রমজানের শেষ দশকের চমৎকার এক আমলের ফর্মুলা 


হুসাইন আহমাদ 

আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উম্মতি মোহাম্মাদির শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার নিমিত্তে এমন এক রজনী উম্মতি মোহাম্মদী কে দান করেছেন, যে রজনীটা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই মর্মে আল্লাহপাক রব্বুল আলামীন সূরা কদরের মধ্যে বলেন ; নিশ্চয়ই আমি কুর‘আন অবতীর্ণ করেছি ক্বদরের রজনীতে। আর ক্বদরের রজনী সম্বন্ধে তুমি কি জানো? ক্বদরের রজনী হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। 

এখন প্রশ্ন হল কোন রাত শবে ক্বদর বা ক্বদরের রজনী? হাদীছের বর্ণনা থেকে বোঝা যায় রমযান মাসের যেকোন রাত শবে ক্বদর হতে পারে। তবে বুখারী শরীফের এক হাদীছে বলা হয়েছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন; তোমরা রমযান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে ক্বদর তালাশ কর। এ হাদীছে রমযানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ এই বেজোড় রাতগুলোতে বিশেষ ভাবে শবে কদর তালাশ করতে বলা হয়েছে।

তাই আমাদেরকে রমজানের শেষ দশকে নিজেদের আমল বাড়ানো দরকার। আর এই মর্মে মাসজিদ আল-হারামের ইমাম শাইখ আব্দুর রহমান আস সুদাইসি হাফিজাহুল্লাহ রমজানের শেষ দশ দিনের জন্য চমৎকার এক আমলের ফর্মুলা দিয়েছেন।

১. প্রতিদিন এক দিরহাম (এক টাকা) দান করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর বা ১০০০ মাস পর্যন্ত প্রতিদিন এক টাকা দান করার সাওয়াব পাবেন।

২. প্রতিদিন দুই রাকা’আত নফল সালাত আদায় করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন দুই রাকা’আত নফল সালাত আদায় করার সাওয়াব পাবেন।

৩. প্রতিদিন তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন এক খতম কুরআন পাঠের সাওয়াব পাবেন।

তিনি আরো বলেন, এ কথাগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন, যারা আপনার এ কথা শুনে আমল করবে, আপনিও তাদের আমাল সমপরিমাণ সাওয়াব পাবেন, ইনশাআল্লাহ্। কারণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ভালো কাজের পথপ্রদর্শনকারী আমলকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, কিন্তু আমলকারীর সাওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না।” (মুসলিম, ২৬৭৪)

আল্লাহ্ সবাইকে বেশি বেশি আমল করার তৌফিক দান করুন।

আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *