জুহা : বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পুরোনো বছরের সব ক্লান্তি, হতাশা ও দুঃখ পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার দিন এটি। প্রায় ৭০০–৮০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে এই উৎসব। বছরের প্রথম দিনটি রঙে, গানে আর আনন্দে ভরে ওঠে। শহর থেকে গ্রাম,ছোট থেকে বড় সবাই মেতে ওঠে বৈশাখের উৎসবে।
পহেলা বৈশাখ মানেই ভোরবেলা নতুন পোশাক পরে বেরিয়ে পড়া। লাল-সাদা শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফুলের গয়না আর মুখভরা হাসি সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবহ। চারদিকে বাজতে থাকে ‘এসো হে বৈশাখ’ গান। এই সুর যেন পুরোনো সব গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন করে বাঁচার সাহস জোগায়।
বৈশাখের সকাল শুরু হয় নানা আয়োজনে। মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, কবিতা ও নৃত্য সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। শিশুদের হাতে রঙিন বেলুন, বড়দের মুখে আনন্দের হাসি। মেলায় পাওয়া যায় নানা খেলনা, মাটির তৈরি জিনিস, বাঁশি, মুখোশ এবং হরেক রকম খাবার।
পহেলা বৈশাখের আরেকটি বড় আকর্ষণ গ্রামীণ মেলা। গ্রামের খোলা মাঠে বসে এই মেলা, যেখানে থাকে নাগরদোলা, পুতুলনাচ, বাউলগান, লাঠিখেলা যা বাংলার চিরচেনা সংস্কৃতিকে আবার মনে করিয়ে দেয়। শহরের ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যগুলো বৈশাখ নতুন করে ফিরিয়ে আনে।
এই দিনে পান্তা-ইলিশ, ভর্তা, কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজ যেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও সময়ের সঙ্গে খাবারের ধরনে পরিবর্তন এসেছে, তবুও সবাই চেষ্টা করে দিনটিকে একটু ভিন্নভাবে উদযাপন করতে।
পহেলা বৈশাখ শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি সব বিভেদ ভুলে এই দিনে সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে। এ উৎসব আমাদের শেখায় আমরা সবাই আগে বাঙালি। আমাদের শেকড়, সংস্কৃতি এবং সম্মিলিত পরিচয়ই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে অনেক কিছু বদলে গেছে। তবুও পহেলা বৈশাখের আবেদন এতটুকু কমেনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এ উৎসব এখন আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু এর আসল সৌন্দর্য রয়ে গেছে মানুষের মিলন, গান আর প্রাণের উচ্ছ্বাসে।
পহেলা বৈশাখ তাই শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি এবং নতুন স্বপ্ন দেখার এক আনন্দময় উপলক্ষ। নতুন বছরের প্রথম দিনে সবাই যেন বলতে পারে পুরোনো সব গ্লানি ভুলে, নতুনের পথে এগিয়ে চলি।
লেখিকা :শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা।





















