চৌধুরী রুহাশ
ইচ্ছে করেই হারি আমি,
জয়ের কাছে নয়,
তোমার চোখের ভেতর লুকানো
সেই নীরব আলোর কাছে—
যেখানে একটুখানি হাসলেই
আমার সব অহংকার ভেঙে যায়।
তোমার হাসির আয়নায়
নিজেকে দেখার লোভে,
আমি বারবার ভুল করি,
বারবার পথ হারাই,
তবুও ফিরে আসি—
ঠিক তোমার কাছেই।
শীতল বাতাস ছুঁয়ে যায়,
কিন্তু তার চেয়েও নরম লাগে
তোমার নিঃশ্বাসের স্পর্শ—
মনে হয়, এই পৃথিবীর
সব শান্তি যেন
তোমার বুকের ভেতর জমা আছে।
কখনো হঠাৎ করেই
তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
একটা অদ্ভুত শিহরণ জাগে—
মনে হয়, সময় থেমে গেছে,
শুধু তোমার নামটাই
নিঃশব্দে বেজে চলেছে।
আমি মোহে পড়ি,
তোমার কণ্ঠের,
তোমার ছোঁয়ার,
তোমার সেই অচেনা-চেনা চোখের—
যেখানে আমি নিজেকেই
নতুন করে খুঁজে পাই।
সুখের পর্দা টাঙাতে গিয়ে
অনেকবারই দুঃখের ছায়া ঢুকে পড়ে,
তবুও আমি হাল ছাড়ি না—
কারণ জানি,
তোমার পাশে থাকলে
সব অসম্পূর্ণতাও
একদিন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
আমি লোভী—
হ্যাঁ, স্বীকার করি,
তোমার সময়ের জন্য,
তোমার একটুখানি খোঁজ নেওয়ার জন্য,
তোমার ভালোবাসার প্রতিটি কণার জন্য
আমার ভেতরে এক অদম্য লোভ কাজ করে।
আমি স্বার্থপর—
কারণ আমি চাই,
তুমি শুধু আমারই হও,
আমার প্রতিটি ভোরে,
প্রতিটি নির্ঘুম রাতে,
আমার প্রতিটি গল্পে আর নীরবতায়।
তবুও এই স্বার্থপরতায়
কোনো কষ্ট নেই,
কোনো দাবি নেই—
শুধু আছে
তোমাকে আগলে রাখার
একটা নরম ইচ্ছে।
আমি তোমাকে পেতে চাই—
কিন্তু তার থেকেও বেশি
তোমার হয়েই থাকতে চাই,
তোমার সুখের ভেতর
নিঃশব্দে মিশে যেতে চাই।
কারণ আমি জানি,
এই পৃথিবীতে যত ভালোবাসা আছে,
তার ভেতরেও
তোমার জন্য আমার এই ভালোবাসাটা
একটু বেশি,
একটু গভীর,
একটু বেশিই স্বার্থপর…




















