঘন্টা পরে এসে পড়বো , তুমি ফ্ল্যাটে যাও। মিরাফ ভাবীকে ডিস্টার্ব করিস না , ভাবীর জ্বর।

মিতালী:সেকি রে আমাকে আগে বলিসনি কেনো , তাহলে আমি চলে আসতাম।

কাল না রাতেই এসেছে , তুমি চিন্তা করো না , আমি ঔষধ খাইয়ে দিয়েছি ঠিক হয়ে যাবে।

আজ ঈশা শাড়ি পড়ে এসেছে , মেডিকেল কলেজের সব ছেলেরাই ওর রুপের পাগল ছিলো আজ আরো হয়েছে। কালো শাড়িতে ওকে খুব সুন্দর লাগছে , ক্লাস শেষ করে আয়মান বেরিয়ে যায় , আয়মানের পিছন পিছন যায়।

আয়মান কেবিনে ডুকে দেখে তন্ময় বসে আছে, তন্ময় ওকে দেখে হেসে বলে। কি দোস্ত রাতটা কেমন কাটল , ভাবি কি তোকে সামলাতে পেরেছে নাকি।

চুপ কর শালা তুই আমার ছোটো বোনের বর , আমি সম্পর্কে তোর সম্বোধি , তাই বুঝে কথা বলবি।

ধুর শালা এখন আমি তোর বন্ধু বাড়িতে গেলে বড় ভাই গিরি দেখাস , আগে বল কেমন কাটল রাত , হিট নাকি আমাদের সব প্লান ফ্লপ গলো ।

আয়মান এবার শব্দ করে হেসে দেয় , যা শালা বলবো না।

তুই না বললেও আমি বুঝি আজ তোর ভার্জিনিটি ভাবীর কাছে খুইয়ে এসেছিস। তোর মুখের হাসি আর গলার পাশের দাগ দেখে বুঝে গেছি।

গলায় হাত দিয়ে আয়মান রাতের কথা মনে পড়ে যায় , বন্ধুর দিকে তাকিয়ে হেসে দেয়।

তন্ময়: যাক তোর খুশিতে আজ আমি অনেক খুশি , এখন একসাথে দুটো জিনিসের ট্রিট দে।

তোকে একা দিবো কেনো , হাসপাতালের সবাইকে আজ মিষ্টি খাওয়াতে হবে । তাদের নিরামিষ স্যার কারো কাছে আমিষ হয়ে গেছে।

কেবিনে ডুকতে নিয়ে ঈশা সব শুনে নিরবে চলে আসে , হাসপাতাল থেকে দৌড়ে বের হয়। ওকে এভাবে কাঁদতে কাঁদতে বের হতে দেখে সবাই অবাক হয়। ওর বন্ধুরা ওকে পিছন থেকে অনেক ডাকে কিন্তু কারো ডাকে ও ফিরেনি।

আধা ঘন্টা পরেই শুনতে পায় আয়মান এইবার বাংলাদেশ থেকে বিয়ে করে এসেছে। সেই উপলক্ষে সব স্যার ম্যামরা আজ দুপুরে আয়মানের কাছ থেকে ট্রিট নিচ্ছে।

ঈশার বন্ধুরা তাড়াতাড়ি হাসপাতাল থেকে ঈশার বাসায় যায় , সেখানে ঈশা চিৎকার করে সব ভাঙ্গতে থাকে ।

আমি ঐ মেয়েকে ছাড়বো না , আমার তিন বছরের ভালোবাসা কেড়ে নিয়েছে। ওকে আমি কিছুতেই ছাড়বনা।

বাকি পর্ব পড়ুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *