জামিয়ার জানালা

 

হুসাইন আহমাদ 

আমি জামিয়ার প্রধান ভবনের তৃতীয় তলায় থাকি। রুমটা বেশ সুন্দর। এখান থেকে শহরটাকে খুব ভালোভাবে দেখা যায়। দেখা যায় নৈসর্গিক দৃশ্য। জানালা দিয়ে তাকালে আঁখি দয় শীতল হয়ে যায়। খারাপ মনটা প্রফুল্লে ভরে ওঠে। 

জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে। তাই অবসর সময়, মন খারাপ থাকলে জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকি। প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো উপভোগ করি। দেখি ঘাসফুল। পাখিদের ডানা মেলে শূন্য আকাশে উড়ে যাওয়া। সূর্যের কিরণ। মেঘেদের ভেসে বেড়ানো। রাতে তারকারাজির মিটিমিটি আলো। চাঁদের মিষ্টি হাসি। এসব কিছু দেখতে দেখতে আমি হারিয়ে যাই অচিন অনুভূতিতে। থাকি না আমি আর আমার মাঝে। 

জামিয়ার জানালা দিয়ে তাকালেই দেখা যায় মনমুগ্ধকর একটি কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষ; সবুজ পাতার উপরে ফুটে আছে রক্তিম ফুল। যেন দৃষ্টিকে কেড়ে নিয়ে যায়। ও যেন সারাক্ষণ সাজতেই ভালোবাসে। আরো একটা বৃক্ষের কথা বলব; যে বৃক্ষটার নাই কোন ফুল, নাই কোন ফল, ও যেন এমনিতেই সুন্দর! সবুজ চিকন পাতা ওর পুরোটা জুড়ে। মাঝে মাঝে পাতা বিহীন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। 

যখন বৃষ্টি পড়ে তখন আধোটা জানালা খুলে বাইরের দিকে তাকালে দেখা যায় মুক্তার মত বৃষ্টি পড়ছে। পুরা শহরটাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। ভিজে দিচ্ছে সবুজ বৃক্ষগুলো, পাতা বেয়ে বেয়ে অশ্রু ফোটার মত পানি পড়ছে। কাদাময় হয়ে যাচ্ছে মাঠ। পথিক ছাতা মাথায় হেঁটে যাচ্ছে গন্তব্যে। শিশুরা বৃষ্টিতে ভিজে গোসল করছে, আর উল্লাস করছে। তখন আমারও মনে চায় বৃষ্টিতে ভিজতে। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো গায়ে মাখতে। 

মাঝে মাঝে মন খুব খারাপ থাকলে জানালার পাশে বসে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। 

ডানা মেলে পাখি উড়ে যায় আকাশ পানে। আমারও উড়ে যেতে মন চায়, সবুজ মিনারের প্রান্তরে। উড়ে যেতে মন চায়, ওই কালো গিলাপ ওয়ালা ঘরটির উঠানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *