নয়ন নিভৃত মায়া

উম্মে হাবিবা

​হে অনাদি অনন্তকাল, তব তমসায় জাগে মরীচিকা,
হৃদয়-মুকুরে কাঁপে ক্ষণপ্রভাশালী এক অনির্বাণ শিখা।
মর্ত্যের এই ক্লীব কোলাহল, এই শুষ্ক ধূলি-ধূসরিত ধরণী,
পারাপার খুঁজিয়া ফেরে ভব-সিন্ধুর সেই বৈতরণী।

​তব নয়ন-পল্লবে আজি নীলিমার সেই গূঢ় অভিমান,
অলোক-সামান্য রূপে সাজাইয়াছ তব মায়ার বিধান।
তৃষিত চাতক সম চাহিয়া রহিয়াছে ওই গগন-মণ্ডল,
বিবশ চিত্তে ঝরে শ্রাবণের ধারায় সজল আঁখি-জল।

​নিভৃতচারী আত্মা মোর গহন অরণ্যে খোঁজে প্রতীতি,
স্তব্ধ নিশীথে শুনিয়াছি সেই মর্মর-ধ্বনির গীতি।
শাশ্বত মৌনতায় বিলীন হইয়াছে জাগতিক যত শোক,
হিরণ্ময় জ্যোৎস্নালোক রাঙাইয়া দেয় ওই মর্ত্য-লোক।

​বিভাবরী নামিছে আজি ছিন্ন করিয়া সহস্র বন্ধন,
শুন্যের গহীনে বাজে বিরহী আত্মার সেই অস্ফুট ক্রন্দন।
পদ্ম-পলাশ নেত্রে জাগে কাল-পুরুষের রুদ্র চাহনি,
জ্যোতির্ময় পথে চলিয়াছে ওই একা এক চির-তরুণী।

​চমৎকৃত এই সৃষ্টি-তলে লীন হয় যত বিমূর্ত মায়া,
কায়ার অন্তরে দেখি সেই রূপাতীত পরম ছায়া।
অমোঘ নিয়তি টানিয়া লয় আমায় সেই মহাকাশে,
যেথা কাল-স্রোত মিশিয়া গিয়াছে অনন্ত নীলিমার পাশে।

​অনির্বচনীয় এই অনুভবে ধন্য হউ মোর ক্ষুধা,
পান করিয়াছি আজি প্রকৃতির গূঢ় সেই অমৃত-সুধা।
মর্ত্যের সীমা ছাড়াইয়া চলিয়া যাইব ওগো সুদূর,
যেথা বাজিবে না আর এই পৃথিবীর মলিন নূপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *