ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর
সোনিয়া আবেদীন
সাত দিন পরে তৃপ্তিকে হাসপাতালে থেকে বাড়িতে নিবে, যখন গাড়িতে উঠবে তখন চারপাশে তাকিয়ে দেখে এটা বাংলাদেশ না। প্রথমেই সন্দেহ হয়েছিলো নার্সদের কথায়, পরে ভেবেছে হয়তো দামী হাসপাতাল দেখে।গাড়ি বসে তৃপ্তি মিতালীকে বলে আন্টি এটা তো বাংলাদেশ না, আমি এখানে এলাম কেমন করে।
মিতালী: তোমার তো খুব বড় এক্সিডেন্ট হয়েছিলো সেই জন্য আমরা তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছি।
কিন্তু আপনারা তো দেশে থাকতেন, এখানে আসতে তাহলে অনেক টাকা লেগেছে, এতো টাকা আমি শোধ করবো কেমন করে।
পাগল মেয়ে, এখানে আমার ছেলে থাকে, আর আমার ছেলের কারনে আমরা সবাই এখানে আসতে পারি তুমি চিন্তা করো না। আগে সুস্থ হও তারপর সব বলবো, সব যানার জন্য অনেক সময় পরে আছে।
তৃপ্তি মিতালী বেগমের কথায় শান্ত হলো, বাড়িতে আসলে ওকে একটা রুম দেওয়া হয়। আয়মান আগে থেকেই ওর জন্য রুম তৈরি করে রেখেছে, যাতে ওর সমস্যা না হয়। মিতালী ওকে বলেছে এখন থেকে ওর ছেলের ফ্ল্যাটে থাকতে হবে ওদের বাসাটা দুরে ।যদি হাসপাতালে যাওয়া লাগে তখন কি করবে, তৃপ্তি মেনে নেয়। তাছাড়া মিয়ামী আপু আছে তাই চিন্তা করেনা।
মিরাফকে বলা হয়েছে ওর ভাবীকে যেনো ভাবী না ডাকে তাইতো মিরাফ ওর সাথে দেখা করতে এসে অনেক দুষ্টামি করে।তৃপ্তি খুব লজ্জা পায়, তার থেকে বেশি লজ্জা পায় আয়মান যখন ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।
তিন মাস কেটে যায়, তৃপ্তি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আজ ওর ভাইয়ের জন্মদিন, মায়ের নিষেধ থাকার কারনে কল করে কথা বলতে পারেনা।
রাত গভীর হলে সে চুপচাপ জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে। দূরের ম্লান আলো আর নির্জন আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের ভাগ্যের হিসাব মেলাতে চায়। মনে হয়, জীবনের পথগুলো যেন কুয়াশায় ঢাকা,কোথায় শুরু, কোথায় শেষ, কিছুই স্পষ্ট নয়।
নিঃশব্দ রাতের বাতাস এসে তার দীর্ঘশ্বাসগুলো ছুঁয়ে যায়। বুকের ভেতর জমে থাকা না বলা কথাগুলো আকাশের তারাদের কাছে নীরবে জানাতে থাকে সে। কখনো মনে হয়, ভাগ্য যেন তাকে ভুল গল্পের চরিত্র বানিয়ে দিয়েছে, যেখানে সুখের অধ্যায়গুলো বারবার অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
তবুও জানালার ওপাশে তাকিয়ে সে একটুখানি আশার আলো খোঁজে,হয়তো কোনো এক সকালে ভাগ্য একটু বদলাবে, আর এই নিঃশব্দ রাতগুলো শুধুই স্মৃতি হয়ে থাকবে।
ভালোবাসায় তো কোনো কমতি রাখে নি তাহলে কেনো তার সাথে নাজিম এমনটা করল। কান্তার সাথে যদি সংসার করবে তাহলে আমার সাথে কেনো প্রেমের নাটক করল।আমি তো তাকে ভালোবাসতে চাইনি, সে আমার পিছলে পড়ে ছিল। বার বার আকুতি করে আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে, অথচ খুব আয়োজন করে আমাকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে।
নিজেকে কিছু করতে হবে তানা হলে আমি ওদের থেকে এইটার জবাবদিহি চাইতে পারব না। মায়ের কথা অনুযায়ী আমাকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, তারপর আমি যাবো কেনো আমার সাথে এমনটা করেছে যানতে।
রাতে আয়মান আসলে তৃপ্তি ওকে বলে, ভাইয়া আমাকে একটা কাজ খুঁজে দিবেন। আমি কতোদিন আপনার কাঝের বোঝা হয়ে থাকবো, আয়মানের আজ এমনিতেই মেজাজ গরম ছিলো তখন ও তৃপ্তিকে দুই বাহু ধরে বলে।
তুমি আমার কাধের বোঝা নও, আমার ভালোবাসা, আমার জান, আমার অর্ধাঙ্গিনী। তাই কাজের কথা ভুলে যাও, আর স্বামীকে মেনে নিতে শিখো।
আয়মানের কথা শুনে তৃপ্তি ভয় ও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, তখন বলে কি বললেন আপনি, আমি আপনার স্ত্রী কবে থেকে হলাম।
আয়মানের হুস আসে, সোফাতে বসে চুল গুলো টেনে বলে। প্লিজ এখানে বসো আমার কথা মন দিয়ে শুনো ,আমাকে স্বামী হিসাবে মেনে নিতে তোমার সময় লাগবে নাও তাতে আমার দুঃখ নেই। কিন্তু আমাকে ছেড়ে যেতে চেওনা, আমিও তোমার মতো আপনজনের কাছে থেকে অনেক বড় ধোঁকা খেয়েছি।
তারপর কিভাবে ওর সাথে তৃপ্তির দেখা, কেমন করে বিয়ে হলো সব বলে। তৃপ্তি সব শুনে কাঁদতে থাকে, তখনি মিয়ামী, তন্ময়, মিতালী বেগম আসে। মিতালী বেগমকে দেখে তৃপ্তি আরো কাঁদতে থাকে, আর বলতে থাকে আন্টি আপনি কেনো আমাদের বিয়ে দিলেন। আমি তার যোগ্য ছিলাম না, আমার থেকে সে ভালো কাউকে ডির্জাব করত।আমাকে বিয়ে করে সে কিছুই পেল না, আমি আপনজন থেকে ধোঁকা খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি।
আমি হৃদয় ভাঙ্গা এক মেয়ে তাকে দেবার মতো আমার ভালোবাসা নেই। ভালোবাসার প্রতি আমার বিশ্বাস উঠে গেলে, এখন কেমন করে তার সাথে সংসার করবো।
মিতালী: তোমাকে এখনি সংসার করতে হবে না, আগে বড় হও লেখাপড়া শেষ করো, তখন দেখবো।
আপনি বুঝতে পারছেন না, আমি নতুন করে কাউকে ভালোবাসতে পারব না।কারো প্রতি সেই আবেগ আসবে না ।
আয়মান: আমাকে তোমার ভালোবাসার দরকার নেই, এখনো অনেক সময় আছে, যদি আমার সাথে থেকে তোমার মনে হয় আমাকে তোমার জীবনে ঠাই দেওয়া যায় তাহলে দিও। যদি আমার থেকে মুক্তি চাও তাহলে সেটা সম্ভব না, কারন আমার প্রথম ও শেষ ভালোবাসা তুমি।আমি তোমাকে আমার জীবন থেকে দুরে যেতে দিবো না, মা আমি ফ্রেশ হতে যাচ্ছি ওকে বুঝিয়ে দাও ওকে ছাড়া আমার চলবেনা।
আয়মান নিজের রুমে চলে যায়, তখন মিতালি ছেলের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তৃপ্তির হাত ধরে বলে। আমি যানি মা তোমার সাথে কি হয়েছিল, আমরা তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি তাই বলছি, আমার ছেলের মতো এতো ভালো ছেলে পাবেনা ।তুমি ওকে চিনো যানো তারপরে না হয় দেখতে পারবে।
মিয়ামী : আমার ভাইটা তোমার থেকেও দুখী, কখনো হয়তো যানতে পারবে, তবে তুমি তোমার জীবনে আসল হীরাটা পেয়েছো। আমার ভাইয়ের জন্য হাজারো মেয়ে পাগল কিন্তু আমার ভাইটা কেনো যানি তোমার মায়াতে পড়ে ওর জীবনের সাথে জড়িয়ে নিলো।
তোমার মনে নেই কিন্তু তোমরা স্বাভাবিক স্বামী স্ত্রী মতো সংসার করেছো, আর তখন তুমি আমার ভাইয়ের অংশকে নিজের গর্ভে ধারন করেছো ।তোমার এক্সিডেন্টের কারনে তুমি তাকে হারিয়েছো, সাথে তোমার স্মৃতি ফিরে এসেছে।কিন্তু আমার ভাইটা তার অনাগত সন্তানকে হারিয়ে কেঁদেছে, তার থেকেও বেশি তোমাকে হারানোর ভয়ে পাগলের মতো বিলাপ করেছে।
তাই বলছি, মেনে নাও তোমাদের বিয়েটা, আমার ভাইকে আপন ভাবতে পারলে না হয় সংসার করো। তৃপ্তি যখন শুনল তার সন্তান আসতে নিয়ে বিদাই নিয়েছে তখনি চিৎকার করে কাঁদে।
আন্টি আল্লাহ আমাকে এ কেমন পরিক্ষায় ফেললো বলেন তো, দিয়েও তাকে কেড়ে নিল। আমি আমার অজান্তে সন্তানকে হারিয়ে ফেললাম, কেনো আন্টি, ওকে কি আমার কাছে দিয়ে যেতে পারল না।
মিতালী: আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন মা, মনকে শক্ত করো।এবার নিজের স্বপ্ন পূরণ করো, তোমার পাশে আমরা আছি।
অনেক রাত হওয়াতে মিজান সাহেব এসে মিতালী বেগমকে নিয়ে যায়, বাসায় মিরাফের জ্বর,তাই তিনি চলে যায়।
রাতে তৃপ্তি না খেয়ে নিজের ঘরেই বসে থাকে আর অনাগত সন্তানের জন্য কষ্ট পেতে থাকে।
ও আমার না-ফোটা কুঁড়ি, তুই পৃথিবীর আলো না দেখলেও, আমার জীবনের আলো হয়ে থাকবি সারাজীবন। আল্লাহর কাছে শুধু এটুকুই চাই, যেখানে থাকিস, শান্তিতে থাকিস। তোর মা তোকে কোনোদিন ভুলবে না ,কোনোদিন না।যদি আমি সুস্থ থাকতাম তাহলে কখনোই এভাবে হারিয়ে যেতে দিতাম না, কেনো আমার কাছে এসে না বলে চলে গেলি।
তখনি আয়মান দরজায় টোকা দিয়ে, ভিতরে আসে, তৃপ্তি সেইভাবেই বসে থাকে। ওর পাশে বসে বলে,
যাকে হারিয়েছো তার জন্য মহান রবের কাছে প্রার্থনা করো, কাল থেকে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে লেগে পড়ে। আমি আছি ,থাকবো ,যতোদিন সৃষ্টিকর্তা আমাকে এই পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তারপর ভাত মেখে মুখের সামনে ধরে, খেয়ে নাও তোমাকে মেডিসিন নিতে হবে।
তৃপ্তি খেতে না চাইলেও ওকে জোড় করে খাইয়ে দেয়, মেডিসিন খাইয়ে শুতে বলে চলে যায়। মাঝ রাতে আবার আসে, ঘুমন্ত প্রেয়সীর কপালে চুমু দিয়ে চলে যায়।
পরের দিন সব কাগজ পত্র ঠিক করে , ওকে এইখানকার মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেয়।তারপরের দিন গুলো এভাবেই কাটতে লাগলো, লেখাপড়া, সংসারের টুকিটাকি কাজ, আয়মানের যন্ত্রে তৃপ্তি কেমন সংসারী হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে আয়মানের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে, আয়মানের ব্যক্তিত্ব ওকে মুগ্ধ করে।কিন্তু নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে না, এভাবে চলতে চলচে বছর পেরিয়ে যায়।
আজ আয়মান ভোর রাতে উঠে খাবার খায়,রোজা রাখবে বলে, আজ ওর শ্বশুর শ্বাশুরী ও এসেছে। তারা মা ছেলে খাবার খাচ্ছে তখনি যানতে পারে ওরা রোজা রাখবে। তৃপ্তি ওদের দেখাদেখি রোজা রাখবে বলে যানায়, ওরাও না করে নি ।
পরের দিন আয়মান বাড়িতে থাকে, নামাজ ও কোরআন পড়ছে ।থেকে থেকে কাঁদছে বলে ওর মনে সন্দেহ হয়, তাইতো আয়মান বাহিরে গেলে ওর রুমে ডুকে দেখে কি করছিল এতোক্ষন।দেখে একটা এলবামে একটা মহিলার ছবি, ছবিগুলো দেখে আয়মান কেঁদেছে বুঝতে পারে, কারন চোখের পানি সেখানে পড়া ছিল।
ছবি নিয়ে মিতালী বেগমের কাছে যায় ,আম্মু এটা কার ছবি, তাকে দেখলাম এই ছবি নিয়ে কাঁদছে।
মিতালী তাবিন্দা ভাবীর ছবি দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, এটা তোমার আসল শ্বাশুরীর ছবি।
তৃপ্তি অবাক হয়ে যায়, এটা আসল শ্বাশুরী হলে তাহলে কি তিনি সৎ শ্বাশুরী, কৈ তাদের দুজনের এতো মিল কখনো বুঝা যায় নি তো।
মিতালী:ভাবছো হয়তো আমি সৎ মা, আসলে আমি ওর ফুপু। আমার ভাইয়ের প্রতারনা জন্য আমরা আজ দেশ ছাড়া।তৃপ্তি তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
বাবা মায়ের পছন্দে আমজাদ ভাইয়ের সাথে তাবিন্দা ভাবীর বিয়ে হয়, সুখেই তাদের দিন কাটতে থাকে। বিয়ের পরে দুজনের ভালোবাসা প্রচুর ছিল, তারপর আয়মান জন্ম হয়। আয়মানের চার বছরের জন্ম দিনের দিন নীলা আসে, নীলা তাবিন্দা ভাবীদের বাড়ির কাজের মেয়ের মেয়ে ছিল। ওকে ভাবী নিজের বোনের মতো দেখতো, বিয়ে হয়েছিল কিন্তু কয়েকমাস হলো ডিভোর্স হয়েছে।
নীলা ভাবীর থেকে ফর্সা ছিলো, আর আমার ভাইয়ের চোখ ওর উপরে আটকে গেলো। তারপর থেকে নীলার এই বাড়িতে আনা গোনা শুরু হলো, কখন যে দুজন পরকিয়াতে জড়িয়ে যায় ,আমরা বুঝতে পারিনি।
ভাবী ছিল বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান,তার বাবা মা পালিয়ে বিয়ে করছিল তাইতো দুই পরিবারের কেউ তাদের মেনে নেয়নি। তখন ভাবীর বাবা তার মাকে নিয়ে শহরে এসে পড়ে, এখানেই তিনি ব্যবসা করে প্রতিষ্টিত হয়।
বাবা মারা যাওয়াতে সব কিছু ভাবীর নামে এসে পড়ে। অফিস, সম্পদ সব ভাইয়া দেখাশুনা করতো, এদিকে আমার মা নেই, বাবা মানষিক রোগীর মানুষ ছিল। একদিন গেইট খোলা পেয়ে বাহিরে যায় আর তখনি এক্সিডেন্ট করে মা*রা যায়।
সেই শোকে আমরা পাগল প্রায়, তার কয়েকদিন পরেই ভাবীর মা ঘুমের মাঝে স্টোক করে মা*রা যায়। ভাবী তখন পাগল প্রায়, তখন নীলা এসে সংসারের হাল ধরে।
আয়মানের যখন পাঁচ বছর তখন ওকে স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় নিয়ে আসে, সকাল থেকে ভাবীর শরীর খুব খারাপ ছিল বলে। বাড়িতে এসে দুজনকে তাদের বেড রুমে পায়, বিশ্বাস করবে না তৃপ্তি, ভাবী এই সব দেখে ঠিক থাকতে পারেনি। জ্ঞান হারিয়ে পরে যায়, যখন জ্ঞান ফিরে তখন ভাবী চিৎকার করে কাঁদতে থাকে।
এরপর দুজনের মাঝে প্রচুর ঝামেলা হয়, ভাবী সিদ্ধান্ত নেয় ভাইয়াকে ডিভোর্স দিবে, আর ভাইয়া বুঝে যায় ডিভোর্স দিয়ে সব সম্পদ থেকে সে বঞ্চিত হবে। এতো বছর সমাজে সে একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল, এদিকে আমিও ভাবীর সাথে ছিলাম।
পরে মাফ চেয়ে সে নীলাকে ছেড়ে দিবে যানায়, কিন্তু পনেরো দিন যেতেই নীলা আর ভাইয়া মিলে আমাদের মে*রে ফেলতে প্লান করে, আমাদের ঘরের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দিতে নিলে ভাবী বাধা দেয়। তখনি নীলা ভাবীর পেটে ছুড়ি ডুকিয়ে দেয়, আমজাদ ভাই তখন মুখ খুলে।
আমজাদ: তোকে আমার কখনোই ভালো লাগে নি, কেবল তোর সম্পদের জন্য তোকে বিয়ে করছি। নীলার মতো মেয়েদের আমার পছন্দ, তাইতো সুযোগ থাকতে ওকে আপন করে নিলাম। ডিভোর্স হলে এই সম্পদ ভোগ করতে পারতাম না, তাই তোকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিলাম।
তাবিন্দ: আমাকে না হয় স্বার্থের জন্য মা*রছো কিন্তু তোমার বোন, ছেলেকে কেনো মা*রতে চাইছো। ওদেরকে বাঁচতে দাও, আমার ছেলেকে বাঁচতে দাও।
নীলা: ঐ মেয়ে তোর জন্য আমাদের বিপক্ষে তাই ঐকে বাঁচিয়ে রাখলে আমাদের সমস্যা। আর ছেলের কথা বলছিস, তোর ছেলে বেঁচে থাকলে কখনোই আমরা এই সম্পদ ভোগ করতে পারবো না। তাই তোর সাথে ছেলেকেও বিদাই করলাম, উপরে একা কি করবি ছেলেকে বুকে নিয়ে ঘুমা। কদিন পরে আমজাদ আমার সন্তানের বাবা হবে, তুই ম*রলে আমি ওকে বিয়ে করবো।
ওরা বাহিরে চলে যায়, ভাবী তখন অনেক কষ্টে আমাদের রুমের দরজা খুলে দেয়।নিজের ঘরে গিয়ে ব্যাগে সমস্ত গহনা,টাকা, সম্পদের দলিল দিয়ে আমাদের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে বলে। তাকে আমরা নিয়ে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভাবীর যেই অবস্থা ছিল তাতে তাকে নিয়ে বেরিয়ে আশা সম্ভব হয়নি।
আমি আয়মানকে বুকে নিয়ে সেই দিন পালিয়ে আসি, দুর থেকে আমরা বাড়িটা দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখেছি। আয়মান সেদিন শুধু মাম্মা মাম্মা বলে কেঁদেছে , আমার সাথে মিজানের সম্পর্ক ছিল। মিজান এতিম খানাতে বড় হয়, ভাবী ওর সাথে আমার বিয়ে দিতে চেয়েছিল ।আমি প্রথমেই ওর কাছে যাই, ওকে সব খুলে বলি। ও আমাকে নিয়ে তখনি শহর ছেড়ে পালায়, যাতে ওরা আমাদের অস্থিত্বের কথা যানতে পারলে খুঁজে না পায়।





















