রানা সোহেল মেঘদূত
রাস্তায় হাটতে হাটতে হোচট খেয়ে হুমড়ি খেয় পড়লাম গর্তে। রাস্তা খুড়ে রেখেছে ওয়াসা। আজ কাজ চলছে না। কিন্তু গর্তে কোনো বেরিকেট দেয়া নাই। আমার হলুদ পান্জাবী কাদায় মাখামাখি। এ অবস্থায় রুপার কাছে যাওয়া যায়না। প্রেমিকার আবদার সব সময় পুরণ করতে নেই। আজও তাই হোক। ফ্রেশ হতে হবে। কাছে ফুফুর বাসা। ওখানে আমার প্রবেশ নিষেধ। বাদল থাকলে ভাল।সে দরজা খুলে দিবে। সেও আজকাল গৃহবন্ধী।ফুফা ওকে তেমন বের হতে দেন না।পরিবেশ খারাপ।ইয়াবাসেবীদের পাল্লায় পড়ে যদি বাদল নষ্ট হয়ে যায়।
সেদিন বাদলের এক বন্ধুকে ফুফা জিজ্ঞাসা করল- কি করো তুমি?
-পার্টি করি আংকেল।
-পার্টিতো করে সবাই। জব কি করো। ইনকাম সোর্স কি?
-ওইতো। পার্টি করি। ওটায় ধান্দার জায়গা।
সেদিন থেকে বাদলকে বের হতে দেন না ফুফা। কি সর্বনাশা কথা। রাজনীতিকে ধান্ধাবাজীর আখড়া বানিয়ে ফেলছে। নীতির যে কি দূর্গতি।
হলুদ পান্জাবীতে কাদা লেগে একাকার। একটা রিক্সাকে দাড়াতে হাত নাড়ালাম।রিক্সাওয়ালা পাত্তায় দিলো না।
কেউ যদি অবহেলা করে বুঝে নিবে শীঘ্রই তুমি আদরনীয় হতে যাচ্চ।মনে মনে হাসলাম।রাস্তার মাথায় এসে টেক্সিতে উঠলাম।ড্রাইভার বললেন-ভাই ভাড়া কিন্তু ২০টাকা।
-কেন ভাড়া ১০টাকা না!?
-রাস্তা ভাঙ্গা,জ্যাম,,,
-তো,রাস্তা ভাঙ্গা হলে আমারই লস।সারা রাস্তায় আমিইতো গাড়ীর লোহার আঘাত পাব।জ্যামে আমারই টাইম নষ্ট হবে।
-তো।আমি কি করবো?
-আপনি আমাকে কি উড়য়য়া নিয়া যাবেন?
-কি বলছেন?
-তাহলে ভাড়া বেশী নিবেন কেন?
-এতো কথা বলেন কেন ভাই।কে আপনি?
-আমি হিমু।
-হিমু হোন আর মামু হোন।১৫ টাকা দিয়েন।
ওমা।গাড়ীর পেছনে ধুরুম ধুরুম করে আঘাত করছে এক যুবক।
বাড়ি দিচ্ছে।আবার গাড়ী আটকায়ে ১০ টাকা চাদাও নিলো।
ড্রাইভার মিনমিন করে মা বাপ ধরে সেকি গালাগাল।বললাম-কিসের টাকা নিলো ভাই?
-কি আর,চাদাবাজী করছে।শালার গাড়ীর একটা চাকাও কিনতে পারবে না,সেও গাড়ীতে এমন বাড়ি মারে।কুত্তার মউত হবে এদের।
-এরা কারা?
-পার্টি করে আরকি।তাই জোর খাটায়।
আমি চিন্তায় পড়ে যাই।পার্টি করলে এমন হবে কেন।পার্টিতো জনগনের ভালোর জন্য করে।
সেবা করার জন্য করে।মানুষের আস্থাভাজন হয়।
কিন্তু এসব পার্টিওয়ালারাতো জন বিচ্ছিন্ন।গালাগাল খায়।অভিশপ্ত।
সন্ধায় রুপার মুখোমুখি হলাম।
বললাম-রুপা আমি পার্টি করবো।
রুপা আমার দিকে মরা দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে।এমন ভয়ানক লাগছে তাকে।।হটাৎ দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়ে তার ভেজা চোখের কার্নিশ বেয়ে।খুব দৃঢ়ভাবে সে বললো-হিমু,,এসব পচা নষ্ট কীটের পার্টি করলে আমার ভালোবাসা হারাবে।
রুপা নামের কেউ তোমার জন্য কদম ফুল নিয়ে অপেক্ষা করবে না। রুপা হাটা দিলো।জোছনার পথ ধরে।
আমি চুপচাপ দাড়িয়ে আছি ভাঙ্গা রাস্তার পাশে।
আমার কন্ঠস্বর বেয়ে আপনা আপনি বের হয়ে আসে-
না, আমি পার্টি করবো না।মানুষকে ভয় পাইয়ে দিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে কতৃত্ব করতে পারবো না।
আর এভাবে ভালোবাসা পাওয়া অসম্ভব।
“”সমাজ,রাস্ট্র,মানুষ–ধিক্কার জানায় নিরবে,নিভৃতে ঐ সব নষ্ঠদের,যারা রাজনীতির নামে লুট করছে,দখল করছে,””
লেখা : হুমায়ুন আহমেদ স্মরনে।
(উৎসর্গ : যারা এখনো মানুষের সেবায় কাজ করছে,জানিনা এমন মানুষেরা কবে রাজনীতিকে কলংকমুক্ত করবে)





















