খাদিজাতুল খোরশেদ খুশি : পথে হাঁটতে গিয়ে আকাশের দিকে তাকালেই দেখা যায় একাধিক তার ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। কখনো উপরে তাকাতে হয়না,মাথা ছুই ছুই করে এমন উচ্চতায় তারগুলো ঝুলন্ত থাকে। শুধু ঢাকা শহরেই নয় অন্য জেলাগুলোতেও এমন ঝুলন্ত তারের অভাব নেই।রাস্তাঘাট, ফুটপাত থেকে শুরু করে সব জায়গায়ই এমন ঝুলন্ত তার। বিদ্যুতের তারের সাথে রয়েছে টেলিফোন, ইন্টারনেট, ক্যাবল টিভি,ও বিভিন্ন সংস্থার অসংখ্য তার।বর্ষাকালে এসব তার পানিতে তলিয়ে মানুষ মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে প্রতিবছর।তবুও কতৃপক্ষের নেই কেনো নজরদারি। ঝুলন্ত তারের কারনে অসুবিধা হলো-
বর্ষাকালে মৃত্যু ফাঁদ : বর্ষাকালে ভারী বর্ষণে রাস্তা ঘাট ডুবে যায়।শুধু ঢাকা শহরই নয় গ্রামেও দেখা যায়, বৈদ্যুতিক তার মাঠে,ক্ষেতে পড়ে আছে। বর্ষাকালে যখন গ্রামে পানিতে টইটম্বুর হয়ে যায় মাঠগুলো তখন বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে প্রাণীর মৃত্যু হয়। আর শহরে তো ভেজা তার ও পানিতে ছোঁয়া খুঁটির সংস্পর্শে এমন দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা : অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীর অনেক অগ্নিকাণ্ডই হয়েছে বৈদ্যুতিক তার থেকে। অনেক সময় বিদ্যুৎ ও ক্যাবল তার একসঙ্গে বাঁধা থাকায় একটি লাইনে শর্ট সার্কিট হলে সেটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।খোলা তার বা ছিঁড়ে পড়া লাইভ তার থেকে হঠাৎ করে যেকোনো সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বৃষ্টির দিনে বা জলাবদ্ধতায় এসব তার থেকে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পথচারী বা স্থানীয় বাসিন্দাদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে থাকে। অনেক সময় পুরোনো বা নিম্নমানের তার ব্যবহার করায় অতিরিক্ত লোডে তা গরম হয়ে বিস্ফোরণও হয়।
নগরের সৌন্দর্য নষ্ট : ঝুলে থাকা তারগুলো অপরিকল্পিত নগরায়নের উদাহরন।বিদেশি পর্যটক কিংবা নতুন কেউ ঢাকায় এলেই প্রথম চোখে পড়ে এই বিশৃঙ্খলা। নানান অফিশিয়াল ডকুমেন্টস, ভিডিও,ফুটেজ নেয়ার সময়ও ক্যামেরায় ধরা পড়ে এই তার গুলো। কিছু স্থানে দেখা যায় গাছের উপরও ঝুলে রয়েছে তার গুলো।সুতরাং ঝুলন্ত তারগুলো সৌন্দর্যহানি ঘটায়।
জনগণের চলাচলে অসুবিধা : প্রায়শই কিছু স্থানে হাঁটতে গিয়ে ঝুলে যাওয়া তার থেকে মাথা বাঁচিয়ে চলতে হয়। আবার হাঁটার সময় এমনও দেখা যায় যে, তার খুলে রাস্তায় পড়ে আছে। রাস্তার উপর ঝুলে যাওয়া তারের কারনে যানবাহন চলাচলেও অসুবিধা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন “আকাশ তারমুক্ত” প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যেখানে পুরান ঢাকা ও নগরের নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে তার ভূগর্ভে নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও এর বাস্তবায়ন নেই। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ ইন্টারনেট ও কেবল অপারেটরদের ঝুলন্ত তার সরানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
এসব সমস্যা সমাধান না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারন হতে পারে। উপরোক্ত সমস্যা দূর করতে কর্তৃপক্ষের এসব দিকে নজরদারি প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলোতে সকল তার আন্ডারগ্রাউন্ডে দেয়া হয়। আমাদের দেশেও তারের জঞ্জাল মুক্ত করতে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং দরকার। সেই সাথে পুরাতন এবং ঝুকিপূর্ণ তারগুলোও বদলানো এবং দেশের সব স্থানের তারগুলোও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তবেই জনগণের নিরাপত্তার পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।
লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি।





















