ভাঙা বিশ্বাসের শহর প্রথম পর্ব

উপন্যাস : ভাঙা বিশ্বাসের শহর

সোনিয়া আবেদীন

একটি বাড়ি আগুনে দাউ-দাউ করে জ্বলছে, দূরে দাড়িয়ে একটি মেয়ে তার ছেলেকে বুকে জড়িয়ে এ দৃশ্য দেখছে। সে পেছনে না তাকিয়ে তার ছেলেকে নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে, এখানে থাকলে যেনো
তাদের ধরে ফেলবে। ছেলেটি তার বুকে জড়ানো অবস্থায় শুধু এ দৃশ্য দেখেই যাচ্ছে, যখন দেখল সে বাড়িটা তার চোখের সামনে থেকে ঝাপসা দেখা যাচ্ছে। ঠিক তখনি মাম্মাআআআ বলে চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠে পড়ল।

ঘামে সম্পূর্ণ শরীর ভেজা। তার সেই স্বপ্নরা এসে ভিড় করছে ,উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে এসে তার প্রিয়তমাকে খুঁজতে থাকে, তখনি দেখে ছেলে মেয়েরা কাগজে চিরকুট বানিয়ে জমা করছে।

তাদের পাপাকে দেখে মুখে হাসি ফুটে উঠে ,ছেলেটা বাচ্চাদের পাশে বসে।

মাম্মা তাড়াতাড়ি আসো এখনি লটারি হবে, আমরা এই হলিডেতে কোথায় যাবো সেইটা ঠিক করবো ।মেয়ে ও ছেলেদের হাসির গুনজনে পুরো ড্রয়িং রুম খিল খিল করে উঠে, দুটো ছেলে জমজ আর মেয়েটা ওদের দুই বছরের ছোট। ছেলেদের বয়স সাত মেয়েটার বয়স পাঁচ
তাদের মা আসলে ছেলেরা হাতে তালি দিয়ে বসায়।

বাচ্চাদের বাবা তার প্রিয়শীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে, তার প্রিয়শী তার পাশে এসে বসলেই। তখনি বাচ্চারা বলে মাম্মা একটা চিরকুট উঠাও, এবার তোমার র্টান। বাচ্চাদের মা বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে একটা চিরকুট উঠায়।

চিরকুট খুলতেই সেখানে একটা দেশের নাম দেখে, তখনি বাচ্চাদের বাবার মুখটা কালো হয়ে যায়। বড় ছেলে পাপার হাত থেকে চিরকুট নিয়ে চিৎকার করে বলে। এবার আমরা হলিডেতে বাংলাদেশে যাচ্ছি। পাপা, মাম্মামের দেশে, ইয়াহু আমরা বাংলাদেশে যাচ্ছি। বাচ্চাদের উচ্ছাস দেখে ওদের মা জমে যায়, ওদের বাবা বুঝতে পারে তার প্রিয়শীর বেদনা তাইতো বলে উঠে।

না না, আমরা বাংলাদেশে যাবো না তৃপ্তি তুমি আরেকটা চিরকুট উঠাও।

তৃপ্তি স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে, বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকায়। দেখে ওদের মুখটা কালো হয়ে গেছে,তৃপ্তি মুচকি হেসে বলে। আমরা এইবার হলিডেতে বাংলাদেশে যাবো। আমাদের জন্মভূমিতে তোমাদের নিয়ে যাবো, এবার সবাই হাসো।

তৃপ্তির হাজবেন্ড বলে জান তুমি ওদের কথায় বাংলাদেশে যেতে চাও কেনো, আমি বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলবো।

না আয়মান আমি ভয়কে জয় করছি অনেক আগেই ,এইবার দেখতে চাই সবাইকে, কেমন চলছে ওদের দিন ,আমি এইবার সত্যি সত্যি ঐ বেইমানদের দেখতে চাই। যারা আমাকে শেষ করতে চেয়েও পারেনি, আমি তাদেরকে দেখাতে চাই আমি আজ আর দূর্বল ন‌ই। তাছাড়া তুমি আছো না আমাকে ঠিক সামলে নিবে।তোমার ও তো অনেক হিসাব বাকি, সেগুলো ভুলে গেলে চলবে।

তৃপ্তি শেখ, স্বামী – আয়মান চৌধুরী, দুই ছেলে – আয়ান, আয়াজ ,মেয়ে -তাবিন্দা।

সন্ধ্যায় নিজের পুরনো আইডিটা লগ ইন করে, তখনি ভেসে উঠে চিরচেনা একটি দলের ম্যাসেজ গ্ৰুপে। এখনো ঝলঝল করে জ্বলছে সেই নামটি, “বান্ধবীদের আজাইরা গ্ৰুপে ” সেখানে ডুকতেই দেখে এখনো বান্ধবীরা নিয়মিত কথা বলে। সবার ম্যাসেজ পড়তে থাকে আর বুঝতে পারে সবারি বিয়ে হয়ে বাচ্চাদের মা হয়েছে। কথা শেষে সবাই একসাথে লিখে তোকে খুব মিস করি ডঙ্গি খালা।

দ্রুত ম্যাসেজ লিখে কাল পাঁচ তারিখ ঠিক পাঁচটায় তোদের ডঙ্গিখালা কথা বলবে। ম্যাসেজ পাঠিয়ে রঙ্কিচেয়ারে মাথাটা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে অতীতে ডুব দেয়। সেই অতীত যেই অতীতের কারনে আজ নয় বছর ধরে পরিবার সবাইকে ছাড়া।

শেখ বাড়িতে আজ অনেক আয়োজন চলছে, তাদের বাড়ির বড় ছেলে বিদেশ থেকে আসছে।তৃপ্তির মা, আর বড়মা ছেলের আসার খুশিতে অনেক রান্নার আয়োজন করছে। তৃপ্তি ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করছে আর মনে মনে তার বড় বাবার ছেলেকে বকছে।

কাল যখন কথা বললো তখন তো একবারো বললো না আমি আসছি, আসুক আমি তার সাথে কথা বলবোনা।আবার মুচকি হাসে, তার ভালোবাসার মানুষটি আসছে। কতোদিন পরে তাকে দেখতে পাবে, দুইটা বছর পরে আসছে।

আজিজ শেখ, স্ত্রী – নাজমুন বেগম , ছেলে – নাজিম ,নাহিদ মেয়ে -নায়না ,নায়নার স্বামী -নিখিল।

আজিম শেখ, স্ত্রী – ফাতেমা বেগম, মেয়ে -তৃপ্তি ,তাহেরা ,ছেলে – ফারিস শেখ।

ফুপু আবিদা শেখ,স্বামী – কাদের মোল্লা, ছেলে – আহাদ, মেয়ে – কান্তা।

নাজিমের আসার খুশিতে বাড়িতে সবাই আসে, নায়না ও তৃপ্তি মায়েদের সাথে কাজ করছে। সাথে সবাইকে খাবার পরিবেশন করছে। চারটার দিকে নাজিমকে নিয়ে বাবা ,বড় বাবা ,ফুপা ও ফুপি বাড়িতে ডুকে। তৃপ্তি নাজিমকে দেখে সালাম দেয়, ওর কেমন যানি খুব লজ্জা লাগছে।

নাজিম তৃপ্তিকে দেখে হাসে, মেয়েটা যে ওকে দেখে লজ্জা পাচ্ছে সেটা ও বুঝতে পারছে।নাজিম সবার সাথে কুশল বিনিময় করে ফ্রেশ হতে যায়, ফ্রেশ হয়ে খেতে আসে। খেয়ে মাকে বলে ঘুমাতে যায়। রাত আটটার দিকে ঘুম থেকে উঠে সবাইকে সবার উপহার বুঝিয়ে দেয়।

রাত একটার দিকে তৃপ্তির রুমে টোকা দেয় ,তৃপ্তি জেগেই ছিলো। কারন নাজিম ওকে ঘুমাতে নিষেধ করেছিলো, দরজা খুলে তৃপ্তি নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। নাজিম মুগ্ধ হয়ে তার প্রিয়তমাকে দেখছে, ওর কথা মতো একটা কালো শাড়ি পড়ে এসেছে। তৃপ্তি উজ্জল শ্যামবর্ণের মেয়ে, কালো শাড়িতে ওকে খুব মায়াবী লাগছে ।

নাজিম ওর হাত ধরে ছাদে নিয়ে যায়, সেখানে চাঁদের আলোতে প্রিয়তমার মুখটা একটু তৃপ্তি ভরে দেখে। পকেট থেকে একটা চেইন বের করে ওকে পড়িয়ে দেয়। তৃপ্তি তুমি তো এবার মেডিকেলে পড়ছো তাই ভাবছি তোমাকে বিয়ে করে ফেলি। আমি যে তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা , কয়েকদিন পরেই আমি তোমার ব্যাপারে বাবা মার সাথে কথা বলবো।

আপনার যা ইচ্ছা, তবে সামনে আমার পরীক্ষা, বিয়ের ডেইটা পরিক্ষার পরে ফেললে ভালো হয়।

ঠিক আছে প্রিয়তমা তাই হবে, আগে সবাইকে বলি আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।নাজিমের কথায় তৃপ্তি লাজুক হাসে, তারপর দুজনে অনেকক্ষন চন্দ্রবিলাশ করে নিচে আসে। তৃপ্তি ওর রুমে চলে যায় আর নাজিম ওর রুমে যেতে নিয়ে দেখে কান্তা ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

নাজিম কান্তার সামনে গিয়ে বলে, জান রাগ করছো। তৃপ্তির সাথে সময় কাটিয়েছি বলে।

কান্তা নেকা সুরে বলে, ওর সাথে বেশি মিশো না।আমরা আমাদের প্লান অনুযায়ী কাজ করবো, ওকে আমি এমন ভাবে মা*র দিতে চাই যাতে জীবনে মাথা উচু করে দাঁড়াতে না পারে।এখন আসো, কখন থেকে তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।

নাজিম: আমি ও তো ছিলাম, চলো ভিতরে কেউ দেখে ফেললে আমাদের প্লান নষ্ট হবে। দুজনে হাসতে হাসতে ভিতরে ডুকে দরজা লাগিয়ে সময় কাটায়।

পরের দিন নায়নার স্বামী নিখিল আসে আর তখন তৃপ্তিকে দেখে হাসে। মনে মনে ভাবে তোকে খুব তাড়াতাড়ি আমার বিছানায় নিবো। শালি তোকে দেখলেই আমার মাথা নষ্ট হয়ে যায়, আমি তোকে পেতে এমন জাল বিছিয়েছি না দেখিস সেই জালে তোর পুরো পরিবার ফাসবে।

নিখিল ওর শ্বশুরের সাথে দেখা করতে যায়, আজিজ শেখ জামাইকে দেখে ঘামতে থাকে।

বাবা কিছু কি ভাবছেন, মা তো আর এভাবে থাকতে দিবে না। তার বয়স হয়েছে এখন এই বয়সে নাতি নাতনী নিয়ে সময় কাটানোর চায়।যদি নায়নার বাচ্চা জন্মদানের ক্ষমতা থাকতো তাহলে আমি আরো অপেক্ষা করতাম। কতো ডাক্তার দেখালাম সবারি একটাই কথা ও কখনো বাচ্চা জন্ম দিতে পারবে না।

এখন আমি ওকে ভালোবাসি তাই বলছিলাম, বাহিরের মানুষ আসলে ওকে হয়তো পছন্দ করবে না। তাই মা চাইছিলো এই বাড়ি থেকে একটা মেয়ে যদি আবার ঐ বাড়িতে যায়। এতে আমার নায়না আর ও মিলেমিশে থাকতে পারবে। যদি তৃপ্তি আমার সাথে সংসার করতে না চায় তাহলে শুধু একটা বাচ্চা দিয়ে যেনে আমাকে ছেড়ে দেয়। তারপরেও আমি আমার নায়নাকে হারাতে চাই না, বাবা আপনার হাতে সব কিছু।

আজিজ কাপাকাপা গলায় বলে ,আমি দেখছি বাবা। আজিমের সাথে কথা বলে দেখি।নায়নার ভাই এসেছে, ওকে বিয়ে করানোর আগেই আমি কথা বলবো।

নিখিল বের হলে নাজিমের সাথে দেখা হয়, তখন নাজিম বলে, বাবার সাথে কথা বলেছিস।

নিখিল বন্ধুকে দেখে মুচকি হেসে বলে, বললাম তো দেখি কাজ হয় নাকি। তানা হলে মায়ের কথা মতো কাজ করতে হবে, শোন তুই এই দিকটা দেখ, বোনের সংসার বাঁচাতে তৃপ্তির সাথে আমার বিয়ের ব্যবস্থা কর।

নাজিম: তুই চিন্তা করিস না, আমি আছি তো। প্লান অনুযায়ী কাজ হবে, তাই মনটা খারাপ করিস না। তৃপ্তি বাধ্য হয়ে তোকে বিয়ে করবে, আর আমি সেই রাস্তা তেরি করে দিবো।

কয়েকদিন পরেই নাজিম সবাইকে বলে ও বিয়ে করবে, আর ও একটা মেয়েক পছন্দ করে রেখেছে। সামনে মেয়েটার পরীক্ষা শেষ হলেই ওর নাম বলবে তাই ওর জন্য মেয়ে দেখা বন্ধ করতে বলছে।

তৃপ্তি নাজিমের কথায় লজ্জা পায়, ও বুঝতে পারে ওর কথা বলছে তাই সবার সামনে থেকে পড়া আছে বলে চলে যায়।

আজিজ শেখ ছোটো ভাইকে ডেকে বাহিরে বাগানে নিয়ে যায়, আজিম ভাইকে বিচলিত দেখে ঘাবড়ে যায়।

ভাইজান আপনের কি হয়েছে, কোনো সমস্যা থাকলে বলতে পারেন।

ভাইরে তোদের ছোটো থেকে বড় করেছি, বাবা ছিলো না আমি তোদের বাবার মতো আদর স্নেহ করেছি। আজ আমার একটা অনুরোধ রাখ, তা না হলে আমার মেয়েটা মা*রা যাবে।

কি হয়েছে আমাদের নায়নার, বড় কোনো অসুখ। আমাকে বলেন ভাইজান, আমার সাধ্যমত থাকলে অবশ্যই করবো।

আজিমের হাতটি ধরে ভাইরে আমার নায়না কখনো মা হতে পারবেনা ।এখন ওর শ্বাশুরী নিখিলকে আবার বিয়ে করাতে চায়, যদি সেই মেয়ে এসে আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তাহলে আমার আদরের মেয়ে মা*রা যাবে, তুই পারিস এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে।

আমি কি ভাবে ভাইজান।

তোর মেয়ে তৃপ্তিকে নিখিলের সাথে বিয়ে দিয়ে, যদি একটা সন্তান হ‌ওয়ার পরে, তৃপ্তি সংসার করতে না চায় তাহলে আমি ওর ডিভোর্স করিয়ে ভালো জায়গায় বিয়ে দিবো।

ভাইজান আপনি এইটা কি বলেন, একি বাড়ি থেকে দুটো মেয়ে। তাছাড়া দুবোনের এক স্বামী থাকতে নেই,সেই বিয়ের কোনো বৈধতা হবে না।

হবে আজিম, ওরা একি মায়ের পেটের দুই বোন না। তাই আমি তোর পায়ে পড়ি তুই আমার মেয়ের জীবটা বাচা। আজিজের কান্নায় আজিমের মন নরম করে ফেলে, তাই ভাইকে বলে।

আমি তৃপ্তি ও ফাতেমা সাথে কথা বলে দেখি, ওরা কি বলে।

আজিম ওরা কখনোই রাজি হবে না, তুই যদি চেষ্টা করিস তাহলেই সব সম্ভব।

আজিম ভাইয়ের কথায় অস্থিস্থে পরে যায়,দেখছি বলে রুমে চলে আসে।

রাতে আজিম ফাতেমাকে আজিজের বলা কথা বলে, তখনি ফাতেমা স্বামীর উপরে রেগে যায়।

ফাতেমা:তুমি এইটা কি বলো, তাছাড়া তোমার মেয়ে আর ভাতিজা দুইজনে রিলেশনে আছে। দুদিন পরে তোমার মেয়ে নাজিমের ঘরে বৌ হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, সেখানে তুমি তোমার ভাতিজির সতীন হতে বলছো।

আজিম: আমি এতো কথা বুঝি না, যদি তৃপ্তিকে নিখিল বিয়ে করতে না পারে তাহলে নায়না ম*রে যাবে। আর নায়নার কিছু হলে ভাইজান বাঁচবেনা ,ভাইজান আমাদের বড় করেছে তাই আমি ভাইজানের চাওয়াকে অসম্মান করতে পারবো না।

ফাতেমা:ছিইইই তুমি কেমন বাবা, মেয়েকে নিজ হাতে জাহান্নামে পাঠাতে চাইছো।

ফাতেমাআআআ, আমি আমার ভাইজানের কথার বিপরীতে যাবো না। তাই নিখিলের সাথে তৃপ্তির বিয়ে হবেই।

পরের দিন সবাই এই কথা যেনে যায়, তখন তৃপ্তি নাজিমকে ওদের কথা বলে।

নাজিম:তৃপ্তি তুই বাবার কথা মেনে নে, একবার বাচ্চা হলে তোকে নিখিল ছেড়ে দিবে, আর তখনি আমি তোকে বিয়ে করবো।

তৃপ্তি:নাজিম ভাইইইই এইটা আপনি কি বললেন ,আমি আপনার বৌ হতে চেয়েছি সেইখানে আপনি আমাকে আপনার বন্ধুর বৌ হতে বলছেন।

নাজিম: এছাড়া আর উপাই নেই, বাবাকে তোর কথা বলেছিলাম আর সে আমাকে বলেছে যদি আমাদের কথা মেনে নেস তাহলেই তোকে আমার বৌ করাবে।

তৃপ্তি নাজিমের কথায় ভেঙ্গে পড়ে, যাকে ভালোবাসলো সেই এমন কথা বলতে পারলো। তৃপ্তি কাঁদতে কাঁদতে নিজের রুমে এসে পড়ে, এদিকে ফাতেমা কিছুতেই মেয়েকে এমন বিয়ে দিতে রাজি না।

সন্ধ্যায় নিখিল আসলে আজিজ ও আজিম দুই ভাই মিলে ঠিক করে তৃপ্তির পরিক্ষার পরে ওদের বিয়ে হবে। ফাতেমা বেগম তখনি চেঁচিয়ে উঠে, আজিম তখন ফাতেমা বেগমকে দুটো থাপ্পড় মে*রে বলে।

যদি তুই এই বিয়েতে বাধা দিস তাহলে তোকে আমি তালাক দিবো, ছোটো থেকে ভাইজান আমাকে লালন পালন করে বড় করেছে। আজ সেই ঋন শোধরানোর একটা সুযোগ এসেছ, আমি সেই সুযোগ হাতছাড়া করবো না।

তৃপ্তি: বাবা তুমি মাকে মা*রলে কেনো, তাছাড়া তুমি আমার বাবা হয়ে এমন একটা সিদ্ধান্ত কেমন করে নিলে।

আজিম: তোকে আমি কৈইফত দিতে বাধ্য না, আমি তোকে জন্ম দিয়েছি পেলে পুষে বড় করেছি। তাই কোনটা ভালো কোনটা খারাপ সেইটা আমি দেখে নিবো। যদি নিখিলকে বিয়ে করতে না চাস তাহলে , তোর মাকে তালাক দিয়ে তোর ভাইবোনকে সহ বাড়ি থেকে বের করে দিবো।

তৃপ্তি: বড় বাবাআআআ ছোটো থেকে আদর স্নেহ দিয়ে বড় করে এমন প্রতিদান চাইবে ভাবতেও পারিনি।

আজিম এসে মেয়ের গালে থাপ্পড় মে*রে বলে ,একটা কথা বলবিনা আমার ভাইজানের সাথে।

ফাতেমা:তুমি অন্ধ হয়ে গেছো তোমার ভাইয়ের ঋনের কাছে, নিজের মেয়েকে একটা অনিশ্চিত জীবনে ঠেলে দিতে চাইছো। তোমার মতো কাপুরুষ কেনো বিয়ে করে সংসার করে, বাবা হয়েছে। আগে যানলে আমি জীবনেও তোমাকে বিয়ে করতাম না। যে ভাইয়ের পা চাটা দালাল হয়ে থাকবে সারাজীবন ভর।

আজিম:তুমি বেশি কথা বলো, দাড়াও তোমাকে আরেকটু শিক্ষা দিতে হবে। ফাতেমাকে আরো কয়েকটা থাপ্পড় দিয়ে হুমকি দেয় , যদি তার কথার বাহিরে যায় তাহলে ওদের অবস্থা বাড়ির বাহিরে হবে।

নিখিল: আমার কারনে আপনাদের সংসার অশান্তি হ‌উক আমি তা চাই না, যদি অন্য কোনো উপায়ে আমরা বাবা মা হতে পারতাম তাহলে কখনোই এমন প্রস্তাব রাখতাম না।

ফাতেমা:হয়েছে আর ভালো মানুষী দেখাতে হবে না, বলে নাজিমকে বলে, নাজিম তুই আমার মেয়েকে বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে এখন বন্ধুর গলায় ঝুলাতে চাইছিস। তোর লজ্জা করে না, যাকে ভালোবেসে আগলে রাখার ওয়াদা করলি তাকেই অন্য পুরুষের কাছে পাঠাতে চাইছিস।

নাজিম: আমি তো ওকে বলেছি, একটা বাচ্চা হলেই নিখিল ওকে ছেড়ে দিবে তখন আমি তাকে বিয়ে করব। যদি আমার জন্য এইটা করতে না পারে তাহলে আমি এমন মেয়েকে বিয়ে করবো না, যে বিপদে আমার পরিবারের পাশে না দাড়ায়।

ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর বাকি পর্ব পড়তে ক্লিক করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *