রানা সোহেল মেঘদূত
মন খারাপের শ্রাবনে
মেঘের ছুটোছুটি।
বিষন্ন আকাশের ছাদকোণে
একটা কদম ফুলের কান্না।
টবে রাখা ক্যাকটাসে টপ টপ বৃষ্টির জলরং।
ঘাসেদের শয্যায় পড়ে থাকা
বিহ্বল ঝরাপাতা
ভিজে যায়
ভিজে যায় পথের নেশা।
মন খারাপের বিকেলে
একা পাখি হতভম্ব উড়োউড়ি।
পথঘাট স্যাতস্যাতে কাব্য।
ভেজা আস্তিনে
ভেজা বুক পকেটে
ভেজা ললাটে
অপেক্ষার কাঙালিপনা।
আর আমি ভিজে যায়
ভিজে যায়
তোমার ভেজা পথে।
নজরুল জয়ন্তী কিংবা রবীন্দ্রনাথের গানে,
মঙ্গলপ্রদীপের আলো কিংবা
মঞ্চের এক পাশে
মাইক্রোফোন হাতে
জয় গোস্বামীর কবিতায়,,
আর কবেকার সেই সাদা পাড়ে কালো আলপনা শাড়ী,
এ শহরময় ভেজা সব বাক্সবাড়ীর ছাদ,
গাড়ী,বিলবোর্ড, হিজল গাছ,
ফুটপাতের বেঞ্চে মানুষগুলো।
হন্তদন্ত নাগরিক।
ভিজে যায়।
তুমি কি ভিজো এ শ্রাবনজলে?
তুমি কি ভিজছো এখন কোনো রাস্তায়,
তুমি কি পাঠ করছো বৃষ্টির কোনো কবিতা
কবিতার ক্লাসরুমে?
তোমার ললাট,চুল।ঠোঁট
শাড়ী
ভিজে জবোতবো হচ্ছে কি
এখন
কোথাও,,,
দূরে কোথাও।
মনে পড়ে,
কোনো এক
পাহাড়ের গা ঘেঁষে বয়ে চলা নদীটার কিনারে সবুজ জামায় তুমি
আনমনে হাটতে হাটতে ভিজছিলে
প্রশান্তি ছায়ায়?
ভিজেছিলে
নাকি
পুঁড়েছিলে নিজে?
বৃষ্টি নাকি অনল ছিলো সেদিন?
আমিতো দাহ হয়েছিলাম কি এক অদ্ভূত আনন্দে।
ছুঁতে না পারি চোখের আয়নায়,, ভাসছিলে।
আমি
তোমার ম্মৃতিময়ে ভিজি।
হয়তো সাতচল্লিশে
পঞ্চাশে,
একষট্টিতে,
সত্তরে,,,
যদি জীবন হয় একশো বিশের।
তখনো হয়তো এই মন খারাপের
শ্রাবন আমাকে ভেজাবে।
তোমার স্মৃতিতে।
তখন হয়তো তোমার স্মৃতিতে
রইবো না আমি।
শ্রাবনের জল সব ধুয়ে দিবে তোমার।
তুমি তখন হয়তো শ্রাবনের,
কদমের অথবা মেঘের কলরবে
কান পেতে শুনবে,,
এসো কর স্নান নবধারা জলে।
তখন হয়তো তোমার জন্য থাকবে না কোনো মনখারাপের শ্রাবন।
শুধু মনে করতে চেষ্টা করো
স্মৃতি হাতড়ে
কি নামে ডাকতাম তোমায়?
মনে পড়ে?
অতি বিস্মৃতি পুরুষকে পাখি করে দেয়।
নারীকে করে দেয় পাথর।।।
তুমি পাথর হয়ো না
আমিও না হবো পাখি।।
মানুষ থাকো৷ এই শ্রাবনে।
আমি থাকি মানুষ।এই শ্রাবনে।
এই চোখের শ্রাবনে।




















