ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর
সোনিয়া আবেদীন
তাবিন্দা মহল খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে,তিনচার দিন পরে বাড়ির মালিক উঠবে ।নাজিম বাড়িটার দিকে তাকিয়ে চলে যায়, রুপাকে নিয়ে হাসপাতালে যাবো। আজিম বাগানে বসে আছে তখন নায়না বাড়িতে ডুকে, চাচাকে উদাস হয়ে বসে থাকতে দেবে ওর আরো খারাপ লাগে।
এই যে ছোটো বাবা আজ কতোগুলো বছর হল কারো সাথে কথা বলে না, তৃপ্তির মৃত্য, ছোটো মার চলে যাওয়া। ভিতর থেকে ছোটো বাবাকে একদম শেষ করে দিয়েছে, তাইতো বছরের প্রায় বেশির ভাগ সময় চিল্লায় কাটায়। দেখা যাবে কয়েকদিন পরেই চলে যাবে, তার পড়ে ও মেয়েকে ভিতরে পাঠিয়ে ছোটো বাবার সামনে যায়।
ছোটো বাবা বলে ডাক দিল, আজিম তাকিয়ে ভাতিজিকে দেখে মুখটা ঘুরিয়ে নেয় । নায়না তখন ছোটো বাবার পায়ের কাছে বসে পড়ে। মেঝেতে কপাল ঠেকিয়ে দু’হাতে তাঁর পা জড়িয়ে ধরে কাঁদছে সে এমন কান্না, যেন বুকের ভেতরের সব ভাঙন একসাথে বেরিয়ে আসছে।
“ছোটো বাবা ,আমাকে ক্ষমা করে দাও, কাঁপা গলায় বলল নায়না।
কথাগুলো বলতে বলতে তার শ্বাস আটকে যাচ্ছিল ,চোখের পানি মেঝেতে পড়ছিল টুপটাপ করে।ওর চরিত্রহীনতার জন্য আজ তোমার মেয়েটা নেই। একটা নিষ্পাপ জীবন শেষ হয়ে গেল,বলেই হাউমাউ করে উঠল সে। আমি জানতাম ও মানুষটা ঠিক না, তবু সংসার বাঁচাতে চুপ করে ছিলাম। সেই নীরবতার শাস্তি আজ তোমার পরিবার পেল।
ছোটো বাবার পায়ের কাছে মাথা রেখে নায়না কাঁদতেই থাকল।তোমার হাসিখুশি ঘরটা ভেঙে গেল ছোটো বাবা। আমার স্বামীর লোভ আর মিথ্যের আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আমি একা দোষী নই জানি, তবু এই দায় আমার বুকেই সবচেয়ে ভারী।
বাগানের ভেতর শুধু কান্নার শব্দ।
ছোটো বাবা নায়নার মাথায় হাত রাখলেন ,হাতটা কাঁপছিল। চোখের কোণে জমে থাকা জল আর ধরে রাখতে পারলেন না।
নায়না ফিসফিস করে বলল,যে ক্ষতি হয়ে গেছে, তা আর কোনোদিন ফেরানো যাবে না। আমি শুধু জানি, আজ আমি তোমার পায়ের কাছে বসে আমার অপরাধের কান্নাটুকু রেখে যাচ্ছি।
নীরব বাগানে সেই কান্না দীর্ঘক্ষণ ধরে ভাসতে থাকল ভাঙা পরিবার আর হারিয়ে যাওয়া এক জীবনের সাক্ষী হয়ে।
আজিম এক সময় ভাতিজিকে অনেক ভালোবাসত ,কিন্তু ভাতির মিথ্যা তার পরিবারকে শেষ করে দিল। তার কিছুই বলার নাই, যে পাপ নায়না করছে সেই পাপের শাস্তি সে প্রতি নিয়ত পাচ্ছে, হয়তো আরো পাবে। যেমনটা সে পাচ্ছে, তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাড়ায়, নায়না তখনো কেঁদে যাচ্ছে। বাড়ির ভিতরে চলে যায় নায়নাকে ঐ অবস্থায় রেখে, নাজমুন দুর থেকে চাচা ভাতিজির সব কিছু দেখে।
নাজমুন কাছে আসে তখন নায়না মাকে জড়িয়ে ধরে বলে।মায়ের বুকের সঙ্গে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সে কাঁদতে কাঁদতে বলল ,মা সব শেষ হয়ে গেল। ছোটো বাবার সংসারটা ভেঙে গেল ওই চরিত্রহীন মানুষটার জন্য। আমি কিছুই করতে পারলাম না, মা। প্রতিদিন মনে হচ্ছে আমিই যেন অপরাধী। যদি আগে বুঝতাম, যদি একটুও থামাতে পারতাম,আজ হয়তো এতটা শূন্যতা থাকত না।
নাজমুন চুপচাপ তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।মেয়ের কান্না মায়ের আঁচলে ভিজে উঠল, অপরাধবোধ, অসহায়তা আর ভাঙা সংসারের ভার একসাথে বয়ে নিয়ে।
নাজমুন কিই বা করবে, মেয়ের নিবুদ্ধিতার কারনে আজ দেবরের সংসার নষ্ট ।নাড়ী ছেড়া ধন তাইতো রেগে থাকতে পারেনি, ছেলেকে বলেও কোনো রাস্তা পেল না।
তাহু বাজার নিয়ে বাড়িতে আসে, মা কোনো রান্না করেনি দেখে অবাক হয়। এতো বছর পরে বোন এল অথচ মা ওদেরকে না খাইয়ে রাখবে নাকি। নাকি শরীরটা বেশি খারাপ লাগছে।দেখে তো মনে হচ্ছে না, মা রাহেলা খালা ও দুই নাতিকে নিয়ে বসে আছে।
মা তোমার শরীর কি বেশি খারাপ, এখন বলো কি রান্না করবো।
ফাতেমা: কিছুই রান্না করতে হবে না, জামাই বাবাজী সবার জন্য খাবার এনেছে বাহির থেকে। কাল রান্না করতে বলেছে, তখন এসে খাবে।
তাহু : কেনো তুমি না করলেনা কেনো, আমি তো ছুটি নিয়ে চলে এসেছি।তা বাবা তোমরা কি খাবে বলো খালামনি তাই রান্না করবে।
দুই ভাগিনা একসাথে বলে ,তোমাকে কষ্ট করতে হবে না। পাপা ড্যাডাকে দিয়ে সব ব্যবস্থা করাবে বলেছে।
ফাতেমা:ছেলেটা কি আমার কথা শুনে বল ,তুই বস তোর সাথে কথা আছে।
বলো, কি কথা।
রাহেলা: তোর বোনের জামাই খুব ভালো ছেলে, তানা হলে এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করে বল। এবার তোকে একটা ভালো ছেলের হাতে তুলে দিতে পারলে তোর মা চিন্তা মুক্ত।
ফাতেমা:ওরা চাইছে আমরা যেনো ওদের সাথে যাই, যতোদিন বাংলাদেশে আছে ততোদিন আমাদের সাথে থাকতে চায়। যানিস জামাই কার ছেলে, নিখিলের বাবা যেই স্ত্রী , সন্তান,বোনকে পুড়িয়ে মা*রতে চেয়েছিল আয়মান সেই ছেলে। ঐদিন ফুপু ও ভাতিজা বেঁচে যায়, ওর মা টা বাঁচতে পারেনি। কয়েকদিনের মধ্যে ওর ফুপুও আসছে বাংলাদেশে, তখন নাকি আমজাদ ভাইয়ের নামে ওরা কেইস করবে।
তাহু: ভাইয়ার এই সব না করাই ভালো, উনি যেই খারাপ লোক যদি এবারো ভাইয়ার ক্ষতি করতে চায়।
মিরাফ এসেছে তাহুকে ডাকতে, আয়মান ডাকছে। এসব যখন তাহুর ভয়ের কথা শুনে তখন মুখ খুলে বলে। তোমার ভাইয়া এখন আর সেই পাঁচ বছরের ছোটো বাচ্চা না, আজ তোমার ভাইয়ের এখানে অনেক ক্ষমতা। কিছুদিন গেলে দেখতে পারবে, এখন চলো তো তোমাকে ভাইয়া ডাকছে।
তাহু মিরাফের কথায় চমকে যায়, কি সাংঘাতিক ব্যাপার লোকটা দাঁড়িয়ে ওদের কথা শুনছে। কিছু না বলেই তৃপ্তির কাছে যায়, সেখানে গিয়ে দরজায় টোকা দেয়। আয়মান ওকে ভিতরে আসতে বলে,তাহু গিয়ে দেখে সেখানে রাহি, ফারিশ ও বসে আছে।
আয়মান: তাহুকে বসতে বলে, তাহু বসে আছে আয়মানের সামনে।
তাহু আমি চাইছি তোমরা সবাই আমার সাথে চলো, যা হারিয়েছো তা কিছুটা হলেও ফেরত পাবে। এই লড়াই আমার একার না, তোমাদের সাথেও অন্যায় হয়েছে। তাই চাইছি সবাই এক সাথে ওদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়তে, তাছাড়া আরেকটা খবর আছে। নাজিম গোপনে আরেকটা বিয়ে করেছে, আর সেই বউ প্রেগন্যান্ট।
কান্তা নিখিলের সাথে পরকিয়াতে জড়িয়ে নাজিমের অনাগত সন্তানকে হত্যা করেছে, সেই কারনে কখনো মা হতে পারবে না।
মা না হতে পারাটা তোমাদের ফুপু গোপন রেখেছে বলেছে বাচ্চা হতে সময় লাগবে। নাজিম এই সত্য যেনে গোপনে বিয়ে করে, তবে যেই মেয়েকে বিয়ে করছে সেই মেয়ে যেনে শুনে নাজিমের সাথে সম্পর্ক করেছে। মেয়ের ও একটা কাহিনী আছে, সেটা না হয় পরেই বলবো ,আপাততো আমরা কয়েকদিনের মধ্যে ঐ বাড়িতে উঠছি।
তুমি কি আমাদের এই সিদ্ধান্তে রাজি, আমি চেষ্টা করবো তৃপ্তির কারনে তোমাদের সে সব স্বপ্ন পূরন হয়নি তার কিছুটা পূরন করতে।
তাহু: এভাবে বলবেন না ভাইয়া, আপনি না থাকলে আমাদের বোনটার সাথে খারাপ কিছু হতে পারত। তাছাড়া আপুর কারনেই চিনতে পেরেছি আপনজন কতোটা ভয়ঙ্কর হয়, যেই বাবাকে আমি সুপারহিরো মানতাম,সেই বাবা স্বার্থের কারনে ভিলেন হয়ে গেল।
তাছাড়া বড় বোনের বর নাকি বাবার অভাব পূরন করে,আপনাকে বাবার স্থানে রাখবো না। কারন সেই স্থানটা এখন ঘৃনা ছাড়া কিছুই নাই, আপনি আমার বড় ভাইয়ের স্থানে থাকবেন। আপুর সাথে সাথে আমরা আপনাকে বড় ভাই হিসাবে মানলাম। এখন থেকে আমাদের ভালো মন্দ আপনি দেখবেন, ছোটো বয়স থেকে এই পরিবারের দায়িত্ব নিতে নিতে আমি ক্লান্ত। দিন শেষে আমি কাউকে আকড়ে ধরে বলতে চাই ,ভাইয়া আমি এখন ছুটি নিলাম। আপনার পরিবারের ভালো মন্দ আপনি দেখেন আমি আমার শখ গুলো পূরন করি।
তৃপ্তি বোনের কথা শুনে কেঁদে দেয়, গিয়ে আঁকড়ে ধরে। বোন আমার তুই জীবনে অনেক সয়েছিস, তোর মতো মেয়ে পাওয়া আমাদের ভাগ্যে।
আপু আজ থেকে সবার দায়িত্ব তোমার, আমি আমার শৈশবে যা হারিয়েছি সেই গুলোর মাঝে বাঁচতে চাই। আমরা আগের মতো হেসে খেলে থাকতে চাই কতটা বছর আমরা মন খুলে হাসিনি, কতটা রাত আমি চিন্তায় ঘুমাতে পারিনি। এখন থেকে প্রতিটা রাত চিন্তা ছাড়া ঘুমাতে চাই।
ফারিশ: হে আপু ছোটো আপু ঠিকি বলেছে, আমি দিন শেষে মন খুলে হাসতে চাই।
মারিয়া তুমি কি পেলে আমার হবে বলো তো, আমি তোমার প্রেমে পাগল হয়ে গেছি। তুমি আমাকে ভালোবাসো তারপরেও কেনো আমাকে দুরে রাখছো, আমি তোমার সাধ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছি।
মারিয়া: তা হয়না আমজাদ, দুজনের বয়সের অনেক তফাত । তাছাড়া আমি যদি আগে যানতাম তাহলে কখনোই তোমার প্রেমে পড়তাম না ,নিজেকে সামলে রাখতাম। আমিই বা মনটাকে কি ভাবে শক্ত করতাম, মন তো আমার বিরুদ্ধে কথা বলে। তুমি বিবাহিত, তোমার ছেলে আছে, এতোকিছু যেনেও আমি আমার মনটাকে বাধতে পারিনি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও আমজাদ, আমি চাইনা আমার কারনে তোমার বিবাহিত জীবন নষ্ট হক ।
যখন তোমার বৌ শুনবে তুমি অল্প বয়সের কারো প্রেমে পড়ছো, তখন সে সবাইকে বলে বেড়াবে আমি টাকার জন্য তোমাকে প্রেমের জালে বন্ধি করেছি।তাই ভাবছি আমি তোমার থেকে দুরে থাকবো, আমি চাই আমার প্রথম ভালোবাসার মানুষটা সুখে, শান্তিতে থাকুক। যাতে আমার কারনে তোমার সুখি জীবনে অশান্তি না আসে।
আমজাদ: না মারিয়া তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না, আমি তোমাকে বিয়ে করবো। তাহলে তো অসুবিধা নেই।
মারিয়া: না আমজাদ তা হয় না, আমি গরীব হতে পারি কিন্তু আমার একটা আন্তসম্মান আছে। আমি তোমাকে বিয়ে করলে দেখা যাবে তুমি আমাকে সমাজের সামনে স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করবে। তাছাড়া আমাকে সবার সামনে পরিচয় দিতে পারবে না, এমন সম্পর্ক থেকে কি লাভ বলো।
আমজাদ: তুমি চিন্তা করো না আমি তোমাকে বিয়ে করে সমাজের সামনে, এমনকি আমার বাড়িতে নিয়ে যাবো।
মারিয়া :তোমার বউ কি মেনে নিবে আমাকে, দেখা যাবে সে বুদ্ধি করে আমাকে লোক দিয়ে মে*রে ফেললো। বা বাড়িতে উঠলে কোনো না কোনো কারনে তোমার চোখে কাল বানাতে উঠে পড়ে লাগছে। তোমার ছেলে ,তার বউ, নাতনী যদি আমাকে জ্বালাতন করে।
আমজাদ:তুমি চিন্তা করো না, সেই বাড়িতে তুমি রানীর মতো থাকবে আমি সেই ব্যাবস্থা করছি। আমরা তাহলে আগামী সপ্তাহে বিয়ে করছি।
মারিয়া খুশিতে আমজাদকে জড়িয়ে ধরে, নারী লোভী আমজাদ মারিয়ার ছোঁয়া পেয়ে পাগল হয়ে যায়। মারিয়া সরে আসে লজ্জায় মুখ লাল করে চলে যায়, আমজাদ মারিয়ার চলে যাওয়া দেখে ওকে হাসতে থাকে।
মারিয়া তুমি আমার মানষিক শান্তি, ঠিক তাবিন্দার মতো। নিলাকে জীবনে জড়িয়ে যে ভুল করেছি সেই ভুল তোমাকে আমার জীবনে এনে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করবো। আমি শেষ বয়সে শান্তিতে থাকতে চাই, তোমার মতো কচি মেয়েদের কি ভাবে প্রেমে ফেলতে হয় আমি খুব ভালো করে যানি। আমি যেনে শুনেই তোমার কাছে ধরা দিয়েছি, অল্প বয়সী মেয়েরা আবেগী হয়। তুমিও আমার ব্যক্তিগত জীবনে শান্তি নেই বলে সাহারা দিয়েছো, সেই সাহারায় আমার প্রেমে তোমাকে ফেলতে বাধ্য করেছি।
মারিয়া আমজাদকে খুশি হতে দেখে হাসতে থাকে, আফসোস করে বলে বোকা আমজাদ আমি তোমার ফাঁদে না তুমি আমার ফাঁদে পড়েছো। তোমার টাকা পয়সা দেখেই তো ও কাজের মেয়ে আমার ভাইকে ঠকিয়েছে। সাথে আমাদের নিঃস্ব করেছে, আজ আমি তোমার অর্থ বৃত্তর সাথে সাথে ওর সুখের মহলে আগুন দিবো। নিলা ম্যাডাম তুমি রেডি থাকো সতীনের সংসার করার জন্য, আমি ঠিক তোমার মতোই করবো।
সুঁই হয়ে ডুকে ফাল হয়ে বের হবো, যেমনটা তুমি করেছিলে। তুমি এতো জঘন্য একটা মহিলা ছিলে, যেখানে যেতে সেখানেই ধবংস করে নিজের রাজ্যত্ব কায়েম করতে। এবার বুড়ো বয়সে তোমাকে বোঝাবো, পাপের ফল কি হয়। রাস্তায় ভিক্ষা করাবো দেখো ম্যাডাম, বুড়ো চামড়ায় যতোই মেকআপ করো না কেনো, তোমার স্বামী হাত ছাড়া হলো।
সেই দিন আমাদের সংসার তোমার কারনে যেমন করে নষ্ট হয়েছে, আজ তোমার সংসারটা তেমন করে নষ্ট করে দিবো। আমরা সেই আগুনে জ্বলে বেঁচে ফিরেছি কিন্তু তুমি যেনো ফিরতে না পারো সেই রাস্তা আমি করে দিবো। আমার প্রতিটা আপনজনের প্রানের জবাব তুমি দিবে, যেই প্রান গুলো তোমাকে খুব ভালোবেসেছিলো।
সেই ভালোবাসার বিনিময়ে তুমি দিয়েছিলে ধোঁকা, রেডি থাকো নিলা আমাকে বরন করার জন্য।
তাহু সকাল সকাল উঠে ঘর বাড়ি পরিস্কার করে মায়ের সাথে রান্না বসায়, আজ বোন আসছে এখানে কয়েকদিন থাকবে বলে। ফারিশের রুমে আপু থাকবে, আর ড্রয়িং রুমে নিচে বিছানা করে ফারিশ ও মিরাফ থাকবে। ফাতেমার রুমে খাটে ভাগিনাদের দিবে নিচে মা মেয়ে থাকবে ,তৃপ্তি যথা সময় সবাইকে নিয়ে হাজির হয়।
মিরাফ এসে থেকে তাহুর দিকে তাকিয়ে থাকছে, ওর কেনো যানি মেয়েটাকে ভালো লাগছে। একটু দুষ্টুমি করার জন্য তাহুকে বলে ,তা বিয়াইন সাহেবা বিয়ে সাদি করবেন নাকি ঘরের খুটি হবেন। বিদেশ যাওয়ার আগে যদি আপনার মালা বদলটা দেখতে পারতাম তাহলে জীবনটা ধন্য হতো।
তাহেরা তাকিয়ে দেখে মিরাফের মুখে দুষ্টু হাসি, তখন ও বলে।করবোনা কেনো আপনার দাদাকে করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আফসোস সে আমার ভয়ে পটল তুলতে চলে গেছে।এখন কাকে বিয়ে করবো বলেন তো, আমার জন্য একটা বর খুঁজেন যার গলায় আমি মালা দেই আর আপনি বিয়ে খেয়ে বিদাই হন, সরি ধন্য হন।
বাকি পর্ব পড়ুন-





















