বাংলার মৃৎশিল্প

প্রাকৃতিক নিয়মেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়ে যায়, কখনো বা কোনো কিছু বিলুপ্ত হয়ে যায়। কখনো কখনো দেখা যায়, তার অনেক কিছুই আবার মানুষের স্মৃতিতে থেকে যায়, দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে। আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির কিছু কিছু নিদর্শন এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিছু কিছু আবার রয়েছে বিলুপ্তির পথে, এটা ঘটে থাকে সাধারণত কিছুটা আমাদের দোষে, বাকিটা প্রাকৃতিক নিয়মে। তাই এ পরিবর্তনকে আমাদের ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও প্রায় সময়েই মেনে নিতে হয়।

আমাদের মৃৎশিল্প এখন কোন পর্যায়ে আছে? সমাজ বিজ্ঞানীদের কাছে এটা এখন একটা বড় প্রশ্ন বৈকি। তবে অবস্থা দৃষ্টে বলা যেতে পারে আমাদের মৃৎশিল্প এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। যদিও আধুনিক যুগে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আবিষ্কার ও উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বিভিন্নক্ষেত্রে বলা যায়, বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সেইভাবে আমাদের মৃৎশিল্পের কাজেও এরই মধ্যে কমবেশি আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে, এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।  

তাছাড়া আমাদের গ্রামবাংলার মেঠো পথ, সবুজ বনাঞ্চল, দিগন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেত, প্রান্তর ভূমি আর রাখালিয়ার মন উদাস করা বাঁশির সুর কি একেবারেই হারিয়ে গেছে আমাদের জীবন থেকে? সেই সুর এখনো কি আমাদের মন টানে না? কখনো কখনো গ্রামের কোনো মেলায় যাবার জন্য মন কি কেমন করে ওঠে না?

যদিও আমরা জানি, প্রকৃতপক্ষে ওইসব মেলায় কি পাওয়া যায় বা যেতে পারে। তারপরেও তো মেলায় যাবার জন্য মন উদগ্রীব হয়ে ওঠে, এটাতো মিথ্যে নয়। এখনো আমাদের গ্রামীণ জনপদে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে মাটির তৈরি জিনিসপত্র যেমন হাড়ি, পাতিল, কলসি ইত্যাদিসহ অনেক কিছুই পারিবারিক কাজে প্রতিদিন ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া নববর্ষসহ বারো মাসে তেরো পার্বণের এই দেশে মৃৎশিল্পীরা সেই প্রাচীনকালের ধারায় যুগের পর যুগ ধরে নানা ধরনের মূর্তি, পশু পাখি এবং খেলনাসহ নানা ধরনের সামগ্রী তৈরি করে আসছে। যার মধ্য দিয়ে তারা শুধু নিজেদের জীবনকেই সুন্দর করার চেষ্টা করে না, বরং নিজেদের মনের আবেগ আর শৈল্পিক চেতনার মধ্য দিয়ে বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাও রক্ষা করে থাকে। এবং সেই সঙ্গে তাদের অসীম ধৈর্য আবেগ আর কল্পনাকে শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *