ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর অষ্টম পর্ব

ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর

সোনিয়া আবেদীন

ওটির দিকে তাকিয়ে আয়মান কাঁপছে, কি হচ্ছে ভিতরে, ওর স্ত্রী সন্তান কি ঠিক থাকবে নাকি মায়ের মতো হারিয়ে যাবে। আয়মান ওটির সামনে বসে পড়ে, ও যেনো কিছুই ভাবতে পারছে না।

তখনি মিতালী বেগম ,মিজান ও মিরাফ আসে।আয়মানকে এভাবে দেখে দৌড়ে যায়, আয়মান কি হয়েছে তৃপ্তির ।তুই এমন করছিস কেনোই বা , যানিনা মা আমার খুশিতে আর নজর লাগলো। বলে মিতালী বেগমকে ধরে কেঁদে দেয়, দুর থেকে সবাই আয়মানের আহাজারি দেখছে।

ছাত্র ছাত্রীরা প্রায় সবাই এসে দুর থেকে স্যারকে দেখে যাচ্ছে ,স্যার তার বৌকে কতটা ভালোবাসে দেখে সবাই অবাক হয়। এই রাগী মানুষ কাউকে মন প্রাণ উজার করে ভালোবাসতে পারে।
তখন একটা মেয়ে এগিয়ে এসে বলে আমি দেখেছি মেমকে কে এমনটা করেছে। মেয়েটর নাম রিচা, ও ঈশাকে দেখতে পারে না। ঈশা ওকে আয়মানের জন্য মে*রেছে, অথচ রিচার বয়ফ্রেন্ড আছে বললেও শুনেনি। এদেশে রিচার ও কম ক্ষমতা না,শুধু ও অশান্তি চাইনি বলে আগে বাড়ে নি।

আজ ওর কাছে মনে হলো কথাটা বলে দেই, আসলে স্যার আমি ঈশাকে আপনার কেবিনে যেতে দেখেছি। আর কিছুক্ষন পরেই দেখি মেমকে ধরে নিয়ে আসছে। আমি ভাবলাম মনে হয় পরিচিত তাই আর ভাবিনি। কিন্তু যখন শুনলাম মেম পড়ে গেছে তখন আমার মনে হচ্ছে এখানে ঈশার হাত আছে।

রিচার কথা শুনে আয়মান কেবিনে যায়, সেখানে গিয়ে দেখে তৃপ্তি খাবারটা পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি। তারপর নিজের কেবিনের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে সেখানে কিছুই পাইনি, কেউ তার ফুটেজ কাটছিট করেছে। তখন চেবিলের আরেকটা হিডেন ক্যামেরার ফুটেজ দেখে, সেখানে দেখা যাচ্ছে ঈশা রাগে তৃপ্তিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

মুহুর্তে আয়মানের রাগে চোখ লাল হয়ে যায়, বাহিরের ফুটেজ ও নেই। বুঝতে বাকি থাকেনা এই গুলো ঈশা ও ওর বন্ধুরা মিলে করেছে। আয়মান নিজের মাথা ঠান্ডা রাখে, এখন ওদের কাউকে বুঝতে দিবে না।

ওটির সামনে আবার এসে দাড়ায়, বাহিরে থাকতে না পেরে ভিতরে ডুকে কিন্তু তৃপ্তির রক্ত দেখে আবারো বেরিয়ে আসে। মিতালীকে ধরে বলে, মা আমার তৃপ্তি কি আমার কাছে আসবে নাকী মাম্মামের মতো ফাঁকি দিয়ে চলে যাবে। আমি কি এমন পাপ করেছি বলো যার জন্য আমার ভালোবাসার মানুষ গুলো আমাকে ছেড়ে চলে যায়।
মিতালী :বাবা তুই আল্লাহ ডাক দেখবি কিচ্ছু হবে না, তৃপ্তি তোর কাছে ফিরে আসবে।মনে মনে ,আল্লাহ কেনো এই দুঃখী ছেলেটাকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছো, ওর ভালোবাসার মানুষটাকে ফিরিয়ে দাও।

এক ঘন্টা পরে তন্ময় ও মিয়ামীসহ আরো তিনজন ডাক্তার বের হয়, তৃপ্তিকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। আয়মান ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বুকটা দক করে উঠল, কয়েক ঘন্টার মধ্যে ওর প্রেয়সীর মুখটা কেমন মলিন হয়ে গেছে।

তন্ময় বলতো ওর কি হয়েছে, ওর জ্ঞান কখনো আসবে?

আয়মান ভাবি মাথায় খুব আঘাত পেয়েছে, অপারেশন সাকসেসফুল ,কিন্তু জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত আমরা বলতে পারছি না।

আমাদের ফুলটা চলে গেছে তাই না।

মিয়ামী ভাইয়ের প্রশ্নে কেঁদে দেয়, হ্যাঁ ভাইয়া ভাবি তার পুতুল বাবুকে হারিয়ে ফেলেছে। ওকে এই দুনিয়ার আলো দেখাতে পারলো না, ও তোমার ভালোবাসা পেলো না।

ওকে কি করেছিস, ফেলে দিয়েছিস।

না ভাইয়া, ওকে ভিতরে রেখে এসেছি, তুমি দেখো না সহ্য করতে পারবে না।

আয়মান ধীরে ধীরে ওটিতে যায়, সেখানে ওর বাচ্চাটার অস্থিত্ব রয়েছে। একটা বক্স ভরে নিয়ে আসে, তারপর কোথায় যানি নিয়ে যায়।

ঈশা ওর কাজে সফল হয়েছে, সেই নার্সকে ভয় দেখিয়ে হাসপাতাল ছাড়া করিয়েছে।এমনকি সেই নার্স যাতে এই শহরে পা দিতে না পারে সেই ব্যাবস্থা করে এসেছে।রাতে বন্ধুদের নিয়ে ক্লাবে যায়, মনের সুখে নাচে ,ড্রিঙ্ক করে মাতাল হয়ে সবাই বের হয়। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সবার সাথে অনেক মজা করতে থাকে। গাড়ির কাছাকাছি আসলে দেখে ওদের গাড়ির চাকার হাওয়া চলে গেছে, বিরবির করে কাউক কল করবে তখনি একটা ছেলে বলে।

এক্সকিউজ মি মিস আমি তোমার গন্তব্যে পৌঁছে দেই, ওরা ছেলেটার দিকে তাকায়  দেখে একটা সুদর্শন ছেলে ওদের লিফ দিতে চাইছে। তিন বান্ধবী ও দুই বন্ধু একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে কেনো নয়।গাড়িতে উঠে বসতেই ওদেরকে পানি খেতে দেয়, ওরা জীপে উঠে হেসে ছেলেটার সাথে ভাব জমায়।

একটু পরেই সবাই জ্ঞান হারিয়ে একে অপরের শরীরে পড়ে যায়, তখন ছেলেটা হেসে বলে ,হাসিতে ফাঁসি। বস ওরা জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে, কোথায় রাখবো। ঐপাশ থেকে কেউ একজন ওকে কিছু বললো ছেলেটা হেসে গাড়িতে করে ওদের নিয়ে গেলো।

আয়মান আইসিইউ সামনে বসে আছে, ওকে বলেও বাসায় পাঠাতে পারেনি। এই দুদিনে তৃপ্তির অবস্থার কোনো উন্নত হয়নি, আজ ধৈর্য্যর বাধ ভেঙ্গে আয়মান ভিতরে যায়, তৃপ্তির হাত ধরে বলে।

তুমি শুনতে পাচ্ছো তো…?
এই নিঃশব্দ আইসিইউর ভেতরেও আমি তোমার নাম ধরে ডাকছি। জান এই জানপাখি, যন্ত্রের শব্দগুলো বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে তুমি লড়াই করছো,আর আমি এখানে বসে শুধু তোমার ফেরার অপেক্ষা করছি।

যেদিন থেকে তুমি আমার হয়েছো,সেদিন থেকে
তোমাকে ছাড়া আমি কখনো একটা দিনও কল্পনা করিনি।তোমার হাসিটা ছিল আমার প্রতিদিনের সূর্যোদয়,তোমার কণ্ঠ ছিল আমার সব ক্লান্তির শান্তি।আজ সেই হাসি, সেই কণ্ঠ সব যেন থেমে আছে এই ঘরের ভেতর।শোনো  তুমি তো আমাকে কথা দিয়েছিলে,আমার হাত ধরে সারাটা জীবন পথ চলবে।আজ আমি সেই হাতটাই শক্ত করে ধরে আছি,তুমি শুধু একটু চাপ দিয়ে বলো,এই মান আমি এখনও তোমার সাথেই আছি।তুমি ভয় পেও না, মাম্মামের মতো আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না।

দেখো, তোমার জন্য কত স্বপ্ন জমিয়ে রেখেছি আমি,অপূর্ণ গল্পগুলো এখনও শেষ হয়নি।আমাদের না বলা হাজারো কথা এখনও বাকি।তুমি ফিরে এসো জান , আমরা আবার নতুন করে সব শুরু করবো।আমাকে একা করে যেওনা। তুমি কি মনে করতে পারো,আমরা বলেছিলাম ,যতোই ঝড়ই আসুক না কেনো ,একজন আরেকজনের হাত ছাড়বো না।

আজ সেই ঝড়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছি আমি একা ,তোমার ফেরার আশাতেই বুক বাঁধা।এই যন্ত্রের আলো, এই হাসপাতালের গন্ধ সবকিছু আমার কাছে অসহ্য লাগছে,কারণ এখানে তুমি নীরব হয়ে শুয়ে আছো।তুমি চোখ খুলে একবার তাকাও,আমি আবার পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ হয়ে যাবো।

আমি জানি তুমি খুব শক্ত মনের মানুষ,তুমি কখনো হার মানতে জানো না।এই লড়াইটাও জিতে ফিরে এসো জান, আমি এখানেই আছি, প্রতিটা মুহূর্তে তোমার অপেক্ষায়।তুমি শুধু ফিরে এসো,আমি তোমার সব কষ্ট নিজের মধ্যে নিয়ে নেবো।শুধু আর একবার বলো ,”আমি আছি… আমি ফিরে এসেছি।”

তোমাকে না নিয়ে আমি কেমন করে নিশ্বাস নিচ্ছি তা কেবল আমি যানি।যদি আমাকে ছেড়ে চলেই যাবে তাহলে কেনো ভালোবাসতে শিখালে, কেনো তোমার মায়াতে জড়ালে।আমি ও ভালোই ছিলাম আমার আগের জীবন নিয়ে, কেনো সেখানে ভালোবাসার রংধনু ছড়ালে। ফিরে এসো জান, আমি কখনো এতো বছরে এতোটা অসহায় ভাবিনি নিজেকে, আজ তোমার ভালোবাসায় আমি পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় ব্যাক্তি হয়ে গেছি।আমার ভালোবাসার দোহাই লাগে ফিরে এসো, আমাকে অনেক অনেক ভালোবাসো। আমি ভালোবাসার কাঙ্গাল, তোমার আঁচলে আমাকে বেঁধে রাখো।

কাঁদতে কাঁদতে আয়মান উপুর হয়ে যায়, তখনি তৃপ্তির খিচুনি উঠে। ও দিলেহারা হয়ে যায় কি করবে ভেবে, তখনি দরজা খুলে চিৎকার করে বলে।তন্ময় আমার তৃপ্তিকে বাঁচা, আয়মানের ডাকে সারা হাসপাতাল কেঁপে উঠে।

একটু পরেই তন্ময়, মায়ামী দৌড়ে আসে, তন্ময়কে দেখে আয়মান ছুটে আসে। দোস্ত দেখ না  ও কেমন করছে আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। ওকে বাঁচা, আমার ওকে খুব করে লাগবে।

তন্ময় ভিতরে ডুকে দেখে তৃপ্তি তখনো খিচছে, মিয়ামীকে ইশারা করলে ও আয়মানকে বাহিরে ঠেলে দেয়। বাহিরে এসে আয়মান বসে পড়ে আর বলতে থাকে ,তুমি আমাকে ছেড়ে যেওনা জান, আমি তোমার সাথে বাঁচতে চাই।

আরো কয়েকটা খিঁচুনি দিয়ে তৃপ্তি নিরব হয়ে যায়, মিয়ামী এইটা দেখে দুই কদম পিছিয়ে যায়। এখন ভাইকে কি বলবো তন্ময় তার স্ত্রীকে আমরা বাঁচাতে পারলাম না। হু হু হু তন্ময় আমার ভাইটা নিঃস্ব হয়ে যাবে, ওকে উঠতে বলো।

তন্ময় : মিয়ামী তুমি ভেঙ্গে পড়ো না, যাও এখনি ভাবিকে বুকে সিপিআর দাও সেটায় কাজ না হলে
ডিফিব্রিলেটর দিতে হবে। তাড়াতাড়ি করো সময় নষ্ট করো না। প্রথমে বুকে চাপ দিয়ে করে হয় না, তারপর মেশিন আনায়,সেইটা দিয়ে চেষ্টা করতে থাকে।

আয়মান যখন দেখে তৃপ্তিকে ওরা ডিফিব্রিলেটর দিয়ে চেষ্টা করছে তখনি ও জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়। এদিকে তন্ময় তিনবার দিতেই তৃপ্তির দম আসে, ও তাকিয়ে চিৎকার করে উঠে।

তৃপ্তিকে উঠতে দেখে মিয়ামী খুশিতে কেঁদে দেয়, তন্ময় সাথে সাথে নিচে বসে পড়ে। তৃপ্তিকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পারিয়ে ওরা বেরিয়ে আসে, তৃপ্তি এখন বিপদ মুক্ত তাই ওরা এইটা আয়মানকে বলতে এসে শুনে আয়মান জ্ঞান হারিয়ে পরে আছে ।

যখন আয়মানের জ্ঞান আসে তখন ছুটে যায় তৃপ্তির কেবিনে, ওকে শ্বাস নিতে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। তখনি তন্ময় সামনে আসে, দোস্ত চিন্তা করিস না তোর প্রান ভ্রমরা ঠিক আছে ।

মিতালি বেগম আসে তখন আয়মান তৃপ্তির কেবিনেই ছিলো, মিতালি বেগম এসে যখন কেবিনে ডুকে তখন তৃপ্তি জেগে উঠে।তৃপ্তিকে চোখ মেলতে দেখে আয়মান হেসে উঠে, চোখে পানি মুখে হাসি নিয়ে বলে, কেমন লাগছে জান, কোথাও কি ব্যাথা করছে।

তৃপ্তি আয়মানের মুখের দিছে তাকিয়ে, চারপাশে তাকায়,বুঝতে পারে ও হাসপাতালে আছে। ডক্টর আমার কি হয়েছে, আমাকে এখানে এনেছে কে।

তৃপ্তির কথা শুনে আয়মান ভ্রু কুঁচকে বলে ,আমাকে তুমি চিনতে পারছো না।

তৃপ্তি: কে আপনি, আমি তো আপনাকে আগে কখনো দেখিনি। আচ্ছা আমি এখানে কতোদিন ধরে আছি, আমার খোঁজে কেউ এসেছিলো।

মিতালি: তৃপ্তি তুমি কি আসলেই আমাদের চিনতে পারছোনা ?

তৃপ্তি তাকিয়ে দেখে মধ্য বয়স্ক মহিলা ওর দিকে তাকিয়ে এই কথা বলছে। জি না  আন্টি আমি আপনাকে চিনতে পারছি না। আমাদের তো আগে কখনো দেখা হয়নি, আপনি আমাকে চিনলেন কেমন করে ,আমার নাম যানলেন কেমন করে।

আয়মান বুঝে যায় তৃপ্তি ওর স্মৃতি ফিরে পেয়েছে, তাই তাড়াতাড়ি করে বলে ।আসলে আমরা তোমার মায়ের পরিচিত আর তোমার মা আমাদের কাছে তোমাকে পাঠাচ্ছিলো। রাস্তায় তুমি এক্সিডেন্ট করলে হাসপাতালে আসো ,তোমার মা তোমার ছবি দিয়েছিলো বলে আমরা তোমাকে চিনতে পেরেছি । কিন্তু তোমার মা হয়তো আমাদের ছবি তোমাকে দেখাতে ভুলে গেছে।এখন তোমার কেমন লাগছে বলো তো, মাথা বা পেটে ব্যথা আছে।

হে ডাক্তার আমার মাথা ও পেটে ব্যাথা আছে, আয়মান ওকে দূটো ইনজেকশন দিয়ে সেলাইনের পাওয়ার ঠিক করে দেয়। তৃপ্তি একটু পরেই ঘুমিয়ে পড়ে, তখন মিতালি বেগম আয়মানকে কিছু বলবে আয়মান তাকে নিয়ে কেবিনের বাহিরে চলে যায়।

মিতালি:আয়মান তুই ঐ কথা বললি কেনো, কেনো বললি না তুই ওর স্বামী। আয়মান বাহিরের চেয়ারে বসে মুখটা হাত দিয়ে ডলে বলে, মা এখন ওর কন্ডিশন ভালো না। উত্তেজিত হলে সমস্যা হবে, এমনকি ওকে হারিয়ে ফেলবো, তৃপ্তি ওর স্মৃতি ফিরে পেয়েছে তাই ওকে পড়েও আমার কথা বলা যাবে। আগে ওকে সুস্থ হতে দাও, ওর কিছু হলে আমি একেবারে শূন্য হয়ে যাবো।

মিতালি আয়মানের দিকে তাকিয়ে কেঁদে দেয়, আয়মান মার মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেয়।তন্ময় ও মিয়ামী আসে তখন আয়মান ওদের সব বলে ,মিয়ামী ও তন্ময় আয়মানকে জড়িয়ে ধরে ভরসা রাখতে বলে চলে যায়।

রাতে তৃপ্তি ঘুমিয়ে থাকলে আয়মান ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবে, নিশব্দ রাতটা যেন আজ আরও শান্ত হয়ে আছে। তার নিঃশ্বাসের মৃদু ওঠানামা দেখলেই মনে হচ্ছে, পৃথিবীর সব ক্লান্তি যেন এই ছোট্ট বুকে এসে আশ্রয় নিয়েছে।প্রেমিক পুরুষটির বড় ইচ্ছে হয় কপালে একটা চুমু খাওয়ার, কিন্তু ঘুম ভেঙে যাবে ভেবে শুধু তাকিয়েই থাকে।

মনে মনে সে ভাবে, এই মেয়েটাই তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আশ্রয়। কত ঝড়, কত অনিশ্চয়তার মাঝেও এই মুখটা দেখলেই বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শান্তি নেমে আসে। মনে হয়, পৃথিবীর সব যুদ্ধ জিতে ফেলার মতো শক্তি লুকিয়ে আছে এই নিষ্পাপ ঘুমের ভেতরে।

সে ভাবতে থাকে, মেয়েটা জানেও না তার এই নিশ্চিন্ত ঘুমের জন্য কত প্রার্থনা লুকিয়ে থাকে তার ভালোবাসার মানুষের মনে। সে চায়, এই হাসিমাখা মুখে যেন কোনোদিন দুঃখের ছায়া না পড়ে। সময় যদি কখনো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, সে নিজেকে ঢাল বানিয়ে রাখবে, শুধু যেন এই মানুষটা এমন শান্ত ঘুমে ডুবে থাকতে পারে।

প্রেমিক পুরুষটির মনে হঠাৎ এক অদ্ভুত কৃতজ্ঞতা জন্ম নেয়। সে ভাবে, এত মানুষের ভিড়ে এই মানুষটাই কেন তার জীবনে এলো? হয়তো ভাগ্য তাকে সবচেয়ে মূল্যবান উপহারটাই দিয়েছে। তার ইচ্ছে হয় সময়টাকে থামিয়ে দিতে ,যেন এই মুহূর্ত, এই ঘুমন্ত মুখ আর এই নিঃশব্দ ভালোবাসা চিরকাল এমনই থেকে যায়।
সে আলতো করে হাত বাড়িয়ে প্রেয়সীর হাতটা ছুঁয়ে রাখে। মনে মনে বলে ,
তুমি জানো না, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ স্বপ্ন আর আমি সারাজীবন তোমার এই স্বপ্নকে পাহারা দিতে চাই।

সকালে তৃপ্তির ঘুম ভাঙ্গলে দেখে আয়মান ওর মাথার কাছে ঘুমিয়ে আছে, ও ভাবে ডাক্তার কেনো আমার এখানে ঘুমিয়ে আছে।

বাকি পর্ব পড়ুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *