বাংলাদেশের স্ট্রিট ফুডে নজরদারি বাড়ানো জরুরি

মিম আক্তার : দেশের প্রায় প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান দেখা যায়। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে ফুচকা, ঝালমুড়ি, চটপটি, চানাচুর, আচার, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার,বিভিন্ন ধরনের রঙিন কোমল পানীয় ইত্যাদি। বেশিরভাগ সময় রাস্তার পাশেই এসব দোকান বসতে দেখা যায়।

স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধিসম্পর্কে জ্ঞান কম থাকায় এবং খাবার তৈরিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখায় সহজেই খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। খোলা অবস্থায় থাকার ফলে তাতে মাছি ও ধুলাবালি পড়ে। এছাড়াও এসব খাবারে কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া রঙিন ও কৃত্রিম হওয়ায় সহজেই শিশুদের আকৃষ্ট করে। ফলে এসকল খাবার নিয়মিত খেলে গ্যাস্ট্রিক, পেটখারাপ , এমনকি গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

ঢাকার প্রায় ৯০% রাস্তার খাবারে ই-কোলাই, সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর জীবাণু এবং বারবার পোড়া তেল ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ক্যানসার ও ডায়রিয়ার কারণ । বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি প্রশিক্ষণ, লাইসেন্সিং এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে তাদের খাদ্যাভ্যাসেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শহুরে শিশুদের অতিরিক্ত চর্বি, লবণ ও চিনি-যুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে তাদের ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা ও পেটের সমস্যা বাড়ছে।

এই সমস্যা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্কুলের সামনে খাবারের দোকানগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে অস্বাস্থ্যকর খাবার তৈরির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও স্কুল কর্তৃপক্ষকে স্কুলের ভেতরের ক্যান্টিনে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে যাতে শিশুরা বাইরের খাবারের প্রতি কম আকৃষ্ট হয়। সর্বপরি অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শিশুদের ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার দিতে হবে, এতে শিশুদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সেমিনারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। সরকার, স্কুল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত চেষ্টাই পারে এই সমস্যা এড়াতে।

লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *