ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর
সোনিয়া আবেদীন
পরের দিন থানায় গিয়ে বললে ওসি তাকে বলে। দেখো ডাক্তার মেয়েটার ব্যাপারে আমরা দেখে নিবো , আমি কয়েকদিন পরেই ওকে আনতে যাবো । কমিশনারের সাথে কথা হয়েছে সে মেয়েটার ব্যাপারটা দেখে নিবে।
আয়মান কিছু বলে না , তখন চলে আসে। বাহিরে এসে গাড়িতে উঠার আগে একটা কথা বলার জন্য আবারো ভিতরে যায় , তখন ওসি ও কনস্টেবলের কথা শুনে।
স্যার আপনি আমার কথা শুনে ভালো করছেন , তাছাড়া মেয়েটা সুন্দর । যখন ঘরের বৌদের কারনে মুড খারাপ থাকবে তখন মেয়েটাকে নিয়ে রিফ্রেশ হওয়া যাবে। আমার প্রতিবন্ধী ভাতিজা নামের স্বামী হবে , কাজের স্বামী হবো আমরা। এমনিতেই মেয়েটার খোঁজ কেউ নিতে আসবে না , তাই সব কাজ সুবিধা মতো হবে।
ওসি: তুমি এতো কমিনা আগে যানতাম না , আমি কাল পর্যন্ত চাইতাম মেয়েটার ভালো করতে। কিন্তু তোমার কথা শুনে আমারো নিয়ত খারাপ হয়েছে , যাই হোক মেয়েটাকে চারদিন পরে ঐ বাসাতে উঠাতে পারবো।
আয়মান ওসি ও কনস্টেবলের কথা শুনে রাগে চলে আসে , তারপর একজনকে কল করে।
শুনছিস এখন আমি এই মেয়েকে কিভাবে বাঁচাবো , এই মেয়েটাও আমার মতো পরিবারের লোকের কাছে প্রতারিত হয়েছে ।এখন ওসি আর তার সাথের লোকেরা মেয়েটাকে নিয়ে খেলতে চায় , তুই বল আমি এখন কি করবো। মেয়েটাকে কিভাবে বাঁচাবো , মেয়েটার মুখের দিকে তাকালে আমার খুব কষ্ট লাগে। যদি আমি যেনে শুনে ওদের হাতে দিয়ে দেই তাহলে আয়নাতে তাকিয়ে নিজেকে দেখতে পারবো না। তুই আমাকে বল আমি তৃপ্তিকে নিজের কাছে রাখবো কেমন করে।
অজানা: তুই একটা যুবতী মেয়েকে তোর কাছে রাখতে পারবি না , যেখানেই থাকিস না কেনো লোকে তোকে খারাপ বলবে। মেয়েটার চরিত্রে না চাইতেও কলঙ্কের দাগ লেগে যাবে , যখন মেয়েটা বুঝবে তখন কি পারবি মেয়েটাকে বাঁচাতে।
আয়মান: তাহলে তুই বল আমি তৃপ্তিকে আমার কাছে রাখবো কেমন করে , আমি কিছুতেই ওকে ওদের হাতের পুতুল বানাতে চাই না।
অজানা: আমি কমিশনারের সাথে কথা বলে তোকে যানাচ্ছি , তুই শান্ত হ।
গভীর রাতে অজানার কল আসলেই আয়মান সাথে সাথে রিসিভ করে , হ্যাঁ বল কমিশনার কি বললো।
অযানা: তুই যদি বিয়ে করে নিয়ে যাস তাহলে কেউ বাধা দিলে পারবে না , তানা হলে কমিশনার তার বাড়িতে রাখার চেষ্টা করবে। শোন যদি মেয়েটাকে করুনার নজরে দেখিস তাহলে কোনো দরকার নেই তোর কাছে রাখায় , কমিশনারের বাড়িতে ভালো থাকবে। যদি ওর জন্য তোর মনে কোনো অনুভুতি হয় তাহলে নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে নে।
আমি ভেবে দেখি , সারারাতে ঘুমাতে পারেনা , তৃপ্তির ভিসার ব্যাপারে কথা বললে সেখান থেকে যানায় আরো দেরি হবে। আয়মান তখনি একটা ডিসিশন নেয় , সকালে উঠে দেখে তৃপ্তি টপের ফুল ছিড়ে মালা বানিয়ে মাথায় মুকুটের মতো দিয়ে বসে ছবি আঁকছে।
ওর মায়াবী মুখটা দেখে আয়মানের মনটা ভরে যায় , মিতালী বেগম তখন ওকে খাওয়ার জন্য ডাকে। নাস্তা খেতে বসেও আয়মান বারবার তৃপ্তির দিকে তাকাচ্ছে আর অস্থির হয়ে যাচ্ছে।
মিতালী:আয়মান কোনো বিষয় নিয়ে তুই আবারো চিন্তিত।
হ্যাঁ মা , মা যদি আমি তৃপ্তিকে বিয়ে করি তাহলে কি তুমি মন খারাপ করবে । আসলে তানা হলে ওকে আমার সাথে নিজে পারবো না , আমি কয়েক বছর পরে আবার আসবো আমাদের সাথে প্রতারনা করার আপনজনদের শাস্তি দিতে।
মিতিলী: আমিও চাই তুই সংসারী হ , তোর খুশিতে আমি খুশি। তাই বিয়ে কর তাতে আমার কোনো অসুবিধা নাই , আমিও তোকে তৃপ্তির সাথে বিয়ের কথা বলতাম। মেয়েটা ভালো তোর ছন্নছাড়া জীবনে একটা গতি হলে আমার চেয়ে খুশি কেউ হবে না , তাছাড়া তুই যে পথে হাটছিস সে পথ থেকে নিজের জীবনটা নষ্ট করছিস। ঐদের কারনে কেনো নিজের জীবটা নষ্ট করবি , ছেড়ে দে ওদেরকে। তোর ভয় হয় না যদি ওরা তোর আবারো ক্ষতি করতে চায় , ওরা এখন প্রচুর ক্ষমতার অধিকারী তাই বলছিলাম।
কেমন করে ছেড়ে দেই মা , ঐ সম্পদ আমার মায়ের। তাছাড়া সে বাবা হয়ে নিজের সন্তান , এমনি নিজের বোনকে মারতে মনের মাঝে একটুও ভয় কাজ করেনি। তাহলে তাকে শেষ করতে আমার কেনো ভয় লাগবে , তার জন্যই আমি নিজেকে তৈরি করছি।
তাকে তো তার পাপের শাস্তি পেতে হবেই , তুমি আমাকে তার সম্পর্কে ঐদিন বলেছো। যদি আরো আগে বলতে তাহলে এতোদিনে আমি নিজের অবস্থান ঠিক করে ফেলতাম।
কেমন করে বলতাম বল , ভাবীর ইচ্ছে ছিলো তোকে ডাক্তার বানানোর তাইতো তোকে ডাক্তার বানাতে লেগে গেছি ।যা করবি ভেবে চিন্তে করিস , আমাকে তুই সব সময় পাশে পাবি।
পরের দিন কমিশনারের সাথে কথা বলে তৃপ্তিকে বিয়ে করে , তখন তৃপ্তি না বুঝলেও তার এই ভাইয়াটা তার বর হচ্ছে বুঝতে পারে মিতালী বেগমের কথাতে।
কবুল বলে সাইন করে তৃপ্তি হাতে তালি দিয়ে বলে , হুরেএএএ আমি এই সুন্দর ভাইয়ার বৌ হয়ে গেছি। আয়মান তৃপ্তির হাসি হাসি মুখটার দিকে তাকিয়ে কবুল বলে।
ওদের বিয়েটা কমিশনারের সামনে তার বাড়িতে হয় , রাতে গাড়িতে করে বাড়িতে আসলে তৃপ্তি তখন গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। মিতালী বেগম আয়মানের রুমটা হালকা করে সাজিয়েছিলো যাওয়ার সময় , আয়মান তৃপ্তিকে কোলে নিয়ে রুমে এনে শুয়ে দেয়।
রাতের খাবার খেয়ে এসেছে কমিশনারের বাড়িতে তাই মিতালী বেগম আয়মানকে বলে শুতে চলে যায়।
এই প্রথম আয়মানের রুমে কোনো রমনি ঘুমাবে , আয়মানের মনে কেমন অনুভূতি হচ্ছে বুঝতে পারছে না। লাল শাড়ি পড়ে তৃপ্তি ঘুমিয়ে আছে , আয়মান ওর পানে তাকিয়ে আছে।
আচ্ছা কখনো তো কোনো মেয়ের প্রতি এতো টান অনুভব করেনি , বা কাউকে দেখে মনে হয়নি তাকে আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে নেই। তাহলে আজ কি হলো ওর মনে এই মেয়েটাকে দেখে , কেনোইবা মনে হলো ওকে নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে নেই । তাহলে কি ওর কথাই সত্যি আমি নিজের অজান্তেই ওকে মনে জায়গা দিয়ে ফেলেছি।
শাড়ি থেকে পিন খুলে , কমফোট টেনে তৃপ্তির গায়ে দিয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে পাশে শুয়ে পড়লো। মধ্যে রাতে তৃপ্তি ঘুম থেকে উঠে দেখে আয়মান ওর পাশে ঘুমিয়ে আছে, তখন কেনো যানি ওর আয়মানকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হলো। যেই ভাবনা সেই কাজ, আয়মানের বুকে মাথা রেখে হাত পা উঠিয়ে জড়িয়ে শুয়ে পড়ে।
তৃপ্তির এমন কাজে আয়মান জেগে যায় , প্রথম কোনো মেয়ে ওকে এভাবে ধরে শুয়ে আছে।তাতে আয়মানের ভিতর পর্যন্ত নাড়িয়ে দিয়েছে , কি করবে বুঝতে পারছে না। যদি ওকে সরাতে যায় তাহলে মেয়েটার ঘুম ভেঙ্গে যাবে , একবার ঘুম ভাঙ্গলে সহজে ঘুমাতে পারে না।
সরিয়ে দেবে করে সরাতে পারে না , নিজের অজান্তেই ওকে আরো নিজের বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকে।আর ভাবে যদি তুমি সুস্থ থাকতে আর আমাদের বিয়েটা তখন হতো তাহলে আজকের রাতটা অন্যরকম অনুভূতিতে কাটতো।
সকালের এলামের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে , হাত দিয়ে এলাম বন্ধ করে উঠতে নিলে বুকের উপরে ভারী কিছুর আভাস পায়। তাকিয়ে দেখে ওর অবুঝ বৌ ওকে কেমন লেপটে ঘুমিয়ে আছে। সরাতে নিলে ওর শাড়ির আঁচল সরে যায় আর দৃশ্যমান হয় শরীরের অংশ। তাতে আয়মানের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে , তাড়াতাড়ি তৃপ্তিকে ঠিক করে শাওয়ার নিতে চলে যায়।
শাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে তখন তৃপ্তিকে জড়িয়ে ধরার কথা মনে পড়ে , ঝড়নার নিচে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে তখনকার অনুভূতি অনুভব করতে থাকে।
শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে রেডি হয়ে নিচে যায় , মিতালী বেগমকে বলে বেরিয়ে যায়। হাসপাতালের আর পনেরো দিন আছে তাই যা কাজ করার করে যেতে হবে ।
রাতে মিতালী তার স্বামী সন্তানদের সাথে তৃপ্তির পরিচয় করিয়ে দেয় , তখন মিতালীর স্বামী মিতালীকে বলে।
তুমি আয়মানকে বিয়ে করিয়ে ভালোই করেছো, এবার ও যদি একটু নিজের জীবনের প্রতি সিরিয়স হয়। কম তো চেষ্টা করিনি ওকে সংসারী হওয়ার প্রতি উৎসাহ দিতে , প্রতিবার আমরা শুন্য হাতে ফিরেছি।
মিতালী :কি বলো তো ওর জুড়ি ছিলো এইখানে আমরা চেষ্টা করলে কি হবে , যানো তৃপ্তিকে দেখে নিজে থেকেই বিয়ের কথা বলেছে। আমি অনেক খুশি হয়েছি , মিতালীর ছেলে মিরাফ তৃপ্তির সাথে কথা বলে।
মাম্মা আয়মান ভাইয়া বিয়ে করেছে এইবার আমাকেও বিয়ে করিয়ে দাও , তোমার কালো ছেলে এতো সুন্দর বৌ পেয়েছে। এখন আমি কি তাহলে কালো বৌ পাবো , নাআআআ আমি ভাইয়ার বৌকেই নিয়ে নিবো তারপরেও কালো মেয়ে বিয়ে করবো না।
মিতালী :চুপ কর পাজি ছেলে , খালি আমার বড় ছেলেকে নিয়ে হিংসা করে। এই তোর বয়স হয়েছে বিয়ে করার , এখনো স্কুল শেষ করত পারিসনি সে আসছে বিয়ে করতে।
মাম্মা তুমি আমাকে বিয়ে করালে তোমারিও লাভ আমার বৌ এসে তোমার সেবা করবে ।তখন তুমি রাজরানীর মতো খাটে বসে হুকুম করবে।
এবার আসি তোমাকে পিটিয়ে বিয়ের ভুত মাথা থেকে বের করছি , সারাদিন লেখাপড়া বাদ দিয়ে লাফাঙ্গাগিড়ি করে বেড়াচ্ছো , বোনের কথা শুনছো না।
যাও তোমার সাথে কথা নাই , ভাবীকে দাও। তৃপ্তির কাছে ফোন দিলে বলে। শোন বৌ মানে ভাবী ভাইয়ার সাথে বেশি মিশবে না , এখন থেকে মনে রাখবে আমিও তোমার বরের উপরে দেবর। তাই এখানে আসো তখন দেখবে তোমাকে নিয়ে আমি কোথায় কোথায় ঘুরতে যাই।
ওদের সাথে কথা বলার পরে তৃপ্তি রুমে আসে ঘুমাতে , দেখে আয়মান শুয়ে আছে। তৃপ্তি তখন আয়মানের পাশে শুয়ে একটু পরেই ঘুমিয়ে গেলো , আয়মান চোখের উপর থেকে হাত সরিয়ে ওর দিকে তাকায়। তারপর কি মনে করে ওকে টেনে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে।
পরের দিন ওসি আর কনস্টেবল আসে তৃপ্তিকে নিতে , তখন আয়মান বাড়িতেই ছিলো তাদেরকে বসতে বলে চা নাস্তা দেয়।
মা তাদেকে মিষ্টি দাও , তাদেরকেতো যানানো হয়নি আমি তৃপ্তিকে বিয়ে করে ফেলেছি।
কনস্টেবল: কি বলেন যাতা , আপনি আমাদের না বলে বিয়ে করতে পারেন না।তাছাড়া ঐ মেয়ের বিয়ে আমার ভাতিজার সাথে ঠিক করছি , বিয়ে করছি বললে কি আমরা মানবো নাকি। আপনি নিজের সাথে নেওয়ার জন্য আমাদের মিথ্যা বলছেন , তাই আমাদের কাজে বাধা দিবেন না , মেয়েটাকে নিতে দিন।
আয়মান: বসেন তারপর আপনাদের একটা কথা বলি , আপনি বলেছিলেন না আমি যেনো মেয়েকাকে বিয়ে করি তাহলে এখন বিয়ে করলাম সমস্যাটা কি। নাকি নতুন বাসায় নিয়ে ওকে রক্ষিতা করতে পারেনি তার জন্য আফসোস হচ্ছে।
ওসি: কি যাতা বলছো , তুমি যানো এই ধরনের কথার জন্য তোমাকে আমরা কি করতে পারি।
আয়মান পায়ের উপরে পা দিয়ে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে চুমুক দেয় , সামনে তাকিয়ে দেখে ।কি মনে করেছিলেন এই দুই টাকার কনস্টেবলের সাথে মিলে একটা মেয়েকে রক্ষিতা হিসাবে রাখবেন আমি ধরতে পারবো না।
আপনি হয়তো ভুলে গেছেন আপনার মেয়ের বয়সের এই মেয়েটা , যখন এই কনস্টেবলের কথায় নিয়ত খারাপ হলো তখন একবার নিজের মেয়ের মুখটা মনে পড়েনি। যাইহোক আমি বেশি কথায় বলতে চাইনা , আমাদের বিয়েটা কমিশনারের সামনে হয়েছে। আরো একটা কথা , তারপর কানের সামনে গিয়ে একটা কথা বলে তখনি ওসি কপাল কুঁচকে বলে।
ওসি: তুমি ওদের চিনো কিভাবে?
আয়মান হাসতে হাসতে বলে , তারজন্য আপনাকে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে।তাদের সম্পর্কে আপনারা যানেন কিন্তু বাংলার মানুষ যানে না ।তাই যেদিন যাইবেন সেই দিন আমি বলবো , কে আমি।
কনস্টেবল : স্যার আপনি এই ছেলের কথায় দমে যাবেন নাঋ, এখনি এই মেয়েকে নিয়ে চলেন।
আয়মান: তুই বেটা বেশি উড়িস তোকে একটু শিক্ষা দিতে হবে , তুই এই পর্যন্ত কয়টা মেয়ের জীবন নষ্ট করেছিস তার প্রমান আমার কাছে আছে। একটু অপেক্ষা কর তোর কাজের পুরস্কার তোকে দিচ্ছি , তখনি কমিশনার বাড়িতে প্রবেশ করে।
কমিশনারকে দেখে ওসি ও কনস্টেবল উঠে দাড়িয়ে স্যালুট করে , দুজনি কমিশনারকে দেখে ঘামতে থাকে।
কমিশনার : কি ব্যাপার তোমরা এখানে কেনো, থানাতে ডিউটি রেখে এখানে কি করছো। আমি এখনিতেই যেতাম , তোমাদের বিরুদ্ধে অনেক রিপোর্ট আছে। এই ধরনের লোক থাকলে মানুষের উপকারের যায়গায় অপকার বেশি হবে।
এই ধরনের লোকদের কারনে দিন দিন পুলিশের প্রতি মানুষের ভরসা উঠে গেছে। তোমরা থানায় যাও আমি আসছি। আরেকটা কথা এইটা আমার মেয়ের বাসা তাই এখন থেকে নিজেদের চোখ হেফাজতে রেখো।যে সাহস নিয়ে এসেছো সেই সাহস নিয়ে থানা পর্যন্ত যাও।
ওসি ও কনস্টেবল উঠে থানায় চলে যায় , কমিশনার বাবুল শেখ আয়মানকে বলে।তুমি নিশ্চিতে তৃপ্তি মাকে নিয়ে যেতে পারো , আমি সব কাগজপত্র ঠিক করে দিয়েছি। আমি বিশ্বাস রাখি তুমি ওর খেয়াল রাখবে , তোমাকে দেখে আমার মনে হয়নি তুমি খারাপ ছেলে। যখন ও কল করলো তখন বুঝতে পারলাম তুমি আসলে কে ?
যাই হোক তোমার ভালোটা কামনা করেছি আর দোয়া করি করি যাতে , তুমি তোমার কাজে সফল হও।
দুই সপ্তাহ পরেই আয়মান মিতালী ও তৃপ্তিকে নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমায়। যখন আয়মান ও মিতালী তৃপ্তিকে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে তখন মিতালীর স্বামী মিজান , মেয়ে মিয়ামী, ছেলে মিরাফ ওদেরকে বরন করতে আসে। আয়মান ও তৃপ্তিকে বাঙ্গালী বধূর যতো বরন করে নেই , তৃপ্তিকে ভিডিও করে দেখেছে কিন্তু কাছাকাছি এতো সুন্দর দেখে মিরাফ বলে…
বাকি পর্ব পড়ুন-





















