আপেল খেলে কি হয়?

প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না-এ কথা সবারই জানা। আপেলে থাকা পুষ্টিগুণ শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, দিনে ২টির বেশি আপেল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আপেলে রয়েছে ভিটামিন সি, ফাইবার এবং পটাসিয়াম। এসব উপাদানগুলো শারীরের বিষাক্ত পদার্থগুলো বের করে দেয়। তবে অতিরিক্ত আপেল খাওয়ার ফলে শরীরে একদিনেই শরীর বেশিমাত্রায় ক্যালোরি গ্রহণ করে।

এ ছাড়াও আপনি একদিনে যতই ভিটামিন সি গ্রহণ করেন না কেন তা কিন্তু শরীর থেকে প্রতিদিন বেরিয়ে যায়। তাই ভিটামিন সি দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২টির বেশি আপেল খেলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। জেনে নিন অতিরিক্ত আপেল খাওয়া অপকারিতা সম্পর্কে-

>> আপেলে থাকে ফাইবার। যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে পারে। যদি ফাইবারজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হয়; সেক্ষেত্রে পেট ব্যথা, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বমি হতে পারে। একজন মানুষের বয়স অনুযায়ী দৈনিক ২০-৪০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা উচিত।

>> ফাইবার ছাড়াও আপেলে রয়েছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট। এর ফলেই আমরা শরীরে এনার্জি পেয়ে থাকি। এজন্য ব্যায়াম করার আগে আপেল খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আপেল খেলে শরীর থেকে হ্যাপি হরমোন স্যারোটিন নির্গত হয়। যা আমাদের মনকে প্রশান্তি দেয়।

>> আপেল খাওয়া বেশি হলে, এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ কার্বোহাইড্রেট রক্তে সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়।

>> সর্বাধিক কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, এমন ফল বা সবজির তালিকায় প্রথমে রয়েছে আপেলের নাম। ডিফেনিয়াম্লামাইন নামক কীটনাশক আপেলে পাওয়া যায়। বুঝতেই পারছেন, দৈনিক যত বেশি আপেল খাবেন; শরীরে তত বেশিই কীটনাশক ঢুকবে।

>> আপেলে যেহেতু কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি; তাই এটি বেশি খেলে ওজন কমার বদলে বেড়ে যেতে পারে। অনেকে ডায়েটে আপেল রাখেন ওজন কমানোর জন্য। সেক্ষেত্রে ১টির বেশি রাখা উচিত নয়।

>> আপেলে প্রাকৃতিক এসিডও রয়েছে। তাই এটি বেশি খেলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।

>> দীর্ঘদিন ধরেই যদি আপনি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগে থাকেন; তাহলে আপেল খাওয়ায় বিরতি দিন। প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে এমন ফলগুলোও বদহজমের কারণ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *