রানা সোহেল মেঘদূত
মা বকছেন সেই সকাল থেকে
কাল স্কুলে কলম হারালাম সেই রাগেতে,,
হজম কর,,
পাড়ার দাদা খুব বকেছেন
মাটে দুপুর খেলছি বলে
হজম কর,,
ফসাৎ ফসাৎ বেত মেরেছে গুরু মশাই
রচনায় দু লাইন কম লিখেছি,,
হজম কর।
আমাকে আজকে খেলায় নেয়নি
পায়ে নাকি মোজা লাগে,,
এক ধাক্কায় মাটের বাইরে ফেলেয় দিলো
হজম কর,,
এই যে হজম করার লিষ্টি আমার আজো হজম করছি মশাই।
গ্যাস বিদ্যুৎ বিল ভূতুড়ে,,,
কি করবেন
হজম করুন,
বিদ্যুৎ বিল বাড়তি বিষন
হজম করুন।
চাল ডাল আর চিনির দাম
এতো কেন?
এতো কেন?
হজম করুন।
গাড়ী ভাড়া
ছেলের বেতম
খাতা কলম
হু হু করে বাড়ছে কেন?
হজম করুন,,হজম করুন।
কেউ যে কিছু বলছে না,
বললেও তারা থাকছে না।
থাকলেও গায়ে মাখছে না।
মাখলেও ,,,,
পত্রিকাওয়ালায় লিখছে দেখো
জ্বিনের বাদশা,,,পরীর রাজ্য,,
হিরো আলম,,উদলা নিউজ!!
গাড়ী চাপায় সেই যে মা,,
শেষের পাতায়,
মিছিল ভাঙার
মিছিল রোধের ব্যারিকেটে
চিৎকার সব চুপসে যায়,,,
হারিয়ে যাচ্ছে কেবল শিশু
ছিনতাই রোজ হেথায় হোথায়
শেষের পাতায় ছোট্ট কোনায়।
চুপ যান মশাই,
এসব কথা বলতে বারণ
হজম করুন।
কবিরা সব জি হুজুর হে কাব্য লেখে,
গল্প জুড়ে রগরগে সব কিচ্ছা বাঁধা।
কলাম লেখে বন্দনা গীত
মলম লাগাও মলম লাগাও,,
তেল মেরে এই বাঁচার লড়াই।
আর কত দিন!!
দিন গেছে তো মুখ লুকিয়ে,,
অন্ধের দেশে চশমা বিক্রীর এই ব্যবসা চলবে কত!!!
আরে মশাই চশমা একটা আপনিও লাগান,,,
রঙিন রঙিন।
হজম করুন।।
আজকাল আমার বদহজম হয়।।
হজম করতে৷ কষ্ট বিষন
ডাক্তার মশাই ওষুধ দিলেন কত্ত যে কি।
ফিস নিয়েছেন তারও বেশী।
কিনবোটা কি।।
তিত করলা,,
এই ভালো ভাই এই ভালো
হজম করি না হয় একটু
তেতো যত
সবজি ভাজা!
হজম করছি হজম করছি
নোন আনতে পান্তা ফুরার এই আকালে।
বলতে গিয়ে থেমে যাওয়ার এই আকালে,,,
প্রতিবাদহীন ক্লীব এক
কাঠের টুকরা।
ইচ্ছে হলে ছুঁড়ে ফেলো
নয়তো পেরেক মেরে লাগিয়ে দাও
যেথায় তোমার খেয়াল।
হজম করছি হজম করছি।
ঐ যে দেখুন
কারা যেন দিন বদলের গান ধরেছে,,
এই বখেদের বারণ করুন।
তারাও যেন হজম করে বাঁচতে শেখে
বলে আসুন।
আপনিও একটু হজম করুন।
হজম করুন।





















