নন্দিনী


নায়িমা আখতার

তোমার আঁখির অতল গহিনে প্রশান্তি বিরাজে,
যেন শরতের মেঘ ভেসে যায় নীলিমারই মাঝে।
ওই মুক্তদানার মতো চোখ দুটি যেন বিধাতার এক নিপুণ তুলি,
যাহার মায়ায় আমি জগতের সব সমস্যা গিয়েছি ভুলি।
তব হাসিতে ঝরে পড়ে সহস্র গন্দরাজের ঘ্রাণ,
মৌনতার অন্তরালে তুমি এক অমল আখ্যান।

তুমি তটিনী নও, তুমি যে এক শান্ত সরোবর,
যাহার শীতল সলিলে জুড়ায় তৃষ্ণার্ত অন্তর।
নন্দিনী, তুমি কেবল রূপসী নও তুমি তো গুণবতী,
তব মেধার দীপ্তিতে জ্বলে চেতনারই জ্যোতি।
কভু তুমি ধীরস্থির, যেন বনানীর ছায়া,
কভু তুমি দুরন্ত বাঘিনী, এক অপার্থিব মায়া।

বিদুষী ললনা তুমি, বাক্যে তব ধ্রুপদী তান,
তব ব্যক্তিত্বে মিশে আছে এক আভিজাত্য-ঘাণ।
তোমার স্পর্শে জীর্ণ প্রাণও পায় নব নব আশা,
তুমি তো ধরনীতে বিধাতার এক শুদ্ধ ভালোবাসা।

হে চিরন্তনী, তুমিই আমার ধ্যানের চরম প্রাপ্তি,
মোর তিমির রজনীর তুমিই তো পরম প্রদীপ্তি।
তুমি আছ বলেই তো কলম খুঁজে পায় নতুন ছন্দ,
তোমার উপস্থিতিতেই কাটে জীবনের সকল দ্বন্দ্ব।

এসো তবে, হাতে হাত রেখে গড়ি এক মায়ার ভুবন,
যেথা কলহ নাই, নাই কোনো বিচ্ছেদের ক্রন্দন।
বেঁচে থাকো তুমি চিরকাল আপনারই মহিমায়,
নন্দিনী, তোমার তুলনা কেবল তোমারই উপমায় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *