মানবধর্ম

তানজিম তানহিয়াত শৈলী

আমি হয়তো কিছু বিষয়ে কম বুঝি। কিন্তু এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো নিয়ে আমি তীব্র ভাবি এবং যুক্তিশীল। আমি ছোটবেলা থেকেই ধর্মান্ধ নই। আমি অভজার্ভ করে দেখছি যে প্রতিটি ধর্মেই ভালোর পাশাপাশি খারাপ আছে। যেমন আমাদের ধর্মে চুরি করার শাস্তি হাত কেটে দেয়া যা খুবই অমানবিক এবং অযৌক্তিক। প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা এমন বিধান করতে পারে না।

আমি অবজারভেশন আর গবেষণা করে দেখলাম যে সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আছেন তবে তিনি একজনই। আমি মূলত আস্তিক তবে ধর্মহীন। আমি মনে করি নির্দিষ্ট ধর্মের লক্ষ্য হলো তার নিয়মকানুন মেনে নৈতিকতা ও সেই ধর্মের স্রষ্টাকে চেনানো আর সৃষ্টিকর্তার ধর্ম হলো মানবিক গুণাবলি পালন করে আসল ইবাদত বা উপাসনা করা।

বলতে চাচ্ছি যে আমার সততা ও স্বচ্ছতা, দয়া ও মানবসেবা, ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতা, ক্ষমা করার মানসিকতা, জ্ঞান অন্বেষণ ও চিন্তা করা , পরিশ্রম করা ও সৎ উপার্জন করা এগুলোর মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য অর্জন করা। আমার ধারণা সৃষ্টিকর্তা এমন গুণাবলির মানুষ পছন্দ করেন। সহজ কথায়, “মানুষের ক্ষতি না করে তার উপকার করা এবং নিজের চরিত্রকে সুন্দর রাখা”—এটুকুই যথেষ্ট একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য। অর্থাৎ আমি একজন মুক্তমনা আস্তিক। সৃষ্টিকর্তা আছেন, বিবেকই পথপ্রদর্শক, কর্মেই পরিচয়।লালনের মানবধর্ম প্রকৃত ধর্ম। তবে গাঁজা না খেয়ে শরীরের ক্ষতি না করে, স্বাভাবিকভাবে নিজের মতো এটা পালন করা উচিৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *