১৬ তম পর্ব ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর


ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর

সোনিয়া আবেদীন

আজ সবাই তাবিন্দা মহলে হাজির হয়, বাড়িতে পা রেখেই ফাতেমা সামনের বাড়িটার দিকে তাকায়। এক সময় এই বাড়িতে বৌ হয়ে এসেছিল, কখনো ভেবেছে এভাবে বের হয়ে আসতে হবে।বাড়িটা ঘিরে কতো সুখ দুঃখের স্মৃতি, দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনে মনে বলে আজিম তোমার রাগের কারনে আমি আজ সংসার ছাড়া। ভাইয়ের ঋণের প্রতিদান এভাবে দিবে ভাবতেই পারিনি, এতো ভাই ভক্ত হবে যানলে তোমার জীবনে কখনোই জড়াতাম না।

নিজের সন্তানকে বিশ্বাস না করে ভাইয়ের বেইমান বাচ্চাদের বিশ্বাস করেছো, দেখো আজ আমরা সবাই এক সাথে । তুমি হয়তো আবারো বিয়ে করে সংসার সাজিয়েছো, সুখেই আছো তাই না। একবারো কি তোমার মনে হয়নি আমার সন্তানদের কথা, যাদের পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে নিতে।

তৃপ্তি : মা ভিতরে চলো, ঐ বাড়িতে তাকিয়ে কি হবে। ঐখানে আমাদের কেউ থাকে না। ফাতেমা টলমলে চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে ভিতরে যায়, ঠিকি তো বলেছে ঐখানে আমাদের আপনজন বলতে কেউ থাকে না।থাকলে আমরা বেরিয়ে যেতাম ,সাথে সাথে আমাদের আটকাতো।

নাজিম: রুপার শরীরটা খারাপ তাইতো কয়েকদিন ধরে এখানেই থাকছে, এদিকে কান্তা বার বার কল করছে ও সেটা কেটে দিচ্ছে। রুপা এসে যখন খাটে বসে তখনো কল আসে, নাজিম রুপার দিকে তাকিয়ে কল কাটবে তখন রুপা বলে।

কল ধরে কথা বলো তানা হলে কান্তা কল করে করে জ্বালাতে থাকবে। নাজিম তাই বেলকনিতে যায়, কল ধরে খুব রুক্ষ ভাষায় বলে।সমস্যা কি তোর কল কেটে দেই তুই দেখতে পারিস না ,নাকি আমাকে শান্তিতে থাকতে দিবি না।

কান্তা: এমন করো কেনো বলছো জান, আজ বাড়িতে আসো। কতদিন তোমার সাথে সময় কাটাইনা, আজ তোমাকে কাছে পেতে খুব ইচ্ছে করছে।তুমি দিনের পর দিন বাহিরে থাকছ এতে সবাই কি ভাববে বলো। তাছাড়া আমারো তো কিছু চাহিদা আছে,সেদিকে তোমার খেয়াল রাখতে হবে।

দেখ তোর এই সব আজাইরা কথা শুনতে আমার এখন আর ভালো লাগে না। আমি বাড়িতে আসলে তোর প্যান প্যান শুনতে পারবো না, তাই টাকা লাগলে নে তাও আমাকে ডাকিস না। তখনি রুপা চিৎকার করে উঠে, নাজিম দৌড়ে আসে।

কি হয়েছে তুমি চিৎকার করলে কেনো?

নাজিম আমার পেটে ও কোমরে অনেক ব্যথা, আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না।মনে হয় পুচকো আসার সময় হয়ে গেছে, তুমি আমাকে এখনি হাসপাতালে নিয়ে চলো, নাজিম রুপার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে।

এখনো তো পনেরো দিন বাকি, এখনি আসবে নাকি।

আরে ডেইটের আগে পিছে হয়, তুমি আমাকে নিয়ে চলো। নাজিম রুপাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, এদিকে কান্তা লাইনে থেকে সব শুনতে পায়। দৌড়ে যায় আজিজ সাহেবের কাছে, আজিজ ও নাজমুন মাত্র শুয়েছে তখনি কান্তা দরজায় জোড়ে জোড়ে থাপ্পড়াতে থাকে।

নাজমুন রেগে দরজা খুলে ,কান্তা তাকে পাশ কাটিয়ে রুমের মধ্যে ডুকে যায়।

মামা তোমার ছেলে আমার সাথে বেইমানি করছে, ও গোপনে আরেকটা বিয়ে করছে। আজ সেই বৌয়ের বাচ্চা হবে তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছে।তুমি তোমার ছেলের বিচার করো কেনো ও আমার সাথে এমনটা করল, আমি কি ভাবে এই ধোঁকা মেনে নিবো।

নাজমুন রেগেও চুপ হয়ে গেল, কারন নাজিমের দ্বিতীয় বৌর বাচ্চা হবে বলে।এই কান্তা তুই সত্যি বলছিস নাজিম বিয়ে করেছে আর ওর বৌয়ের বাচ্চা হবে।

কান্তা: হু হু হু সেটাইতো বলছি মামী, আমি ওকে বাড়িতে আসার জন্য কল করেছি। তখনি কথা বলা মাঝে শুনতে পাই ওর বৌয়ের চিৎকার।

আজিজ: তুই ঘরে যা, নাজিম যদি এমনটা করে তাহলে আমি ওর বিচার করবো।

নাজমুন : কি বিচার করবে যদি ও সময় মতো একটা বাচ্চা জন্ম দিতে পারতো, তাহলে কি আমার ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করত।

কান্তা মামীর দিকে আগুন চোখে তাকায়, শুরু থেকেই তার মামী তাকে বাচ্চার জন্য কথা শুনাত। তখন ও চেঁচিয়ে বলে আপনিই ওর কানের কাছে সারাদিন বাচ্চা বাচ্চা করে ওর মাথায় বাচ্চার ভুত ডুবিয়েছেন ,আপনার কারনে ও বিয়ে করেছে। আমি আপনার ছেলেকে ছেড়ে দিবো না, ওকে জেলের ভাত খাওয়াবো।

নাজমুন: গলা নামিয়ে কথা বল, ভুলে যাসনা তুই কি করেছিস। তোকে বলেছিলাম না বাচ্চা নে, নেসনি কেনো, স্বামী ধরে রাখতে পারিসনি আসছিস গলা বাজি করতে। ছেলেটা বাড়িতে আসলে একটুও শান্তি পায়না, সারাক্ষন প্যানপ্যান করিস। এবার খা সতীনের সংসার করে, আমাকে একেবারে চোখ দেখাবি না।

কান্তা: মামা আমি তোমার আসায় থাকলাম, বাকিদের সাথে বাড়তি কথা বলতে চাই না।

আজিজ: তুই ঘরে যা আমি দেখছি, নাজমুন তোমার মুখটা বন্ধ রাখো। তোমরা সুযোগ পেলেই ঝগড়া করো, তোমাদের এই সব দেখতে আর ভালো লাগেনা।

ডাক্তার এক ঘন্টা পরে নাজিমের হাতে একটা ছেলে বাচ্চা এনে দেয়, নাজিম খুশিতে কেঁদে দেয়। আজ এতো বছর পরে ওর জীবনে এই খুশিটা আসল, ছেলেকে বুকে জড়িয়ে বলে আমি তোর জন্য পুরো সমাজের সাথে লড়ে যাবো তারপরেও এই সুখকে কারো গ্ৰহন লাগতে দিবো না।

নাজিম যখন রুপাকে নিয়ে কেবিনে বসে খুশিতে রুপার কপালে চুমু খাচ্ছে তখনি নাজমুন বেগম কল করে। এতো রাতে মায়ের কল পেয়ে নাজিম ভয় পেয়ে যায়, কারো কিছু হলো কিনা ভেবে কেবিনের বাহিরে গিয়ে  কল রিসিভ করে।

নাজিম তুই নাকি আবারো বিয়ে করেছিস, সেই বৌয়ের নাকি বাচ্চা হবে।

নাজিম কপার কুঁচকে বলে তোমাকে কে বলেছে?

