ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর
সোনিয়া আবেদীন
মিজান স্কলারশিপে কানাডায় ভিসা পায়, তারপর আমিও লোক ধরে এখানে চলে আসি। আমরা বিবাহিত বলে সমস্যা হয়নি, তিন মাস পরেই আমরা দেশ ছাড়ি। বাড়িতে ভাবীর লাশ পায় কিন্তু আমাদের লাশ পায়নি, তখন লোক দিয়ে অনেক খুঁজেছে।মিজানের কারনে আমাদের ধরতে পারেনি, সব চেয়ে বড় কথা, মিজানের পরিচিত এক ওসির কারনে আমাদের ধরতে পারেনি।
তিনি আমাদের দেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্য করেছে, তিনি বলেছিলেন আমরা চাইলে ভাইয়ার বিরুদ্ধে কেইস করি কিন্তু আমি আয়মানের জানের নিরাপত্তা জন্য সব কিছুর থেকে দুরে সরে আসি। আজ ভাবীর মৃত্যু বার্ষিকী, এই দিনে আয়মান খুব ভেঙ্গে পড়ে। তৃপ্তি মা তুমি ওকে সাহারা দিও, আজ ওকে সামলানোর দায়িত্ব তোমার।
তুমি হয়তো যানো না, নিখিল আয়মানের ভাই, মানে নীলার ও আমজাদের নাজায়েজ সন্তান। নীলা বিয়ের আগেই গর্ভবতী হয়, তার জন্যই তো ভাইয়া ওর কথাতে আয়মানকে মা*রতে চায়। যখন ভাইয়ার ছেলের কারনে তোমার জীবন নষ্ট হতে নিল তখনি তোমাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠল।
শুধু বাঁচাতে নয়, এই প্রথম তোমার প্রতি ওর অনুভূতি বুঝতে পারে। তানা হলে শত মেয়ে ওর জন্য পাগল সে কিনা এক দেখাতে তোমাকে ওর জীবনে জায়গা দিয়ে দেয়।ও কিন্তু চাইলেই পারত তোমাকে অন্য ভাবে রক্ষা করতে, সেটা না করে তোমাকে অর্ধাঙ্গিনী বানিয়ে নিয়ে আসে।
সন্ধ্যার আগে আয়মান বাসায় আসে সবার সাথে ইফতারি করে, রাতেই মিতালী বেগম চলে যায়। তৃপ্তিকে আয়মানকে দেখতে বলে যায়, রাতে আয়মানের রুম থেকে চিৎকার আওয়াজ পেয়ে তৃপ্তি দৌড়ে যায়। দেখে আয়মান মায়ের বড় একটা ছবি নিয়ে বুকে জড়িয়ে কাঁদছে।
তৃপ্তি ওর সামনে গিয়ে ওর কাধে হাত রাখে, তখনি আয়মান মাথা তুলে ওকে দেখে। নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তৃপ্তির পেটে জড়িয়ে ধরে বলে।
আমি কেনো এতো অসহায় জান ,ওরা আমার মাকে মেরে এখনো কতো সুখে আছে। আমি কেমন করে ওদের শাস্তি দেবো বলো তো, ওরা একের পর এক মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে।আমি কেমন করে ওদের,,,,
তৃপ্তি ওর মুখে হাত রাখে, আপনি শান্ত হন ,এভাবে ভেঙ্গে পড়লে হবে। উঠুন মুখে পানি দিয়ে আসুন ,তারপর আপনার কথা শুনবো। আয়মান উঠে ফ্রেশ হয়ে আসে, তৃপ্তি ওকে বিছানায় শুতে বলে। আয়মান বিনা বাক্যে শুয়ে পড়ে, এবার চোখ বন্ধ করুন আমি আপনার মাথার চুল নেড়ে দিচ্ছি দেখবেন ভালো লাগবে।
তৃপ্তির ছোঁয়া পেয়ে আয়মান বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়ে গেলো, তৃপ্তিও আয়মানের বুকে ঘুমিয়ে পড়ে ।সকালের নরম আলো যখন জানালা পেরিয়ে ঘরে ঢোকে, তখন ঘুম ভাঙতেই বুকের মাঝে প্রেয়সী বৌকে জড়িয়ে পাওয়ার অনুভূতি যেন এক অদ্ভুত শান্তির আশ্রয়। মনে হয় পৃথিবীর সব ক্লান্তি, সব দুশ্চিন্তা এই ছোট্ট আলিঙ্গনের মাঝেই হারিয়ে গেছে।
তার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা বুকের সাথে মিশে থাকে, আর হৃদয়ের স্পন্দন যেন একই ছন্দে বাজতে শুরু করে।
তার এলোমেলো চুল মুখে এসে লাগছে মনে হয়, সকালটা আরও সুন্দর হয়ে উঠছে। ঘুমন্ত মুখের সেই নির্ভেজাল শান্তি দেখে মনে হচ্ছে, জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া যেন এই মানুষটাই। তখন সময় থমকে থাকুক, এই মুহূর্তটুকু কখনো শেষ না হোক,এমন ইচ্ছা মনে নিঃশব্দে জন্ম নেয়।
সকালের সেই নীরবতায় তাকে একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলে মনে হয়, ভালোবাসা আসলে কোনো শব্দ নয়, কোনো প্রতিশ্রুতিও নয়,ভালোবাসা হলো এই নির্ভরতার উষ্ণতা, যেখানে দুটো হৃদয় নিঃশব্দেই একে অপরকে বলে দেয়, “আমি আছি।” আয়মান তৃপ্তির কপালে চুমু খেয়ে আবারো জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকে, একটু পড়েই তৃপ্তি নড়াচড়া করে।
তৃপ্তি ঘুম থেকে উঠে দেখে ও আয়মানের বুকের মাঝে লেপটে আছে, তখন খুব লজ্জা পায়। তাইতো আলতো করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে, উঠে যায়। যেতে যেতে ওর মনে সাদ জানে আয়মানকে একটা চুমু খাওয়ার। কিন্তু কাছে যেয়ে ফিরে আসে, তারপর গালে দিয়ে পালিয়ে যেতে চাইলে আয়মান ওর হাত ধরে বলে।
আমি কি ছোটো বাবু, যেখানে খাওয়ার ইচ্ছা ছিলো সেখানে খায়। আয়মানের কথা শুনে তৃপ্তি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলে।
কি হলো জান দিয়ে যাও, আমি চোখ মেলে তাকাবো না।
প্লিজ ছাড়ুন, আমি আর এমনটা করবো না।
কেনো, তোমার অধিকার আছে, তুমি না খেলে আমিই শিখিয়ে দেই কেমন করে খেতে হয়। বলে তৃপ্তিকে ওর বুকের মাঝে ফেলে,খোলা এলোমেলো চুলের ভাজে হাত ডুকিয়ে ওকে নিজের কাছে আনে। তৃপ্তি কিছু বলবে তার আগেই আয়মান ওর ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়।
কিছুক্ষন ছটফট করে আয়মান সাথে তৃপ্তি সারা দেয়।দুজন দুজনাতে মগ্ন হয়ে আছে, আয়মান নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ না করে সামনে এগুতে নেয়।
তখনি কলিং বেল বাজে আয়মান ওকে ছেড়ে দেয়, তৃপ্তি দৌড়ে নিজের রুমে চলে যায়। আয়মান গিয়ে দরজা খুলে দেখে তন্ময় এসেছে, দুর শালা আসার আর সময় পেলি না।
আমাকে তো তুই বললি সকালে আসবে, ব্যাপার কি বলতো, আয়মানের মুখের দিছে তাকায়। আয়মান মুচকি হেসে বলে তুই বস আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।তন্ময় বন্ধুর মুচকি হাসির কারন যানল না, আয়মান যেতেই তৃপ্তি তন্ময়ের জন্য নাস্তা নিয়ে আসে।
তা ভাবী কেমন চলছে দিনকাল ? মেডিকেলে যাবেন না।
আলহামদুলিল্লাহ ভালো, হ্যাঁ ভাইয়া রেডি হয়ে আসছি।
তিনজন মিলে মেডিকেলে যায়, তৃপ্তি কলেজে ডুকার আগে আয়মান বলে। দুপুরে কেবিনে এসো একসাথে খাবো, তৃপ্তি মুচকি হেসে মাথা নাড়িয়ে চলে যায়।
দুপুরে ক্লাস শেষে তৃপ্তি আয়মানের কেবিনে যেতে নেয়, তখনি ঈশা ও ওর বন্ধুদের দেখে। দিনেশ স্যারের সাথে কথা বলতে, তখনি ওর নতুন বান্ধবী ক্যালেনকে বলে। এই ছেলে মেয়ে গুলো দিনেশ স্যারের সাথে কি করে, এরা কি এইখানার স্টুডেন্ট নাকি।
ক্যালেন: ছিলো এখন নেই, তোমার সাথে যখন এক্সিডেন্ট হয় তখনি ওদেরকে কেউ ধরে নিয়ে যায়। তারপর কারা যানি ওদের হাতের আঙ্গুল কেটে দেয়, ওরা প্রানে বেঁচে যায় কিন্তু মাঝ পথে ওদের স্বপ্ন থেমে যায়। শুনেছি মেয়েটা অনেক পাজি ছিলো, কারনে ও কারনে মেয়েদের বিরক্ত করতো। হয়তো সেই খোপ থেকেই ওর সাথে এমনটা হয়েছে ,বাবার ক্ষমতার জোড়ে খুব লাফাত সেই বাবার ক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে। শুনেছি ওরা এখন এই শহর ছেড়ে অন্য শহরে চলে যাবে।
তৃপ্তি : ইসসস মেয়েটা কেনো যে এতো অহংকার করতো আল্লাহ ভালো যানেন, এখন ডাক্তার হতে হতে মাঝ পথে থেমে গেলো। সাথের বন্ধু বান্ধব গুলোকেও সুবিধার মনে হচ্ছে না, পরে ক্যালেনের কাছ থেকে বিদাই নিয়ে আয়মানের কেবিনে ডুকে।
খাবারের পড়ে তৃপ্তি বসে থাকে, আয়মান তখন ওর কোলে মাথা রেখে বলে। স্বামীর সেবা করো, মাথাটা ধরছে ,তৃপ্তি মাথার চুল নেড়ে দিতে থাকে। আয়মান ওর দিকে তাকিয়ে থাকে, তৃপ্তির খুব লজ্জা লাগে।
এভাবে তাকিয়ে থাকলে আমি কিন্তু মাথার চুল নেড়ে দিবো না, আয়মান হেসে বলে তাহলে একটা চুমু দেও আর তাকাবো না।
তৃপ্তি রাগী চোখে তাকায়, আমাকে লজ্জা দিতে এখানে এনেছেন।
আরে না, তোমার তো মনে নেই যখন তোমার মেমরি ছিল না ,তখন তুমি আমার জন্য পাগল ছিলে।এখন তোমার মেমরি ফিরে এসেছে কিন্তু আমি তোমার জন্য পাগল হয়ে গেছি। রাতে মিয়ামীর বাসায় খাবো, মিয়ামীর সাধের অনুষ্ঠান হবে, মা আমাকে কল করে বলেছে। রাতে আমাদের সব বন্ধুদের খাওয়াবে।
তৃপ্তি : তাহলে আমি বাসায় যাই ,আম্মুর কাজে সাহাষ্য করি গিয়ে, আর আপুর জন্য সুন্দর দেখে দুটো স্বর্ণের চুরি কিনবেন। আমার মা বলতো ভাইয়েরা স্বর্ণ দিলে নাকি ভালো হয়।
তাহলে তোমাকেই যেতে হবে, চলো পাশেই দোকান কিনে দেই তুমি দিয়ে দিও।
চলেন তাহলে কিনি কিন্তু দুজনে একসাথে দিবো, তৃপ্তি উঠতে যাবে তখনি আয়মান ওকে টুপ করে চুমু খায়। তৃপ্তি বোকার মতো তাকিয়ে থাকে, আয়মান হেসে ওকে টেনে নিয়ে বাহিরে যায়।
বোনের জন্য চুড়ি কিনে, তৃপ্তির জন্য দুল, গলার চেইন,চুড়ি কিনে দেয়। তৃপ্তি না করে তারপরেও কিনে, তৃপ্তিকে বাড়িতে পাঠিয়ে ও মেডিকেলে যায়।
তৃপ্তি বাসায় এসে মিতালী বেগমের সাথে রান্না করে, কাজ শেষে ও নিজের ফ্ল্যাটে যায়। শাওয়ার নিয়ে আজ একটা শাড়ি পড়ে, কেনো যানি আজ ওর শাড়ি পড়তে মন চাইছে।
শাড়ি পড়ে হালকা সাজে, তারপর মিয়ামীর ফ্ল্যাটে যায়। মিয়ামী ওকে শাড়ি পড়তে দেখে বলে। আজ তোমাকে বৌ বৌ লাগছে, তখন মিতালী বলে।
বাঙ্গালী মেয়েদের শাড়িতেই মানায়, তোমাকে আসলেই খুব সুন্দর লাগছে। আয় এদিকে একটু কালি দিয়ে দেই যাতে কারো নজর না লাগে।
তৃপ্তি হেসে কালির ফোঁটা কানের পিছনে নিয়ে মিয়ামীর সাথে বসে থাকে। সবাই আসার সময় হয়ে এসেছে, তখন মিয়ামী বলে। ভাবী জান আজ তোমাকে দেখলে তোমার বর দেখো পাগল হয়ে যাবে। দেখো এসে চোখ ফেরাতে পারবেননা।
তৃপ্তি লাজুক হেসে বলে, তোমার ভাই যেনো চোখ ফেরাতে না পারে তার জন্যই তো সেজেছি।
আমি কিছুর গন্ধ পাচ্ছি, কেউ কি আজ বাসরের মুডে আছে নাকি।
চিন্তা করে দেখলাম তোমার ভাতিজা ভাতিজি আনতে হলে ,কারো সাথে বাসর করা জরুরী।
তুমি তাহলে ভাইয়াকে মেনে নিয়েছো, শুনে ভালো লাগল।
সাতটার দিকে আয়মান আসে তৃপ্তিকে শাড়ি পড়া দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। মিতালী বেগম ছেলের অবস্থা দেখে হেসে বলে, এই পাজি আমার বৌমার নজর লাগবে।
আয়মান মুচকি হেসে বলে, আমার নজর লাগলে সমস্যা নাই। সাড়ে সাতটার দিকে ওদের আরো দুই বন্ধু আসে, রুদ্র দেব ও মাইকেল, দুজনেই পরিবার নিয়ে আসে।
যথা সময় অনুষ্ঠান শুরু করে, আয়মান পুরো অনুষ্ঠানের সময় তৃপ্তির দিকেই তাকিয়ে ছিলো। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ওর মন বসে না, এই যে তৃপ্তি ওর বন্ধুর বৌদের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে ওর খুব হিংসে হচ্ছে।কৈ ওর সাথে তো এভাবে কথা বলে না, তখনি মিরাফ বলে পুতুল বৌ চলো তোমার সাথে খাই।
আয়মান ভাইয়ের দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকায়, ভাইকে দেখিয়ে তৃপ্তির হাত ধরে বলো, চলো বৌ আমাকে খাইয়ে দিবে। তৃপ্তির হাতে খাচ্ছে আর ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে চোখ মারছে, আয়মান মনে মনে বলে তোকে একা পাই তারপর দেখাবো মজা।
রূদ্রর বোন রাইমা ও মাইকেলের শালি স্কিফ আয়মানকে দেখে ফিদা হয়ে যায়, ওরা নানান বাহানায় আয়মানের সঙ্গ পেতে চায়। তৃপ্তি মেয়ে দুটোকে দুর থেকে খেয়াল রাখছে, আর মনে মনে বলছে।আরে এখানে ও দেখি আমার জামাই নিয়ে টানাটানি হচ্ছে, কেরে শাঁকচুন্নীরা এদেশে কি ছেলের অভাব পড়ছে যে আমার পিয়র মালটাকে নিয়ে টানাটানি করতে হবে।দাড়াও জামাইজান ফ্ল্যাটে গিয়ে নেই তুমি যাতে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে না দেখো সেই ব্যবস্থা করছি।
খাবারের পরে ওরা নিজেদের ফ্ল্যাটে চলে আসে, তৃপ্তি ফ্রেশ হয়ে আয়মানের রুমে যায়। তখন আয়মান ও ফ্রেশ হয়ে বাহিরে আসে, খালি গায়ে দেখে তৃপ্তির খুব লজ্জা লাগছে তারপরেও তৃপ্তি গিয়ে ওর বিছানায় বসে।
তৃপ্তিকে দেখে আয়মান টিশার্ট পড়ে বলে, কিছু হয়েছে তৃপ্তি ,না ঘুমিয়ে এখানে আসলা।
আমি আজ থেকে এই ঘরেই থাকবো।
কি যাতা বলো, যাও ঘুমিয়ে পড়ো।
হ্যাঁ আমি তো যাতা বলিই আর আপনি বৌকে কাছে না পেয়ে আমার সতীন আনার চেষ্টা করছেন। একেবারে জানে মেরে দিবো এমনটা ভাবলে ,আপনি আমার কবুল বলা জামাই। অন্য মেয়ের কথা ঐ মাথার ভিতরে আনবেন না, আর সব শাঁকচুন্নীদের আমি দেখছি। কেন ওদের বিবাহিত ছেলেদের শরীরের ঘষা লাগাতে হবে,এসিড দিয়ে ওদের চোখ জ্বালায়ে দিবো।
ওরে বাবরে, কি হয়েছে বলে কাছে যায়। কেউ তোমার বরকে তাদের দিকে ফেরাতে পারবে না। তোমার বর অতোটাও লুছ চরিত্রের না ,এইসব ফালতু চিন্তা বাদ দিয়ে ঘুমাতে যাও। ওদের দুজনের মাথায় বাবলগাম দিয়েছো আমি দেখেছি, কেনো ওদের সাথে এমনটা করলে।
বেশ করেছি, কেনো আপনার সাথে কথা বলার জন্য ওরা এতো বেহায়া, আপনার সাথে সারাদিন আমি কথা বলবো। কৈ আমার সাথে তো এভাবে হেসে হেসে কথা বলেন না, আমাকে কি এখন আপনার ভালো লাগে না। কসম খোদার তাহলে আপনাকেও মারবো নিজেও মরবো, আমার ভালোবাসার মানুষটার ভাগ কাউকে দিবো না। বলতে বলতে কেঁদে দেয়, আয়মান অবাক হয়ে তৃপ্তির চঞ্চরতা দেখে।
আমি বুঝি তোমার ভালোবাসার মানুষ, তাহলে আগে বলোনি কেনো।
আপনি কি কিছুই বুঝেন না, মেয়েদের বুক ফাটবে কিন্তু মুখ ফাটবে না।
আয়মান হেসে ওর ঠোঁট আঁকড়ে ধরে, তৃপ্তি থ মেরে দাঁড়িয়ে ওর চোখের দিকে তাকায়। যখন বুঝতে পারে আয়মান কি করছে তখনি চোখ বন্ধ করে আয়মানের সাথে তাল মিলাতে থাকে।কিছুক্ষন পরে ছেড়ে বলে যাও গিয়ে ঘুমাও, তোমার বর তোমারি থাকবে তোমাকেই ভালোবাসবে এখানে অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেনা।
তৃপ্তির কেমন জেদ লাগল, কেনো বার বার ঘুমাতে বলে, আমি এই ঘরে ওর বুকেই ঘুমাবো। আমি ও মিয়ামী আপুর মতো মা হতে চাই, আমাকে আপন করে নিন। আমাকে আপনার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে দিন ,বলে আয়মানকে জড়িয়ে ধরে। আয়মান বুঝতে পারে তার অর্ধাঙ্গিনী তাকে নিয়ে ভয়ে আছে, যতো বলুক ওর ভয় কমবে না।
তাইতো কোলে তুলে বিছানার দিকে যায়, তৃপ্তি লজ্জায় ওর বুকে মুখ লুকিয়ে রাখে।হোকনা একটু ভালোবাসা আদান প্রদান।
বাকি পর্ব পড়ুন-





















