বিকেলগুলো ক্যালেন্ডারে ছিল না

যে বিকেলগুলো ক্যালেন্ডারে ছিল না ; শৈশব, স্মৃতি ও নীরব সময়ের অদৃশ্য অর্কেস্ট্রা

চৌধুরী রুহাশ

কপালের ভাঁজে নেচে উঠে বিকেলের বয়স,
সিলিং জুড়ে দৌড়াতে থাকে
অতীতের ছোট্ট শৈশব।

একদিন বিকেলের সবুজে এক্কাদোক্কা খেলতো মন—
ধুলো মাখা উঠোনে চকের দাগে
আঁকা থাকতো হাসির মানচিত্র।
নদীর ধারে বসে
জলের স্নানঘরের সুরাপান দেখতো সে,
ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে কে যেন
রেখে যেতো অজানা দিনের গল্প।

ঝুঁকে আসা আমগাছটাও
একদিন তার ঝাঁকড়া চুলের গোছা সরিয়ে
মৃত্তিকার গন্ধে শুনতো তার গোপন ভাষা।
পাকা আমের গায়ে রোদ লেগে থাকতো
একটা ছোট্ট গ্রহের মতো।
দুপুরগুলো ছিল দীর্ঘ,
ঘাসের ফাঁকে লুকিয়ে থাকতো
ঝিঁঝিঁ পোকার অদৃশ্য অর্কেস্ট্রা।
আমরা শুনতাম— যেন পৃথিবীর প্রথম সঙ্গীত।

হেলেঞ্চার কাব্য বাতাসের গায়ে ভেসে যায়
প্রেমিকার ঘ্রাণের মতো,
অথবা সদ্য লেখা কারো কোমল হাতের পরশের
কোনো চিঠির নরম শব্দের মতো।

কাদামাখা পায়ে ফিরে আসতাম সন্ধ্যার আগে,
মায়ের ডাকে – আকাশের রঙ বদলে যেতো।
চুলোর ধোঁয়া গ্রামের গায়ে মেখে দিতো
অদ্ভুত এক শান্তি।

সেইসব দিন
কোনো ক্যালেন্ডারে লেখা ছিল না,
তবু প্রতিটি বিকেল
আমাদের বুকের ভেতর
একটা নরম নক্ষত্র হয়ে জ্বলতো।

এখন,
ইট-পাথরের ফাঁকফোকরে কিংবা মৃত জানালায় দাঁড়িয়ে
দূরের আকাশ দেখি—
মনে হয়,
সিলিং জুড়ে আবার দৌড়াচ্ছে শৈশব,
আর বিকেলের বয়স
ধীরে ধীরে ফিরে আসছে
কপালের পুরোনো ভাঁজে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *