উম্মে হাবিবা
রুধির-স্নাত সেই তামস নিশীথে, যখন শৃঙ্খল ছিল অলঙ্ঘ্য নিয়তি,
পলিমাটির গহন কোটরে জেগে ওঠে এক আদিম, অবিনাশী জ্যোতি।
সে কি কেবল শৌর্য? নাকি মন্মথ-মমতার কোনো নিগূঢ় আরক?
জননীর জঠর চিরে বের হওয়া সেই এক প্রচণ্ড কালপুরুষের স্মারক।
মমতার যে মহাকাব্য আপনি লিখেছেন, তার অক্ষরগুলো আজ নিরাকার,
সেখানে মিশে আছে শোণিত-তর্পণ আর সহস্র মা-বোনের হাহাকার।
স্বৈরাচারী খড়্গের নিচে যখন মুখ থুবড়ে পড়েছিল মানচিত্রের ঘ্রাণ,
তখনই জন্ম নিল এক বিদ্রোহীসত্তা—অক্ষয়, অব্যয়, মহাপ্রাণ।
বিনিময়হীন যে প্রেম, তাকে কি কেবল দেশপ্রেম বলা সাজে?
সে তো এক অলৌকিক স্পন্দন, যা প্রতিটি অণু-পরমাণুর মাঝে বাজে।
মৃত্তিকার প্রতিটি কণা আজ এক একটি শাণিত তলোয়ার,
সেখানে জননী আর জন্মভূমি মিশে একাকার—স্বর্গের চাইতেও দুর্মর ও সার।
পরাধীনতার যে কালকূট, তাকে অমৃত করার এক দুর্মর পণ,
নয়টি মাস ধরে চলেছিল আত্মার সাথে জড়ের এক দুর্ভেদ্য রণ।
সেই রণাঙ্গনে ঝরে পড়া প্রতিটি বিন্দু কি কেবলই লোহিত জল?
নাকি তা এক জাতির পুনর্জন্মের তরে গচ্ছিত অজেয় মানসিক বল!
আজও যখন গোধূলির রক্তিম আভা মেশে পতাকার লাল বৃত্তে,
আমরা খুঁজি সেই হারানো মমতার বীজ, আমাদের ক্ষয়িষ্ণু চিত্তে।
স্বাধীনতা কোনো অর্জিত লুণ্ঠন নয়, এ এক শাশ্বত দায়বদ্ধতা—
মমতার চাদরে মোড়ানো, জননীর অশ্রুভেজা এক অমর সার্থকতা।





















