ভাঙ্গা বিশ্বাসের শহর
সোনিয়া আবেদীন
সকাল হতে না হতে কান্তা ওর মাকে নিয়ে হাজির , আবিদা এসে বড় ভাইয়ের সাথে খুব রাগ দেখাচ্ছে । তখনি আজিম ঘর থেকে বের হয়ে বাহিরে যেতে নিলে আবিদা ওকে ধরে ।
ছোটো ভাই তুই বল নাজিম আমার মেয়ের সাথে এতো বড় অন্যায় করল , ওকে ছেড়ে দেই কেমন করে। আজিম কিছু না বলে চলে যেতে নিলো তখনি আবিদার রাগ উঠল । ভাইয়া বড় ভাই বলে তুমি তাকে কিছুই বলবেনা , তার ছেলে আমাদের মেয়ের সাথে প্রতারণা করবে আমরা মুখ বন্ধ করে রাখবো।
আজিম: রাখিস না , প্রতিবাদ কর , আমার কাছে কিছু আশা করিস না। আমার মেয়ের সাথে যখন অন্যায় করেছে তখন তুই ওদের সাধ দিয়েছিস। আমি ভুল যাইনি তোরা কে কি করেছিস , তাই ভুলেও আমার কাছে কিছু বলবিনা । তোর মেয়ে কি করে , কি করছে সব তুই যানিস । মেয়ের প্রতিটা কাজের সাক্ষী তুই , নিজে ভাল হসনি , মেয়েকেও ভালো বানাতে পারিস নি ।
ভাইয়া তুমি কিন্তু আমার মেয়ের দোষ ধরছো , ঐ দিন তোমার মেয়ের সাথে যা হয়েছে আমি আমার মেয়ের সংসার বাঁচাতে চুপ ছিলাম ।
তাই নাকি আমি তো দেখি নি , যখন আমি আমার দুই সন্তানকে ধরতে বলেছিলাম তখন কি বলেছিলি মনে আছে ।
আবিদা ভাইয়ের কথা শুনে ঘামতে ঘামতে থাকে , যদি ভাই একবার বুঝতে পারে ঐ দিন তার বৌকে আমি উল্টা পাল্টা কথা বলেছি , তাহলে আর রক্ষা নাই ।
তখনি নাজমুন বেগম আসে হাসপাতাল থেকে , বাড়িতে এসে আবিদার চেঁচামেচি শুনতে পায়। নাজমুনকে দেখে আবিদা এগিয়ে আসে , আজিজ তার অর্ধাঙ্গিনীর দিকে তাকিয়ে থাকে। কাল রাত তার সাথে খুব ঝগড়া হয় তারপর ছেলের সাথে কথা বলে বেরিয়ে যায়। বয়স হয়েছে তাই ওদের সাথে কথায় পারে না , তাছাড়া নিজের প্রতিটা সিদ্ধান্তেই তো ভুলি হয়।
বড়ভাবী তুমি আমার মেয়ের সাথে এমনটা করতে পারো না , নাজিমের অন্যায় অবদার মেনে নিয়ে কেমন করে ঐ বৌয়ের কাছে চলে গেলে ।
নাজমুন : কি করতাম তোমার বন্ধ্যা মেয়ের আশায় থাকতাম , এই জীবনে তো কখনোই তোমার মেয়ে মা হতে পারবে না , এই কথা তুমি যানো আমি ও যানি ।
আবিদ : কি যাতা বলছো , ডাক্তার তো বলেছে তুমি কেমন করে আমার মেয়েকে এমন অপবাদ দিলে।
আবিদ : গলা নামিয়ে কথা বলো , সত্যটা কাল বলবো তাও সবার সামনে। এখন আমাকে রুম পরিস্কার করতে দাও , নাজিম আমার নাতিকে নিয়ে বাড়িতে আসবে ।
আবিদ : তুমি ঐ মেয়েকে এই বাড়িতে উঠাবে ?
নাজমুন : কেনো উঠাবো না , আমার বংশের প্রথম নাতি ওকে কেনো বাড়ি থাকতে ভাড়া বাড়িতে রাখবো ।
আবিদ : শুনছো ভাইয়া তোমার বৌ কি বলে , ঐ মেয়েকে নাকি এখন বাড়িতে উঠাবে।
নাজমুন : তোমার ভাই কি বলবে হে , তার ভাগনি দেখে আর কতো বসে থাকবো হে , আমাদের কি মন চায় না ,নাতি নাতনী নিয়ে সময় কাটাতে। কাল সব হবে নাজিম কি অন্যায় করেছে সেইটার বিচার কাল হবে ।
বলে নাজমুন রুম গুছাতে চলে যায়, যেতে যেতে কান্তাকে বলে রুম খালি করতে , তার নাতি এসে এখানে থাকবে।
কান্তা রাগে চিৎকার করে বলে , আমি আমার রুম ছাড়বো নাআআআ ।
নাজমুন : বেশি বাড়াবাড়ি করলে বাড়ি ছাড়া করবো মেয়ে , বাবার বাড়িতেও তোমার ঠাই হবে না । কান্ত দমে যায় । কারন কাল নাজিমের বিয়ের কথা বললে ওর বাবা ওকে সাফ সাফ বলে দিয়েছে , যেনো ডিভোর্স নিয়ে এই বাড়িতে না আসে ।
নাজমুন কান্তার সব জিনিস পত্র বের করে নতুন বেবি ও ওর মার জন্য রুম তৈরি করে । দুপুরের পরে নাজিম বৌ বাচ্চা নিয়ে হাজির হয় , যখন নাজমুন ওদের বরন করে ঘরে ডুকায় তখনি কান্তা ও আবিদা রুপাকে দেখে অবাক হয়ে যায় ।
রুপাকে নাজিম ধরে রুমে নিয়ে যাচ্ছে তখনি রুপা কান্তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ভ্রু উচু করে ইশারা করে । রুপা কেনো নাজিমকে বিয়ে করেছে মা মেয়ে দুজনেই বুঝে যায় , এখন ওদের এই মুখোশ বের হবে যেনে আবিদা কান্তার হাত ধরে।
নাজমুন নাতিকে নিয়ে আজিজ সাহেবের কোলে দেয় , আজিজ নাতিকে কোলে নিয়ে অবাক হয়ে যায় । ঠিক যেনো নাজিমের মুখটা , তিনি রেগে থাকতে চাইলেও পারেন না । নাতিকে কোলে নিয়ে আবিদাকে বলে , দেখ আবিদা নাজিম কান্তাকে ছাড়বে না ।মানুষ দুই বৌ নিয়ে সংসার করে না , এখন এই বংশের ছেলে ওকে কেমন করে বাড়ি থেকে বের করে দেই।
কান্তা : মামা তুমি তোমার ছেলের অন্যায় করেছে বলে চুপ হয়ে গেলে , আজ যদি আমি করতাম তখনো কি এই কথা বলতে। আমার সাথে প্রতারণা করায় দায়ে তোমার ছেলেকে আমি পুলিশে দিবো , এখনো সময় আছে ওকে বলো ঐ মেয়েকে ছেড়ে দিতে আর বাচ্চাটা লোক রেখে পালবো।
নাজিম : ছেলেকে নিতে এসে এই কথা শুনে তখনি বলে , তুই কি করেছিস কাল সেটা বলবো , আমাকে পুলিশে দিবি ঠিক আছে কল করে ডাক তারপর দেখি। আমার বাচ্চা ওর মায়ের কাছে বড় হবে , তোর মতো মেয়ে এই জন্যই মা হতে পারেনি।
কান্তা : কাল কেনো আজি সব হবে , আমি বাবা ভাইকে ডাকছি ওরা আসছে তুমি ওদের সামনে জবাব দিবে।
নাজিম : ভালো তো ডাক , তানা হলে সবাই ভাববে তুমি বেচারী অবলা নারী আমি তোর উপরে জুলুম করছি । একটু পরে কান্তার বাবা ভাই এসে হাজির হল , তখন নাজিম তাদের বসতে বলে ছেলেকে নিয়ে ভিতরে যায়।
আয়ান , আয়াত বাগানে বল খেলছে তখন ব্যাটের আঘাতে বল সামনের বাড়িতে গিয়ে পড়ে , আয়ান গার্ডদের আনতে বলে । আয়াত তাদেরকে না করে , বলে মাম্মাম কি বলেছিলো নিজের কাজ নিজে করতে ।আয়ান ভাইয়ের কথা শুনে গার্ডদের নিয়ে সামনের বাড়িতে যায় বল আনতে। তখনি আজিমের সাথে দেখা , এই বুড়ো নান আমার একটা বল পড়েছে তোমাদের বাড়িতে আমি কি বলটা নিতে পারি ?
আজিম বাচ্চাটার দিকে তাকায় , তখনি দেখে তৃপ্তির মতো দেখতে বাচ্চাটা দাড়িয়ে আছে । ওকে দেখে আজিমের বুকের ভিতরটা হু হু করে উঠে ,আজিম দৌড়ে কাছে আসে। বাচ্চাটাকে ধরে দেখতে চাইলে ও সরে যায়।
বলো না নান আমি কি তোমাদের বাগান থেকে বলটা নিতে পারি ।
এই বাবু তোমার বাড়ি কোথায় ?
সামনের বাড়িটা , কেনো বলো তো।
তোমার এই মহলের থাকতে এসেছো ?
হ্যাঁ , মিরাফের ডাকে আয়ান চলে যেতে নিল , তখনি আজিম ওকে বলটা নিয়ে যেতে বলে।
বল নিয়ে চলে যাওয়ার সময় বলে , তোমাকে আমি কোথায় যেনো দেখেছি মনে হয় , কিন্তু মনে করতে পারছি না।
বাড়িতে গিয়ে বাচ্চারা খেলায় মেতে উঠে , তখনি তাহু আসে ওদেরকে ডাকতে , মিরাফের দিকে তাকিয়ে লজ্জা পায়। তাহুর ডাকে সবাই ভিতরে চলে যায় , সবাই খেতে বসে ।
আয়মান: মামনি আমি তাহুর বিয়ে দিতে চাই , ঘটক কে বলে রাখি তারপর ভালো ছেলে পেয়ে গেলে নাহয় বিয়ে দিবো।
ফাতেমা : তুমি যেটা ভালো মনে করো সেটাই করো আমার কোনো বাধা নেই ।
আয়মান আর চোখে ভাইয়ের দিকে তাকায়।
মিরাফ ভাইয়ের কাছ এই কথা শুনে জমে যায় , জীবনের প্রথম কাউকে ভালো লাগলো আর তখনি তার ভাই ভিলেন হয়ে দাড়াল। না ওকে কিছু করতে হবে , ভাইকে বলে কিছু হবে না। পুতুল বৌকে বলতে হবে , পুতুল বৌয়ের সামনে ওর ভাই পান্তা ভাত ।মনে মনে ভেবে ভাইয়ের দিকে তাকায় , তখনি আয়মান ওর দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে হাসে।
আয়মানের এমনটা করতে দেখে মিরাফ বুঝে যায় , ওর ভাই বুঝে গেছে ওর মনের কথা। তখন মুচকি হেসে ভাবে , তোমাকে বাগে আনতে হবে ভাইয়া। আমি যেমন জ্বালাচ্ছি তুমিও তেমন জ্বালাবে তা হবে না। জুস খেতে খেতে বলে , ভাইয়া তুমি বললে আমার পরিচিত কয়েকজন আছে , তাদেরকে দেখতে পারো।
আয়মান: তোর পছন্দের ছেলের সাথে দিবো আমাদের তাহুকে , তাহলে হয়েছে ।নিজে এক ছাপড়ি ধরে আনবে আরেক ছাপরিকে , ওর জন্য ভদ্র ছেলে আনবো । তুই নিজের জন্য খোঁজ , পেলে বলিস তাহুর আগে তোকে বিয়ে করাবো।
মিরাফ দাঁত কিটমিট করে আয়মানের দিকে তাকায় , আর ভাবে। তোমার হিটলার গিড়ি আমি বের করছি , তাহেরা বিয়ে কথা উঠতেই পালিয়ে গেলে তাইতো দুই ভাইয়ের ইশারায় যুদ্ধ দেখে নি।
নীলা : বসে বসে আমজাদের বাসর ঘর সাজানো দেখছে , বুড়ো বয়সে কেমন নির্লজ্জের মতো সেই মেয়ের আগে পিছে ঘুরছে। আজ তাবিন্দার কথা খুব মনে পড়ছে , আচ্ছা যখন ও এভাবে ওদের সম্পর্কের কথা যানতে পারে ওর ও কি এমন খারাপ লাগছিল। শেষে তো আমজাদকে পাওয়ার লোভে ওকে মে*রে ফেলার প্লান করে , সেই অনুযায়ী কাজ করে।
জীবনে একটু বিলাসিতার আশায় অতো অন্যায় করল , এবার না হয় আরেকটা করবে। ঐ মেয়েকে কিছুতেই আমাথ রাজ্যেত্বে ভাগ বসাতে দিব না , ম*রতে হবে ঐ মেয়েকে তানা হলে আমজাদকে।
মারিয়া বসে বসে নীলাকে দেখছে , ভিতরে ভিতরে কিছু একটা প্লান করছে সেটা বুঝতে পারছে। আমজাদ ওকে একটা ডায়মন্ডের নেকলেস দেয় , মারিয়া ওকে সেটা পড়িয়ে দিতে বলে। আমজাদ মারিয়াকে পড়িয়ে ঘারে চুমু দেয় , তখন নীলা দেখে ফেলে। রাগে উঠে ওদের সামনে যায় , কিছু না বলে মারিয়ার গলা থেকে সেটা টেনে ছিঁড়ে ফেলে।
মারিয়া চিৎকার করে গলায় হাত দেয় , গলার একটা অংশ কেটে যায়। সেটা দেখে আমজাদের মাথা নষ্ট হয়ে যায় , নীলাকে ধাক্কা দিয়ে মারিয়াকে ধরে।
নিলা: হারামজাদী বাপের বয়সের লোকের সাথে লুতুপুতু করতে তোর লজ্জা করে না। আমাকে দেখিয়ে নেকলেস পড়ছিস , এই সব কিছুতেই আমার অধিকার।
মারিয়া: আমজাদ কাল রাতে আমাদের বাসর হয়নি এই মহিলার কারনে , আজকেও ও আমাদের এক হতে দিতে চায়না । তুমি আমাকে এখানে এনেছো এই মহিলার অপমান সহ্য করতে , আমি চলে যাবো এখান থেকে। নাকি তুমি এই কাজের বুয়ার মেয়ের একটা বিহিত করবে , যদি এই বাড়িতে আমার সম্মান দিতে না পারো তাহলে আমি এখনি চলে যাচ্ছি। তোমাকে আমি আগেই বলেছি , এই মহিলা আমাদের ভালোবাসাকে অন্য নাম দিবে। বার বার বাপের বয়সের বলে তোমাকে আমাকে অপমান করছে , কেনো মানুষ শেষ বয়সে প্রেমে পড়তে পারে না।
আমজাদ: না মারিয়া তুমি যেও না , আমি এই মহিলার একটা ব্যবস্থা করছি যাতে ও এইখানে থেকে তোমার উপরে কথা বলতে না পারে। নীলাকে চুলের মুঠি ধরে পাশের ঘরে নিয়ে যায় , ইচ্ছা মতো পিটিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।
বাহিরে আসলে দেখে নায়না দাড়িয়ে আছে , কিছু বলতে চাইলে আমজাদ হাত উঠিয়ে থামিয়ে দেয়। শোনো বৌমা আমি আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাই না , তাই তুমি তোমার মতো থাকো। তোমাদের কোনো সমস্যা হবে না , তোমার নতুন শ্বাশুরী তোমাকে স্নেহ করবে । ওর সাথে মানিয়ে চলো , এতে তোমার আর নিখিলেরি লাভ।
নায়না শ্বশুরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে , ভাবে ওরা কতটা খারাপ হলে বুড়ো বয়সে এমনটা করতে পারে ।দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাজে যায় , ওর এই সবে কোনো মাথা ব্যথা নেই। মহিলা যেমন তার সাথে তেমনটা হচ্ছে , নিজের চরিত্রই ভালো ছিলো না , তার সাথে তো তেমনটাই হবেই।
পুতুল বৌ তোমার সাথে কথা আছে , তোমার মান কিন্তু আমার সাথে এটা ঠিক করছে না। সে যেনে শুনে আমার সাথে এমনটা করছে , এখন তুমিই আমাকে তার হাত থেকে বাঁচতে পারো।
তৃপ্তি : রাফ কি করেছে মান , যার জন্য তুমি এমন অস্থির হয়ে আছো। আমি তো দেখলাম না ওকে তোমার সাথে লাগতে , ও কি এমন করল।
আয়মান : আমি ওর বাড়া ভাতে মই দিয়েছি , ও তোমার বোনকে পছন্দ করছে , জান সাবধান এই ছেলের হাতে আমাদের তাহুকে দিবে না। সারা জনম আমাকে জ্বালিয়ে খেয়েছে আর সামনেও খাবে ।
তৃপ্তি পিট পিট করে দুই ভাইয়ের দিকে তাকায় , ওকে এভাবে তাকাতে দেখে মিরাফ ওর হাত ধরে।প্লিজ পুতুল বৌ ভাইয়ার কথা শুনো না , আমি তাকে জ্বালাতাম দেখে এখন আমাকে জ্বালাচ্ছে ।তুমিই বলো আমি কি ছেলে হিসাবে এতোটাই খারাপ যে তাহুকে আমার কাছে দেওয়া যাবে না।
আয়মান : তুই খারাপ না , কিন্তু আমি আত্মীয় মধ্য আত্মীয় করবো না। আমি তোর থেকে ভালো দেখে ছেলের সাথে আমাদের তাহুর বিয়ে দিবো।
না ভাইয়া তুমি এমনটা করতে পারো না , আমার সাথে মায়ের কথা হয়েছে। মা তিনদিন পরে আসছে ,তখন দেখবো তুমি না করো কি ভাবে।
আয়মান: মা আমার কথা ফেলতে পারবে না , দেখিস তোকে কানের নিচে দুটো দিয়ে চুপ করিয়ে দিবে।
চুপপপপপ , একদম চুপ। দুই ভাই বাচ্চাদের মতো ঝগড়া করছো , মান তুমি বলো তো তুমি কেনো ওর সাথে এমনটা করছো।
আহা জান তুমি যানো না ও কতো হারামি ছেলে , প্রথমে তোমাকে এখন তোমার বোনকে বৌ করতে চায় । আমি তাহুকে ওর কাছে বিয়ে দিবো না , ওকে বোঝা,,,,
ভাইয়ের সামনে হাটু গেছে বসে বলে , ভাইয়া দিয়ে দে না। আমি ওকে মন থেকে চাইছি , ওকে পেলে তোকে আর জ্বালাবো না। ভাইয়া তুমি প্রথমে আমার ভালো লাগার মানুষটাকে নিয়েছো , এখন ভালোবাসার মানুষটাকে দিতে চাইছো না।
তৃপ্তি: রাফ উঠো তো তুমি এখন নিজের রুমে যায় , আমি দেখছি কি হয়েছে ।রাফ চলে যেতেই তৃপ্তি মানের দিকে আগুন চোখে তাকায় , সেটা দেখে মান ডুক গিলে ।
দেখো জান এভাবে তাকিয়েও না , তুমি আমার বৌ ঐ হারামীর কথায় একদম গলবে না । এই কয় বছর আমাকে অনেক জ্বালিয়েছে , এখন আমি একটু জ্বালাবো । তুমি কিন্তু ওর হয়ে আমাকে সুপারিশ করতে এসো না , আমি ওকে একটু ঘুরবো। তারপর তাহুকে বিয়ে দিবো , আগে ওকে দেখে নেই আমাদের তাহুর জন্য ও কতটা পাগল।
নাজিম ছেলেকে রুপার কাছে দিয়ে নিচে নামবে , তখন রুপা ওর হাতে ধরে। নাজিম ওর মুখের দিকে তাকায় , নাজিম তুমি কি কান্তাকে ছেড়ে দিবে। তাহলে ওর অভিশাপ আমাদের লাগবে , যতোই হক ওর স্বামীকে আমি কেড়ে নিয়েছি। তাই তোমার কাছে আমার অনুরোধ ওকে ছেড়ে দিও না , আমি সতীনের সংসার করতে রাজি।
নাজম: রুপা তুমি চিন্তা করো না ওকে আমি ছাড়বো না , ওর কিছু পাপ আছে যা ওকে বোঝাতে হবে এই সংসারে রেখে । ওকে মেনে নিয়ে তৃপ্তির সাথে অন্যায় করেছি , সেই ও আমার সংসারে থেকে বৌয়ের কোনো দায়িত্ব পালন করেনি। সেটা মেনে নিলাম , পরে কি করল পরকিয়া করে আমার সন্তানকে দুনিয়ার আলো দেখাতে দিল না ।
নাজিম চলে যেতেই রুপা হেসে উঠে , ছেলেকে বুকে নিয়ে বলে। কান্তা এইবার তোকে বোঝাবো ধোঁকা কি জিনিস , মা , মেয়ে মিলে আমাদের পথে বসিয়েছিস এবার তোকে পথে বসাবো। কাজের মেয়ে বানিয়ে এখানে তোকে খাটাবো যেমনটা করেছিলি আমার মায়ের সাথে । আমরা ভদ্র পরিবারের সন্তান ছিলাম , তোর মা আমার মাকে এই সমাজে ক*লঙ্ক দিয়েছে । সেই আঘাত সহ্য করতে না পেরে আমার মা মা*রা যায় তাই , একি আঘাত তোকেও পেতে হবে।
নাজিম : ফুপা আমি আপনার মেয়েকে ছাড়বো না , যদি ওর মন চায় তাহলে থাকতে পারে।
কান্তা: তার মানে তুমি ঐ মেয়েকে ছাড়বে না , আমি তোমাকে পুলিশে দিবো আমার সাথে প্রতারনার করার জন্য।
নাজিম: আমি কি এমন প্রতারনা করেছি বলতে পারিস , তোর জন্য আমি কি করিনি। ফুপু আমার র*ক্ত তাইতো কিছু বললাম না , তুই যানতি আমি তৃপ্তিকে ভালোবাসি তারপর কি করলি। আমাকে নেশারঘোরে পেয়ে প্রথমে বিয়ে করলি , তৃপ্তিকে এই সব যানাতে না করে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যেতে বললি। তখন বুঝিনি কেনো তৃপ্তিকে তুই দেখতে পারিস না , এক ও তোর থেকে দেখতে মায়াবী ছিল, দ্বিতীয় লেখাপড়ায় বরাবরি ভালো ছিল , এই এলাকায় ওর অনেক সুনাম ছিল। যা তুই কিছুই করতে পারসনি।
এতো কিছু করে খ্যান্ত হসনি , নিখিলের সাথে পরকিয়া করে আমার বাচ্চাটা নষ্ট করেছিস । আর তাতেই তুই আর তোর মা বাড়িতে এসে কি নাটকটাই না করলি। বাচ্চা নষ্ট করার সাথে সাথে তুই মা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছিস , তাই আমি তো বাবা ডাক শুনতে পারবো সেই জন্য বিয়ে করে তোকে দেখালাম।
গতবছর কি বলেছিলি মনে নাই , আমার নাকি সমস্যা যার জন্য তুই মা হতে পারছিস না । তাহলে আপনাদের কাছে প্রশ্ন ও কার সন্তানের মা হতে চলছিল , যার বাচ্চাটা নষ্ট করল। শুধু আমার সাথে না ও এমন অনেক ছেলের সাথে করেছে। তাই আমার বাড়িতে থাকবে ওকে আমি ছেড়ে দিচ্ছি না শুধু বাবার ভাগনি বলে। তানা হলে ও যা করেছে তাতে ওর মতো মেয়ে স্বামীর সংসার করতে পারবে না।
কাদের মোল্লা : নাজিম কান্তাকে রাখবে এইটাই আমার জন্য অনেক , আজ যদি ও ডিভোর্স নিয়ে যেতো । তাহলে ওকে কখনোই আমি বাড়িতে যায়গা দিতাম না , তাই কান্তা যা পাপ করেছে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে এখানে থেকে।
আবিদা: তুমি এইটা কি বলো , আমি আমার মেয়েকে এখান থেকে নিয়ে যাবো।
কাদের : যাও নিয়ে তাহলে তোমাকেও এখানে থাকার ব্যবস্থা করছি , তোমরা মা , মেয়ে মিলে আমার ছেলে ও বৌমার জীবন বিষিয়ে তুলেছো। তাই আর মুখ বন্ধ রেখে থাকবো না , শুধু তোমার বড় ভাইয়ের জন্য চুপ ছিলাম , তানা হলে কবেই তোমাকে বিদাই করতাম।
তখনি সেখান গিয়ে আজিম যেতে নেয় , ছোটো ভাইজান আপনার সাথে কথা আছে। আজিম দাঁড়িয়ে দেখে বোনের জামাই তাই কিছু না বলে আবারো চলে যেতে নেয়।
দাড়ান ভাইজান আপনি হয়তো আপনার বোনের কারনে আমার সাথে কথা বলতে চাইছেন না। আজ আপনাকে একটা কথা যানাতে চাই , ম*রার আগে নিজের ভিতরের কথা গুলো বলতে চাই। আজিম দাঁড়ায় কিন্তু কথা বলে না , কাদের বুঝতে পারে তার কথা শুনার জন্য দাঁড়িয়ে আছে।
ভাইজান আপনার বোন ঐ দিন ছোটো ভাবীকে, ,,,
আবিদ : তুমি চুপ করো , এখানে কোনো কথা বলবে না।
কাদের আবিদাকে জোড়ে ধমক দেয় , আবিদা দমে যায়। সারাজীবন চুপ থাকা লোকটা হঠাৎ গর্জে উঠল কেন , কি হয়েছে কাদেরের । আজ ও কিছু বললে এই বাড়িতে আসাটা ওর জন্য কঠিন হয়ে যাবে।
ঐ দিন আপনার বোন ছোটো ভাবীকে কল করে বলেছে , যাতে সে বাচ্চাদের নিয়ে এই বাড়িতে না আসে। আপনাকে আবারো দেখে শুনছ বিয়ে করাবে , আর তৃপ্তি , তাহেরার থেকে ভালো বাচ্চা জন্ম দেইয়ে তাকে দেখাবে। আমি এই সত্যটা যানছি এক বছর হলো , যতো বার আমি আপনাকে বলতে কল করেছি আপনি ধরেনি , এমনকি বাড়িতে এসে ও পাইনি । সেই অভিমানে ভাবী হয়তো আর আসেনি , আমি আপনার বোনের নিষ্ঠুরতা দেখে অবাক হয়েছি।
আজিম কাদের মোল্লার কথা শুনে জমে যায় , বোনের সামনে এগিয়ে যায়। আবিদা ভাইকে ওর সামনে আসতে দেখে মাথা নিচু করে ফেলে , তাতেও রক্ষা পায়নি। আজিম ওকে কষিয়ে কয়েকটা থাপ্পড় মারে , তুই আমার ফাতেমাকে এইসব বলেছিস। তোদের কারনে আমি আমার এক সন্তানকে চিরতরে হারিয়েছি , বাকিদের বুদ্ধি করে তারিয়ে দিয়েছিস।
আমাকে এই জন্যই বার বার তোর ডিভোর্সী বান্ধবীকে বিয়ের কথা বলতি , কেনো এমন করেছিলি যাতে এই সম্পদ তোর মেয়ের জামাই আর তুই ভোগ করতে পারিস। আমি তোদের কথা শুনেছিলাম , আমি আমার সন্তানদের খুঁজছি দেখে তোদের কিছু বলিনি।
দেখ আজ সেই মেয়ের জামাই কেমন গোপনে সংসার পাতল , তোদের পরিনতি আমার চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে দেখিস। আমার বিচার যেমন আল্লাহ করছে তোদের সবার বিচার যেনো করে।
আজিজ: আবিদা আজকের পর থেকে তুই এই বাড়িতে আসবি না , যদি তোর মেয়ের সংসার করতে মন চায় তাহলে থাকুক। যদি ডিভোর্স দিতে মন চায় তাহলে আমি সেই ব্যাবস্থা করবো , আবিদা কিছু বলবে তখন কান্তা বলে।
আমি ওর মতো ছেলের সাথে সংসার করবো না , বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। কাদের মোল্লা আবিদাকে বাড়িতে যেতে বলে তবে মেয়েকে বাড়িতে উঠালে ওকে ডিভোর্স দিয়ে এখানে পাঠিয়ে দেবে।
কান্তা গিয়ে ওর নতুন কিছু বান্ধবী ও বন্ধুদের বলে ওরা ওকে বাড়িতে থাকতে দেয় , রাতে সবাই নেশা করে ওকে রেপ করে। পরে একটা ঘরে ফেলে রাখে সকাল ভোরে বান্ধবীরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে ফেলে আসে।
যখন ওর জ্ঞান ফিরে তখন দেখে ওর মা ওর সামনে !
আবিদা: মুখপুড়ি শেষে যা করলি তাতে মান সম্মান সব গেলে , এখন তোকে নিয়ে আমি কি করবো । তোর বাবা ভাই তোকে বাড়িতে উঠতে দিবেনা , যারা তোর সাথে এমনটা করেছে তাদের সবাইকে পুলিশে ধরেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে বুঝেছি ওরা তোর বান্ধবী ছিল , ওদের ধরতেই সব বেরিয়ে আসে। তুই ভালো হলে তোর মামা তোকে বাড়িতে পাঠাতে বলেছে , তাই এখান থেকে ছাড়া পেলে ঐ বাড়িতে যাস। কান্তা নিরবে চোখের পানি ফেলে , ওর জীবনটা কি থেকে কি হয়ে গেল। যাদের ভরসায় গেল তারাই ওর সর্বনাশ করে দিল , এখন কি নাজিম ওকে মেনে নিবে। নাকি ঐ বাড়িতে অবহেলা পাবে , তাছাড়া সেখানে রুপা আছে। ও হয়তো ওর বেঁচে থাকা হারাম করে দিবে , আচ্ছা ওর ভাইটা কি যানে না ওর বোন আরেক মেয়ের ঘর ভেঙ্গে সংসার পেতেছে।
নীলাকে আজ সাতদিন ধরে একটা ঘরে আটকে রেখেছে , নিয়ম করে এক বেলা মা*র জুটছে ওর কপালে।মারিয়া আজ ওর ঘরের ভিতরে ডুকে নীলা খেতে না পেয়ে আরো দুর্বল হয়ে পরেছে। নীলার সামনে গিয়ে ভেজা চুল গুলো সামনে এনে বসে।
নীলা বেগম কেমন আছেন , এতোদিনের সাজানো সংসারকে আমি তোমার অবস্থান কোথায় গিয়ে ফেলেছি বুঝছো।
নীলা: কে তুমি ? কেনো আমার বিরুদ্ধে আমজাদের কান ভাড়ি করছো? আমি তো তোমার সাথে খারাপ কিছু করেনি তাহলে কেনো আমার সাজানো সংসারটা নষ্ট করলে।
মারিয়া : হা হা হা নীলা ম্যাডাম , তুমি আমার এমন ক্ষতি করেছো যার ভরপায় তোমার জীবন কেড়ে নিলেও শোধ হবে না। তোমার কারনে আমি বড় হয়েছি পতিতালয়ে , সেখান থেকে বড় হয়ে সেইখানকার কাজে লাগতে হয়। কারন আমাদের মতো মেয়েদের এই সমাজে ভালো ভাবে বেঁচে থাকা যায় না , তোমার কারনে আমি ছোটো থেকে যা সহ্য করেছি তার কিছুটা হলেও তোমাকে ফেরত দিবো।
নীলা: কে তুমি আমি কি এমন ক্ষতি করেছি তোমার ?
আহা এখনি যানতে চেয়ে লাভ নেই , থাকি কিছুদিন তারপর তোমাকে যানাব। শোনো সতীন আজ আমজাদ আমাকে নিয়ে মার্কেটে যাচ্ছে , তোমার জন্য কিছু আনবো।
নীলা: লাগবে না যাও আমার সামনে থেকে , তোমাকে দেখলেই আমার ঘৃণা হচ্ছে। আমজাদ শেষে একটা পতিতাকে বিয়ে করল , আমার মাঝে কি কমতি ছিলো।
নীলা ম্যাডাম কমতি তো আছেই তোমার মাঝে , যানতে চাও কি ? তাহলে শোনো তোমার বয়স আর অতিরিক্ত প্যান প্যানানি । মারিয়া উঠতে উঠতে বলে তুমি চিন্তা করতে থাকো , রসুলপুর গ্ৰামে কার সাথে কি করেছিলে ।
রসুলপুরের নাম শুনে নীলা জমে যায় , মারিয়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে , এই মেয়ে কি তাহলে লিটনের কিছু লাগে। কার মেয়ে ওর বোনা নাকি বোনের মেয়ের , না না আমাকে আমজাদকে সব বলতে হবে ।
আমজাদ এসে মারিয়াকে নিয়ে শপিং করতে যায় , গহনার দোকানে ডুকে মারিয়ার জন্য গহনা পছন্দ করে । তখনি একটা বাচ্চা মেয়ে ওদের সামনে আসে , পিছন থেকে একটা পুরুষ , তাবিন্দা মাম্মা এখানে আসো বলে ডাকে।
নামটা শুনে আমজাদ চমকে উঠে , বাচ্চা মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে আরো চমকে যায়। ওকে দেখে মনে হচ্ছে তাবিন্দা ছোটো হয়ে ওর কাছে এসেছে , ও ছিটকে দুরে সরে যায়। তখনি ফিতরে দুটো মেয়ে প্রবেশ করে , আমজাদ দুটো মেয়েকেই চিনতে পারে । এতো বছর পরে নিজের বোনকে দেখে মুখ দিয়ে বেরিয়ে পরে মিতালী ,মিতালী আমজাদকে দেখে মুচকি হেসে পাশের চেয়ারে বসে।
আমজাদ বোনের দিকে তাকিয়ে থাকে , মুখ দিয়ে কথা বের করতে পারছে না। ভয়ে ঘামতে থাকে , তখন মিতালী ঘার বাকিয়ে বলে।
চিনতে পেরেছো আমাকে আমু ভাইয়া , অনেক বছর তো খোলা আকাশের নিচে নিঃশ্বাস নিলে এবার কিন্তু আসছি সকল হিসাব নিতে। তোমার ছেলে কিন্তু এখন অনেক বড় হয়েছে , তার মাকে এভাবে মে*রেছো শুনে , তোমাকে ধবংস করতে নিজেকে তৈরি করেছে। ঐ যে তৃপ্তির পাশের ছেলেটা তাবিন্দা ভাবীর ছেলে।
আয়মানের দিকে ভালো করে তাকায় , আয়মানকে দেখে আমজাদ আরো ভয় পেয়ে যায়। তরিগরি করে উঠে দাড়ায় , মারিয়ার সামনে গিয়ে বলে চলো এখান থেকে। বলে দুই পা এগুতে পারেনি জ্ঞান হারিয়ে পরে যায় , আমজাদকে পড়তে দেখে আয়মান বাকা হাসে।
যখন আমজাদের জ্ঞান ফিরে তখন সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে।মারিয়া ওকে চোখ খুলতে দেখে বলে ,
কি হয়েছে তোমার হঠাৎ জ্ঞান হারালে কেনো ?
মারিয়া ঐ মহিলা আর ঐ ছেলেটা কোথায় ?
কোন মহিলা ও ছেলের কথা বলছো , গহনা কিনে দিবে করে দোকানে গেলে তারপর কি দেখে যেনো উঠে দাঁড়ালে ।কাউকে কিছু না বলে আমাকে নিয়ে চলে আসতে নিলে তখনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলে।
তুমি কি যাতা বলছো ঐ খানে আমি মিতালী ও একটা ছেলেকে দেখলাম।
কে মিতালী?
আমজাদ কিছু বলতে চেয়ে চুপ রইল , এখন মারিয়াকে কি জবাব দিবে । ও তো দেখেছে ওদেরকে তাই আগে বের করে নিক ওরা আসলেই এসেছে নাকি। যদি এসে থাকে তাহলে তো ওর জন্য বিপদ , থানায় যাবার ভয় আর এই সমস্ত সম্পত্তি তাহলে হারাতে হবে। না না কিছুতেই আমি আমার সম্পদ ওদের হাতে দিতে পারব না , এই সম্পদের জন্য আমি এতো পাপ করছি , সেই সম্পদ কিছুতেই ওদের হাত লাগতে দিবো না। প্রয়োজনে এবারো শেষ করে দিবো , আচ্ছা ঐ ছেলেটা যদি আয়মান হয় তাহলে আমার জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যাবে।
এই ছেলে মাফিয়া জগতের আতঙ্ক , কাউকে শান্তি দিতে এই ছেলের একটু ও মায়া কাজ করেনা। বছির একটা মেয়েকে রেপ করেছিলো তার জন্য ওকে প্রতিটা অংশ কেটে কেটে মে*রেছে। ভাগিস ঐদিন আমি দেখেছিলাম , আমাকে ওর দূর্বলতা খুঁজতে হবে।
নিখিলের শালি ওদের সাথে কি করে আমাকে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে , মারিয়ার ডাকে ভাবনার জগত থেকে ফিরে আসে । বাড়িতে এসে নিখিলকে ডেকে বের করে , নিখিল বাবার সামনে আসে।
নিখিল তোমার শালি তৃপ্তি বেঁচে আছে তুমি কি যানো ?
নিখিল : কি বলো যা তা ওতো মা*রা গেছে প্রায় দশ বছর হতে চললো , আজকাল নেশা মনে হয় বেশি করছো।
আমি নেশা করিনি , ওকে আমি দেখেছি , সাথে তোমার ফুপুও ছিল।
কিইইই , দাঁড়াও আমি নায়নাকে জিঘাংসা করি।নায়না নায়না , নায়না ওদের মেয়ে লায়লাকে নিয়ে বের হয়ে আসে। নায়না তৃপ্তি বেঁচে আছে যেনেও আমাকে বলো নি কেনো?
কি যা তা বলছেন , ও মা*রা গেছে তুমি যানো না। ছোটো মা তো ওকে মাটি দিয়ে এসে আমাদের বলেছিল , তুমি আর নাজিম ভাই মিলে না খোঁজ করে দেখলে।
আমজাদ: ঐ দিন ওদের খোঁজ নেওয়াটা ভুল ছিল , তোমার বোন বেঁচে আছে আর ওকে আমি দেখেছি।
কি বলেন আব্বু , কোথায় দেখেছেন আমাকে বলেন আমি ওর কথা ছোটো বাবাকে বলি । তাহলে হয়তো ছোটো বাবা তার সব অভিমান ভুলে আমাকে ক্ষমা করে দিবে।
নিখিল : হ্যাঁ বলো বাবা কোথায় দেখছো? ঐ মেয়েকে পেলে এবার শিক্ষা দিয়ে ছাড়ব , এতো বছর বেঁচে থেকে আমাদের কি সুন্দর মিথ্যা বলেছে।
আমজাদ: আমি আগে খোঁজ নিয়ে দেখি তারপর বলবো।
কান্তা বাড়িতে আসে ওকে দেখে নাজমুন মুখ বেকায় , তখন ওর রুমে যেতে নিলে নাজিম বলে , তুই এখন থেকে নিচের ঘরে থাকবি। ওখানে রুপা ও আমার ছেলে থাকবে , কান্তা নাজিমের দিকে অবাক হয়ে তাকায়।
রুপা আমার রুমটাও কেড়ে নিল , স্বামী হিসাবে তোমার উচিত ছিল না ওকে নিয়ে নিচের রুমে থাকার। আমি তোমার প্রথম স্ত্রী সেই হিসাবে তো আমার অধিকার বেশি থাকার কথা তাইনা নাজিম।
হাসালি তুই , বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মনে ছিল না। এখন আসছিস অধিকার দেখাতে , তোর সব অন্যায় মাফ করে ।তোকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলাম কিন্তু , তুই কি করলি অহংকার দেখিয়ে চলে গেলি। ফিরে আসলি নিজের ইজ্জত নষ্ট করে , অবশ্যই তোর জন্য এগুলো ব্যাপার না। এর আগে নিখিলের সাথে করেছিস , এখন না হয় এক সাথে কয়েকজনের সাথে হয়েছে । মন চাইলে থাক তানা হলে চলে যেতে পারিস , এমনিতেই তুই এখন আমার গলায় কাঁটার মতো হয়ে আছিস।
কান্তা নিরবে এই অপমান সহ্য করে , কি বলবে আজ যদি বাবার বাড়িতে ঠাই হত তাহলে ওকে দেখে নিত।
আজিম বাহিরে বের হয় তখনি সামনের বাড়িটির দিকে তাকায় , তখনি দেখে ফাতেমা একটা ছোটো মেয়েকে নিয়ে গেইটের সামনে থেকে কি যেনো কিনছে।ফাতেমাকে দেখে আজিম অবাক হয়ে যায় , নিজেকে দমাতে না পেরে চিৎকার করে ফাতে বলে উঠে।
কারো ডাকে ফাতেমা তাকায় , আজিমকে দেখে জমে যায়। ওকে আসতে দেখে নাতনিকে নিয়ে ফিতরে ডুকে পরে , তখনি আজিম চিৎকার করে ওকে ডাকতে থাকে। বাড়ির ভিতরে যেতে চাইলে গার্ডরা তাকে ডুকতে দেয়না , আজিম উপায় না পেয়ে বাড়িতে আসে।
আজিজ বসে খবরের কাগজ পড়ছে আজিমকে এভাবে আসতে দেখে চমকে যায়।আজিম কি হয়েছে কাঁদছিস কেনো।
ভাইজান সামনের বাড়িতে ফাতেকে দেখেছি , ওটা কার বাড়ি ? ফাতে এখানে কেমন করে এলো আমাকে যানতেই হবে?
বাড়িতে এসে ফাতেমা সোফাতে বসে হাপাতে থাকে , আয়মান তাকে এভাবে দেখে কাছে আসে।মামনি কি হয়েছে ?
জামাইয়ের ডাকে তার দিকে তাকায় , আয়মান বাবা আজিম আমাকে দেখে ফেলেছে ।
তাতে কি হয়েছে মামনি , আপনি কোনো পাপ করেন নি যে পালিয়ে বেড়াবেন। আপনি ওদের দেখিয়ে দেন ওদের ঐখান থেকে বেরিয়ে এসে ভালো আছেন , একা হাতে আপনি ওদেরকে মানুষ করেছেন। আমি চাই আপনি তাদের মুখোমুখি হন , তাই কাল বাড়িতে ওদের সবার দাওয়াত রাখছি , যাতে সবাই দেখে আপনি কতো ভালো ভাবে বেঁচে আছেন।
তাহেরা তাবিন্দার সাথে গেইম খেলছে , মিরাফ সেখানে গিয়ে হাজির হয় । মিরাফকে দেখে তাহু লজ্জা পায় , চলে যেতে নিলে ওর হাত ধরে আটকায়। প্লিজ তারা একটু দাঁড়াও আমার কিছু কথা আছে , তারা ডাক শুনে তাহু অবাক হয়ে যায়।
আমি তোমার সাথে সংসার বাধতে চাই , জীবনে প্রথম কোনো মেয়েকে দেখে মনের মাঝে রংধনুর ছোঁয়া লেগেছে।আমি যানি তুমি সহজে আমাকে বিশ্বাস করতে পারবেনা তোমার অতীতের জন্য। শুধু বলবো সব পুরুষ এক হয়না , তোমার বাবার মতো পুরুষ যেমন আছে তেমনি আমার ভাইয়ের মতো পুরুষ ও আছে। আমি সব সময় আমার ভাইয়ের আদর্শ মেনে চলেছি , যদি আমি ভবিষ্যতে তোমার সাথে এমন করি তাহলে তোমার আগে আমার ভাই আমাকে শান্তি দিবে।
প্লিজ কথা বলো তোমার নীরবতা আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে , তুমি যদি চাও তাহলে আমার সমস্ত সম্পত্তি তোমার নামে করে দিবো তার পরেও আমাকে ফিরিয়ে দিও না। আমি তোমার সাথে ঝগড়া করতে করতে প্রচুর ভালোবেসে ফেলেছি।
তাহেরা: যদি স্বামী পর হয়ে যায় তাহলে সম্পদ দিয়ে কি করবো , আমি ভালোবাসার কাঙ্গাল। তাই আমি এই ব্যাপারে কিছুই বলবো না , যা বলার আমার দুলাভাই বলবে। সে যদি রাজি থাকে তাহলে আমার আপত্তি নাই।
ইসসস দিলে তো আমাকে বাজিয়ে , তোমার দুলাভাই আমার হাড় চিবিয়ে খেয়ে পড়ে রাজি হবে। এতো বছর তাকে জ্বালিয়েছি এখন তার সুযোগ সে আমাকেও জ্বালিয়ে খাবে।
ভালো করবে , কেনো দুলাভাইকে জ্বালিয়েছেন , এখন হাড়ে হাড়ে টের পাবেন।
শোনো মেয়ে তোমার দুলাভাই বেশি জ্বালালে তার শালিকে তুলে নিয়ে যাবো , তখন কি করবে তোমার দুলাভাই।
আয়মান: মেয়েকে নিতে এসে ভাইয়ের কথা শুনে ,পিছন থেকে এসে ঘারে হাত দিয়ে বলে।জানের কথায় মনটা একটু নরম হয়েছিল , ভেবেছিলাম মাকে বলে কালকে তোদের বিয়ে দিয়ে দিবো। এখন তোর কাছে ভুলেও আমার শালিকে দিবো না , দেখি তুই কিভাবে আমার বাড়ি থেকে আমার শালিকে তুলে নিস। চলে আসো তাহু ,ওকে একটু শান্তি দিয়ে নিই।
মিরাফ: তুমি আমার সাথে এইটা ঠিক করছো না ভাইয়া , আমি পুতুল বৌকে বলবো। আমার পিছনে লাগতে আসলে তোমাকে পুতুল বউয়ের পাশে ঘুমানো ভুলিয়ে দিবো।
আমাকে ভয় দেখাস , দেখি জান কার কথা শোনে তোর না আমার।এতো বছর আমাকে জ্বালিয়েছিস এখন আমার পালা।
এইটা ঠিকনা ভাইয়া , তখন আমি বুঝতাম না। তাছাড়া তুমি এই বুড়ো বয়সে আমার সাথে এমনটা করবে , বাড়ির সবাই কি ভাববে।
সেইটা আমি দেখবো তোকে ভাবতে হবে না , আমি মার সাথে কথা বলেছি। মাও আমার পক্ষে আছে।
এই তারা তুমি রাজি হয়ে যাও প্লিজ , এক বছরে তোমাকেও জমজ সন্তানের মা বানাবো।
আয়মান মিরাফের কথা শুনে হা হয়ে গেলে , তাহু লজ্জায় কারো দিকে তাকাতে পারছে না।
তৃপ্তি: তাহু বেরিয়ে আয় , দুই ভাই মিলে যা শুরু করছে তাতে ওদের সাথে থাকা সম্ভব না।
পুতুল বৌ দেখোনা তোমার মান আমার সাথে বেশি বেশি করছে , বিয়েতে মত দিলে কি হয়।
তোমাদের কারো সাথে আমরা দুবোন নাই , মান তুমি ও এখন ছোটো হয়ে গেলে। ওর সাথে কেনো লাগছো , নিচে চলো মা তোমাকে ডাকছে।
আয়মান: জান তুমি এভাবে বলতে পারো না , ওর হয়ে কিন্তু কথা বলছো। ও আমাকে কি পরিমানে জ্বালিয়েছে সেটা তুমি যানো না ?
যানি , এখন ওর সাথে তাই করবে নাকি ?
তাই করবো ,তানা হলে বুঝবে কেমন করে আমার কতোটা কষ্ট হয়েছে।
উফফফ মান চলো তো , এই পাজি চলো নিচে।
ও যাবে কেনো ,ও তো সুযোগ খুঁজছে আমার শালিকে প্রেম নিবেদন করতে।
আপু চলো তো নিচে আন্টি ডাকছে , চলো শুনে আসি।
মিতালী : নিচে সবাই এসে বসে ,শোনো আগামী সপ্তাহে তোমার বাবা, বোন , বোনের জামাই আসছে তখন বিয়ের কাজটা সেরে ফেলবো। এই এক সপ্তাহ শপিং করে এগিয়ে থাকি।
বিয়ের কথা শুনে তাহু লজ্জা পেয়ে চলে যায় , মিরাফ ও লজ্জা পাওয়ার ভান করে উঠে যায়। আয়মান তৃপ্তিকে বলে,
ওর দিকে নজর রাখবে বিয়ের আগে যেনো তাহুর সাথে সময় কাটাতে না পারে , তৃপ্তি পিট পিট করে আয়মানের দিকে তাকিয়ে থাকে। শোন ছোটো ভাইয়ের পিছনে লাগতে নেই , তোমাকে এই সবে মানায় না।
আমাকে কিসে মানায় জান , যদি বলতে তাহলে আমি সেই ভাবেই চলতাম।
আগের মতো পেঁচা মুখো, কপাল কুঁচকে থাকা মানকে বেশি মানায়।
তোমার মতো প্রেমবতীর প্রেমে পড়ে আমি চঞ্চল , রোমান্টিক ম্যান হয়ে গেছি। তার উপরে একটা মাম্মা এনে দিয়েছো এখন চাইলেও কপাল কুঁচকানো আয়মানকে দেখতে পারবেনা।
পরের দিন শেখ বাড়ির সবাই দাওয়াত এসেছে সামনের মহল থেকে দাওয়াত দিয়েছে তাই, সবাই সেখানে যায়। আজিম ড্রয়িং রুমে বসে হাসফাস করছে কখন ফাতেমাকে দেখবে।মিতালী বেগম সবার সাথে কথা বলছে , আজিম কিছুই খাচ্ছে না , শুধু মিতালী বেগমের নাতি নাতনীকে দেখতে চাইছে।
নাস্তা খাওয়ার পরে তৃপ্তি আসে আয়মানের সাথে , তৃপ্তিকে দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়।
নাজিম : তৃপ্তিকে দেখে নাজিমের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে , ভাবে এই মহলে ও কি করে । তাছাড়া ও বেঁচে আছে , তৃপ্তি তুই বেঁচে আছিস?
তৃপ্তি বসতে বসতে বলে হ্যাঁ তোমাদের দুভাগ্য আমি এখনো বেঁচে আছি। তা কান্তা শুনলাম তোর স্বামী তোকে রেখে আবার বিয়ে করছে , সেই ঘরে নাকি কয়েক দিন হলো সন্তান হয়েছে। এই ছেলেটার জন্যই তো আমার পিঠ পিছে ছুড়ি মে*রেছিলি , আজ এই ছেলে তোর পিঠ পিছে ছুড়ি মে*রে দিল।
আজিম: তৃপ্তি মারে তুই বেঁচে আছিস , তোর মা কোথায় , ওকে বল আমার সামনে আসতে। তোদের ছাড়া আমি এতো বছর ভালো ছিলাম না।আমার তাহু, ফারু কোথায় রে , আমাকে ক্ষমা করে দে মা হু হু হু। তোর মাকে ফিরে আসতে বল , ও যানেন আমার রাগ বেশি । কি হতো ওর নাম্বারটা চালু রাখলে , আমি কতো কল করেছি কিন্তু প্রতিবারি বন্ধ দেখাচ্ছিল।
ফাতেমা: কেনো আপনার বোন আপনাকে বিয়ে করায়নি , আমার সন্তানদের থেকে আরো ভালো সন্তান নাকি জন্ম দেওয়াবে। তাহলে আমাদের ছাড়া ভালো থাকলেন না কি ভাবে , ভাই বোনের ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে । আমাকে তালাক দিয়ে বাচ্চাদের সহ বের করতে একটু ও বুক কাঁপে নি , তাহলে ভালো কেনো থাকলেন না। স্বামী স্ত্রী ঝগড়া হয় তাই বলে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় না।
আজিম ফাতেমার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় , ও আগের মতোই আছে শুধু চুলে একটু পাক ধরেছে। ফাতু আমাকে ক্ষমা করে দাও , ফিরে চলো আমাদের ঘরে।
হাসালে আজিম , ঐ বাড়িতে ঐ ঘরটা কখনোই আমার আপন ছিল না। যেই মানুষটার ভরসায় ছিলাম সেই মানুষটাই কখনো আমার আপন ছিল না , তার আপন বলতে ছিল তার ভাই , বোন। আর ক্ষমার কথা বলছেন , যেটা হয়তো এই জীবনে আর হবে না। আপনাকে ক্ষমা করলে আমি যেই সব দিনের কষ্টের কথা ভুলে যাব কেমন করে। বাবার টাকা থাকতে আমার সন্তানেরা টিউশন করে সংসার চালিয়েছে , দুটি টাকা বাঁচানোর জন্য পায়ে হেসে চলাফেলা করছে।
এতোগুলো বছর অভাবের সাথে যুদ্ধ করে আমার সন্তানেরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। যেই সময়টা আপনাকে ওদের অনেক প্রয়োজন ছিল , আপনি কখনোই ভালো বাবা ,না ভালো স্বামী হতে পেরেছেন। ভালো ভাই হতে গিয়ে আমাদের হারিয়েছেন।
আজিম: প্লিজ ফাতে আমাকে ক্ষমা কর , তোমাদের সাথে থাকতে দাও।
আজিজ: ছোটো বউ আমার আবদারের কারনে আমার ভাইয়ের সংসার নষ্ট হয়ে গেছে , আমার ছেলে মেয়ে মিথ্যে বলেছিল যার কারনে আমি আমার ভাইকে জোড় করে এসব করতে বলেছিলাম। ফিরে চলে তোমার সংসারে , আমাদের ক্ষমা করে দাও।
ফাতেমা : চাইলেই আপনাদের আমি ক্ষমা করতে পারিনা , তাছাড়া আপনার ভাইয়ের সাথে আমার মুখে তালাক হয়েছে। তার সাথে কাগজে কলমে তালাক হওয়া বাকি , আর বাড়ির কথা বলছেন। সেটা আমার কোনো কালে ছিল না , আর না হবে। আপনাদের সম্পদের প্রতি আমার সন্তানদের কোনো লোভ নেই , জিঘাংসা করেন ওরা যাবে কিনা ।যদি যায় আমি বাধা দিবো না , ওরা ওদের বাবার বাড়ি যেতেই পারে।
ফারিশ: মাআআআ আমাদের বাড়ি তোমার সাথে , আমাদের বাবা তুমি মা ও তুমি। এতো কষ্টের মাঝে কখনো আমাদের ছেড়ে যাওনি , এখন আমরা উপার্জন করতে শিখেছি বলে চলে যাবো। ভুলে যাবো এই লোকটা আমাদের সাথে কি করেছিল , আমি তাকে কল করেছি সে তার বোনকে দিয়ে আমাকে কি বলিয়েছিল মনে আছে।
আজিমের মনে পড়ে যায় , ফাতে যাওয়ার পরে ফারু ওকে কল করেছিল তখন রাগের মাথায় আবিদাকে দিয়ে ওকে বলিয়েছিল যাতে আর কখনো একে বাবা বলে পরিচয় না দেয়।
ফারু বাবা আমি তো রাগের মাথায় ঐসব বলেছিলাম, ঐসব মনে রেখে আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবি।
ফারিশ: আমার এ বয়সটাই ছিলো আপনার হাত ধরে বড় হওয়ার , কিন্তু আপনি ও আপনার ভাই বোন মিলে আমাদের সুন্দর শৈশবটা নষ্ট করেছেন। আপনার কারনে আমরা আপুকে হারিয়ে ফেলে ছিলাম ,আপুকে হারিয়ে আমার মা পাগল হয়ে গিয়েছিল ।অভাবের সংসার তার মধ্যে দুটো ছেলে মেয়েকে নিয়ে আমার মা দিনরাত কষ্ট করেছে। কখনো এক বেলা খেয়ে আমরা দিন পাড় করেছি , এখন বলছেন আপনাদের ক্ষমা করে দেই।
স্বামী ছাড়া এই সমাজে একটা মহিলা তার দুটি সন্তান নিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষের কথা শুনেছে।আপনাদের ভয়ে আমরা নিজেদের পরিচয় পর্যন্ত ভালো ভাবে প্রকাশ করতে পারিনি। কি দোষ ছিল আমার মায়ের তার মেয়েকে শকুনের নজর থেকে বাঁচাতে চেয়েছিল। শুনেছি বাবা নাকি মেয়েদের খুব কাছের থাকে , মেয়েরা বাবাকে তাদের সুপার হিরো ভাবে।
তাহলে আমার বোনদের জীবনে বাবা সুপার হিরো না হয়ে ভিলেন রুপে কেনো ধরা দিল। কেনো আমার বোন নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট হয়ে স্মৃতি হারিয়ে নিজের পরিচয় খুঁজে বেরিয়েছিল।
নাজিম ভাই তুমি তো আমাদের ভাই ছিলে, ছোটো থেকে তোমার সামনে আমরা বড় হয়েছি। সেই তুমি সম্পদের জন্য ফুপির সাথে হাত মিলিয়ে এমন একটা কাজ করলে , একটুও কি ভিতর থেকে খারাপ লাগে নি।
নাজিম মাথা নিচু করে আছে , কারন ফারিশ যা বলেছে তা সত্যি।আবিদা ফুপুর সাথে মিলে ও এমনটা করেছে , তাছাড়া কান্তার কথায় তৃপ্তির সাথে সম্পর্ক চালিয়ে গেছে। শেষে নিখিলের সাথে মিলে তৃপ্তির জীবটা নিয়ে খেলেছে , আজ কান্তা ওর সাথে প্রতারনা না করলে হয়তো বুঝত না।
আমজাদ পাগলের মতো আয়মানের অবস্থান যানতে চাইছে কিন্তু পারছে না , এদিকে ওর সাথে যারা শেয়ারে ব্যবসা করত সবাই নিজেদের শেয়ার কারো কাছে বেঁচে দিবে। যদি পারে তাহলে তাকে সেই শেয়ার কিনতে বলে , কিনতে চাইলে ব্যাংক লোন নিতে চায় তখনি যানতে পারে এই সম্পদের আসল মালিক সে নয় ।তাই ওকে লোন দেওয়া হবে না , আমজাদ বুঝতে পারে এই সব কিছু আয়মান করেছে।
বাকি পর্ব পড়ুন-





















