ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর
সোনিয়া আবেদীন
সকালে ঘুম ভাগল প্রেয়সীকে বুকের মাঝে পায় , তখন আয়মান মনে মনে বলে, তোমাকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়া যেন আমার জীবনের সবচেয়ে শান্ত মুহূর্ত। আর সকালে ঘুম ভাঙতেই যখন দেখি তুমি আমার বুকের মাঝে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছো, তখন মনে হয় পৃথিবীর সব সুখ যেন এই এক মুহূর্তেই লুকিয়ে আছে।
আদরের পরে তোমার এলোমেলো চুল মুখে লেগে থাকে, নিঃশ্বাসের উষ্ণতা আমার বুকে ছুঁয়ে যায়।তখন মনে হয়, জীবন আমাকে সবচেয়ে সুন্দর উপহারটা দিয়েছে। তোমাকে এমন শান্ত ঘুমে দেখে মনে হয়, তোমার সব দুঃখ-কষ্ট নিজের বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখি,শুধু তোমার মুখে হাসিটা ধরে রাখি সারাজীবন।
এই সকালের নরম আলোয় তোমাকে দেখে মনে হয়, প্রতিটা ভোর যেন তোমাকে নিয়েই শুরু হোক। তোমার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলি“তুমি থাকলে আমার জীবন পূর্ণ, তোমার এই নিশ্চিন্ত ঘুমই আমার সবচেয়ে বড় শান্তি।”
আজ থেকে তোমার প্রতিটা নিশ্চিতে ঘুম হক আমার বুকে, আমিও পরিপূর্ণ হই তোমার প্রেমে। তুমি আমার জীবনে না আসলে হয়তো আমার জীবনটা এতোটা রঙিন হতো না।থ্যাঙ্কস জান আমার ধূসর ভরা জীবনে বসন্ত নিয়ে আসর জন্য।
আয়মান আবারো ঘুমিয়ে পড়ে, আজ ওর ছুটি। তৃপ্তি উঠে শাওয়ার নিয়ে নাস্তা বানায়। এগারোটার দিকে ওকে ডাকতে যায়, আয়মান চোখ মেলে তৃপ্তিকে দেখে হেসে কাছে ডাকে। তৃপ্তি কাছে আসলে ওকে জড়িয়ে ধরে, কপালে চুমু দেয়।
উঠুন নাস্তা করবেন মান, অনেক দিন পরে এই নামটা শুনে আয়মান অবাক হয়। তৃপ্তি হেসে বলে রাফ আমাকে বলেছে, আমি নাকি প্রথমে সবার নাম সট করে বলতাম। এখন উঠুন নাস্তা করবেন।
তৃপ্তি ওকে বাথরুমে পাঠিয়ে রুম পরিস্কার করে, আয়মান আসলে একসাথে নাস্তা করে। তৃপ্তি আজ কলেজে যাবে না, আয়মানের সাথে সময় কাটাবে।
দেখতে দেখতে ওদের দুজনের সংসার ভালোই চলছে,আয়মান দিন দিন তৃপ্তির প্রতি পাগল হয়ে যাচ্ছে।সুযোগ পেলেই বাড়িতে আসে, ঘন্টার পর ঘন্টা ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। তৃপ্তি যখন বলে এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন কেনো, তখন বলে যানিনা ,মন চায় তোমাকে বুকের ভিতরে লুকিয়ে রাখি।
তৃপ্তির আদর, ভালোবাসায় আয়মান সন্তুষ্ট, মনে মনে আল্লাহ নিকট প্রার্থনা করে যাতে তৃপ্তি কখনো বদলে না যায়।
তৃপ্তিও বুঝতে পারে আয়মান ওকে প্রচুর ভালোবাসে, পেছনের কথা মনে করে আফসোস করে। আর ভাবে নাজিম তুমি আমাকে নিঃস্ব করতে চেয়েছিলে কিন্তু পারোনি। তুমি চলে যাওয়ার পর বুঝেছি, শূন্যতাও কখনো কখনো খুব ভালো কিছু বয়ে আনে।তোমার ধোঁকার কারনে আমি মানের মতো সুন্দর মনের একজন মানুষকে পেয়েছি, তার জন্য তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।যানিনা আমার কষ্টের জন্য আমার খোদা তোমাকে ক্ষমা করে কিনা।
মিয়ামীর আজ একটা ছেলে সন্তান হয়েছে। তৃপ্তি খুশিতে নাচছে, সবার আগে ও কোলে নিবে বলে ওটিতে ডুকেছে। সবাই আয়মানের বৌ হিসাবে চিনে, তাছাড়া মেডিকেলের স্টুডেন্ট তাই না করেনি।
ওটি থেকে ঠিকি ছেলেটাকে নিয়ে বের হয়েছে, মিতালী বেগমের কোলে দিয়ে বলে নাও মা আমার মেয়ের জামাইকে, ভালো করে তেল মালিশ করে দিও।
তৃপ্তির কথা শুনে সবাই হাসে, যখন থেকে শুনেছে ছেলে হবে তখন থেকে মেয়ের জামাই বানিয়ে রেখেছে।
আকিকা দিয়ে ছেলের নাম রাখে তিয়াম ,আকিকার শেষে তৃপ্তি খেতে বসে। আজকাল ওর অল্পতে ক্ষুধা লাগে, খাওয়ার মাঝে মিতালী ওকে ডিম দেয় খেতে। ডিমের গন্ধে ওর বমি পায়, দৌড়ে গিয়ে বমি করে। মিতালী ভয় পেয়ে যায়, কাছে গিয়ে ধরে।
কি হয়েছে বৌমা, তুমি বমি করছো কেনো, এসিড হয়েছে কি। গ্যান্টিকের ঔষধ খেয়েছো।
গ্যাসের সমস্যা না আম্মু , কয়েকদিন ধরেই এমন হচ্ছে। ডিম তো খেতেই পারিনা।
তৃপ্তি তুমি কি প্রেগন্যান্ট হয়েছো নাকি, প্রথমবার কিন্তু এমন হয়েছে।
কি বলো আম্মু ,তাহলে তো আমি শেষ। তোমার ছেলে যানলে আমাকে আস্তো রাখবেন। এখন মনে পড়েছে আমি কি ভুল করছি, আমি মিয়ামী আপুর কাছে যাই।
আপু একটা আকাম হয়েছে, তৃপ্তির মুখে এমন কথাশুনে মিয়ামী হেসে দেয়। তৃপ্তি অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে, শুনতে ওর খুব ভালো লাগে।
মিয়ামী:তা কি আকাম করেছো ?
তৃপ্তি : হেসো না, ঐদিন তোমার ভাই আমাকে ঔষধ এনে দিয়েছিল আমি তো মনে করে খাইনি, বলতে খাইনা। এখন এমাসের পিরিয়ড টাইম শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। প্রায় দুই মাস হতে চললো, আজ ডিম খেতে নিলাম তখনো বমি। আজ কতোদিন ধরে এমন হয়, এখন আম্মু দেখে বলে এর আগে নাকি আমার এমন হয়েছে।
মিয়ামী: তুমি ভয় পেও না, দেখছি আমি তুমি এই কিটটা নাও এখনি পরীক্ষা করে দেখো। তৃপ্তি দেরি করে না ,পরীক্ষা করতে ছুটে।
কিট নিয়ে এসে মিয়ামীর কাছে দেয়, মান যদি রাগ করে তখন কি করবে ভেবে ও ভয় পাচ্ছে। আপু আমার দ্বারা আকাম হয়েছে এখন তোমার ভাইকে সামলাও।
মিয়ামী কিট দেখে খুশিতে ওকে জড়িয়ে ধরে ,পরে ভাইকে ডেকে পাঠায়। মিতালী ওকে জড়িয়ে ধরে খুশিতে, তুমি ভয় পেও না আয়মান কিছু বলবেনা ।
বলবে আম্মু ঐ দিন আমাকে বলেছে, ডাক্তার হলে পড়ে বাবু নিতে। এখন শুনলে বলবে শিক্ষিত বলদ, আমি আসলে কেনো যানি গুরুত্ব দেইনি। প্রথম মাসে সমস্যা হয়নি কিন্তু এখন আমার কি হবে।
আয়মান রুমে আসে, দেখে তৃপ্তির মুখটা কেমন মলিন লাগছে। ওকে এমন দেখে ওর বুকটা কেঁপে উঠে, কি হয়েছে মেয়েটার আর মায়ের পেছনে বসে আছে কেনো।
মিয়ামী: ভাইয়া তোমার বৌয়ের দ্বারা আকাম হয়েছে।
আয়মান কপাল কুঁচকে বলে, তুই কবে থেকে ওর ভাষায় কথা বলিস।
আমি না তোমার বৌ বলেছে, তুমি কি যানো তুমি আবারো বাবা হতে চলছো।
আয়মান সবার মুখের দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির দিকে তাকায়, তখন তৃপ্তি ভয়ে কেঁদে বলে।
প্লিজ আমাকে বকবেন না, আমি আসলে বুঝতে পারিনি। এখন যখন আল্লাহ দিয়ে দিয়েছে তাই ওকে আসতে দিন, আমি মন দিয়ে পড়বো।
আয়মান কি বলবে বুঝতে পারছে না, বাচ্চা মেয়েটা আবারো মা হতে চলছে, ডাক্তার আরো পরে বাচ্চা দিতে বলেছে। এখন যদি এই কারনে ওর কিছু হয় ,মিতালী ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে।
দেখ আয়মান তুই ডাক্তার, তোর বোন, বোনের জামাই সবাই ডাক্তার তাই আমার মনে হয়না বৌমার সমস্যা হবে। তুই চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে ,আল্লাহ ইচ্ছা হয়েছে বলেই ও আসতে চলছে।
রাতে ফ্ল্যাট আসলে তৃপ্তি ক্লান্ত শরীর নিয়ে শুয়ে পড়ে, আয়মান রাতে ওর পেটে হাত দিয়ে বলে। আমার ছোট্ট পৃথিবীটা এখানে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। তোমাকে এখনও চোখে দেখিনি, কিন্তু জানো, তোমাকে আমি ইতিমধ্যেই ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি।
সোনা, তুমি যখন এই পৃথিবীতে আসবে, তখন হয়তো আমি সবকিছু ঠিকভাবে করতে পারবো না ,তবুও তোমার জন্য আমি সবসময় শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো। তোমার ছোট্ট হাতটা একদিন আমার আঙুল শক্ত করে ধরবে ,এই কল্পনাটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।তোমার মা অবুঝ, নিজের অজান্তেই আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খুশিটা দিয়েছে।
তুমি আমার জীবনের নতুন স্বপ্ন, নতুন সাহস। তোমার জন্য আমি আরও ভালো মানুষ হতে চাই, যেন তুমি গর্ব করে বলতে পারো “এই মানুষটাই আমার বাবা।”
আমি জানি না তুমি ছেলে হবে না মেয়ে, কিন্তু তুমি যাই হও, তুমি আমার হৃদয়ের সবচেয়ে কোমল জায়গাটা জুড়ে থাকবে। তোমার হাসি দেখার জন্য, তোমার মুখে প্রথম ‘বাবা’ ডাক শোনার জন্য আমি অধীর হয়ে আছি।
“বাবা/মা, তুমি তাড়াতাড়ি এসো ,তোমাকে বুক ভরে ভালোবাসার জন্য তোমার বাবা অপেক্ষা করে আছে।”
যানো তো আমি এতিম তোমরা যেই আসো আমার বাবা/ মা হয়ে আসবে। থ্যাংকস জান আমাকে আবারো এতোটা খুশি দেওয়ার জন্য, প্রথমবারের মতো আর ভুল করবো না।
অন্য রুমে গিয়ে মোবাইলটা বের করে, শোনো এখন বাংলাদেশে যেতে পারবোনা। ঐদিকে সব তোমাকেই দেখতে হবে, আমি আমার হবু সন্তানের মাকে রেখে কোথাও যেতে পারবো না। প্রথমবার আমরা আমাদের সন্তানকে হারিয়েছি দ্বিতীয়বার হারালে আমি সহ ও ভেঙ্গে যাবে।
হয়তো নিয়তি ওদের সুযোগ দিয়ে বাঁচতে, ওরা বাঁচুক আরো কয়েকটা বছর, ততোদিনে না হয় আমি আমার রাজ্যত্ব বাড়াতে থাকি। তোমার উপরে সব ছেড়ে দিলাম, যানো তো আমি অন্যায় পছন্দ করি না। তাই লোক নিবে দেখে শুনে, আমাদের নাম ব্যবহার করে যাতে অন্যায় করতে না পারে সেই দিকে দেখবে।
তারপর থেকে তৃপ্তির ছায়া হয়ে আয়মান হাটতে থাকে, তৃপ্তির জন্য একজন বাঙ্গালী কাজের লোক রেখেছে।ওর কাজ পড়ার সময় পড়া, খাওয়া, নামাজ, কোরআন পড়া। তিয়ামের সাথে সময় কাটানো, প্রতি সপ্তাহে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া।
তৃপ্তির পেট প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বড়, আয়মান সন্দেহ করছে এখানে দুটো বাচ্চা আছে। সাতমাস পড়তেই পরিক্ষা করে যানতে পারে ওরা জমজ সন্তানের বাবা/মা হবে। আয়মান বাচ্চাদের লিঙ্গ যানতে চায়না, যাই আসুক সুস্থ সাভাবিক আসুক।
দশমাস পড়তেই মধ্য রাতে তৃপ্তির ব্যাথা উঠে, আয়মান ওকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে। মিয়ামী সেখানেই ছিল তাইতো যাওয়া মাত্রই ওকে ওটিতে নিয়ে যায়। ওকে নেওয়ার আগে আয়মান বলে, জান আমার বাবুদের নিয়ে আমার বুকে এসো। বাহিরে তোমার মান তোমার অপেক্ষা করছে, আমাকে ফাঁকি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করো না।
তৃপ্তি: আল্লাহ চাইলে আমি আসবো, আমার আল্লাহ আমাদের এক করে দুরে সরাবে না। আমি আসছি বাবুদের নিয়ে আপনি অপেক্ষা করেন।
ওটির বাহিরে আয়মান ছটফট করতে থাকে, ভিতর থেকে তৃপ্তির চিৎকার ভেসে আসছে। ঘন্টা খানিক পরে দুজন নার্স সাদা তোয়ালে মুড়িয়ে দুটো বাচ্চা নিয়ে আসে।
স্যার আপনার দুটো ছেলে হয়েছে, আয়মান নার্সের কথায় অবাক হয়ে তাকায়। মিতালী, মিরাফ চিৎকার করে উঠে, এই আয়মান নে তোর বাবুদের কানের কাছে আজান দে। আয়মান খুশিতে কেঁদে দেয়, কাঁপতে কাঁপতে দুই হাতে দুই ছেলেকে নেয়, তৃপ্তি কেমন আছে নার্স।
এতো রাগী ডাক্তারের হাত কাঁপছে দেখে নার্সরা অবাক হয় তাকিয়ে থাকে ,তারপর নার্সরা বলে, মেম ভালো আছে স্যার কিছুক্ষন পরে কেবিনে দেওয়া হবে।
বাচ্চাদের নিয়ে আজান দেয়, ততোক্ষন তৃপ্তিকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। মিতালী ও মিনহাজ বাচ্চাদের নিয়ে কেবিনে যায়। আয়মান ওয়াডবয়কে দিয়ে মিষ্টি এনে বিতরন করে, কেবিনের উদ্দেশ্য রওনা দেয়।
আয়মানকে আসতে দেখে সবাই বেরিয়ে যায়, আয়মান এসে তৃপ্তির কপালে চুমু দিয়ে ধরে রাখে। তখন ওর কপালে আয়মানের চোখের পানি পড়ে, তৃপ্তি ওর মানকে কাঁদতে দেখে ভয় পেয়ে যায়।
তৃপ্তি:কি হয়েছে আপনার আপনি কাঁদছেন কেনো, বাবুদের দেখে আপনি খুশি হননি ।
হুসসস ওরা আমার সন্তান, ওদের দেখে খুশি হবো না কেনো। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তোমার জন্য, একবার মনে হয়েছিল তুমি মনে হয় মাম্মামের মতো আমাকে একা রেখে চলে যাবে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া তিনি তোমাকে আমার জন্য রেখে গেছে। এই অশ্রু খুশির ,তুমি আমাকে দুটো বাবা দিয়েছো বলে।
তাহলে এবার আমাকে একটা চুমু খান, আজ এই পর্যন্ত একটাও খাইনি।
আয়মান হেসে তার প্রেয়সীকে চুমু দেয়, পাগলি এটার জন্য বলতে হবে নাকি।
পরের দিন বাবুদের সহ তৃপ্তিকে ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়,রুমটা খুব সুন্দর করে সাজায়। বাবুদের কোলে নিয়ে তৃপ্তির মুখে হাসি চোখে পানির একটা ছবি দেওয়ালে টাঙ্গানো। তারপরে আয়মান যখন বাবুদের কোলে নেয় তখনকার ছবিটাও, কেবিনে যখন দুইজনকে তৃপ্তি একসাথে নেয় তখন আয়মান পেছন দিয়ে তৃপ্তিকে সহ বাবুদের ধরে সেই ছবি
এই ছবিগুলো মিরাফ তুলে ছিল, আর প্রতিটা ছবি খুব সুন্দর হয়। দেখছেন আমাদের রাফ কতোটা কাজের ,ও যে আমাদের প্রথম অনুভুতিকে কাছে পাওয়ার মুহুর্ত গুলো এমন করে তুলে ধরবে বুঝতে পারিনি। তার জন্য ওকে পুরস্কিত করা হবে।
আকিকা দিয়ে ছেলেদের নাম রাখে আয়ান চৌধুরী ,আয়াজ চৌধুরী।
এরপরের সময় যেনো খুব দ্রুত চলে গেলো, বাচ্চাদের দেখাশোনা, লেখা পড়া নিয়ে থাকতে থাকতে চৌদ্দো মাস পাড় হয়ে গেল।তৃপ্তি বুঝতে পারে আবারো সে প্রেগন্যান্ট হয়েছে, এইবার ও আয়মানকে ভয়ে কিছুই বলে না।
যখন চার মাস হয় তখন আয়মান বুঝতে পারে, তৃপ্তি আবারো প্রেগন্যান্ট, তখন তৃপ্তিকে ডেকে বলে। জান বাচ্চাটা তো আমারো আর আমার কাছে লুকালে কেনো, বায় চান্স তুমি কি হওয়ার আগে বলতে, আপনি আবারো বাবা হচ্ছেন।
তৃপ্তি : দেখেন আমার কি দোষ, পিরিয়ড না হয়েই আমি প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলাম। যদি বাবুরা ছোটো ভেবে আপনি নষ্ট করতে বলেন তাই বলিনি, আম্মু, আপু আছে তারা দেখে নিবে।
আয়মান: এই বাচ্চাটা হলে আমি আর তোমার সামনে যাবো না, দেখা যাবে তুমি আদিম যুগের মহিলাদের মতো বছরে বছরে বাচ্চা নিতে থাকবে।
নিলে সমস্যা কি, আপনার কি টাকা পয়সার অভাব।দোষ কিন্তু আমার না তাই আমাকে কথা শুনাবেন না, যান আপনার ছেলেদের দেখেন আমি এখন ঘুমাবো। দেখেন এইবার আমার একটা মেয়ে হবে, ঠিক আপনার মতো দেখতে হবে।
তাই যেনো হয়, ছেলে গুলো তো তোমার মতো হয়েছে।
কেনো ওরা চোখ, ভ্রু পেয়েছে আপনার, তাতে আমি কিছু বলেছি নাকি। যান এখন খালি আমার দোষ ধরার জন্য বসে থাকেন, আয়মান অবাক হয়ে তার বৌকে দেখে। তার ধমকে সবাই ভয় পায় আর সে নাকি তার বৌকে ভয় পাচ্ছে।না আমি আর তোমার কাছে যাবো না, দুর বৌকে ছাড়া থাকতে পারিনা আর এই মেয়ে আমাকে জ্বালিয়ে মা*রবে বলে ছেলেদের কাছে যায়।
বাকি পর্ব পড়ুন-





















