পার্বত্য এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড

উড়নচণ্ডী (সাঈদী বোরহান) : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাহাড়ের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো নিয়ে আলোচনা করি।


পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের চিত্রটা নাহয় না-ই বলি, ওসব আপনারা বিভিন্ন মাধ্যম (সোস্যাল মিডিয়া, নিউজ মিডিয়া, অন্য কোনো প্লাটফর্ম কিংবা বিভিন্ন লেখকদের বই) থেকে জেনে নিবেন। আজকে শুধু আমার আলীকদম-এর কথাই বলবো!

শিক্ষা:- আলীকদম বাসটার্মিনালের ম্রো কল্যাণ কমপ্লেক্স কথা সবাই জানি, সেখানে থেকে পড়াশোনা করা আমার অনেক বন্ধুও আছে। এই ম্রো কল্যাণ কমপ্লেক্সের ১০০% সুবিধাভোগীই হলো উপজাতি বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী। তারপর মৈত্রী স্কুল, কিন্ডারগার্টেন স্কুল, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারাই পরিচালিত; যা আলীকদমের শিক্ষার মান উন্নত করার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। (এখন একদল এসে বলবে—ভাই এগুলো তো বেসরকারি, অনেক টাকা চার্জ করে। তাদের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য—আপনারা এতো শিক্ষা সচেতন আর শিক্ষা অনুরাগী হলে এতো দিন আলীকদমে একটা কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেন না কেন.? কলেজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য জমি দান করতে পারেননি কেন.? টাকা বেশি খরচ হলেও মানসম্মত একটা শিক্ষা ব্যবস্থা তো আছে, নয়তো সেটাও পেতেন না।)

চিকিৎসা:- যখন পড়তাম তখন দেখতাম প্রতি সোমবারে পুরাতন হাসপাতালে (এখন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র) বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো। পরবর্তীতে সেটা ক্যান্টনমেন্টের প্রধান গেইট (আরপি গেইট) থেকে দেওয়া হয়। এছাড়াও মাঠে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পেইন করা হয়। এই চিকিৎসা সেবা বাঙালি, অবাঙালি নির্বিশেষে সকলকে দেওয়া হয়।

যোগাযোগ:- থানচি সড়ক, পোয়ামহুরী সড়ক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কতৃক নির্মিত; এসব মেরামতের কার্যভারও তাদের হাতে ন্যস্ত। স্পেসিফিকভাবে যদি পোয়ামহুরী সড়কের কথা বলি—কুরুকপাতা, পোয়ামহুরী এরিয়াগুলোর যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিলো পায়ে হাটা কিংবা নৌকা/বোট। আর এখন মিয়ানমারের সিমান্ত পর্যন্ত গাড়িতে করে যাওয়া-আসা যায়। এসব সড়কের সুবিধাভোগীদের ৮০%’ই উপজাতি বা অবাঙালি।

বিনোদন:- আলীকদমের মানুষ রেস্টুরেন্ট জিনিসটা কি তা চিনলো দুর্বার ক্যান্টিন দেখে। তাছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেনাবাহিনী বিভিন্ন দিবসগুলো তে বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করেন (বৈশাখী মেলা, ২রা ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি দিবস ইত্যাদি ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন মৌসুমে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন। বিনোদনের খোরাক হিসেবে বাঙালি, অবাঙালি সকলেই এসব গ্রহণ করে।

নিরাপত্তা:- This is really very important! একটা সময় আলীকদমের একটা খুবই কমন চিত্র ছিলো এই যে—আলীকদমের বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুম করা হতো, মুক্তি পণ দাবি করা হতো। পরিশেষে মুক্তি পণ দিতে না পারলে বা দিতে অস্বীকার করা হলে খুন করা হতো (আলীকদমবাসী এমন অনেক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী)। এই সন্ত্রাসের হাত থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হতো সেনাবাহিনী; উদ্ধার কাজ থেকে শুরু করে, তদন্ত, বিচারের আওতায় আনা, আবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবই তাঁরা করতো—যা এখনও করে আসছে। এই নিরাপত্তা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সকলের।

সহযোগিতা:- বন্যায় বানভাসি, আগুনে পোড়া পরিবারবর্গ, পাহাড় ধসে পড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা কিংবা পুনর্বাসন করেন এবং অন্যান্য দুর্যোগ কিংবা বৈরী পরিস্থিতিতে সাহায্য সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শীতকালে গরিব অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, আর্থসমাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী (গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি এবং গাছের চারা বিতরণ) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী করে থাকেন। এছাড়াও আলীকদম ক্যান্টনমেন্টে আরও একটা সহায়তা খুবই নিষ্ঠার সাথে দেওয়া হয়, সেটা হলো; বিভিন্ন ছোটোখাটো ফৌজদারী মামলার নিষ্পত্তি। এই সহযোগিতা গুলো বাঙালি, অবাঙালি নির্বিশেষে সকলের জন্য।

হয়তো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমার আলীকদমে আরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকেন। আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে যতটুকু সংকুলান হয়েছে আমি ততটুকু বললাম—ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

আসুন সম্প্রীতির বন্দনা আবদ্ধ থাকি!
বিভেদ না ছড়াই।

উল্লেখ্য,পার্বত্য এলাকার আলীকদম অংশবিশেষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *