ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর
সোনিয়া আবেদীন
তৃপ্তি নাজিমের কথায় পাথর হয়ে যায়, এই কাকে ভালোবাসল । বিপদে ওর হয়ে না লড়ে ওকে দিয়ে একটা জঘন্য কাজ করতে বলছে। ওর নিজের উপরে ঘৃনা হচ্ছে এ কাকে ভালোবেসেছিলো , তখনি আজিমের কথায় তৃপ্তি জমে যায়।
এক কাজ করো আজি ওকে বিয়ে দিয়ে নিখিলের সাথে পাঠিয়ে দেই, তৃপ্তি চিৎকার করে বাবাকে না করতে থাকে।
আজিম : তুই না করিস না তৃপ্তি , তোর কারনে আমার ভাই মরে যাবে । যেই ভাইয়ের কাধে চড়ে বড় হয়েছি সেই ভাইয়ের লাশ নিতে পারবো না ।তোকে লালন পালন করে বড় করছি সেই প্রতিদান দে , আমার ভাইকে আমার কাছে বেঁচে থাকতে দে ।
ফাতেমা : মেয়ের চিৎকার শুনে দৌড়ে আসি , দেখে তৃপ্তি এই সব বলছে । তখন ফাতেমা আরো রেগে যায় , তুমি ওর বাবা হয়েও ভাই প্রেমে অন্ধ হয়ে গেছ। মেয়ের চোখের পানি দেখো না , তোমাকে তোমার ভাই কি বুঝ দিল যার কারনে আমাদের কারো কথা তোমার কানে যায় না।
না কানে যায়না , তুই তোর মেয়েকে বুঝিয়ে দে আগে ওর বিয়ে নিখিলের সাথে হবে , যখন নায়নাকে একটা বাচ্চা দিবে তখনি নিখিল ওকে ছেড়ে দিবে । তারপর নাজিম ওকে বিয়ে করবে , নাজিম আমার সাথে কথা বলেছে।
নাজমুন : ওগো শুনছো এভাবে বাড়াবাড়ি করলে যদি খারাপ কিছু হয় , তখন সবাই যানবে , তাতে মান সম্মান যাবে।
আজিজ : এছাড়া আর রাস্তা নাই , নায়নার সংসার রক্ষা করতে তৃপ্তিকে বলির পাঁঠা হতে হবে। যেই ভাই বোনদের বড় করলাম তার বিনিময়ে এতোটুকু করতে পারবে না। তুমি সব রেডি করো , আমি আজি নিখিলের সাথে তৃপ্তির বিয়ে দিবো।
সন্ধ্যার পরেই সবাই বাড়িতে আসে তখন তৃপ্তি ওর রুমে বসে থাকে । নায়না তৃপ্তির জন্য একটা শাড়ি নিয়ে আসে , তখনি তৃপ্তি নায়নার হাত ধরে বলে।
আপু আমাকে বাঁচাও , তোমারকি কষ্ট লাগবে না আমাকে সতিন রুপে দেখতে।
নায়না: লাগবে তারপরেও কিছু করার নেই , আমি মা হতে চাই।
তৃপ্তি : এমনটা করোনা আপু , আমি নাজিম ভাইকে ভালোবাসি , সেখানে নিখিল ভাইকে কেমন করে বিয়ে করবো । একি বাড়ি থেকে দুটো মেয়ে একটা ছেলের বউ হবে লোকে শুনলে হাসবে।
নায়না : হাসলেও কিছু করার নেই , তুই কথা না বাড়িয়ে রেডি হয়ে নে। নিখিল ও আমার শ্বাশুরী আসছে , তোদের বিয়ে দিয়ে আজি নিয়ে যাবো।
তৃপ্তি নায়নার কথায় রাগ লাগে , তখনি বলে , যদি আমি তোমার স্বামীকে বলি যতোদিন আমাদের বাচ্চা না হয় ততোদিন তোমার মতো বন্ধ্যার মুখ যেনো আমাকে না দেখতে হয়। তখন তোমাকে বাধ্য হয়ে এখানে রেখে যাবে, আমি নিখিল ভাইকে এটাও বোঝাবো তোমার চেহারা দেখাটাও বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর।
নায়না তৃপ্তির মুখে এমন কথা শুনে রেগে ওর মুখে টিপে বলে , তুই কি ভাবছিস তুই যা বলবি নিখিল তাই করবে। আরে আমি তো বাচ্চা জন্মদিতে অক্ষম না , ও তোকে যেই পর্যন্ত ভোগ না করবে সেই পর্যন্ত আমাকে বাচ্চা নিতে দিবে না। তাই তো তোকে একটু সম্মান দিয়ে ওকে ভোগ করার অনুমতি দিলাম।
তৃপ্তি হেসে বলে , এমন একটা চরিত্রহীন স্বামীর জন্য নিজের পরীবারের সবার সাথে ধোঁকা দিচ্ছো। যখন তোমার সত্যটা সবাই যানবে তখন কি হবে ভেবে দেখছো একবার।
নায়না এতোক্ষনে হুসে আসে , রাগের মাথায় ও তো সত্য বলে ফেললো তখনি বলে। যা তোর সাথে ওর বিয়ে দিবো না শুধু ওর সাথে একটা রাত কাটা।
তৃপ্তি রাগে নায়নাকে একটা থাপ্পড় মারে , আর মুখে থুথু দিয়ে রুম থেকে বের করে দেয়।
নায়না রাগে চিৎকার করে বাবা , চাচাকে বলতে থাকে , তখন আজিম তৃপ্তির রুমে যায়। মেয়েকে রাগে পিটাতে থাকে , তৃপ্তি চিৎকার করে নায়নার কথা বলতে থাকে। কিন্তু ওর সত্যি কথাটা কেউ বিশ্বাস করে না , তাইতো নিজের বিবেক বুদ্ধি ভুলে বাবাকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। ওর পিছু পিছু সবাই যায় , তৃপ্তি রান্না ঘরে গিয়ে একটা ছুরি উঠিয়ে নেয়।
নায়না আপু আমার এই শরীরটার প্রতি তোমার চরিত্রহীন স্বামীর অনেক লোভ তাই না। যাকে ভালোবাসলাম সেই আমাকে বুঝলোনা বন্ধুর বিছানায় পাঠাতে উঠে পড়ে লেগেছে। এমন জঘন্য পরিবারে জন্ম নেওয়াটাই আমার জীবনে বড় ভুল ছিলো , আজ সেই ভুলের মুক্তি নিচ্ছি।
হাতে দুই তিনটা টান দেয় , মুহুর্তে র*ক্ত দিয়ে ভরে যায়। সবাই ওর এই কাজে জমে যায় , তখন আজিম রেগে বলে ওকে কেউ হাসপাতালে নিবি না ও এখানেই ম*রে যাক।
ফাতেমা দৌড়ে এসে মেয়েকে ধরে , কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে।
আজিম কিছুতেই ওকে হাসপাতালে নিতে দিবে না , তখন আজিজ কিছু বলবে সেই সময় তৃপ্তির দুই বান্ধবী নাফসা , রাইসা আসে।
ওকে এই অবস্থায় দেখে চিৎকার দিয়ে উঠে , ওদেরকে দেখে আজিম জমে যায়। একজন ওসির মেয়ে আরেকজন উকিলের মেয়ে , এখন ওদের সামনে কিছু বললে এই মেয়েরা ওদের সম্মান নিয়ে টানাটানি করবে।
দুই বান্ধবী ও ফাতেমা তৃপ্তিকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে , সেখানে সবাই পরিচিত তাইতো ওর চিকিৎসা করাতে দেরি হয়নি। নাফসা , রাইসা ফাতেমার কাছে সব শুনে , রাগে ওদের মাথা নষ্ট হয়ে যায়।
নাফসা : শা*লা কতোবড় বাটপার , আমার বান্ধবীকে বিয়ের কথা বলে , এখন বোনের জামাইয়ের কাছে বিয়ে দিতে উঠে পড়ে লাগছে।
রাইসা: এখনি বাবাকে বলে সব কটাকে থানায় নিয়ে যাই ,ওদের সাহস হলো কেমন করে তৃপ্তির সাথে এমনটা করার।
ফাতেমা: এখন কিছু বলো না মা , দেখি আমার মেয়েটার কি অবস্থা হয়।
তৃপ্তিকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে , অনেক র*ক্ত বের হয়েছে , র*ক্ত ও দেওয়া হচ্ছে।
পরের দিন ফাতেমা বাড়িতে গেলে নাজমুন বলে , ফাতেমা তৃপ্তি বাড়ির সম্মান নষ্ট করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এই বাড়ির মেয়ে হিসাবে বড় বোনের একটা উপকার করবে তাতেও তোমার মেয়ের সমস্যা। বলেছে তো নাজিম ওকে বিয়ে করবে , তারপরেও এতো জিদ ধরে বসে আছে।
ভাবী আপনাদের বিবেক বুদ্ধি সব লোভ পেয়েছে , তাইতো আমাকে এই ভাবে কথা শুনাতে পারছেন। যাই হোক এতো কিছুর পরেও ভাবলেন কিভাবে আপনার ঐ ছেলের কাছে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দিবো। যে ভালোবাসার মর্যাদা দিতে যানে না তাকে কি বলে ডাকবো।
নাজমুন ফাতেমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে , পরে স্বামীর কাছে যায়। ফাতেমা গোসল করে রান্না করে মেয়ের জন্য ও বাচ্চাদের জন্য রেখে যায়। তখন ওর সাথে ছোটো ছেলে ফারিশ ও যায় , তাহেরা বাড়িতে থাকে।
তৃপ্তি দুদিন ধরে হাসপাতালে আছে তারপরেও কেউ দেখতে আসে নি , আজ ওর বান্ধবীরা সবাই থাকবে তাই তিনি বাড়িতে আসেন।
নাফিসা : তৃপ্তি আমাদের খুলে বল তো কি হয়েছে , কেনো তোর পরিবার এমন একটা জঘন্য কাজ করতে উঠে পড়ে লেগেছে।
তৃপ্তি:সবটা হচ্ছে নিখিল কুত্তাটার জন্য , ও সবাইকে বলেছে নায়না আপু মা হতে পারবেনা ।তাই বংশ রক্ষা করার জন্য আবার বিয়ে করতে হবে। এদিকে নায়না আপু তার ভালোবাসায় অন্ধ , তাইতো স্বামী চরিত্রহীন দেখেও সেই স্বামীর কাছে আমাকে পাঠাতে উঠে পড়ে লেগেছে।
রাইসা:আহা পুরো কথা বল ?
তৃপ্তি:কি বলবো ঐ হারামী আমাকে পেতে একটা ফাঁদ পেতেছে , নায়না আপুকে বলছে যদি আমি তার সাথে রাত কাটাই তাহলে তাকে মা হতে সুযোগ দিবে। আপুর কোনো সমস্যা নাই , শুধু আমাকে ভোগ করতে এমন করেছে।
নাফিসা: নাজিম ভাই এমন কেনো করলো , তোকে তো একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। তুই হাসপাতালে তোকে দেখতে এলো না আর নাজিম ভাইকে দেখলাম কান্তাকে নিয়ে ঘুরছে। এমনভাবে হাটছে যেনো ওরা জামাই বৌ ,নাজিম ভাই এতোটা খারাপ আগে যানতাম না।
রাতে আজিম ফাতেমাকে অনেক মা*রে , আর তৃপ্তিকে বুঝিয়ে রাজি করাতে বলে।তানা হলে তিনি ফাতেমা বেগমকে তালাক দিবে , তখন তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে যেনে নিজের পথ দেখে।
পরের দিন আবিদা আসে , দেখে ফাতেমা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে হাটছে। ছোটো ভাবী মেয়েকে বোঝাও ওকে যেইটা করতে বলা হয়েছে , সেইটা অনেক বড় পূর্ণের কাজ।
ফাতেমা তখন মুচকি হেসে বলে , তোমরা সবাই নিজেদের খুব চালাক মনে করো , কৈ তোমার মেয়েও তো তৃপ্তির ছয়মাসের বড় ওকে কেনো বললো না। সবাই পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খেয়ে চায় , বলে চলে যায়। ওদের কথা নাজিম শুনে তখন ফুপির সামনে এসে বলে,
ফুপি তুমি ছোটো মার কথায় কিছু মনে করো না , এসেছো ভালো হয়েছে তৃপ্তিকে আনলে ভালো করে বোঝাতে পারবে।
আজ তৃপ্তির অন্য দুই বান্ধবী থাকবে , ফাতেমার শরীর অসুস্থ দেখে তাকে বাড়িতে থাকতে বলে।
রাতে আজিম অন্য রুমে থাকে , ফাতেমার প্রচুর জ্বর আসে।ঔষধ খেতে পানি আনতে গেলে দেখে , নাজিম চুপি চুপি কান্তার রুমে যাচ্ছে।
সেও দেখার জন্য ওদের রুমের সামনে যায় , সেখানে আবিদা , নায়না , নাজিম , কান্তা বসা।
আবিদা:নাজিম তোর আর কান্তার বিয়ের কথা কবে সবাইকে বলবি , আজ ফাতেমা যেই কথা বললো যদি সবার সামনে বলতো তাহলে কি হতো ভাব।
নাজিম :তুমি চিন্তা করো না , আমি সব সামলে নিবো। সেই জাল ফেলেছি তাতে তৃপ্তি , ছোটো মা কুলাতে পারবে না।
নায়না: যদি তৃপ্তি রাজি না হয় তাহলে নিখিল খুব রেগে যাবে , তাছাড়া আমি রাগের মাথায় তৃপ্তির সামনে সত্য কথা বলে দিয়েছি।
নাজিম: কি সত্য বলেছিস ?
নায়না তখনি কথা ঘুরিয়ে বলে , মানে বলেছি তোকে একটা বাচ্চা হলে ছেড়ে দিবে তখন তুই নাজিম ভাইকে বিয়ে করিস।
আরে বোকা মেয়ে এই কথা তো বলছি , তারপরেও তো রাজি হয় না।
কান্তা:তৃপ্তি কি বুঝে গেছে তুমি বিবাহিত , তাহলে তো আমরা সমস্যায় পড়বো।
নাজিম: না না , আমি ওর সামনে তোমার সাথে কথা বা রাতে তোমার ঘরে আসার সময় খুব বুঝে শুনে এসেছি। বাড়ির কেউ বুঝতে পারেনি , সেখানে তৃপ্তি বুঝবে কেমন করে।
আচ্ছা যাও অনেক রাত হয়েছে সবাই সবার ঘরে ঘুমাতে যাও।
ফাতেমা সরে যায় , আবিদা নিজের ঘরে আর নায়না নিজের ঘরে যেতে নেয়। তখনি নিখিলের কল আসে , নায়না চারিদিকে তাকিয়ে কল রিসিভ করে কানে দেয়। আবার ঘুরে ফ্রিজের কাছে আসে , হে বলো,
না না কেউ যানেনা , আমি তখন রাগের মাথায় বলেছিলাম , ও সবাইকে বলেছে কিন্তু কেউ ওর কথা বিশ্বাস করেনি।
নিখিল: তুমি যদি এই কাজটা করতে না পারো , তাহলে সন্তানের মুখ দেখতে পারবে না , আর আমার সাথে তোমার সংসার করা হবে না।
নিখিল আমি তো বলছি আমি চেষ্টা করছি তৃপ্তিকে তোমার সাথে,,,,
নিখিল:তুমি কেমন চেষ্টা করছো আমার যানা আছে , এতো চেষ্টা করেছো যে এখন তৃপ্তি হাসপাতালে ভর্তি।
আমিও তো মানুষ নিখিল , তুমি যাই বলো আমি তাই করি। কখনো তোমার বিপরীতে যাইনি , আমার কি কষ্ট লাগে না তুমি আমার সামনে আমারি ছোটো বোনকে বিছানায় নিতে চাইছো।
নিখিল: আহা সোনা মন খারাপ করো না , আমি তো কথা দিয়েছি একবার তৃপ্তিকে ভোগ করতে পারলে ছেড়ে দিয়ে তোমার সাথে মন দিয়ে সংসার করবো।
নায়না নিজের ঘরে গিয়ে বসে কাঁদতে থাকে , কি ভাবে তৃপ্তিকে বোঝাবে ওকে না পাওয়া পর্যন্ত নিখিল শান্ত হবে না।
ফাতেমা রুমে এসে দপ করে বসে পড়ে বুঝতে পারছে না , কিভাবে মেয়েকে এই জালিমদের হাত থেকে বাঁচাবে। তখনি ওর মনে পড়ে এক বান্ধবীর কথা , ওকে কল দিয়ে সব কথা বলে।
একটা ব্যাগ নিজের জমানো টাকা , গহনা আর কয়েক সেট কাপড় ভড়ে।সারারাত নামাজে বসে মেয়ের জন্য দোয়া করে , খুব ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
রাফা , অহিকে বাড়ি পাঠিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলে। কেবিনে এসে তৃপ্তিকে রেডি হতে বলে। তৃপ্তির পাশে বসে কালকে রাতের সব কথা বলে , তাতে তৃপ্তি আরো ভেঙ্গে পড়ে।
শোন তৃপ্তি এখান থেকে গিয়ে ভুলেও এখানে আসবি না , নিখিলের পরিবার খুব খারাপ। ওর বাবা নাকি তার প্রথম স্ত্রী , এক ছেলে ও নিজের ছোটো বোনকে পুড়িয়ে মে*রেছে। নিখিলের মায়ের সাথে পরকিয়া করার পরে, তার বোন মিতালী তার এই কাজে বিরোধিতা করেছিলো বলে। আজ আমি তোকে রক্ষা করার কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না , তাই আমার এক বান্ধবীর কাছে পাঠাচ্ছি ওর কাছে থেকে নিজের জীবনটা গুছিয়ে নে।
আমার কসম লাগে তুই ভুলেও ঐ বাড়িতে যাবিনা , আমি ম*রে গেলেও না।
মাআআআ , এটা তুমি কি বললে , আমি তাদের সব কথা মেনে নিবো।তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না , আমি কোথাও যাবো না।
নাআআআ তৃপ্তি, তুই এই যুদ্ধে জয় হয়ে ফিরে আসবি। যতোদিন নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে না পারবি , ততোদিন কারো সাথে যোগাযোগ করবি না। তোর বান্ধবীদের বাবাদের সাথে নিখিলের বাবা আমজাদের অনেক খাতির , তাই তুই ওদের সাথেও কোনো সম্পর্ক রাখবিনা।
একটা গাড়িতে উঠিয়ে , মেয়ের কপালে চুমু দিয়ে বলে। আমি তোকে আল্লাহ ভরসায় পাঠালাম , সুযোগ পেলে নিজের জীবনটা সাজিয়ে নিস। এই ব্যাগে যা আছে তোর কাজে আসবে , নিজেকে কখনো একা ভাবিসনা।সব সময় তোর মায়ের দোয়া সাথে আছে , আল্লাহ হাফেজ আম্মু , নিজের যত্ন নিজেই করতে শিখো।
আল্লাহ হাফেজ মা , তাহেরা ও ফারিসকে দেখে রেখো। ওদের বলো ওদের বোন আসবে , ওদেরকে ও সাথে করে নিয়ে যেতে।
সারাদিন ফাতেমা পার্কে কাটিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি আসে , তখন দেখে নিখিল ও ওর মা নীলা বেগম এসেছে। ফাতেমা কোনো কথা না বলে নিজের রুমে যায়, তখন আজিম আসে।
তোমার মেয়েকে কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়বে , বিয়ান এসেছে বিয়ের তারিখ ঠিক করতে।
তুমি যাও আমি আসছি বিয়ের কথা পাকা করতে । ফাতেমার কথা শুনে আজিমের মুখে হাসি ফুটে উঠে ,যাক অবশেষে হুমকি কাজে দিয়েছে।
ভাঙা বিশ্বাসের তৃতীয় পর্ব





















