সুচিস্মিতা চক্রবর্তী : আমার মা ছোটবেলা থেকেই আমাদের দুই বোনকে খুব যত্ন করে মানুষ করেছেন। আমিই মায়ের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। আমার জন্মের পর তিনি নিজের পড়াশোনা পর্যন্ত ছেড়ে দেন—শুধু এই একটাই লক্ষ্য নিয়ে, যেন তার সন্তান সঠিকভাবে মানুষ হতে পারে। আমাদের বড় করে তোলার জন্য তিনি নিজের স্বপ্নগুলো নিঃশব্দে ত্যাগ করেছেন।
ছোটবেলা থেকেই মা আমাদের খুব আগলে রাখতেন। কোন বন্ধুর সাথে মেশা ভালো, কার সাথে মিশলে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে—এসব তিনি ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দিতেন। তখন হয়তো সব বুঝতাম না, কিন্তু এখন বুঝি, তার প্রতিটি কথার পেছনে ছিল আমাদের ভালো থাকার চিন্তা।
শৈশবে কোথাও বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যেতে চাইলে মা অনেক সময়ই অনুমতি দিতেন না। তখন খুব মন খারাপ লাগত, মনে হতো মা কেন এত কড়াকড়ি করছেন। কিন্তু আজ বুঝতে পারি, মা যদি তখন এমন না করতেন, তাহলে হয়তো আমার জীবনটা আজ এত সুন্দর ও সঠিক পথে এগোতো না।
এখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। সময় বদলেছে, আমিও বড় হয়েছি। মা এখন নিজেই বলেন, “এখন তোমার বন্ধুদের সাথে ঘোরার সময়। তুমি এখন ভালো-মন্দ বুঝতে শিখেছো, তাই তোমাকে আর কোনো কিছুতে বাধা দেব না।” তার এই বিশ্বাস আর ভরসা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলে।
মা-বাবার অনেক ইচ্ছা ছিল, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়ব। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ছিল ভিন্ন—সেখানে আমার ইংরেজি বিষয় আসেনি। বর্তমানে আমি ইডেন মহিলা কলেজে ইংরেজি বিভাগে পড়ছি, আর এতে তারাই সবচেয়ে বেশি খুশি। কখনোই তারা আমাকে এ নিয়ে কোনো কটু কথা বলেননি বা হতাশ করেননি।
বরং প্রথম দিকে আমারই খুব খারাপ লাগত—মনে হতো, মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝেছি, সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটে। হয়তো এখানে আমার জন্য আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, আমার মা-বাবা খুশি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আজ বুঝি, মায়ের কঠোরতা আসলে ভালোবাসারই আরেক রূপ ছিল, আর বাবা-মায়ের নিঃশর্ত সমর্থনই আমার জীবনবড় শক্তি।
লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা।




















