দ্বাদশ পর্ব ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর

ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর

সোনিয়া আবেদীন

এবার তৃপ্তি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়, আয়মান বাচ্চা কোলে নিয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে।ওর কাছে মনে হচ্ছে মেয়েটা ওর মায়ের মতো হয়েছে, তখন মিতালী বেগম বলে আয়মান ওকে ভাবীর মতো লাগে না। আয়মান মাথা নাড়ায়, কেবিনে ডুকে তৃপ্তিকে দেখে বলে, জান মেয়েটা মনে হয় আমার মাম্মামের মতো হবে ,মা ও তাই বলছে।

তৃপ্তি: আলহামদুলিল্লাহ মান, আমি নামাজ পড়ে বলেছিলাম যেনো এবারের সন্তানটা মেয়ে হয় আর দেখতে যেনো মাম্মামের মতো হয়। আমি ওর নাম তাবিন্দা রাখতে চাই, ছেলেদের নাম তুমি রেখেছে এবার মেয়ের নাম আমি রাখবো।

আয়মান মুচকি হেসে তৃপ্তির কপারে চুমু খায়, তৃপ্তির কথা মতো আকিকা দিয়ে মেয়ের নাম তাবিন্দা রাখে। আয়মান ওর ফ্ল্যাটে আরো দুজন লোক রেখেছে, বাচ্চাদের দেখা শুনা ও রান্নার জন্য। তৃপ্তি সব কিছুর মাঝে নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যায়। আয়মান আপাততো নিজের পরিবারের দিকে ধেয়ান দেয়, যদি ওদের পরিনতি লেখা থাকে তাহলে কয়েটা বছর পরেই করুক।

বর্তমানে

আয়মান রুমে এসে দেখে আর প্রেয়সী ঘুমিয়ে গেছে ,চোখের পাশ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। সরি জান আজ আমার কারনে তোমার পুরনো ক্ষত তাজা হয়েছে, একটু চালাকি করে তোমাকে দেশে যেতে রাজি করিয়েছি।
ওরা মুক্ত আকাশে অনেক নিঃশ্বাস নিয়েছে আর না,এবার ওদের নিঃশ্বাস বন্ধ করার সময় হয়েছে । ওদের পাপের ঘাড়া পূর্ণ হয়েছে এখন শুধূ শাস্তি দেবার পাল্লা, বলে তৃপ্তিকে উঠিয়ে খাটে নিয়ে যায়। বুকের মাঝে শুয়ে কপালে চুমু খায়, তৃপ্তি আয়মানের ঘ্রাণ পেয়ে ঘুম ঘুম চোখে বলে।

লাভ ইউ মান ,
লাভ ইউ টু জান

অনলাইনে ডুকে চার বান্ধবীর চোখ ছানা বড়া, ওদের ডঙ্গী খালা ম্যাসেজ পাঠিয়েছে। এতো বছর পরে, সবাই খুশিতে কেঁদে দেয়।

চারজনে এক সাথে কলে, দেখেছিস ও আমাদের সাথে কথা বলার জন্য ম্যাসেজ করেছে ।আজ পাঁচটায় কথা বলবে,সত্যিই ও বেঁচে ছিলো। আমরা ভেবেছি হয়তো ও ম*রে গেছে, কি যে খুশি লাগছে।

সকাল বেলা তৃপ্তি বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে ,হাসপাতালে যায়। আজ দুটো সার্জারি আছে, তাছাড়া বিকালে বান্ধীদের সাথে কথা বলবে তাই তাড়াতাড়ি আসতে হবে।

সার্জারি শেষে বাড়িতে আসে ততোক্ষনে বাচ্চারা এসে খেয়ে নিয়েছে। তৃপ্তি আসলে মান বের হয়ে যায়, খেয়ে রেস্ট নেয়। এককাপ কফি দিয়ে ল্যাপটপ খুলে বসে, ঠিক পাঁচটায় কল করে, একে একে স্কিনে ভেসে উঠে চার বান্ধবীর মুখ।

রাইসা : ডঙ্গিখালা তুই এতোদিন কোথায় ছিলি, আমরা তোকে কতো খুঁজেছি।

নাফিসা:  ঐ দিন তুই কোথায় হারিয়ে গেলি, তোর সাথে সাথে আন্টিরাও হারিয়ে গেলো।

তৃপ্তি:আন্টি হারিয়ে গেল মানে, মা তো বাড়িতেই থাকবে তাই না।

রাফা: আসলে তৃপ্তি তুই যেদিন যাস সেইদিন আন্টিও বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

তৃপ্তি: সত্যি করে বল ঐ বাড়িতে কি হয়েছিল।

অহি: তৃপ্তি বলবো আগে বল তুই এতোদিন পরে কোথা থেকে এলি, এখন কোথায় আছিস।

তৃপ্তি : বলছি, বলার জন্যই আজ তোদের সামনে এসেছি। আমি বর্তমানে কানাডায় আছি, আর এইখানকার একটা হাসপাতালে চাকরি করি, পাশাপাশি নিজের একটা ক্লিনিক আছে সেখানে বসি।

নাফিসা: তুই ডাক্তার হয়েছিস, যাক তাহলে তুই তোর জীবন গুছাতে পেরেছিস। বিয়ে সাদী করেছিস কি ?

তৃপ্তি :  মুচকি হেসে হ্যাঁ রে সেটা এইখানে আসার আগেই করেছিলাম, আর আমার তিনটে বেবি আছে, দুটো ছেলে জমজ, একটি মেয়ে।

রাইসা: কি বলিস ডঙ্গী আমাদের মিথ্যা বলছিস তাই না।

তৃপ্তি: না রে শাঁকচুন্নী, তাহলে শোন কিভাবে কি হলো। একে একে ওদের সবাইকে খুলে বললাম আমার জীবনের কিছু সুন্দর মুহূর্ত।

রাফা: ভাইয়াটা ভালো দেখে বেঁচে গেছিস তানা হলে তোর জীবন নষ্ট হতো, সুখে আছিস তাই না।

তৃপ্তি:হ্যাঁ রে আল্লাহ আমার ঝুড়িতে অনেক সুখ দিয়েছে, আমরা পনেরো দিন পরে দেশে আসছি এইবার হলিডেতে। মানের গুলশানের বাড়িতে উঠবো, তারপর আমাদের বাড়ির বরাবর রমিজ চাচার বাড়িটা মান কিনে সেখানে না কি বাড়ি করেছে। সেখানে এক সপ্তাহ পরে উঠবো।

অহি: তাই নাকি রে ঐ প্রাসাদের মতো বাড়িটা তাহলে তোর বর বানিয়েছে, ইস বাড়িটার ভিতরে যাওয়ার খুব ইচ্ছা। যাক তুই আসলে যেতে পারবো, তোর বরের তাহলে অনেক টাকা তাই না।

তৃপ্তি: যানিনা আমি কখনো ওর টাকা পয়সার হিসাব নেই না, এইযে এইখানে এখন যেই বাড়িটায় থাকি এইটা মেয়ে হ‌ওয়াতে আমাকে উপহার দিয়েছে। তার মায়ের নামে মেয়ের নাম রেখেছি তাবিন্দা চৌধুরী, যানিস তোর ভাই কার ছেলে।

রাইসা: কার তা তো যানি না, তবে তোর বরের এইখানে অনেক নাম, তুই হয়তো যানিস না। তাদের একটা সংস্থা আছে,” সবার আলো”
“আলো ছড়াবে সবার জীবনে”
“মানবতার আলো ঘরে ঘরে”
এইটা এইখানে অনেক নাম করেছে, এইখানে সমাজে কেউ অন্যায় করলে তাদের বিরুদ্ধে একশন নেয়, গরীবদের জন্য সব রকম সু ব্যাবস্থা আছে। তোকে বলে বোঝাতে পারবো না, তুই দেশে আসলে বুঝতে পারবি।

তৃপ্তি: আয়মান নিখিলের সৎ ভাই, যাদের মে*রে ওর বাবা এই সম্পদের মালিক হয়েছে সেই ভাই।

নাফিসা: কি বলিস, তাহলে তো এবার দেশে আসলে ওদের পরিনতি খারাপ হবে।তোকে আরেকটা কথা বলতে চাই, আসলে কি ভাবে বলি।

তৃপ্তি: বলে ফেল আমার পরিবারের সবাই ঠিক আছে তো।

অহি: তৃপ্তি দোস্ত তোকে আন্টি হাসপাতাল থেকে পাঠিয়ে বাড়িতে আসলে আঙ্কেলের সাথে অনেক বড় ঝগড়া হয়। তখন আঙ্কেল রাগে আন্টিকে মুখে তালাক দিয়ে তোর ভাইবোনকে সহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারপর তোর খোঁজে গেলে যানতে পারে তুই নাকি মা*রা গেছিস আর আন্টি লোক দিয়ে তোকে মাটি দিয়ে এসেছে।

তৃপ্তি : কি বলিস এই সব, আল্লাহ আমি কেনো আরো আগে তোদের সাথে যোগাযোগ করলাম না।

রাইসা:আঙ্কেল এসেছিল আন্টির খোঁজ নিতে, বাবা তার সাধ্যমত চেষ্টা করেছে পায়নি। তাছাড়া তোর কথা শুনে বাবা ওদের বিরুদ্ধে গিয়েছিল তখন নিখিলের বাবা তার ক্ষমতার জোড়ে বাবাকে বান্দরবন পাঠায় আমাদেরকেও অনেক সমস্যা মুখে পড়তে হয়।

নাফিসা: নিখিলের বাবার টাকার কাছে সবাই মাথা নত করে তাইতো আমরা চাইলেও কিছুই করতে পারিনি। যদি ওরা বুঝতে পারত তুই পালিয়ে গিয়েছিস তাহলে হয়তো যে ভাবেই হোক তোর খোঁজ বের করত। যখন শুনেছে তুই মা*রা গেছিস আর আন্টি লোক দিয়ে তোকে মাটি দিয়েছে সেই জন্যই তারা থেমে গেছে ।

তুই না আসলেই ভালো ,যদি তোকে দেখে আবার পেতে চায়। তখন ভাইয়ার ক্ষতি করে।

তৃপ্তি : কেনো যানি মনে হচ্ছে পারবেনা, যেহেতু সেখানে তার ক্ষমতা ভালো। তাছাড়া সেখানে গিয়েই আগে নিখিলের বাবার বিরুদ্ধে কেইস করবে তাতে সমস্ত সম্পদ নিতে পারে। মানের কাছে সম্পদের দলিল তাই মনে হয় আমজাদ আঙ্কেল কিছু করতে পারবে।

কান্তা: নাজিম তুমি দুদিন কোথায় ছিলে, এসে ও একবারো বললে না আমি এই দুদিন কেমন ছিলাম।

নাজিম: কেমন আর থাকবে, ভালোই ছিলে টাকা দিয়ে গিয়েছি নিশ্চয়ই তোমার মাকে নয়তো বান্ধবীকে নিয়ে শপিং করতে গেছো। আমি কেমন আছি বা কি করছি সেটা তোমার না যানলেও চলবে।

কান্তা: এভাবে কথা বলছো কেনো,বাড়িতে তোমার মায়ের জ্বালায় শান্তিতে থাকতে পারছিনা। সারাদিন বাচ্চা বাচ্চা করে মাথা খায়, এখন আল্লাহ দেয়না তাতে আমি কি করবো।

নাজিম: উফফফ কান্তা আমি বসে থেকে আসিনি ,এই যে লক্ষ লক্ষ টাকা শপিং করে উঠিয়ে আসো সেগুলো কামাই করতে কষ্ট হয়।আর বাচ্চার কথা বলো যেটার জন্য কিছু বলতে চাই না, তখন তোমার শুনতে খারাপ লাগবে।

কান্তা: না বলো শুনি তুমি কি বলবে, শুনি একটু তোমার মনের কথা।

নাজিমের রাগ হয় তখনি বলে, শুনতে চাস তাহলে শুন তোকে বিয়ে করা আমার জীবনের বড় ভুল ছিল।পাপ করছি সেই পাপের শাস্তি হিসাবে তুই আমার জীবনে আছিস। এখন তুই আমার গলার কাটা হয়ে আছিস, শুধু বাবার কারনে তোকে ফেলতে পারি না তানা হলে কবেই তোকে ফেলে দিতাম ।কে বলেছিল বাচ্চাটা নষ্ট করতে, আমাকে জিঘাংসা করে নষ্ট করেছিস। বিয়ে করেছিস বরের সাথে শুতে পারিস আর বাচ্চা নেওয়ার বেলা ছোটো হয়ে গেছিস। মা যা বলে মুখ বন্ধ করে শুনবি একদম গলা করবিনা।

কান্তা: নাজিম তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারো না, আমি মামাকে বলবো।

যা ইচ্ছা তাই কর যা, বেশী রাগাস না তাহলে এখনি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো। বাবাকে বলে কি করবি তোর কথা শুনে যদি আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। আমি তোর মতো মেয়ের থেকে মুক্তি পাবো বলে নাজিম বেরিয়ে যায়। কান্তা নেকামি করে আজিজ সাহেবের কাছে যায়, আজিজ সাহেবকে কিছু বলবে তার আগেই আজিজ বলে।

আজিজ: যদি নাজিমের ব্যাপারে কিছু বলতে আসিস তাহলে চলে যা, আমি আজ খুব ক্লান্ত তোদের রোজ রোজের অশান্তির কারনে।

কান্তা মায়ের কাছে ছুটে, একমাত্র মাই পারবে সব ঠিক করতে।আজিজ ভাগনির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, আর মনে মনে বলে। তোদের পাপের কারনে আমি আমার ভাইয়ের সাথে অন্যায় করেছি তাইতো নিজের চোখের সামনে ভাইয়ের পরিবার ধবংস হতে দেখেও চুপ ছিলাম। আজ ভাইটাকে এভাবে দেখতে কষ্ট হয়, স্ত্রী সন্তানদের হারিয়ে জীবন্ত লাশে পরিণত হয়েছে।

হে আল্লাহ মরার আগে ওদের যেনো ফিরে পাই, তাহলে হয়তো পাপের বোঝাটা একটু হালকা হবে।

ফাতেমা: তাহেরা আজ পড়াতে যাওয়া লাগবে না, বাসায় থাক। নিজের জীবন মে*রে আমার টাকা লাগবে না, তোদের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে আছি এখন তোদের কিছু হলে আমি বাঁচবো কেমন করে। ওকে বাঁচাতে চেয়েও পারলাম না, আমার তৃপ্তি, আমার মা আমাকে ছেড়ে এভাবে চলি গেলি।

তাহেরা: মা তুমি চুপ করো আর আপুর জন্য দোয়া করো, আল্লাহ যেনো তাকে জান্নাতবাসী করে। আমি যাচ্ছি না, ফারিস কোথায় ওকে দেখছি না যে।

ফাতেমা: কোথায় আবার নিশ্চয়ই পড়াতে গেছে, তোরা ভাই বোন আছিস বলেই হয়তো এই সংসারটা এখনো টিকে আছে।

তাহেরা: মা চিন্তা করো না, আমরা সব সামলে নিবো। তুমি নিজের দিকে খেয়াল রাখো, তুমি আছো বলেই তো আমরা বেঁচে আছি ।ঐদিন বাবা আমাদের তারিয়ে দিয়ে একবারো খোঁজ করেনি, তুমি আমাদের চাইলেই পারতে রেখে নিজের জীবন গোছাতে। তানা করে আমাদেরকে বুকে নিয়ে আছো, আমাদের জন্য কতোটা কষ্ট করেছো।

ফাতেমা:এভাবে বলে না মা, কোনো মাই পারে না তার নারী ছেড়া ধনকে ফেলে যেতে। যারা যায় তারা মা নামের কলংক, তোর বাবা ভাইয়ের ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে আমাদের সাথে অন্যায় করেছে। দেখিস জীবনে সে আমাদের অভাব অনুভব করবেই, ভালোবাসা না থাকুক মায়া বলেও একটা কথা আছে।

সেদিন রাহেলার এইখানে না আসলে যানতেই পারতাম না তৃপ্তি এখানে আসেনি। যখন খবর নিলাম তখন নাকি আমার মেয়েটা এই দুনিয়া থেকে চলে গেছে।নিজের মাতৃত্বের প্রথম অনুভুতিকে হারিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে গেলাম, তখনি তোর ফুপু আমাকে কল দিয়ে বলে।

তুমি যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাও, ভুলেও যেনো তোদের নিয়ে না ফিরি। তাদের ভাইয়ের সামর্থ আছে বিয়ে করে সন্তান পয়দা করার, এমন সন্তানদের নাকি তার ভাই পরিচয় দিবে না। সেই রাগে দুঃখে মোবাইল থেকে ওদের নাম ও নিশানা মুছে দিলাম, তার সাথে নাম্বার ও পাল্টে ফেললাম যদি কল করে বলে। আমার ভাইকে বিয়ে করিয়েছি, আমার ভাই সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম।

বিশ্বাস কর মা আমি ভেবেছিলাম আমাকে ছেড়ে ছিল তো কি হয়েছে, বাবা হিসাবে তোদেরকে কাছে চাইলে পাবে। কিন্তু ওরা সবাই মিলে আমার সংসারটা ধবংস করে দিল, দেখিস আল্লাহ ওদের হাল কি করে।

তাহেরা: থাক মা, তুমি এক কথা বার বার বলো না, আমরা তো যানি। তুমি আজকে ঔষধ খাওনি, তাই আজ এতো কথা বলছো। বলে ফাতেমাকে ঔষধ দেয় খেতে, এক বছর ধরে ফাতেমার মানষিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। শেষ বয়সে স্বামীর নিষ্ঠুরতা, সন্তানের শোক, সংসারের অভাব সব কিছু মিলিয়ে সে এখন মানষিক রোগী। ফাতেমা ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে যায়, তাহেরা রুম গুছিয়ে খেয়ে ঔষধ খায় যাতে জ্বর না বাড়ে।

রুপা নাজিমকে দেখে অবাক, লোকটা তো আজি গেলো তাহলে আসল কেনো।উচু পেট নিয়ে কাছে আসে, কাধে হাত রাখে। কি হয়েছে জিম তুমি আজ আসলে যে, বাড়িতে আবারো ঝগরা হয়েছে কান্তার সাথে তাই না।

নাজিম: হ্যাঁ রুপা, আমি আর পারছিনা। ওকে দেখলেই আমার ওর ধোঁকার কথা মনে পড়ে যায়। ও নিখিলের সাথে পরকীয়া করে আমার সন্তানকে দুনিয়ার মুখ দেখতে দিল না, এখন নেকামি করে। ডাক্তার বলেছে ওর মা হ‌ওয়ার ক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে ,কিন্তু আমার বাবা তৃপ্তির সাথে হ‌ওয়া অন্যায়ের জন্য আমাকে আজো ক্ষমা করেনি।

বিশ্বাস করো রুপা আমি যা করেছি শুধু কান্তা আর নিখিলের কথা মতো করেছি। তাছাড়া আমি ওকে ভালোবাসতাম কিন্তু বিদেশে যাওয়ার আগে ওর সাথে আমার মিসটেক হয়ে যায়। তাও নেশার কারনে, তখন ফুপুর কথায় ওকে বিয়ে করি গোপনে, কিন্তু  তারপরেও আমি তৃপ্তির সাথে সম্পর্ক চালিয়ে গেছি।

আমি তখন মানুষ থেকে অমানুষে পরিনত হয়েছিলাম তাইতো, তৃপ্তির সাথে এমনটা করতে আমার একটুও বুক কাঁপে নি। আজ অনুশোচনা কাঁপে, কেনো আমি এতো খারাপ কাজ করলাম। আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না, আমি তোমার কাছে আসলে শান্তি পাই। তাইতো তোমাকে নিয়ে গোপনে সংসার বেঁধেছি, এখন এই ছোটো জানটাকে আসার অপেক্ষায় আছি, ও আসলে ওকে নিয়ে বাড়িতে উঠব। যাতে ওকে দেখে বাবা কিছু করতে না পারে।


বাকি পর্ব পড়ুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *