হুসাইন আহমাদ :
মাদ্রাসা – ইসলামী শিক্ষার বিদ্যলয়। এই বিদ্যলয়ের সুচনা হয়েছিলো ছিলো আজ থেকে আরো দের হাজার বছর পূর্বে মানব কুলের সেরা মানব হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে “দারে আরকাম” থেকে। মসজিদে নববীর চত্ত্বরের শিক্ষার্থীরা “আহলে সুফফা” নামে পরিচিত। সে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আর তার ছাত্র ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ছাত্র হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাযি.। এরপর তাবেঈনদের যুগেই মসজিদে নববীর অনুকরণে মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা সর্বত্র প্রচলিত হয়ে পড়ে। যেখানেই মুসলিম বসতি গড়ে উঠতো, ইবাদতের প্রয়োজনে সেখানেই মসজিদ গড়ে উঠতো অনিবার্যভাবে, তার সাথে সাথে ঐ মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতো একটি মাদ্রাসা।
এভাবেই ৪০০ হিজরী পর্যন্ত মুসলমানদেন শিক্ষাব্যবস্থা মসজিদ ভিত্তিকই ছিল। সর্বপ্রথম মিশরের শাসনকর্তা বাদশাহ হাকেম বি-আমরিল্লাহ রহ. মসজিদ থেকে পৃথক করে শিক্ষাদীক্ষার জন্য একটি আলাদা গৃহ নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু তা টিকে থাকেনি। অনেকেই বলেন বাদশাহ নিযামুল মূলক তুসি রহ. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাগদাদের মাদ্রাসা নিযামিয়াকে সর্বপ্রথম মাদ্রাসা। পরবর্তী সময়ে আফগান শাষক সুলতান মাহমুদ রহ. ৪১০ হিজরিতে গজনীতে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মসজিদের পাশে শিক্ষাদীক্ষার জন্য একটি পৃথক গৃহ নির্মাণ করেন। এরপর সুলতান মাহমুদের অনুকরণে আমির-উমারারা ও পরবর্তী সম্রাটগণ ব্যাপক হারে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
মুসলিম শাষনামলে সরকারি পৃষ্টপোষকতায় গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে গড়ে উঠেছিল হাজার হাজার মাদ্রাসা। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদি ইংরেজ বেনিয়া গোষ্ঠি তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য কলা-কৌশলে মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেয়। এবং এত পরিমান ওলামায়ে কিরামকে শহিদ করে যার সংখা প্রায় লক্ষের কাছাকাছি। এই নির্বিচার পার্শ্ববিকতার ফলে অল্পদিনেই মুসলিম সন্তানেরা ভুলে বসেছিল তাদের ইমান-অকিদা, নিতি-নৌতিকতা ও শিক্ষাদীক্ষা।
উম্মাহের এই নাজুক পরিস্থিতিতে দ্বীনি ইলম ও ইসলামি তাহযিব-তামাদ্দুম সংরক্ষণ ও প্রচার-প্রসাবের সুমহান উদ্দেশ্যে, এবং এক জীহাদি কাফেলা গরার লক্ষে, হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি রহ. এর ইঙ্গিতে, মাওলানা কাসিম নানুতাবি রহ. এর নেতৃত্বে এবং যুগশ্রেষ্ঠ বুযুর্গানে দ্বীনের হাতে ১২৮৩ হিজরির ১৫ মুহাররম মাসে ভারতের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক দারুল উলম মাদ্রাসা। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামি শিক্ষা-দীক্ষার এক নতুন দিগন্তের অভ্যুদ্বয় ঘটে। যার ফালে এ উপমহাদেশ সহ পৃথিবীর আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে বহু মাদ্রাসা, যেখান থেকে প্রতিনিয়ত বিলানো হচ্ছে ইলমে দ্বীনের শারাবান তাহুরা।





















