ক্ষতের দাগে আলো ডুবে যায় দেয়ালে
চৌধুরী রুহাশ
শব্দরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। রাত আসে — নিঃশব্দ, স্তব্ধ, ভারী। অন্ধকার শুধু দেখা যায় না, অনুভব করা যায় — হাঁটে, ঘুরে বেড়ায়, আঘাত করে নিজের ছায়ার মতো।
বিগত ক্ষতগুলো শুকিয়ে যায়। কিন্তু শুকানো মানে সারা নয়। দাগ থাকে। আর সেই দাগ কেউ দেখে না — শুধু ব্যথা নিজেই চেনে, চায়ের কাপের উষ্ণতার মতো, যে উষ্ণতা বলা যায় না কিন্তু ভোলাও যায় না।
কিছু প্রশ্ন আকাশে ঝুলে থাকে — উত্তরহীন, অসমাপ্ত। কিছু নাম গলার কাছে আটকে থাকে — উচ্চারণ হয় না, তবু ডুবে থাকে নীরবতার গভীরে। রাতের বুক চিরে চাঁদ নামে না। দেয়ালে শুধু জমে থাকে আর্তনাদ — যে আর্তনাদের শব্দ নেই, শুধু ভার আছে। আলো আসে, কিন্তু দেয়ালে এসে ডুবে যায়। পৌঁছায় না।
চোখের কোণে বসবাস করে বলা-না-বলা ভয়। নিজের সাথেই যুদ্ধ চলে — প্রতিটি নিঃসঙ্গ মুহূর্তে, প্রতিটি শ্বাসের ভাঁজে জমে থাকা অভিমানে। ক্লান্ত পা থামে না — কারণ থামলে হয়তো আর ওঠা হবে না।
কিছু যন্ত্রণা শেখায় চুপ থাকতে। কিছু ভালোবাসা হারিয়েও ফাঁকা হয় না — বরং ভেতরে ভেতরে ভরে থাকে, বোঝা হয়ে, স্মৃতি হয়ে। দিন আসে। যায়। নতুন কিছু নেই। পুরনো কষ্টই রঙ বদলায় — কখনো ধূসর, কখনো গাঢ় নীল, কখনো সেই পোড়া রঙ যার নাম জানা নেই।
রাত বাড়ে। মনও বাড়ে নিজের সঙ্গে দ্বন্দ্বে। ভাঙা স্বপ্নগুলো জোড়া লাগে — অভ্যাসে, বাধ্যতায়, বেঁচে থাকার নিয়মে।
তবু।
গভীর আঁধারের ভেতরেও একটুকু আলো থাকে। লুকিয়ে। নিভু নিভু। সে আলো জ্বলে না — টিকে থাকে। আর ভাঙা মন জানে — অন্ধকারই শেষ নয়। সব অন্ধকার হার মানে না, কিন্তু জীবনও হার মানে না।
চুপচাপ এগোয় সময়। স্মৃতি থামায় না চলা — শুধু সঙ্গ দেয়। নাম-না-জানা কষ্টগুলো শিখিয়েছে সহন করতে। আর ভাঙা রাত পেরিয়ে — প্রতিটি ভাঙা রাত পেরিয়েই — ভোর আসে। নতুন না হলেও, নিজের।

















