ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর
সোনিয়া আবেদীন
ঈশা থাম এভাবে চিৎকার করে নিজের ক্ষতি করে কি আয়মান স্যারকে পাবি, তোর মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হবে তবেই তুই আয়মান স্যারকে পাবি। শুনেছি বাঙ্গালি মেয়েরা একটু অন্য রকম হয়, ওরা বরের পাশে কাউকে দেখলে তার সাথে সংসার করে না। তুই কোনো ভাবে তার বৌকে বোঝা তোর সাথে স্যারের সম্পর্ক ছিলো। আর তোদের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর মতো সব কিছু হয়েছে তবেই দেখ ঐ মেয়ে কেমন পাগলা কুকুর হয়ে স্যারকে ওর জীবন থেকে সরিয়ে দেয়।
ঈশা: তুই ঠিকি বলছিস মেরিনা, আমাকে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হবে। তানা হলে আয়মান আমার হবে না, আমি যে কোনো কিছুর বিনিময়ে আয়মানকে চাই। তার জন্য যদি ঐ মেয়েকে মা*রতে হয় তাহলে আমি পিছুপা হবো না।
আয়মান ও তন্ময় দুপুরে সবার সাথে লাঞ্চ করে বাড়িতে আসে। স্যার ওকে এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছে।ভাবছে অবুঝ বৌটাকে নিয়ে কোথাও ঘুরে বেড়াবে ,মনে মনে ভাবছে আর মুচকি মুচকি হাসছে।
তন্ময় বন্ধুকে হাসতে দেখে বলে, আজকে মনে রং লেগেছে ,সখি তোমারি জন্যে।
তন্ময়ের মুখে এমন অদ্ভুত গান শুনে আরো হাসে, যা শালা পারিসনা গাস কেনো।
কি করবো বল তুই তো আজ খুব খুশিতে আছিস সেটাই দেখছি।
বাড়িতে আসলে দেখে তৃপ্তি মিরাফের সাথে খেলছে, ওকে দেখে নাজুক হাসে। মিতালী বেগম ছেলের জন্য অনেক আইটেমের খাবার রান্না করে। রাতে মিজান সাহেব ও আসে সবাই একসাথে খেয়ে তারপর যে যার বাড়িতে যায়।
রাতে শুতে এসে তৃপ্তি একটু ভয় পাচ্ছে, যদি আজকেও মান তাকে ব্যাথা দেয়। আয়মান ওর মনের ভাবনা বুঝতে পারে তাইতো কাছে টেনে কোলে বসায়।
ভয় পেও না, আসো আমরা দুজন গল্প করি। আমি কাল তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবো, তুমি বলেছিলে না আমাকে নিয়ে ঘুরবে।
তৃপ্তি খুশি হয়, সে টিভিতে ও রাফের মোবাইলে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখেছে সেই সব জায়গাতে ঘুরতে যাবে বলেছে।
পরের দিন তন্ময় ও মিয়ামীকে বলে ওদের সাথে যেতে কিন্তু ওদের ছুটি নেই। তাছাড়া মিয়ামীর কয়েকটা রোগী আছে যাদের সি সেকশনে বেবি হবে তাই ভাইকে বলে তোমরা যাও অন্য সময় আমরা যাবো।
আয়মান তৃপ্তিকে নিয়ে শিশু পার্ক, গেইমজুনে ঘুরে। রাতে বাহিরে খেয়ে বাসায় আসে ,তৃপ্তি এতো সুন্দর জায়গায় ঘুরেছে বলে ও অনেক খুশিতে নাচানাচি করেছে।
গাড়িতে ঘুমিয়ে গেছে আয়মান ওকে কোলে নিয়ে ফ্ল্যাটের যায়, দুর থেকে ওদেরকে ঈশা ফলো করে। আয়মান ফ্ল্যাটে গেলে ও পড়ে খোঁজ নেয় ওরা কয় তলাতে থাকে।
বন্ধু বান্ধব নিয়ে নাইট ক্লাবে গিয়ে ড্রিঙ্ক করে নাচানাচি করে, ও ভেবে নিয়েছে সামনে ওর কি করতে হবে।
বিছানায় শোয়াতে নিলে তৃপ্তি উঠে যায়, তখন আয়মান বলে।
উঠে গেছো, তাহলে ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পড়ো, কিছু খাবে কি।
না খিদে নেই, বলে টিশার্ট ও প্লাজু নিয়ে ওয়াসরুমে যায়।
আয়মান ও ফ্রেশ হয়ে আসে, তারপর তৃপ্তিকে নিয়ে শুতে যায়। মান আমাকে ঐ দিনের মতো চকলেট খাওয়াবে, তোমার কাছে আসলে আমার কেমন যানি লাগে
আয়মান বুঝতে পারে তার অর্ধাঙ্গিনী কি চাইছে, তাই দেরি করে না ডুব দেয় ভালোবাসা আদান প্রধান করতে।
দেখতে দেখতে দুটো মাস চলে যায়, তৃপ্তি এখন অনেক কিছু বুঝে, হঠাৎ মন চাইলো রান্না করলো কিন্তু যখনি ওকে বলা হয় তখনি বলে যানিনা। নিজে থেকেই রান্না করেছি, কোথায় শিখেছি সেটাও বলতে পারিনা
আজ মিয়ামীর একটা রোগী পড়ে গিয়েছে তাই ওকে তাড়াতাড়ি সিজার করতে হবে বলে চলে যায়। তৃপ্তির সাথে তখন মিরাফ ছিলো, মাকে কল করে আসতে বলেছে ।
কলিং বেল বাজলে মিরাফ দরজা খুলে, দেখে দুটো মেয়ে দাড়িয়ে আছে। তখন মিরাফ কপাল কুঁচকে বলে কে আপনারা, ঈশা দেখে আয়মানের ভাই দাড়িয়ে আছে।
আমরা আয়মান স্যারের ওয়াইফের সাথে দেখা করতে এসেছি,স্যার বলছিলো তার ওয়াইফকে দেখতে।
ওকে ভিতরে আসেন, পুতুল বৌ শুনছো দেখো তো তোমার সাথে কারা যেনো দেখা করতে এসেছে।
তৃপ্তি খেলা রেখে ড্রয়িং রুমে আসে, দেখছ দুইটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে।কে ওরা, আমি তো এর আগে তাদেরকে দেখিনি।
হ্যালো মেম আমরা স্যারের স্টুডেন্ট, আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি।
ওকে বসেন ,তা কি কথা বলতে এসেছেন।
কথাটা একটু গোপনে, তাই ছেলেদের সামনে বলা যাবে না।
মিরাফ: বললেই হয় তাহলে তো আমি চলে যাই, বলে মিরাফ চলে যায়।
ঈশা : আসলে তোমাকে কি ভাবে বলি, তোমাকে বিয়ে করার আগে স্যারের সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো। স্যার কাজের জন্য বাংলাদেশে যায় তখন হয়তো তোমার মোহে পড়ে তোমাকে বিয়ে করে। বিশ্বাস করো আমার সাথে স্যারের সব হয়েছে, মানে আমরা লিভ ইন রিলেশনে ছিলাম। এখন আমার এতো বড় সর্বনাশ হলো, কে বিয়ে করবে আমায়।
তুমি যদি স্যারকে ছেড়ে চলে যাও তাহলে স্যার আমাকে আবার আগের মতো ভালোবাসবে। আমরা তখন বিয়ে করে নিবো, আমি তোমার হাত ধরে বলছি স্যারকে ছেড়ে চলে যাও। আমার ভালোবাসা আমাকে ফিরিয়ে দাও, আমি তাকে ছাড়া বাঁচবোনা।
তৃপ্তি: তুমি কেঁদো না আমি সব দেখছি, তুমি স্যারকে ভালোবাসো আর তাকে বিয়ে করতে চাও। আমি দেখছি, আজ মান আসুক ওকে বলবো। আচ্ছা করে বকে দিবো , তখন স্যারকে বিয়ে করতে পারবে।
ঈশা :বান্ধবীর মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে, ওকে মেম তাহলে আমরা যাই, তুমি কিন্তু স্যার কে ধরবে।
ওকে আমি কালকে খুব করে ধরবো, ঈশা ও মেরিনা চলে যায়। তখন মিরাফ বলে পুতুল বৌ ওরা কিসের কথা বললো।
ওওও ঐ মেয়েটা ওর স্যারকে বিয়ে করবে ,আমি যেনো মানকে বলি।
ওওওও, চলো আমরা খেলি। মিতালী আসলে সবাই মিলেমিশে রান্না করে খায়, তৃপ্তি মিরাফের সাথে খেলতে খেলতে সোফাতে ঘুমিয়ে পড়ে।
মিতালী ওকে জোড়াকরে তুলে রুমে শুয়ে দেয়, আয়মান এসে তৃপ্তিকে খুঁজে তখন মিতালী বলে ও ঘুমিয়ে আছে।
শরীর খারাপ নাকি এই অসময়ে শুয়ে আছে।
আয়মান ওকে খুব ক্লান্ত ক্লান্ত লাগছে, দেখিস তো।
কি বলো, আচ্ছা দেখছি বলে রুমে যায় দেখে তৃপ্তি ওয়াসরুমে বমি করছে। তাড়াতাড়ি ওকে গিয়ে ধরে, কি হয়েছে জান হঠাৎ বমি করছো কেনো ।
যানিনা মান, আমি শুয়ে ছিলাম তখনি বমি পায়। বলতে বলতে ঙ্গান হারিয়ে পড়ে যেতে নিলে আয়মান ধরে ওকে বিছানায় নিয়ে যায়।
ওকে শুয়ে আয়মান চিন্তায় পরে যায়, এমনটা হলো কেনো। হঠাৎ একটা কথা মনে পড়তেই সিট সিট করতে করতে বাহিরে ছুটে যায়।
বাহিরে যাওয়ার সময় মিতালী বলে, কিরে এখন কোথায় যাস।
আমি আসছি মা, পরে তোমাকে বলছি ,মেডিসিন সপ থেকে একটা কিট আনে। বাড়িতে এসে তৃপ্তির পাশে শুয়ে পড়ে। কিন্তু নিজের মনের অস্থিরতার কারনে ঘুম আসছেনা। বার বার তৃপ্তির মুখের পানে তাকায় আর কপালে চুমু খায়।
এই মেয়ে আমাকে অস্থিরতার মাঝে রেখে নিজে ঘুমাচ্ছো,তুমি আমাকে মনে হচ্ছে খুশির খবর দিবে। সারারাত তৃপ্তির সাথে কথা বলে কাটিয়ে দিলো, ভোরের দিক তৃপ্তি ঘুম থেকে উঠলে দেখে আয়মান ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
মান তুমি উঠে গেছো, তাহলে আমাকে ডাকনি কেনো।
আমি তো ঘুমাইনি তাই তোমাকে ডাকবো কেমন করে, এক কাজ করো যাও ফ্রেশ হয়ে আসো আর এইটার মধ্যে তোমার ইউরিনটা রেখে আসো।
তৃপ্তি কথা না বাড়িয়ে তাই করে, আয়মান কিট পরীক্ষার জন্য দেয়।সাথে সাথে দুটো দাগ ভেসে উঠে, আয়মান সেই দাগ দুটোর দিকে তাকিয়ে থাকে। খুশিতে চোখের অশ্রু বের হয়ে আসে, বাহিরে এসে তৃপ্তির কপালে চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলে।
তোমাকে এভাবে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরলে মনে হয় আমি জীবনের সবচেয়ে বড় সুখটা ছুঁয়ে আছি। বিশ্বাসই হচ্ছে না, আমাদের ভালোবাসা আজ নতুন এক জীবনের রূপ নিচ্ছে। তুমি এখন শুধু আমার ভালোবাসার মানুষ নও, তুমি আমাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নকে নিজের ভেতরে আগলে রেখেছো। ঐ দিন তোমাকে দেখে আমার মনের ভিতরে কী হলো কে যানে সাথে সাথে নিজের জীবনে জড়িয়ে নিলাম।তুমি শতো কষ্টের মাঝেও আমাকে দিয়েছো পরম সুখ।
আমি জানি সামনে তোমার অনেক কষ্ট হবে, অনেক ক্লান্তি আসবে, কিন্তু তুমি কখনো একা নও। তোমার প্রতিটি ভয়, প্রতিটি আনন্দে আমি তোমার পাশে থাকবো। তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতে চাই, যেন তুমি বুঝতে পারো ,তুমি আমার শক্তি, আমার গর্ব।
আজ তোমাকে জড়িয়ে ধরে মনে হচ্ছে, আমি শুধু তোমাকেই নয়, আমার আসন্ন সন্তানকেও ভালোবাসার ছায়ায় আগলে রেখেছি। ভাবতেই কেমন অদ্ভুত লাগে, খুব শিগগিরই আমাদের ঘর ছোট্ট হাসিতে ভরে যাবে। সেই হাসির মাঝে থাকবে আমাদের ভালোবাসার গল্প, থাকবে আমাদের দুজনের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
আমার বিশ্বাস হচ্ছে না আমার একটা সংসার হয়েছে, এখন সেই সংসারে ছোটো ছোটো পায়ে কেউ হেটে বেড়াবে।কেউ আমার কাছে টকলেট, আইসক্রিমের জন্য বায়না ধরবে। আমি কাজের ক্লান্তির মাঝে কারো মধুর ডাকে সারা দিতে ব্যাকুল হয়ে যাবো, আমার এই শূন্য জীবনে এসে পরিপূর্ণ করার জন্য ধন্যবাদ জান।
তৃপ্তি:কি হয়েছে তোমার তুমি এমন করছো কেনো, মা কি তোমাকে টকলেটের জন্য বকেছে। তুমি কাঁদছ কেনো মান, দেখো আমারো কান্না পাচ্ছে।
জান তুমি যানো তোমার এই টামিতে কে আছে ?
হ্যাঁ, এখানে টকলেট, পিজা, বাগার আছে।
আয়মান মুচকি হেসে বলে ,তোমার এই টামিতে একটা ছোটো পুতুল আছে। সেটা কয়েকদিন পরে এসে তোমার আমার মাঝে খেলবে।
কি বলো মান আমার টামিতে পুতুল আসলো কেমন করে।
পাশের ফ্ল্যাটে ঐ ছোটো বাবুকে দেখে তুমি বলেছিলে না, তোমাকে যেনো আল্লাহ এমন একটা বাবু দেয় তাইতো আল্লাহ তোমার টামিতে একটা বাবু দিয়েছে।
মুহূর্তে তৃপ্তির মুখে হাসি ফুটে উঠে, সত্যি বলছো মান আমার ঐ রকম একটা বাবু হবে।
হ্যাঁ জান, চলো সবাইকে এই খুশির কথা বলি, আর শোনো এখন থেকে রাফের সাথে দৌড়াতে পারবেনা ।ঠিক মতো খাবে, আইসক্রিম খাওয়া যাবে না, তাহলে বাবুর ঠান্ডা লাগবে।
তৃপ্তি পেটে হাত দিয়ে বলে ওকে আমি রাজি, চলো চলো মাকে গিয়ে বলি। সবাই যখন শুনে তখন খুব খুশি হয়, আর আয়মান নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।
প্রথমবার হাসপাতালে আসলে সবাই ওর সাথে খুব সুন্দর করে কথা বলে ,সব পরীক্ষার শেষে আয়মান ওকে কেবিনে এনে বসিয়ে খাবার আনতে যায়।ক্যান্টিন থেকে খাবার এনে তৃপ্তিকে খেতে বলে, একজন নার্সকে বসিয়ে রেখে ও রিপোর্ট আনতে যায়।
রিপোর্ট নিয়ে খুলে দেখে তৃপ্তি সত্যি সত্যি প্রেগন্যান্ট ,খুশিতে ওয়ার্ড বয়কে দিয়ে মিষ্টি এনে স্টাফদের মাঝে বিলিয়ে দেয়। তন্ময় ও মিয়ামী দৌড়ে আসে আয়মানের কেবিনে, এসে তৃপ্তিকে অভিনন্দন যানায়। আয়মানের সিনিয়র আসে খবর পেয়ে সাথে ঈশাও আসে ,আয়মান তার সিনিয়রকে দেখে সালাম দেয়।
নিকোলিন : কি খবর আয়মান শুনলাম তুমি ডেড হচ্ছো, আমাকে ওয়ার্ড বয় বললো।
আয়মান মুখভতী হাসি নিয়ে বলে জি মেম আল্লাহ রহমত করলে কয়েকমাস পরে আমি ডেড হবো।ঈশা এই কথা শুনে সেখানেই জমে যায়, কি শুনলো ও, ঐ মেয়েকে কতো করে বলে এসেছে যাতে ওর আয়মানকে ছেড়ে দেয়।
আয়মান খুশিতে আজ সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে, এটা দেখে ঈশার আরো রাগ লাগছে। ওর শরীর খারাপ লাগছে বলে তখনি সেখান থেকে চলে আসে।
বাড়িতে এসে থম ধরে বসে থাকে, কারো সাথে কথা বলে না তখনি ওর বন্ধুরা ওকে বলে। তুই কি কিছু ভাবছিস, নাকি স্যারকে ভুলে যাবি।
অপর বন্ধু :আমার মনে হয় আর সামনে এগোনো ঠিক হবে না, স্যার সংসার জীবনে অনেক এগিয়ে গেলে। কয়েকদিন পরে তাদের সন্তান আসবে তখন কি আর স্যার তার ওয়াইফকে ছাড়বে, বা স্যারের ওয়াইফ স্যারকে ছাড়বে। তোকে কতবার বলেছি তুই নিজের মনের কথা তাকে যানিয়ে দে, আমাদের কথা শুনলিনা, এতো পাহাড়া দিয়ে লাভ কি হলো সেই তো স্যারকে অন্য মেয়ে নিয়ে গেলো।
ঈশা: ঐ মেয়ে আমার মুখের খাবার কেড়ে নিয়েছে, ঐ মেয়েকে আমি ছাড়বো না। ওর কারনে আমি আমার স্বপ্নের সংসার সাজাতে পারলাম না, আমারি চোখের সামনে দিয়ে ঐ স্মৃতি শক্তি নষ্ট মেয়েটা কেমন করে আমার আয়মানকে নিয়ে গেলো। আমাকে ঐ দিন বললো, তুমি স্যারকে বিয়ে করবে সেটা বলে দিবো। এখন দেখছি সে পেটে বাচ্চা নিয়ে আমাকে দেখাচ্ছে, আয়মানকে পাওয়ার জন্য ঐ মেয়েকে আমি দুনিয়া থেকে বিদাই দিবো।
ওর হিংস্র রুপ দেখে ওর বন্ধুরা ভয় পেয়ে যায়, ওরা বুঝতে পারে এই মেয়ে সামনে বড়কোনো ঘটনা ঘটাবে ।এই পর্যন্ত কতো মেয়েদের এই মেয়ে মে*রেছে, যারা স্যারের একটু কাছাকাছি গিয়েছে তাদেরকে কোনো না কোনো ভাবে এই হাসপাতাল থেকে দুর করেছে বা মে*রে ঐ মেয়েকে শায়েস্তা করেছে। আজ সেই স্যারটা ঐ মেয়ে একেবারে নিয়ে নিয়েছে ওকে কি আর এমনি এমনি ছেড়ে দিবে।
একমাস পরেই ঈশা সেই সুযোগটা পায়, আজো আয়মান ওকে চেকাব করানোর জন্য এনেছে। কাল রাত থেকে ওর পেটে হালকা ব্যথা, পরীক্ষা শেষে আজো কেবিনে ও খাচ্ছে আর আয়মান একটা রোগীকে দেখতে গিয়েছে।
তখন ঈশা ঝড়ের বেগে এসে ওকে হাতে ধরে টেনে বাহিরে নিয়ে আসে, সিড়ির ঐখানে গিয়ে ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। নার্স চিৎকার করতে করতে পিছু পিছু আসে কিন্তু ঈশা ওকে যানে মে*রে দিবে বললে চুপ হয়ে যায়।
তৃপ্তি নিচে পড়ে চিৎকার করতে থাকে, এদিকে মাথা ও নিচের দিক থেকে রক্ত পড়তে থাকে। তৃপ্তির চিৎকার শুনে তন্ময় দৌড়ে আসে, ও তৃপ্তির জন্য টকলেট এনেছিলো দিতে। তৃপ্তিকে দেখে চিৎকার দিয়ে সামনে যায়, ততোক্ষনে তৃপ্তি জ্ঞান হারায়।
যখন আয়মান খবর পায় তখন ওর দুনিয়া উজার হয়ে যায়, দৌড়ে আসে দেখে ওর সারা শরীরে রক্ত। আয়মান তৃপ্তিকে দেখে কি করবে বুঝতে পারে না, তখন মিয়ামীও আসে। তন্ময় ও মিয়ামী ওকে নিয়ে অপারেশন থিয়েটারে যায়। আয়মান ওটির সামনে দাড়িয়ে থাকে, কি হতে কি হয়ে গেলো বুঝতে পারছে না।
বাকি পর্ব পড়ুন-





















