চতুর্দশ পর্ব ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর

ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর

সোনিয়া আবেদীন

স্যার আমাদের গাড়ির পিছনে একটা মহিলা ম্যামের নাম ধরে ডেকে দৌড়ে এসেছিল।

কি বলো দেখি রেকডিং অন করো গাড়ির পিছনের অংশ।

এখানে আমাকে কে চিনে, আমি তো এখানে প্রথমবার এসেছি।

রেকডিং অন করে যখন তৃপ্তি দেখে, তখনি চিৎকার করে বলে গাড়ি ঘুরাও উনি আমার মাআআআআ। আয়মান চমকে যায়, তাড়াতাড়ি গাড়ি ঘুরাতে বলে, তৃপ্তি ভিডিও টার উপরে মায়ের মুখে হাত বুলিয়ে কাঁদতে থাকে, ছেলে মেয়ে মায়ের কান্না দেখে কেঁদে দেয়।

মান আমি আমার মাকে পেয়ে গেছি, মান আমার মাআআআ বেঁচে আছে।আমার ভাই বোন তাহলে বেঁচে আছে।

তৃপ্তিইইই তৃপ্তিইইই মা আমি তোর মা, দেখ আমি এইখানে হু হু হু। কোনো চলে গেলি আমি তো তোর অপেক্ষায় আছি, তৃপ্তিইইই আমার কাছে আয়।ছেলেকে দেখে ফাতেমা বলে ,ফারু ঐ গাড়িতে তোর বোন গিয়েছে ওকে ডেকে নিয়ে আয়।

ফারিশ: মা তুমি নিজের কি অবস্থা করছো, উঠো এভাবে কেউ দৌড়ায়। কতোদিন বলছি আপু নেই  তারপরেও কেনো তুমি এমন করো।তখনি তাহেরা সব কাজ ফেলে আসে, ভেবে ছিল মা যখন অসুস্থ তাহলে এই পিঠা গুলো শেষ করে পড়াতে যাবে, এখন ছেলেটা এসে বলছে আপনার মা একটা গাড়ির পিছনে তৃপ্তি তৃপ্তি বলে চিৎকার করে দৌড়ে যাচ্ছে।

তাহেরা এসে মাকে ধরে, উঠো মাআআআ, হাত পা ছিলে গেছে, রক্ত পড়ছে। পরিস্কার করতে হবে, তুমি ঔষধ নিয়ে ছিলে আজকে।

তাহু আমি সত্যি বলছি ও গাড়িতে তৃপ্তি ছিল, আমি ওর মা আমি ওকে চিনতে ভুল করবো না। আমার মেয়ে নিশ্চয়ই আমাকে খুঁজছে, এতোদিন কোথায় ছিল।

মা পাগলামী করো না, ফারিশ ধর মাকে বাড়ি নিয়ে যাই। তখনি ওদের সামনে একটা গাড়ি এসে থামে, গাড়ির দরজা খুলে একটা মেয়ে বের হয়ে আসে।

দুই ভাই বোন কিছু বুঝার আগেই মেয়েটা মাআআআ বলে চিৎকার করে মাকে এসে জড়িয়ে ধরে।তাহেরা ভালো করে তাকিয়ে দেখে মেয়েটা ওর বোন, ফারিশ তাহুর মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলবে তার আগেই তাহেরা আপু বলে ডেকে উঠে।

ফাতেমা তৃপ্তিকে পেয়ে মুখে চুমু দিতে থাকে আর বলে, মা আমার মা তুই বেঁচে আছিস, এতোদিন কোথায় ছিলি মাআআআ বলতে না বলতে ফাতেমা জ্ঞান হারায়

তৃপ্তি : মাআআ তোমার কি হল, মানননন আমার মার কি হয়ে গেল। মাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিন ,আয়মান বাচ্চাদের নিয়ে বাহিরে এসেছে। যখন দেখে ফাতেমা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে  তাড়াতাড়ি কাছে আসে, জান মাকে ছাড়ো, আমি দেখছি কি হয়েছে। বলে ফাতেমাকে কোলে নিয়ে গাড়ির ভিতরে যায় ,সিটে শুয়ে চেকাব করে দেখে। অতিরিক্ত মানষিক চাপে জ্ঞান হারিয়েছে, কিছুক্ষন পরেই জ্ঞান ফিরবে।

তৃপ্তি : মান মার কি হয়েছে, এভাবে জ্ঞান হারাল কেনো   ?

জান কিছু হয়নি একটু পরেই আন্টির জ্ঞান ফিরবে।

তাহু : আপুওও, তুই বেঁচে আছিস? 
তৃপ্তি তাকিয়ে দেখে ওর বোন, আগের মতো নেই কিন্তু চেহারায় এখনো আগের মতো বাচ্চা সুলভ। তাহু বলে জড়িয়ে ধরে, বোন আমার কেমন আছিস। ফারু কোথায়?

ফারিশ তখন বলে আপু এইতো আমি, তৃপ্তি ভাইয়ের দিকে তাকায়, কতো বড় হয়ে গেছে  দেখে চিনতেই পারেনা। ভাইকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলে, আমার গোল্লা ভাই তুই কতো বড় হয়ে গেছিল।

তিন ভাই বোন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, মিরাফ তাহুর দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। বাচ্চারা ওদের কাঁদতে দেখে কেঁদে দেয় ,বাচ্চাদের কাঁদতে দেখে ওদের হুস আসে, দুই ভাই বোন তৃপ্তির মুখে দিকে তাকায়।

তৃপ্তি বাচ্চাদের কাছে ডাকে, ওরা এসে মাকে জড়িয়ে ধরে। বেবিরা কেদো না, এই যে মাম্মা কাঁদছে না।

তাহু: আপু ওরা কারা ?

তৃপ্তি: তাহু ওরা আমার বেবি, তোদের ভাগিনা আর ভাগনি।

ফারিশ: তুমি বিয়ে করেছো আপু, তার জন্য এতো বছরে তোমাকে আমরা পাই নি। বিয়ে যখন করলে তখন আমাদের যানাতে পারতে ,কি এমন হয়েছিল সেই দিন আমাদের বলো।

বলবো ভাই, তার আগে মার জ্ঞান ফিরুক, তাহু, ফারু ওনার নাম আয়মান চৌধুরী তোদের দুলাভাই, ও আমার দেবর মিরাফ। দুই ভাই বোন ওদের সালাম দেয়, ভাইয়া কাছেই আমাদের বাসা সেখানে চলুন।

আয়মানের কাছে সেটাই ঠিক মনে হয় তাইতো ওদেরকে নিয়ে বাসায় যায়।আয়মান ওদের ছোট্ট বাসায় পা দিয়ে দেখে, খুব পরিপাটি একটা বাসা। দুই রুমের বাসা তবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন।

ফারিশ: ভাইয়া আমাদের বাসাটা অনেক ছোট্ট হয়তো আপনাদের বসতে অসুবিধা হবে।

আয়মান: ফারিশের কথায় হেসে বলে, তাতে কি হয়েছে তাই বলে এখানে বসবো না। নিজেকে ছোট্ট ভেবো না, আমিও একদিন এমন জায়গা থেকে বড় হয়েছি।

ফাতেমার জ্ঞান ফিরে আসে ,তখনি আবারো চিৎকার দিবে দেখে তৃপ্তি তার সামনে বসে আছে। তৃপ্তি মুখটা ধরে বলে, আমার মা, আমি তোকে সত্যিই দেখছি তাইনা।তুই সত্যিই আমার সামনে, তুই কোথায় ছিলি মা। আমি তোকে কতো খুঁজেছি, আমি যানতাম তুই মরিস নি। সবাই বলতো ঐদিন এক্সিডেন্টে তুই মা*রা গেছিস, কিন্তু আমার মন বলতো তুই বেঁচে আছিস। এতো দিন কোথায় ছিলি মা হু হু হু।

তৃপ্তি:মা তোমাদের সব বলবো, তার আগে বলো কি এমন হয়েছিল যার জন্য বাবা তোমাকে তালাক দিল।

ফাতেমা মেয়েকে একে একে সব বলে,সব শুনে তৃপ্তি কেঁদে বলে।আমার কারনে তুমি আজ সংসার ছাড়া, আমার ভাই বোনকে নিয়ে কষ্ট করছো। অথচ আমি ভাবতাম তুমি ঐ বাড়িতে ভালো আছো, কেনো আমি তোমার কথা শুনে তোমাদের সাথে যোগাযোগ করলাম না।

ফাতেমা : যা হয় ভালোর জন্য হয়, আমি ভাগ্য বিশ্বাস তাই ভাগ্য যা হবার তাই হয়েছে। তখনি তাবিন্দা মায়ের কাছে এসে বলে, মাম্মা আমি খাবো। তাবিন্দার কথায় ফাতেমা তাকায়, তৃপ্তি মুচকি হেসে বলে। মা ও আয়মান তোমার মেয়ের জামাই, ওরা তোমার নাতি আর তোমার নাতনি।

ফাতেমার চোখ খুশিতে ঝলমল করে উঠে, তুই বিয়ে করেছিস।

হ্যাঁ মা, সে অনেক কথা সব বলবো। তখনি তাহু ওদের সবার জন্য নাস্তা নিয়ে আসে।তাহু যখন মিরাফকে চায়ের কাপ দেয়, মিরাফ কাপ নেওয়ার সময় তাহুর হাত স্পর্শ করে। এতে তাহু কেঁপে  উঠে, তাড়াতাড়ি সেখান থেকে সরে যায়।মিরাফ মুচকি হাসে, কেনো যানি জীবনের প্রথম কাউকে একটু ভালো লাগল।

খেতে খেতে সবাই তৃপ্তির বিয়ে, দেশ ছেড়ে যাওয়া, বাচ্চা, লেখাপড়া , আবার দেশে আসা সব শুনে।

তাহু : আল্লাহ তোমার উপরে সহায় ছিল বলে তুমি জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছো।আমরাও আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি, মা আমি এখন একটু যাই।কাছে গিয়ে, বেতন উঠিয়ে বাজার নিয়ে আসবো, যাতে দুলাভাইকে রাতে খাওয়াতে পারি। বেশি দেরি করবো না, বেতন নিয়ে আজকে চলে আসবো। তুমি ফ্রিজে মাংস আছে সেগুলো রান্না করতে থাকো, ফারিশকে বাজারে পাঠিয়ে দিও, আমি মোড়লের দোকানে বলে যাবো বাকি সদাই দিছে।

ওদের পড়িয়ে চলে আসবো বলে তাহেরা সবার কাছ থেকে বিদাই নিয়ে পড়াতে যায়।মিরাফ ওর পিছন পিছন বাহিরে এসে দেখে ওর চলে যাওয়া, নিজের কাজে নিজেই অবাক হয়ে আবারো ভিতরে চলে যায়।

ফাতেমা: মা কিছু মনে করিস না তাহু পড়াতে গেল বলে, আসলে কতোদিন জ্বর ছিলো তো যেতে পারেনি। আজ বেতন দিবে না গেলে মাস চলতে পারবো না, তুই বস আমি রান্নার আয়োজন করি। ফারিশ যা বাবা বাজারে যা, তোরা বস আমি আসছি।

আয়মান: আন্টি প্লিজ বসেন, কোথাও  যেতে হবে না। আমি খাবার অর্ডার করবো। আপনাদের সাথে কথা আছে, বসেন।

আমি আপনার  মেয়ের জামাই না, আপনার আরেকটা ছেলে হয়ে থাকতে চাই। তাই আমি চাইছি আপনারা এখন থেকে আমার সাথে আমাদের বাড়িতে থাকবেন। ঐ বাড়ির সামনে আমি বাড়ি করেছি ,এখন থেকে আপনারা সবাই আমার সাথে থাকবেন। তখনি রাহেলা তার মেয়েকে রাহিকে নিয়া বাড়িতে আসে।

রাহেলা:ঘরে ডুকতে ডুকতে বলে ফাতু তৃপ্তি নাকি এসেছে ,বলে সামনে তাকায়। দেখে একটা মেয়ে, দুইটা ছেলে, তিনটা বাচ্চা। তৃপ্তির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে চিনছে পারে তবে এই ছেলেরা কারা বুঝতে পারছে না।

ফাতেমা: আয় রাহু দেখে যা, এই আমার মেয়ে তৃপ্তি, ওর বর,মেয়ে ,ছেলেরা, দেবর। আয় এখানে বস ,রাহেলা ফাতেমার পাশে বসে বলে।

তৃপ্তি বিয়ে করেছে নাকি, আগে থেকে পরিচিত ছিল , তানা হলে আমার বাড়িতে না এসে কোথায় গিয়েছিল।

ফাতেমা : তুই বোস তোকে সব বলছি, পরে রাহেলাকে সব খুলে বলে।

আয়মান: আমি ঠিকানা অনুযায়ী আপনার খোঁজ করলাম কিন্তু পেলাম না, পরে আবার নিলাম তখন পেলাম। কিছুদিন আগে কিছু লোক আন্টির খোঁজে যায় তখন আপনি তাদেরকে চিনেন না বলছেন। আজ ভাবলাম তৃপ্তিকে নিয়ে যাই হয়তো ওকে দেখে আপনি মুখ খুলবেন।

রাহেলা: কি করবো বাবা ,ওদের লুকাতেই ওদের চিনি এই কথা কাউকে বলিনি। যদি হিতে বিপরীত হয়ে যায়।

নায়না উদাস মনে বসে আছে ,ওর কিছুই ভালো লাগে না। কি করলে নিখিল ভালো পথে আসবে সেই চিন্তা করে।ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বাহিরে তাকিয়ে মনে মনে ভাবতে থাকে।

রোদের তীব্রতা যেন কিছুই নরম করতে পারছে না আজ। সে বসে আছে কোণাটিতে, চোখ ফাঁকা তাকিয়ে দরজা থেকে যাওয়া আসা ছায়া গুলোতে। স্বামী নিত্য নতুন মুখে মেতে আছে, হাসছে, খুঁজছে, পেতে চেষ্টা করছে,আর সে শুধু শুনতে পাচ্ছে নিজের হৃদয়ের ভাঙা শব্দ। আর্তনাদ তার কোনো শব্দে বেরোতে পারছে না, কেবল মনে মনে চিৎকার করছে “কেন আমি এই ব্যথা সহ্য করছি?

কেন আমার চোখে জল হলেও কেউ তা দেখছে না?”
প্রতিটি হাসি, প্রতিটি আলাপ, প্রতিটি অচেনা স্পর্শ তার জন্য যেন খড়খড় করে কাঁচের মতো। কথা বলতে চাই, অভিযোগ করতে চাই, কিন্তু মুখ খুললেই শব্দগুলো যেন শীতল হয়ে ভেসে আসছে । আমি কেবল নিঃশব্দে কাঁদছি, নিজের ভেতরের দহন আর বিষাদের আগুন জ্বালিয়ে আমাকে শেষ করে দিচ্ছে ,এই চোখের জল জমে, যেন কে জানে আমার এই নিঃশব্দ আর্তনাদ কবে শেষ।নাকি এই নিরব আর্তনাদ আমি সারা জীবন বয়ে বেড়াবো।

আমি যানি, আমি যতো দিন বেঁচে আছি ততোদিন আমাকে এই ভাবে জ্বলে পুড়ে মরতে হবে। আমি ভুল মানুষকে ভালোবেসে আমার সাথে সাথে সবাইকে ধবংস করে ফেলছি। আমার দূর্বলতা সুযোগ নিয়ে তুমি আমাকে সবার অপরাধী বানিয়ে ছাড়লে নিখিল। কবে তোমার ধবংস দেখবো ,আজ তোমাকে ভালোবাসতে ও ঘৃনা হচ্ছে। আমি তোমার ভালোবাসা নামক কারাগার থেকে মুক্তি চাই, আল্লাহ আমাকে ওর জীবনে থেকে মুক্তি দিয়ে দাও।

নিজের এই অনুতাপ আগে হলে তৃপ্তির জীবনটা এভাবে শেষ হতো না, তোমার সভাবের কারনে আমি কারো চোখের দিকে তাকাতে পারি না।

নিখিল: নায়না, এই নায়না মেয়েকে কখন আনতে যাবে।

নায়না কোনো উওর দেয় না, উঠে চলে যেতে নেয় মেয়েকে আনতে। নিখিলের রাগ হয়, আজকাল মেয়েটা ওর দিকে তাকায় না ভালো করে, রাতে মেয়ের সাথে মেয়ের ঘরে ঘুমায়।

হাতের কব্জি ধরে, নায়না কি সমস্যা কোনো কথার উওর দাওনা কেনো।

ঝাড়া দিয়ে হাত সরিয়ে, ছুবে না আমায়, আমি কথা না বললেই কি তোমার রক্ষিতাদের সাথে কথা বলা কি বাকি থাকছে। যাও তাদের সাথে, আমি তোমার কাছ থেকে মুক্তির সন্ধানে আছি। একটা রাস্তা পেয়ে গেলে তোমাকে মুক্ত করে দিবো, যাতে ঐ মেয়ের জন্য আমাদের মা মেয়েকে জ্বলে পুড়ে ম*রতে নাহয়।

রাগে নিখিলের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো ,মেয়েকে ও অনেক ভালোবাসে আর সেই মেয়েকে নাকি ও পুড়িয়ে মা*রবে। দেখো আজে বাসে কথা বলবে না, তাহলে মে*রে হাড্ডি ভেঙ্গে দিবো। তোকে কি আমি সুখ দেই না নাকি সেই সব মেয়েদের নিয়েই থাকি। তোর কপাল ভালো তা না ,,,,,,

তানা হলে তোমার বাবার মতো করতে তাই তো, দেখতে হবে না কতো ভালো মানুষের রক্ত ব‌ইছে তোমার শরীরে।

নিখিল মা*রতে নিয়ে থেমে যায়, আজকার নায়নার চোখে ওর জন্য ভালোবাসা দেখে না ,সেখানে একরাশ ঘৃনা ছাড়া।

তোমাকে আমি আগেই বলেছি থাকতে হলে থাকো তানা হলে চলে যেতে পারো।

সত্যি ,সত্যিই আমি চলে যাবো, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে চলে যেতে বলার জন্য।

নিখিল দুষ্টু হেসে বলে, হে যাও তবে আমার মেয়েকে রেখে যাও। মুহুর্তে নায়নার মুখ কালো হয়ে যায়, তারপর বলে, এটা বলেই তো আমার পায়ে বেড়া দিয়ে রেখেছো ।কেনো যাইনা যানো যাতে মেয়েটা তোমাদের মতো চরিত্রহীন হয়ে না যায় ।শরীরে তো সব চরিত্রহীনাদের রক্ত ব‌ইছে, আজ আমার সাথে যা করছো কাল যদি তোমার মেয়ের সাথে হয়। এতোই না ভালোবাসো মেয়েকে সয়তে পারবে তো, এই কথা নিখিলের সহ্য হয়না। সাথে সাথে নায়নার গালে থাপ্পড় মা*রে, তোকে ভালোবাসি বলে ছেড়ে দিলাম ।তানা হলে ঐ মুখ ভেঙ্গে দিতাম।

নায়না: দে ভেঙ্গে তোর মতো চরিত্রহীনের ভালোবাসা চাইনা, দেখিস না তোর ধারে কাছে এখন যাই না। তোর ছোঁয়া এই শরীরে পেলে আমার ঘৃনা লাগে, যেই শরীরে শত শত মেয়েদের ছোঁয়া লেগে আছে। আমি বোকা ছিলাম তাইতো তোর প্রতিটা অন্যায় মুখ বন্ধ করে সয়ে গেছি। এখন তোর কাছ থেকে আমি মুক্তি পাবার জন্য ছটফট করছি, নিখিল আবারো মা*রতে যাবে তখনি ওর মোবাইলে কল আসে।

দেখে নতুন গার্ল ফ্রেন্ডের কল, তাইতো মোবাইল কানে নিয়ে নায়নাকে চোখ দিয়ে শাসিয়ে যায়। নিখিল যেতেই নায়না আবারো চিৎকার করে কাঁদে।

বাকি পর্ব পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *