ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর
সোনিয়া আবেদীন
ডাক্তার আয়মান মেয়েটার কি খবর বলেন তো ?
আসলে অফিসার মেয়েটার এক্সিডেন্টে মেমরি চলে গেছে , নিয়মিত ঔষধ ও পরিবারের যত্নে থাকলে সেটা আসতে সময় লাগবেনা।
কিন্তু আমরা ঐ ড্রাইভারের কাছে যেটা শুনলাম তাতে , তার পরিবারের লোকের কাছেই মেয়েটা নিরাপদ না। তাছাড়া মেয়েটার সাটিফিকেট অনুযায়ী খবর নিলে হয়তো ওর পরিচয় যানা যাবে , তাছাড়া মেয়েটা মেডিকেল কলেজের ছাত্রী।
আয়মান: তাই নাকি , তাহলে অফিসার মেয়েটার ব্যাপারে একটু গোপনে কাজ করতে হবে। যদি ওর জন্য ওর পরিবার বিপদজনক হয় , তাহলে ওর সন্ধান পেলে ক্ষতি করতে চাইবে। আপনি সব কিছু একটু গোপনে রেখে খোঁজ নেন। মেয়েটার নাম যানেন কি ?
ও হে তৃপ্তি শেখ , বাবা- আজিম , মা -ফাতেমা বেগম। মেয়েটাকে কোথায় রাখবো বুঝতে পারছি না , দেখতে শুনতে ভালো মেয়েটার যদি কোনো ক্ষতি হয়ে যায়। যানেনি তো আজকাল মেয়েরা একা কোথাও নিরাপদ না।
আয়মান: তাই তো , এক কাজ করি সুস্থ হলে ওকে আমি আমার বাসায় নিয়ে যাই ।সেখানে আমার ফ্যামিলি আছে ওর দেখাশুনা করবে , ততোদিনে আপনি ওর ফ্যামিলির খোঁজ বের করুন।
ওকে ডাক্তার বড় উপকার করলেন , মেয়েটাকে ওর ফ্যামিলির হাতে তুলে দিতে পারলে বাঁচি।
অফিসার চলে গেলে আয়মান ডিউটিতে যায় , তৃপ্তির কেবিনে ওকে দেখে চলে আসে।
রাতে বাসায় গেলে ওর মা ওর জন্য খাবার গরম করে নিয়ে আসে , আয়মান ফ্রেশ হয়ে এসে খেতে বসে। আজ এতো দেরি করলি যে , আমাদের বাহিরে যাওয়ার ডেইট কবে আসবে কিছু কি যানিস।
মা তোমাকে একটা কথা বলতে চাই , আসলে একটা সমস্যা হয়েছে। একটা মেয়েকে কিছুদিনের জন্য বাড়িতে আনতে চাই।
কেনো , পছন্দ করিস নাকি , তাহলে বিয়ে করে ফেল। মেয়ের পরিবার কি তোর পরিচয় যেনে রাজি হয় না। নাকি মেয়েকে শ্বশুর শ্বাশুরী নিয়ে থাকতে হবে বলে ,তাদেরকে তাহলে বল আমি তোর মা না ফুপু হই। বিয়ের পরে তুই তাদের মেয়েকে নিয়ে একা থাকবি।
আয়মান: হয়েছে এবার থামো , আমি তোমাকে মা আর বাবাকে বাবা বলেই যানি। যাকে বিয়ে করবো তারা এই সব যেনে দেখে বিয়ে দিতে পারলে দিবে , তানা হলে আমার বিয়ের দরকার নেই। ভালোবাসার প্রতি আমার ভরসা নেই , আর মেয়েটা হলো একটা মেমরি লস রোগী। আমাদের যেতে যেতে ওর পরিবার পেয়ে যাবো তখন ওকে দিয়ে যাবো।
এখানে এসেছি দুমাসের জন্য তাই যথা সময়ে চলে যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
ওওও ভাবলাম কি আর হলো কি , ও ছেলে তোর কোনো মেয়ে পছন্দ হয়না কেনো।সারাদিন পেচার মতো মুখ করে রাখিস এই জন্য মেয়েরা ভয়ে আসেনা।
মাআআআ , তুমি কি আমার বিয়ে ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারো না।
নাআআআ কবে তোকে বিয়ে করাবো সেই চিন্তা করি , তাছাড়া তোর বউয়ের হাতে তোর সব দায়িত্ব দিয়ে দিতে চাই।
সময় হোক তারপর দেখো , গভীর রাতে নার্স কল করে যানায় , 11নং কেবিনের রোগী চিৎকার করছে , কাউকে কাছে যেতে দেয়না।
আয়মান তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যায় , কেবিনে ডুকে দেখে দেওয়ালের সাথে লেগে বসে আছে। আয়মান সেখানে গিয়ে তৃপ্তি বলে ডাক দেয় , তখনি তৃপ্তি মাথা তুলে দেখে সাদা পোশাক পড়া ডাক্তারকে।খুশিতে আয়মানকে জড়িয়ে ধরে , তৃপ্তির কাজে আয়মান জমে যায়।
ভাইয়া তুমি এসেছো , ঐ লোকটা খুব খারাপ , আমার শরীরে হাত দিতে চাইছে , আমার জামা খুলতে চাইছে , বলে কেঁদে দেয়।
আয়মান ওকে এনে সিটে বসায় , দেখে ওর জামাটা জায়গায় জায়গায় ছিড়ে গেছে।মেয়েটার সাথে খারাপ কিছু করতে চেয়েছিলো বুঝতে পারে , ওকে শুয়ে একটা ইনজেকশন দিতে দেয়। একটু পরেই ও ঘুমের দেশে পাড়ি জমায় , ঘুমানোর আগে ওকে বলে যেনো ওকে ছেড়ে না যায়। তৃপ্তি ঘুমিয়ে গেলে , আয়মান নার্সকে ডেকে বলে। ওর সাথে কে এমনটা করেছে,
নার্স আয়মানের রাগী চোখ দেখে ভয় পেয়ে যায় , এই হাসপাতালে আয়মান খুব রাগী ডাক্তার , তার কাজে কেউ ভুল করলে তার খবর করে ছাড়ে। এই হাসপাতালে তাকে খুব অনুরোধ করে দুই মাসের জন্য এনেছে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ ছেলে আর আয়মান এক সাথে লেখাপড়া করেছে , তাইতো বন্ধুর অনুরোধে এখানে এসেছে। এখানে আসার আগে তার ব্যাপারে সবাইকে খুব সাবধান করেছিলো।
বলেন কে এসেছিলো এখানে , ওর সাথে কে এমনটা করছেএএএ , আয়মানের চিৎকার সারা হাসপাতালে নিরব হয়ে যায়।
স্যা স্যা স্যার আমি যানি না , মেয়েটার চিৎকার শুনে আমি আসি।
ওকে আমি দেখছি , সোজা চলে যায় সিসি রুমে , সেখানে গিয়ে চেক করে , আয়মানের কথায় চেক করতে বাধ্য হয়। দেখে এই ফ্লোরের ওয়াড বয় এমনটা করেছে , রাগে ওর চোখ লাল হয়ে যায়।
স্টাফ রুমে গিয়ে সেই ছেলেটাকে টেনে ইচ্ছা মতো পিটাতে থাকে , এই ঘটনা শুনে ওর বন্ধুও ওর বাবা হাসপাতালে আসে। আয়মানকে থামায় ,
রুপ :প্লিজ দোস্ত শান্ত হ আমি ব্যাপারটা দেখছি , এভাবে মারলে ও মরে যাবে।
আয়মান: ওকে আমি মেরেই ফেলবো , ওর সাহস হয় কিভাবে একটা রোগীর সাথে এমনটা করার।
রুপের বাবা :প্লিজ বাবা শান্ত হও এটা বাহিরে যানলে আমাদের হাসপাতালে সম্মান নষ্ট হবে। ওকে আমি চাকরি থেকে বের করে দিবো সাথে এই কাজের জন্য পুলিশে দিবো। আয়মান শান্ত হয় , তখন রুপের বাবা ঐ ওয়ার্ড বয়কে বলে। কেনো এমনটা করলে , তুমি কি আগে থেকে মেয়েটাকে চিনতে।
আয়মান: এটা কি বললেন আঙ্কেল , এই ছেলে ঐ মেয়েকে কেমন করে চিনবে।
রুপ:বাবা কি উল্টা পাল্টা প্রশ্ন করো , তোমার কি মেয়েটাকে দেখে ওর লেভেলের মনে হয়।
রুপের ধমক খেয়ে ওর বাবা আমতা আমতা করতে থাকে,
রুপ গিয়ে সেই ছেলেকে ধরে বলে সত্যি বল তানা হলে আমিই তোকে এখন কেলাবো।
স্যার আমারে আর মারবেন না , আমি মেয়েটার সাথে কেউ নেই শুনে একটু,,,,
আয়মান: কেউ নেই যেনে তোর ভিতরের জানোয়ারটা বাহিরে এসে পড়লো।
রুপ : আমি পুলিশকে খবর দিয়েছি ওকে এসে নিয়ে যাবে , তুই শান্ত হ। পুলিশ আসলে ছেলেটাকে ধরিয়ে দেয়।
আয়মান যায় আবারো তৃপ্তির কেবিনে , মুখের দিকে তাকালে ওর মনটা শান্ত হয়ে যায়। তোমার ফ্যামিলির কাছে না দেওয়া পর্যন্ত তুমি কোথাও নিরাপদ না , কি এমন হয়েছিলো তোমার সাথে। তোমার হাতে ও কাটা চিহ্ন , ঐ হাসপাতাল থেকে যানতে পারলাম তুমি নিজের সুসাইট করতে নিয়েছিলে।
তৃপ্তি আয়মানকে ছাড়া ওর পাশে কাউকে ঘেঁষতে দেয়না , তৃপ্তি এখন মোটামুটি সুস্থ তাই আয়মান ওকে বাসায় নিয়ে আসে।পুলিশকে বলে ওর বাসার ঠিকানা দিয়ে দেয় , আয়মানে মা (ফুপু) তৃপ্তিকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। তার ভাতিজার সাথে মেয়েটাকে দারুন মানিয়েছে , যদি মেয়েটার সাথে তার ভাতিজার বিয়ে দিতে পারতেন।
মা ওর নাম তৃপ্তি শেখ , আজ থেকে কিছুদিন এখানেই থাকবে।
মিতালি: এসো মা আমার কাছে এসো , বলে তৃপ্তিকে ধরতে গেলে তৃপ্তি সরে আয়মানকে ধরে।
যাও তৃপ্তি উনি আমার মা হয় , তুমি তাকে আন্টি বলে ডেকে।
তখন তৃপ্তি মিতালি বেগমের কাছে যায় , মিতালি বেগম তৃপ্তিকে নিয়ে ওর জন্য তৈরি করা রুমে নিয়ে যায় ।
রাতে খেতে বসে তৃপ্তি মিতালী বেগমকে বলে , আন্টি তুমি কি এই ভাইয়াটার মা , তোমাকে দেখে তার বোন মনে হয়।তাছাড়া ভাইয়াকে আমি হাসতে দেখি নি , তুমি তো অনেক হাসিখুশি থাকো। তুমি তাকে হাসতে না করেছো , তাকে দেখলে কেমন স্যার স্যার মনে হয়।
মিতালী: তাই না , আসলে ছেলেটা আমার মতো হয়েছে তো তাই , মারে ওর মুখে একটা লম ফোঁড়া হয়েছে হাসলে ব্যাথা পায় তো তাই হাসেনা। ওকে দেখলে আমার স্কুলের বদরাগী স্যার মনে হয়।
আয়মান রাগী চোখে মিতালী বেগমের দিকে তাকায় , মিতালী ও তৃপ্তি হাসতে থাকে।
কয়েকদিন পরে আয়মানকে থানায় ডাকা হয় , আয়মান রাতে ফেরার সময় থানায় যায়।
অফিসার: মিস্টার আয়মান একটা কথা বলতে আপনাকে ডাকা , আসলে মেয়েটাকে নিয়ে আর কি।
হ্যাঁ বলেন , আর ওর পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন , আমি আবার কানাডায় ব্যাক করবো , তাই যাওয়ার আগে মেয়েটাকে রেখে যেতে চাই।
অফিসার :আমি গোপনে মেয়েটার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি , বাড়ির দারোয়ান ও কাজের মেয়েটা যা বললো আর কী। পরে তৃপ্তির সাথে হওয়া সব ঘটনা খুলে বলে , এখন বলেন তো এমন একটা পরিবারের কাছে মেয়েটাকে তুলে দেই কি ভাবে। যাকে বাঁচাতে ওর মা এতো ত্যাগ করলো , সেই মেয়েকে এখন সেই পরিবারে দিলে মেয়েটার কাছে কি হবে বুঝতে পারছেন কিছু।
আমি দেখি কোনো আশ্রয় পাই কিনা যাতে মেয়েটা সেখানে নিরাপদ ভাবে থাকতে পারে কিনা , যতো দিন তার স্মৃতি না আসে।
আয়মান: ওকে অফিসার আমি তাহলে যাই , বাড়িতে এসে দেখে তৃপ্তি মিতালী বেগমের মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে। কাছে গিয়ে অপর সোফাতে বলে তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে থাকে। আর মনে মনে ভাবে মেয়েটা আমার মতো ভুক্তভোগী , আপনজন হয়েও স্বার্থের জন্য পিঠ পিছে ছুড়ি মারতে দেরি হয়নি।
মিতালী চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে আয়মান তৃপ্তির মুখের দিকে তাকিয়ে আছে , কি হয়েছে আয়মান , তোকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে।
কিছু না মা , আমি ফ্রেশ হয়ে আসি তারপর তোমার সাথে আমার কথা আছে। নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বসে থাকে , তখনি মিতালী ওর জন্য কফি নিয়ে আসে ।
বাবা কি হয়েছে তোর , আমাকে বল।
মিতালীর হাতটা ধরে বলে , মা আমাদের শত্রুদের হাতে এই মেয়েটার জীবন নষ্ট হতে হতে বেঁচে গেছে। আমি এখনো সেই পর্যায়ে যেতে পারিনি যে আমজাদ চৌধুরী থেকে প্রতিশোধ নিজে পারি। হয়তো আমাকে কয়েকটা বছর আরো সময় নিতে হবে, কিন্তু বিশ্বাস করো যখন ওসি ওদের কথা বললো তখন আমি নিজেকে বহুত কষ্টে সামলিয়েছি।
মিতালী: মানে কি , আমজাদ ভাই তৃপ্তির দিছে হাত বাড়িয়েছিলো।
না তার নাজায়েজ ছেলে এমনটা করেছে , তারপর একে একে সব বলে। মিতালী শুনে বলে , তাহলে তো মেয়েটাকে ওর ফ্যামিলি কাছে দেওয়া যাবে না। আমাদের যাওয়ার ও সময় হয়ে এসেছে , বড় বিপদে পড়লো তো মেয়েটা।
আয়মান: তৃপ্তিকে কারো ভরসায় রাখবো না , আমাদের সাথে নিয়ে যাবো। আমি ওর পাসপোর্ট , ভিসার ব্যবস্থা করছি , তুমি আমার সাথে থেকো মাআআআ। বলে তার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে , মিতালী ছেলের মাথা হাত দিয়ে চুল নাড়তে নাড়তে অতীতের সেই ভয়ঙ্কর রাতের কথা মনে করে।
তখনি তৃপ্তি চিৎকার করে কাঁদতে থাকে , আয়মান ও মিতালী দৌড়ে যায়। গিয়ে দেখে জেনি মারা গেছে দেখে কাঁদছে। আয়মানকে দেখে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে,
ভাইয়াআআআ আমার ফ্রেন্ড জেনি মরে গেলে , দেখো টম কিভাবে কাঁদছে। তৃপ্তির এভাবে ধরাতে আয়মান মিতালীর সামনে খুব লজ্জা পায়। মিতালী মুচকি হেসে বলে আমি খাবার গরম করি তুই ওকে বুঝিয়ে নিয়ে আয়।
তৃপ্তি দেখো জেনি ঠিক হয়ে গেছে , তৃপ্তি তাকিয়ে দেখি আসলেই , তখন খিলখিল করে হাসতে থাকে। আয়মান ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থমকে যায় , চোখে পানি মুখে কি সুন্দর হাসি নিয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে। আয়মানের বুকের ভিতরে কেমন কেঁপে উঠলো , এই প্রথম কোনো মেয়েকে দেখে ওর এমন লাগলো।
এতো বছরে কতো মেয়ে ওর পিছনে পড়ে ছিলো কাউকে পাত্তা দেয়নি , হঠাৎ তৃপ্তিকে দেখে ওর এমন লাগলো কেনো।
চলো তৃপ্তি আমরা খেয়ে নেই , তৃপ্তিকে নিয়ে খেতে আসে , কিন্তু খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে আয়মান তৃপ্তির দিকে তাকাচ্ছে। মিতালী আড় চোখে সবটা লক্ষ করছে , তিনি একটু মুচকি হেসে খাবারে মন দিলেন।
মাঝ রাতে তৃপ্তি চিৎকার করে উঠে , আয়মান ওর পাশের রুমেই ছিলো তাইতো দৌড়ে যায়।তখন মিতালী বেগম আসতে নিয়ে দেখে আয়মান আছে , তাই তিনি আর যাইনি।
আয়মান:কি হয়েছে তৃপ্তি এভাবে চিৎকার করছো কেনো , তৃপ্তি চোখ মেলে আয়মানকে দেখতে পায় তখন বলে আমাকে আর মেরোনা বাবা আমার খুব কষ্ট হয় বলেই ঙ্গান হারায়।
আয়মান বুঝতে পারে ও অতীতের কোনো কিছু নিয়ে হয়তো স্বপ্ন দেখছে।একটা ইনজেকশন দিয়ে সেখানেই বসে থাকে থাকে , সারারাত আয়মান তৃপ্তির রুমেই বসে থাকে।
পরের দিন হাসপাতালে ডিউটি শেষ করে থানায় যায় , ওসি ওকে দেখে হেসে বলে। আয়মান সাহেব মেয়েটাকে নিয়ে আপনি বিপদেই আছেন , আমি চেষ্টা করছি খুব তাড়াতাড়ি মেয়েটাকে কোথাও রাখার।
অফিসার আমি মেয়েটাকে দেখে রাখবো , আমার সাথে ওকে বিদেশে নিয়ে যাবো।
অফিসার:দেখুন কোন ভরসায় আমি মেযেটাকে আপনার সাথে এতো দুরে যেতে দেই।
আয়মান: আমার ব্যাপারে খোঁজ নিতে পারেন , আমি কেমন মানুষ বুঝতে পারবেন। তখন না হয় মেয়েটাকে আমার সাথে যেতে দিবেন , মেয়েটার কথা শুনে ও ওর পরিবারের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ওকে ভালো করার চেষ্টা করবো।
তখনি আরেক কনস্টেবল বলে , মেয়েটা দেখতে খারাপ না , এক কাজ করেন বিয়ে করে বৌ বানিয়ে নিয়ে যান। তানা হলে আমিই আমার ভাইয়ের বৌ করে নিয়ে যাই , কি বলেন স্যার , খালি আপনি রাজি হবেন কিনা ভেবে দেইনি।
আয়মান: আমি আপনাকে বলছি ওসি সাহেব দেবেন কি আমার সাথে যেতে।
দেখেন ডাক্তার এমন একটা মেয়েকে আমি আপনার সাথে যেতে দেই কিভাবে।
আচ্ছা আজ আমি আসি , কাল এসে আপনার সাথে আবারো কথা বলবো।
রাতে মিতালী বেগমের সাথে কথাবলে তখন মিতালী বেগম বলে , ওসি সাহেব ঠিকি বলেছে তাছাড়া তুই ওকে আমাদের সাথে নিবি কেমন করে।
বাকি পর্ব পড়ুন-





















