অপেক্ষার নীল কাব্য


উম্মে হাবিবা

​অবাধ্য নয়ন লগ্ন ওই দূর পথের বাঁকে,
অনন্ত চাতক সম, শূন্যতায় তোমাকেই ডাকে।
প্রতিটি স্পন্দন যেন ভুল করে তোমারই চরণধ্বনি,
পলক ভুলা আঁখি দুটি, বিরহের নীল মণি।

​জানো কি, আমার যত ক্ষুদ্র শখ, রঙিন খেয়াল,
সযতনে তুলেছি আলমারিতে, গেঁথেছি মৌন দেয়াল।
তোমার আসার সেই লগ্ন, পরম পবিত্র ক্ষণ,
সবার অগোচরে তাই সাজাচ্ছি এ নিভৃত মন।
সে আনন্দ অনুপম, অনন্য, সতেজ এক ধারা,
তাকে পেতে সবকিছু হেলায় দিয়েছি আজ ধরা।

​ওই যে মলিন কাঠগোলাপ, জানি সে সব জানে,
আমার নীরব বিকেলের অব্যক্ত অভিমানে।
যে বৃক্ষ ছিল একদা মমতার পরম আশ্রয়,
তাকে আর স্পর্শি না আজ, অদ্ভুত এক ভয়!
যদি তার প্রতি এই মায়া, এই কোমল যতন,
তোমার জন্য জমানো প্রেম করে দেয় বন্টন?

​হারিয়েছি আমি নিজেকে, নেই আর নিজস্ব সত্ত্বা,
আমার হাসি, আমার অশ্রু, আমার যত নীরব কথা।
উচ্ছ্বাস কিংবা দীর্ঘশ্বাস, এখন সব তোমারই নামে,
আমার সমস্ত অস্তিত্ব বাঁধা তোমারই অলীক খামে।

​তুমিই সেই কামনার পুরুষ, হৃদয়ের গহন বনে,
যার আনাগোনা অবিরাম, বিচরণ অনুক্ষণে।
লোকে বলে ভাগাভাগিতে বাড়ে প্রেমের মাধুরী,
আমি যে তোমাকে নিয়ে স্বার্থপর, বড্ড একরোখা ভারি!
ভাগ দেব না কাউকে তোমার, তুমি শুধু আমারই ধন,
তুমি যে মানুষ নও শুধু, বেঁচে থাকার অবলম্বন।

​নিভৃত অন্তরে বাজে চিরন্তন এক সুর,
তুমিই সেই স্বপ্নের অর্ধাঙ্গ, গন্তব্য অচিনপুর।
গৃহ পূর্ণ করা মম সেই হৃদয়ের অধিপতি,
সহস্র জনম ধরি যাকে চেয়েছি পাইতে গতি।
এই অন্তহীন প্রতীক্ষা, ভালোবাসার গভীর অতল,
আমাকে পূর্ণতা দেয়, মুছে দেয় সব কোলাহল।
এসো হে প্রিয়, ফিরে এসো, এই শূন্য বসুন্ধরায়,
তোমার পরশ বিনা, আমার পৃথিবী যেন হারিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *