খাদিজাতুল খোরশেদ খুশি: রাজধানী ঢাকার সাথে বৃহত্তর ময়মনসিংহের জেলাগুলোর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ট্রেন। প্রতিদিন এই রুটে প্রায় ২৪ জোড়া ট্রেন চলাচল করে, যাতে ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও গাজীপুর জেলার প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এখনও সেই ব্রিটিশ আমলের গতি ও সেবার মান নিয়েই ধুঁকে ধুঁকে চলছে ময়মনসিংহ সেকশনের ট্রেন গুলো। ঢাকার সাথে রেলপথে ময়মনসিংহের দূরত্ব মাত্র ১২২ কিলোমিটার হলেও এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে তিন ঘন্টারও বেশি। প্রচুর যাত্রীচাপ থাকা সত্বেও এই রুটের রেললাইন ও ট্রেনের মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ উদাসীন। অধিকাংশ ট্রেন চলছে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।
বাংলাদেশে তিন ধরণের রেলপথ প্রচলিত আছে। ব্রডগেজ, মিটারগেজ ও ডুয়েলগেজ। ব্রডগেজ রেলপথ সাধারণত ১৬৭৬ মিমি প্রশস্থ, যা দ্রুতগতি, অধিক যাত্রী ও ভারী মালামাল বহনে সক্ষম। সে তুলনায় ১০০০ মিমি প্রশস্ত মিটারগেজ তুলনামূলক সরু ও হালকা, এবং কম যাত্রী ও মালামাল বহন করে। ডুয়েলগেজ রেলপথে একইসাথে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ট্রেন চলাচলে সক্ষম। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ, রাজশাহী ও খুলনার রেলপথে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ লাইন বিদ্যমান। অপরদিকে ঢাকার সাথে বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে মিটারগেজ লাইন বিদ্যমান। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের কিছু অংশ ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত করা হলেও সেখানে এখনও ব্রডগেজ ট্রেন চলাচল করতে সক্ষম নয়।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের সম্পূর্ণ রেলপথ ব্রডগেজে রূপান্তর করা হয়েছে। ভারতের ১২০ পাউন্ড ব্রডগেজ রেললাইনে ঘন্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচলে সক্ষম। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সিংহভাগ ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ রেললাইন ৯০ পাউন্ড হওয়ার পাশাপাশি দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে এখানে ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায় ৬৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ মিটারগেজ ডাবল লাইনে উন্নিত করা হলেও এখানেও গতি সীমিত।
দেশের সবচেয়ে অবহেলিত রেলপথ ঢাকা-ময়মনসিংহ সেকশন। যেখানে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া, ইঞ্জিনে আগুন লেগে যাওয়া সহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা হয়ে গেছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ঈদের সময় অতিরিক্ত ট্রেন চালিয়েও প্রচন্ড ভীড়ে, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রেনের ছাদে ও দরজা-জানালায় ঝুলে মানুষকে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে হয়।
অন্যদিকে ঈদসহ বিভিন্ন ছুটির দিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কপথ গোদের উপর বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়। স্বাভাবিক সময়ের বাসভাড়া এসময় দ্বিগুণেরও অধিক বেড়ে যায়। মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদ, ট্রাক ও ফিটনেসবিহীন গাড়িতে যাত্রা করতে বাধ্য হয়।
তাই, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকার সাথে বৃহত্তর ময়মনসিংহের রেললাইন ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে উন্নিত করা হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়ের দাবি। এতে বাঁচবে মূল্যবান কর্মঘণ্টা, কমবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যাত্রীদের মনে ফিরবে স্বস্তি।
লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ।





















