সুচিস্মিতা চক্রবর্তী
গ্রামের নাম নারানপুর। গ্রীষ্ম এলেই এই গ্রাম যেন অন্য রূপ নেয়—তপ্ত রোদ, ধুলোমাখা পথ, আর পাকা আম কাঁঠালের মিষ্টি ঘ্রান।
দীপ্ত শহর থেকে দাদুর বাড়িতে এসেছে ছুটিতে। শহরের কংক্রিটের অসহ্য গরম এবং ধুলো, আর গ্রামের গরম এক নয়,এখানে গরমের মধ্যেও একটা আলাদা শান্তি শান্তি ভাব আছে। প্রথম দিনেই সে বুঝতে পারল, দুপুরের রোদ যেন আগুনের মতো ঝলসে দেয়। বাইরে বের হওয়া দায়! তাই দাদু বললেন,
“এই সময়টায় বাইরে না গিয়ে গাছতলায় বসে গল্প শোনাই ভালো।” এসো আমরা গল্প করি দাদুভাই।
বড় আমগাছটার নিচে বসে দাদু গল্প শুরু করলেন—তার ছোটবেলার গ্রীষ্মের কথা। কিভাবে তারা দুপুরে পুকুরে ঝাঁপ দিত, কিভাবে গাছ থেকে আম পেড়ে কাসুন্দী দিয়ে মাখা খেত, আর কিভাবে এত গরমের মধ্যেও আনন্দ খুঁজে নিত।
পরের দিন দুপুরে, দীপ্ত চুপিচুপি বেরিয়ে গেল। তপ্ত রোদে পা রাখা কঠিন, কিন্তু আম পেড়ে খাওয়ার লোভ সে সামলাতে পারল না। গাছের নিচে গিয়ে দেখে, কয়েকটা পাকা আম পড়ে আছে। সে একটা তুলে নিল—গরমে নরম হয়ে যাওয়া আমটা মুখে দিতেই মিষ্টি রসে ভরে গেল তার মন।
হঠাৎ পাশের বাড়ির সেতু এসে বলল,
একা একা খাচ্ছিস?
দীপ্ত থমকে গেল, ভয়ও পেল কিছুটা। ভয়ে আমতা আমতা করতে করতে বলল, না মানে আমি এমনিই আরকি….
সেতু হেসে উঠল, আরে বোকা তুই ভয় পেলি নাকি, আমি তো মজা করছিলাম।
দীপ্ত কিছুটা স্বস্তি পেল। তারপর সেতু বললো আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে এখন পুকুরে যাবো, তুই যাবি আমাদের সাথে?
দীপ্তর পুকুরের কথা শুনেই মনে পড়ে গেল দাদুর বলা তার ছোটবেলার গল্পের কথা। দীপ্ত সাথে সাথে রাজি হয়ে গেল পুকুরে যেতে।
সবাই দৌড়ে গেল পুকুরের দিকে। ঠান্ডা জলে ঝাঁপ দিতেই গরমটা যেন মুহূর্তেই উধাও। হাসি-খুশিতে কাটতে লাগল তাদের দুপুর।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দীপ্ত বুঝতে পারল—গ্রীষ্ম শুধু তপ্ত রোদ নয়। এই গরমের মাঝেই লুকিয়ে আছে আনন্দ, স্মৃতি আর এক ধরনের সরল সুখ।
সেদিন রাতে দাদুকে সে বলল,
“দাদু, গ্রীষ্মটা আসলে এত খারাপ না, তাই না?”
দাদু হেসে বললেন,
“জীবনের মতোই—কিছুটা কষ্ট, আর তার মাঝেই লুকিয়ে থাকে আসল সুখ।”




