কান্তা বলেছে, ও তোর সাথে কথা বলার সময় নাকি শুনেছে, এটা নিয়ে বাড়িতে খুব চেঁচামেচি করছে। যাই হোক যদি বিয়ে করে থাকিস তাহলে কি বাবু হয়েছে।

নাজিম বুঝতে পারে তখন হয়তো কল কাটতে ভুলে গেছে, তাই কোনো বনিতা না করে ওর ছেলে হয়েছে যানায়। নাজমুন হাসপাতালে আসছি বলে কল কেটে দেয়, বাড়িতে ওর মা ওর বিয়ে মেনে নিয়েছে ভেবে সস্থির নিঃশ্বাস নেয়। কেবিনে এসে আবারো রুপার কপালে চুমু খেয়ে বলে।

রুপা তোমার কথা বাড়িতে সবাই যেনে গেছে, আমাদের ছেলেকে দেখতে ওর দাদী আসছে। দেখো আমাদের ছেলেকে দেখে মা তোমাকে বাড়িতে নিয়ে যাবে। আমার বাবাটা অনেক ভাগ্যে নিয়ে এসেছে,ছেলের গালে হাত দিয়ে, আব্বু দাদী আসছে তোমাকে দেখতে, ওরপর দেখবে দাদাও আসবে।

দূর্বল শরীরে রুপা হাসে, আর মনে মনে বলে ,কান্তা এরপর তোর জীবনটা আমি নরকে পরিনত করবো। তুই নিজের জীবনের প্রতি করুনা করবি কেনো সেদিন আমার ভাইয়ের সাথে এমনটা করেছিলি। তোদের মা মেয়ের কারনে আমার ভাইটা পথের ফকির হয়েছে, যা আমাদের কাছ থেকে নিয়েছিস তার দ্বিগুন ফেরত দিবি।তারপরে ও তোদের অনুতাপ শেষ হবে না।

নাজমুন হাসপাতালে এসে হাজির হয়, নাতিকে দেখে খুশির সীমানা থাকে না, কোলে নিয়ে কপালে চুমু দিয়ে বলে তোদেরকে আমি বাড়িতে নিয়ে যাবো দেখি কে আমাকে আটকায়। রুপা এই কথা শুনে হেসে দেয়,এটাই তো চেয়েছিল। শত্রুর সামনে না গেলে শত্রুতা করবে কেমন করে। সব হারানোর হাহাকার দেখতে চায় কান্তার চোখে ,যেই হাহাকার নিয়ে ওর ভাই দিনের পর দিন চলেছে।

তাহুর রাতে ঘুম আসে না তাই চুপি চুপি ছাদে যায়, সামনের বাড়িটার দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।এই বাড়ি, বাগানে এক সময় কতো বিচরন করতো আজ সেখানে ওর পা পরেনি কতো বছর। আচ্ছা বাবা কি সত্যিই আবার বিয়ে করে সংসারী হয়েছে, তার কি আমাদের মতো বাচ্চাও আছে। আমাদের কথা কি বাবার একবারো মনে পড়েনি।

মিরাফ: কি করছো কাঁদছো, সারাদিন তো খুব শক্ত হয়ে ঘুরলে এখন দেখি এখানে এসে চোখের পানি ফেলছো।তুমি সবার সামনে নিজের আবেগ কি সুন্দর করে লুকিয়ে রাখলে, এখন রাতের আঁধারে পুরনো স্মৃতি মনে করে কাঁদছে। আমাকে বলো কি এমন কষ্ট তাহলে দেখবে মনটা হালকা লাগবে।

তাহু চোখের পানি মুছে কিছু বলতে নিবে তখনি পা বেঁকে পড়ে যেতে নেয়। সাথে সাথে মিরাফ ওকে ধরে ফেলে, দুজনের এতোটা কাছাকাছি আসাতে প্রথমে অবাক হলেও পরে লজ্জা পায় । তাহু সরি বলে ঠিক হয়ে চলতে গেলে আবারো পড়ে যেচে নেয়। মিরাফ এইবার আরো কাছে ধরে দাড় করায়,তুমি যতোই আমার কাছে থেকে পালাতে চাইবে নিয়তি ঠিক ততোটাই আমার কাছে তোমাকে আনবে। তাহু অবাক  হয়ে মিরাফের দিকে তাকায়, আজ এই চোখো কোনো দুষ্টুমির ছাপ নেই আছে এক রাশ মুগ্ধতা। যা দেখে তাহুর ভিতরটা নাড়া দিয়ে উঠে, নিজেকে ছাড়িয়ে তাড়াতাড়ি দৌড়ে নিচে নেমে যায়, মিরাফ ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।

এলোকেশী কন্যা হতোই নিজেকে লুকাতে চাইবে, শেষে আমার কাছে এসে ধরা দিবে। আমি এই কয়েকদিনে তোমার প্রেমে পড়ে গেছি ,তাই অতি দ্রুত তোমাকে আমার করে নিবো। পুতুল বৌ বোন হবে আমার পরি বৌ, ইসসস পুতুল বৌ যখন শুনবে তার বোনকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি তখন সে খুশি হবে ।

কিন্তু আমার লাইফের ভিলেন ভাইটা একটা না একটা বাগড়া বাজাবে, ভালো লাগে না। আমি শিউর এতো বছর ভাইয়াকে যেই জ্বালানি জ্বালাইছি তার শোধ তুলবে। আল্লা ঐ ভিলেনের মনে একটু রহম দিও, আমাকে যেনো বেশিদিন সহ্য করতে না হয়।

আয়মান ভাইয়ের আকুতি এতোক্ষন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনে, মুচকি হেসে বলে। এবার তোর খবর নিবো বাচ্চু ,আমার জানকে নিয়ে এতো বছর আমাকে জ্বালিয়েছিস, তোকে ছয়মাস তো জ্বালাবোই ।যাই বৌটাকে আজকে একটু বেশি করে আদর করে আসি, ইসসস মিরাইফা তুই আমাকে এতে বড় খুশির কারন দিয়ে দিলে, এখন প্রতিদিন তোকে দেখিস কিভাবে আতঙ্কে রাখি।

রুমে ডুকে তাহু হাঁপাতে থাকে, এই প্রথম কোনো ছেলের এতোটা কাছে গিয়েছে ভাবতেই ওর শরীরে কাঁপন ধরেছে।ছেলেটার চাহনি কেমন ঘোর লাগা ছিলো, এতোদিন তো দুষ্টুমি করতো, তাহলে আজ ঐ কথা বললো কেনো।নাআআআ আমি এই সব কি ভাবছি, এই ছেলে আমাকে পছন্দ করবে কেনো।বিছানায় শুয়ে ঘুম আসছেনা ,কেবল দুজনের কাছে আসার সময়টা মনে পড়ছে।

আয়মান রুমে এসে দেখে তৃপ্তি মাথার চুল ঠিক করছে, মেয়েটা আজ নানুর সাথে ঘুমাবে তাই তৃপ্তির পিছনে দাড়ায়। তৃপ্তি আয়নার ভিতর দিয়ে স্বামীর মুখের দিকে তাকায়, আর আয়মানকে খুব খুশি লাগছে।

কি ব্যাপার ডাক্তার বাবু মনে আজ এতো রং লেগেছে কেনো ?

এতো সুন্দর হট একটা বৌ থাকলে মনে সারাদিনি রং লেগে থাকে।

তাই নাকি যানতাম না, এবার আসল কাহিনী বলো তো।

সকাল হক তারপর আসল কাহিনী শুনে,কাছে আসো মনের সব রং দিয়ে তোমাকে রাঙ্গিয়ে দেই। বলে তৃপ্তিকে কোলে নিয়ে খাটে যায়, তৃপ্তি তার মানের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ বন্ধ করে ফেলে।

আমজাদ নতুন বউকে নিয়ে বাড়ির পা রাখতেই যেন জমে থাকা অশান্তি হঠাৎ ফেটে পড়ল। নিলা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। কাঁপা শরীর নিয়ে সে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল ,এ সব কি আমজাদ তুমি বুড়ো বয়সে আবারো বিয়ে করছো।

বাড়িতে তখন নিখিলের মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে পার্টি চলছিল। চারপাশের মানুষ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকল। নিলার চোখে কেবর সামনে লাল শাড়ি পড়া মেয়ের দিকে আটকে আছে । নিলা আবার চিৎকার করে বলে আমাকে বিয়ে করার আগেই এই আমজাদ তার আগের বউ, নিষ্পাপ বাচ্চা আর নিজের বোনকে পুড়িয়ে মে*রেছে।এখন কি আমাকে আর আমার ছেলেকে মা*রার ইচ্ছা আছে, সবকিছু চাপা দিয়ে আজ নতুন সাজে হাজির হয়েছে!

এক মুহূর্তে ড্রয়িং রুম জুড়ে নেমে এলো ভয়ংকর নীরবতা। কারও মুখে কথা নেই, কারও চোখে অবিশ্বাস, কারও চোখে আতঙ্ক। নতুন বউ হতভম্ব হয়ে আমজাদের দিকে তাকিয়ে রইল, আর আমজাদের মুখ ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে গেল যেন নিলার চিৎকার তার লুকিয়ে রাখা অন্ধকারকে সবাইয়ের সামনে টেনে এনেছে।

মারিয়া : তুমি মিথ্যা বলছো ওর নামে, আমার আমু এমন কোনো কাজ করতে পারেনা। যদি করেও থাকে তাহলে সেই সব কাজের প্রমান দাও, আমাকে বিয়ে করেছে বলে তুমি হিংসায় এই সব কথা বলছো।

নিলা: তোর লজ্জা করলনা বাবার বয়সের লোকটাকে বিয়ে করতে, তুই তো টাকার জন্য ওকে বিয়ে করেছিস।

আমজাদ: নিলাআআআ মুখ সামলে কথা বলো, আমি ওর প্রেমে পাগল হয়ে বিয়ে করেছি। ওকে মেনে নিয়ে সংসার করতে পারলে এই বাড়িতে থাকো নয়তো দরজা খোলা আছে যেতে পারো।

নিখিল: বাবাআআ তুমি মায়ের সাথে এভাবে কথা বলতে পারো না।

মারিয়া: না লজ্জা করে না,ভালোবাসায় কোনো বয়স থাকে না, তাই মুখ বন্ধ রাখো আর লোক আসবে আমাদের বাসর ঘর সাজাতে তাই আজকের মতো পার্টি এখানেই শেষ সবাই যেতে পারেন।

একে একে সবাই চলে যায়, নিলা রাগে কাঁচের বাসন রাখা সেগুলো ভেঙ্গে ফেলে, স্বামীর এতোটা কাছে মারিয়াকে দেখে একটা ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা নিয়ে মা*রতে যায়। তখনি আমজাদ নিলাকে থাপ্পড় মে*রে সরিয়ে দেয় ,আর বলে।

দেখ তোকে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছি এইটাই বেশি, আমাকে বুড়ো বয়সে শান্তি দে। তোর কারনে আমি দিন দিন ম*রে যাচ্ছি, ভুলে যাসনা তোর অপরাধের কথা। আমি কিন্তু তাবিন্দাকে মা*রিনি, মে*রেছিস তুই, সেই প্রমান আমার হাতে আছে। তাই এই সংসারে থাকতে হলে চুপচাপ থাকবি, মারিয়ার সাথে লাগতে আসবি না।

আর নিখিল এখনো আমার ইনকাম খাও তাই মায়ের সাথে সাথে নিজের মুখ বন্ধ রাখবে তানা হলে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো। তাছাড়া তুমি আমার একমাত্র সন্তান আমার পরে সব তোমার থাকবে। তাই মায়ের কথায় কিছু ভুল করো না। বাবার কথায় নিখিল দমে যায়, ভালো করে তাকিয়ে দেখে বাবার পাশের মেয়েটা সেই সুন্দর। মেয়েটা ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে তাতে ওর লোভী মন ভরে উঠে।

বাকি পর্ব পড়ুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *