বর্ষপ্রার্থনা: মানুষের দিকে

চৌধুরী রুহাশ

রাত শেষ হয়েছে কিনা
কেউ জানে না।
তবু
পাখি ডেকেছে।

আলো এসেছে
কোনো ঘোষণা ছাড়া—
জানালার কোণে
চুপচাপ দাঁড়িয়ে,
যেন অনেকদিন ধরে
অপেক্ষা করছিল
ভেতরে আসার।

কেউ ডাকেনি,
তবু
দিন খুলে গেছে।

মানুষ
আজ একটু বেশি মানুষ।
চেনা মুখগুলো
একটু বেশি কাছের মনে হয়—
যেন দূরত্ব
রাতের বেলা
একটু গলে গেছে।

হাতে হাত,
রাস্তা ভাগ হয় না—
শুধু লম্বা হয়।
পায়ের তলায়
একই মাটি,
একই ধুলো,
একই পুরনো পৃথিবী—
তবু আজ
একটু অন্যরকম।

কুয়াশা সরলে
সূর্য নয়,
দেখা যায় আশা।
সে আশা
কারো মুখে লেখা নেই—
বুকের ভেতর
চুপ করে বসে থাকে,
অনেকদিন ধরে।

যারা কাঁদছিল—
তারা জানালার দিকে তাকায়।
হয়তো
আজ জল মুছবে।
হয়তো
বাইরের হাওয়াটা
একটু অন্যরকম।
হয়তো
এইটুকুই যথেষ্ট।

যারা হারিয়েছে ঠিকানা,
তারা আকাশ মাপে—
নিজের মতো।
ঠিকানা না থাকলেও
আকাশ তো থাকে।
আকাশ
কাউকে ফেরায় না।

চৌরাস্তার মোড়ে
কেউ বলে—
আলো আসছে।
কেউ শোনে,
কেউ শুনতে চায়,
কেউ
এতদিন পরে
বিশ্বাস করে।
বিশ্বাস—
সেও তো একরকম
মানুষের দিকে হাঁটা।

কেউ তাড়ায় না কাউকে,
কেউ বলে না
সরে দাঁড়াও।
আজকের রাস্তায়
সবার জায়গা আছে।
এইটুকু
কম কথা নয়।

সবাই
পাশাপাশি হাঁটে।
কথা না বললেও
পাশে থাকাটুকু
কথা বলে।
মানুষ
এভাবেই
মানুষকে বলে—
আমি আছি।

ধীরে—
খুব ধীরে—
যেন ঘুম ভাঙছে কারো,
যেন মনে পড়ছে
ভুলে যাওয়া একটা নাম,
যেন ফিরে আসছে
হারানো কেউ—

পৃথিবীটা
মানুষের দিকে
ফেরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *