তৃতীয় পর্ব ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর

ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর

সোনিয়া আবেদীন

সবাই ড্রয়িং রুমে বসে আছে ফাতেমার আশায় , নিখিলের ঠোঁট থেকে হাসি যেনো সরছে না। নায়না স্বামীর দিকে তাকিয়ে কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে । যাকে এতো ভালোবাসল সেই কিনা তার বোনকে ভোগ করতে উঠে পড়ে লেগেছে।আমার মাঝে কিসের কমতি ছিলো নিখিল যার জন্য তুমি এমনটা করছো , এখনো তুমি তোমার চাওয়াকে পরিবর্তন করো নিখিল। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি , আমার ভালোবাসার এভাবে পরীক্ষা নিও না।

আচ্ছা নিখিল তো আমার জন্য এমন পাগল ছিলো , তাহলে ঐ মেয়েটার কথাই কি সত্যি ছিলো। নিখিল ঐ মেয়ের সাথে সম্পর্ক থাকা কালিন আমার সাথে সম্পর্ক করেছিলো। আর ভাবতে পারছি না , আমার মাথা ঘুরছে।

ওর দিকে করুন ভাবে তাকিয়ে মনে মনে এই কথা গুলো বলছে , এখনো চাইছে যাতে নিখিল তৃপ্তিকে বিয়ের কথা ভুলে মন দিয়ে সংসার করে । আচ্ছা ঐ দিন ও তো আমার এতো কষ্ট লাগে নি তাহলে আজ ছোটো মা রাজি হ‌ওয়াতে এতো কষ্ট লাগছে কেনো। নিখিল যদি তৃপ্তিকে পেয়ে আমাকে অবহেলা করে , যদি তৃপ্তির কথা মতো আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। না না আমি এই গুলো কি ভাবছি , আমার নিখিল এমনটা করতে পারে না। ও তো আমাকে কথা দিয়ে আমাকে ভালোবাসবে শুধু তৃপ্তিকে,,,

তখনি ফাতেমা আসে , ওকে দেখে আজিজ , আজিম দুই ভাই তাকিয়ে থাকে। ফাতেমা এখনো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে হাঁটছে , ঠোঁটের পাশে এখনো আঘাতের চিহ্ন।

ফাতেমা : আপনারা অনেকক্ষন বসে ছিলেন , আরেকটু বসেন আমি কিছু খেয়ে নেই। বলে ফাতেমা খেতে চলে গেলো , রান্না ঘর থেকে খাবার এনে টেবিলে বসে খাচ্ছে। ওর এমন ব্যবহারের জন্য সবাই অবাক হয়ে যায় , ও কখনো এমনটা করেনা।

খেয়ে তারপর সোফাতে বসে , তো এবার বলেন আমার কাছে কি যানতে চান।

নীলা: ইচ্ছে ছিলো না এখানে আসার , ছেলের কারনে আসতে হলো। শুনলাম বিয়ে বসবেনা বলে মেয়ে অনেক নাটক করেছে ,আরে আমার ছেলের মতো এতো ভালো ছেলে পাবি নাকি। আমি ইচ্ছে করলে অন্য জায়গা থেকে মেয়ে আনতে পারতাম , তখন তো তোমাদের মেয়েকে বের করে দিতে হতো। একে তো বন্ধ্যা মেয়েকে রাখবো তার উপর একটু মানিয়ে নিতে পারবে না।

আজিম : তুমি যানো না তোমাকে কেনো ডাকা হয়েছে , তৃপ্তি ও নিখিলের বিয়ের তারিখ ঠিক করতে। কবে ওকে হাসপাতাল থেকে আনবে , এখন তো ভালোই আছে তাই না। এই জন্যই বিইয়ান এসেছে , তৃপ্তি আসলেই বিয়েটা সেরে ফেলবো।

ফাতেমা : আজ কতো দিন হলো মেয়েটা হাসপাতালে আছে , নিখিলকে বিয়ে করতে চাইনি বলে কেউ আমার মেয়েকে দেখতে যাওনি। ওকে ফাইন , আমি বুঝে গেছি এখানের কেউ আমাদের ভালো চায়না। তুমি কেমন বাবা আমি ভাবতে পারছি না , আসলেই কি তুমি সন্তানের বাবা হ‌ওয়ার যোগ্য।

তা নাজিম তুই কি বলেছিলি নিখিলের সাথে এখন বিয়ে করতে পরে নিখিল ছেড়ে দিলে ওকে বিয়ে করবি তাইতো।

নিখিল : হ্যাঁ বলেছি তো করবো , তোমাকে বারবার বলতে হবে।আমাদের বাড়ির ব‌উ হতে চাইবে এতটুকু উপকার করবে না।

ফাতেমা: মুচকি হেসে তাহলে এখন যে কান্তার সাথে আছিস , সেটা কি রক্ষিতা হিসাবে রেখেছিস , নাকি আমার মেয়ের সাথে বিয়ের পরেও ঐ রক্ষিতাকে এইভাবেই রাখবি।

আবিদা : মেজো ভাবী মুখে লাগাম দিয়ে কথা বলো , আমার মেয়েকে নাজিম রক্ষিতা হিসাবে রাখবে কেনো। ও ওর ব‌উয়ের পরিচয়ে থাকবে , ভবিষ্যতে তোমার মেয়ে রক্ষিতা হিসাবে থাকবে ।

আজিম : কি বললি কান্তার সাথে নাজিমের বিয়ে হলে পরে কি ও আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাইবে।

ফাতেমা: তুমি আসলেই বোকা , যেই ভাইয়ের মেয়ের জন্য নিজের মেয়ের জীবন নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছো , সেই মেয়ে তোমাদের সবার সাথে মিথ্যা বলছে।ও মা হ‌ওয়ার ক্ষমতা হারাইয়া , বরং স্বামীর ইচ্ছা পূরন করতে ও বাধ্য হয়ে এই বিয়েতে রাজি হয়েছে। তানা হলে ঐ ছেলে ওকে কখনো মা হতে দিবে না , ওরা দুই ভাইবোন মিলে আমার মেয়েকে নিয়ে খেলেছে।

আজিজ: নায়না ছোটো ব‌উ যা বলছে তাকি সত্যি নাকি , তুই সব যেনে এমন একটা অন্যায় আবদার কেমন করে করলি।

নায়না: নিখিলের দিকে তাকিয়ে দেখে ওর দিকে রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে , না না আব্বু ছোটো মা আমার নামে মিথ্যা বলছে।

নাজমুন: তুই মেয়ে বিয়ে দিতে চাসনা বলে আমার মেয়ের নামে মিথ্যা বলবি ফাতেমা। কোনো মেয়েকি তার পাশে সতীন সহ্য করে , আজ আমার মেয়েটা অক্ষম বলে তোরা ওকে নিয়ে মা মেয়ে উপহাস করছিস।

ফাতেমা: তাহেরা নিয়ে আয় , তখনি তাহেরা বুকে করে কোর‌আন শরীফ নিয়ে আসে।তাহেরা নায়নার সামনে দাড়ায় , নায়না তাহলে এই কোর‌আন শরীফকে ছুঁয়ে বল আমি মিথ্যা বলছি।

নায়না সাথে সাথে ছিটকে সরে যায় , ছোটো মা তুমি এইটা কি বললে হ্যাঁ। আমি কেনো কোর‌আন ধরবো , যানো না এইসব করা ভালো না। তাছাড়া আমার শরীর ভালো না।

ফাতেমা:এটা ছাড়া আমার আর উপাই রাখিসনি তোরা ভাই বোনেরা , ভাই গোপনে ফুপাতো বোনকে বিয়ে করে সংসার করছে , আর বোন আমার মেয়েকে স্বামীর ভোগের বস্তু বানাতে মিথ্যা বলে যাচ্ছে।আল্লাহ তোদের ভাইবোনের বিচার করবে দেখে নিস , এই আমাদের থেকেও তোদের করুন দশা হবে।

আজিম:ফাতেমাআআআ তোমার সাহস হলো কেমন করে , ওদের সাথে এভাবে কথা বলার, আজ তোমাকে মেরেই ফেলবো । নাজিম গিয়ে তৃপ্তিকে ধরে নিয়ে আয় , ওর সামনেই ওর মেয়ের আজ বিয়ে হবে। জীবনের প্রথম আমার ভাইজান আমার কাছে কিছু চেয়েছে আমি সেটা করতে পারবো না।

ফাতেমা:খবরদার আজিম আমার শরীরে আর একটি বারো হাত দিবে না , আমি আসার আগে থানায় তোমার নামে নারী নির্যাতনের মামলা দিয়ে এসেছি। আর রাইসার বাবাকে এটাও বলে এসেছি তিন ঘন্টা পরে পরে যদি আমি কল না দেই তাহলে এই পরিবারের সবাইকে ধরে থানায় নিয়ে যাবেন।আর তৃপ্তির কথা বলছো, ওকে আজ আমি মাটি দিয়ে এসেছি। ও ম*রে গেছে তোমাদের সবাইকে মুক্ত করে চলে গেছে , এখন দেও কার কাছে দিবে বিয়ে।

আজিম:তুই মিথ্যা বলছিস , যাতে মেয়েকে বিয়ে দিতে না পারি। সেখানেই পাইনা কেনো ওকে ধরে নিয়ে আসবোই , তখন তুই কিভাবে আমাকে ঠেকাবি। কোথায় পালিয়ে থাকবে আমিও দেখবো , বলে ফাতেমার গালে থাপ্পড় মারে।
তোর এতো বড় সাহস , আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলিস , তোর মতো মহিলার সাথে আমি থাকবো না। এখনি আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে , তোকে আমি তালাক দিলাম , এক তালাক , দুই তালাক , তিন তালাক।

সবাই আজিমের কথায় জমে যায় , আজিম একটু বদমেজাজী , তাই বলে এমনটা করবে।

ফাতেমা স্বামীর মুখের কথা শুনে সেখানেই স্তব্ধ হয়ে যায় , এতো বছরের সংসারে এই লোকটা ওকে বিশ্বাস করলো না।

আবিদা:বেশি বাড়াবাড়ি করলে এমনি হয় , এখন গেলো না নিজের সংসার। আমাদের কথা শুনলে কি হতো , তাহলে তো এই সংসারে থাকতে পারতে। এখন রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে খাও , বাপের বাড়িতে তো কেউ নেই। কখনো তিন কুলে কাউকে খোঁজ নিতে দেখিনি।

আজিম: এখনি তোর সন্তানদের নিয়ে বেরিয়ে যাবি আমার বাড়ি থেকে।

ফাতেমা নিজের রুমে গিয়ে ছেলে মেয়ের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গুছিয়ে বেরিয়ে আসে।পরে ভাসুরের সামনে গিয়ে দাড়ায় , ভাইজান আজ আপনার কারনে আমাদের সাথে এতো সব হলো। আল্লাহ ছাড় দেয় ছেড়ে দেয় না , আজ আমাকে সহ আমার সন্তানদের অসহায় করে ছাড়লেন একদিন আপনাকেও এমন অসহায় হয়ে বসতে হবে।

আজিম: তুই আবার আমার ভাইকে কথা শুনাচ্ছিস , যা এখনি বেরিয়ে যা।

এমনিতো আমি আজ বেরিয়ে যেতাম , তবে আমি এই বাড়ি থেকে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে গেলাম।

ফাতেমা ছেলে মেয়ে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিখিলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বলে। যেমন বাপ ছিলো তেমন ছেলে হয়েছে , বাপ পরকিয়া প্রেমিকার জন্য স্ত্রী , সন্তান , বোনকে পুড়িয়ে মে*রেছে। ছেলে আর কেমন হবে , তবে তোদের বিনাশ আল্লাহ ঠিকি করবে।

ফাতেমা তাহেরা ও ফারিশকে নিয়ে বেরিয়ে যায় , তখন আজিম সোফাতে বসে পড়ে। এতোক্ষনে তার হুস আসে সে রাগের মাথায় কি করছে , তার এখন হাত পাও কাঁপছে ।

আবিদা দেখতো ছেলে মেয়ে কোথায় গেলো , ঐ মহিলাকে যেতে বল ওদের এখানে আসতে বল।

আবিদা: এখনি না ছোটো ভাই , কয়েকদিন যাক, মায়ের সাথে থেকে ওরা অভাব বুঝবে তারপরে না হয় গিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে আসবো

নাজিম বাবা দেখতো তৃপ্তির খবর নিয়ে ও যা বলে গেছে তাকি সত্যি নাকি। যদি তৃপ্তিকে পাস তাহলে বলিস না ওর মাকে আমি তালাক দিয়েছি , বুঝিয়ে বাড়িতে নিয়ে আয়। পরে দেখা যাবে কি হয়।

নাজিম ও নিখিল সেই হাসপাতালে যায় , সেখানে গিয়ে ওরা ভুল কেবিনে যায়। আর সেই কেবিনের মেয়েটা সকালেই মারা গিয়েছিলো , নিখিল মুখটা কালো করে বাড়িতে আসে।

আজিম: নাজিম তৃপ্তি কেমন আছে , ফাতেমা আর ওরা ভাই বোনেরা ঐখানে আছে তাই না। ওকে কি ফাতেমা বলে দিয়েছিলো আমি ওকে তালাক দিয়েছি।

নাজিম: আসলে ছোটোবাবা ছোটো মা ঠিকি বলেছে , সকালে তৃপ্তি নাকি মা*রা গেছে। ছোটো মা রাগে মানুষ দিয়ে ওকে কবর দিয়ে তারপর এখানে এসেছে।

আজিম দুই পা পিছিয়ে যায় , ও বিশ্বাস করতে পারছে না। ওর আদরের মেয়েটা সত্যি মা*রা গেছে , এতো চঞ্চল মেয়েটা এভাবে অভিমান করে চলে গেলো।উঠে নিজের রুমে চলে যায়।, এখানে আর থাকতে ইচ্ছা করছে না। ফাতেমা কতোটা পাষান মনের মহিলা , একটি বার মেয়ের লাশটা দেখতে দিলো না।

আবিদা: হায় হায় ভাইজান ছোটো ভাবী এইটা কি করলো , বাড়ির মেয়ে মা*রা গেলো আর বাড়ির কাউকে বললো না।

আজিজ: সব হয়েছে আমার জন্য , আমি যদি ছোটোর কাছে এইসব না বলতাম তাহলে এমনটা হতো না। আমার কারনে ছোটোর সংসার , মেয়ে দুটোই গেলে।

আবিদা: তুমি নিজেকে দোষী ভেবোনা ভাইজান , ছোট ভাবীর কারনে মেয়েটা এমন হয়েছে। ভাবীর শিক্ষায় কমতি ছিলো , মেয়েকে আদরে বাদর বানিয়েছে। কি হতো বড়দের কথা মানলে , সুখে থাকতে পারতি।

নাজমুন: আবিদা নাজিম কি সত্যিই তোমার মেয়েকে বিয়ে করেছে , তাহলে নাজিম তুই তোর ছোটো মাকে মিথ্যা বললি কেনো। যদি কান্তাকে বিয়ে করে থাকিস তাহলে তৃপ্তিকে কি করে পরে বিয়ে করতি।

নাজিম: বিরক্ত হয়ে মায়ের দিকে তাকায় , আহা মা তুমি বড্ড বেশি কথা বলো। আমি কেনো দুই বিয়ে করতে যাবো , এই কথা না বললে কি ছোটো মা নিখিলের কাছে বিয়ে দিতে রাজি হতো। নিখিলকে বাচ্চা দিলে পরে ছাড়িয়ে ভালো দেখে বিয়ে দিতাম।

রুম থেকে বের হতে নিলে আজিম সব শুনে , নিজের মেয়েকে নিয়ে ওর এমন কথা শুনে ওর বুকে ব্যথা উঠে যায়। রুমে ফিরে যেতে পারেনা , সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়।

কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে নাজমুন সেখানে তাকিয়ে দেখে আজিম পরে আছে।নাজিম রে তোর ছোটো বাবা অঙ্গান হয়ে গেছে , নাজিম তাড়াতাড়ি দারোয়ানকে নিয়ে আজিমকে হাসপাতালে ভর্তি করায়।

তৃপ্তি মায়ের দেওয়া ঠিকানায় পৌছানোর আগে গাড়ি এক্সিডেন্ট করে , সেইখানকার লোকজন ওকে ও ড্রাইভারকে হাসপাতালে ভর্তি করায়।

আয়মান চৌধুরী ডিউটি শেষে বাড়িতে ফিরবে তখনি ইমার্জেন্সি রোগী আসাতে চিকিৎসা করতে যায়। মাথায় প্রচন্ড আঘাত নিয়ে মেয়েটা এসেছে , নিজের বেস্টটা দিয়ে সেই মেয়ের অপারেশন করতে থাকে।

দুই ঘন্টা অপারেশনের পরে আয়মান বের হয় , তারপর বাহিরে এসে রোগীর পরিবারের লোকদের খোঁজ করে। যখন যানতে পারে মেয়েটার সাথে কেউ নেই, তখন অবাক হয়। তারপর পুলিশ আসে , ড্রাইভার কম আঘাত পায়। তাকে নিয়ে মেয়েটার ব্যাপারে কথা বলে , তখন ড্রাইভার বলে।

ড্রাইভার : ভাই মেয়েটার মা একটা ব্যাগ দিয়ে ওকে সিলেটের এই এলাকায় নিয়ে যেতে বলে। আমি ঢাকার আরবিন হাসপাতাল থেকে উঠিয়েছি। তাদের আলাপে যতোটুকু বুঝলাম , মেয়েটার পরিবার থেকে বাঁচানোর জন্য মেয়েটাকে সেই মহিলা একা ছেড়েছে।মাটা যাওয়ার সময় মেয়েটাকে বার বার বলেছে, আমাদের ম*রার কথা শুনলেও তুই বাড়িতে আসবিনা। তাছাড়া মেয়েটা নিয়ে যাবো বলে আমাকে দ্বিগুন ভাড়া দিয়েছে।

পুলিশ: ওকে আপনি তাহলে আমাদের সাথে চলুন , মেয়েটার ব্যাগটা আছে নাকি দেখি। পুলিশ গাড়ির সামনে গিয়ে ডিক্কি থেকে মেয়েটার ব্যাগ বের করে দেয়।

পুলিশ ব্যাগ খুলে দেখে সেখানে গহনা , টাকা আর মেয়েটা সাটিফিকেট। পুলিশ থানায় এসে আয়মানকে কল দেয় , রোগীর ঙ্গান ফিরলে তাদের কল করতে হলে। আর ড্রাইভার ওদের যা বলেছে সেই কথা ওকে বলে।কল কাটলে আয়মান যাওয়ার আগে মেয়েটাকে দেখে নার্সের হাতে দায়িত্ব দিয়ে যায়।

দুই দিন পরে মেয়েটার ঙ্গান ফিরে , চোখ খুলে নিজের সামনে একটা শ্যাম বর্ণের পুরুষকে দেখতে পায়। তখন মেয়েটা তাকে দেখে বলে , তুমি কে , আমার খিদা লাগছে।

আয়মান তাকিয়ে দেখে মেয়েটার ঙ্গান ফিরেছে , তাই বলে। তোমার নাম কি? কোথা থেকে এসেছো।?

আমার নাম , নাম কি ? আমি আমার নাম মনে করতে পারছি না। কি নাম আমার।

মেয়েটার কথায় আয়মান অবাক হয়ে যায় , তাহলে কি মেয়েটা ওর স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছে। এটারি ভয় ছিলো , এতোবড় আঘাতের পরে স্মৃতি হারানোটাই স্বাভাবিক।

তোমার কিছু মনে নেই তুমি কে?

মেয়েটা মনে করার চেষ্টা করলো ও কে , তখনি ওর মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায। ব্যাথায় ছটফট করতে থাকে , তখন আয়মান ওকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে কেবিন থেকে বাহিরে আসে।

দুদিন পরে আবারো পুলিশ আসে তখনো মেয়েটার সাথে কথা বলতে পারে না। তখন বাধ্য হয়ে আয়মানের সাথে দেখা করতে যায়।

ভাঙা বিশ্বাবাসের পূর্ববর্তী পর্ব পড়ুন নিচের লিংক ক্লিক করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *