না পাঠানো চিঠি

 

হুসাইন আহমাদ 

মা কেমন আছো তুমি?

আব্বাজান কেমন আছেন?

আইজ সাহরিতে কি খাইছো?

ইফতারই বা করছো কি?

আব্বাজান কি এহনও ইফতার হরতে মসজিদে যায়ন?

নাকি বাড়িতেই হরেন? 

আব্বাজান ইফতার করতে মসজিদে গেলে-

তুমি কি ঠিকঠাক মতো ইফতার করো?

নাকি হাঁস-মুরগি ধরতে ধরতে কোনোমতে পানি মুখে দিয়ে নাও।

আমার না খুব ইচ্ছা করে তুমাগো সাথে ইফতার হরতে।

কিন্তু কি হরার, 

জিবিকার তাগিদে রমজান মাসটাও তোমাগো ছাইড়ে-

কতো দুরে কাটায় দিতে হয়। 

মা আমি না এহন রোজ সেহরির সময় এ্যাল্লাই উইঠে যাই-

কেইরে ডাকতে হয় না।

কিন্তু বড্ড মিস করি তোমার সেই মায়া জরানো ডাক;

যহন বারবার ডাহার পরেও উঠতাম না-

তহন তুমি কয়তা, সময় কিন্তু আর বেশি নাই,

আব্বা গম্ভীর সরে তহন কোয়ে উঠতো ওরে ডাক দিওনা-

ও আইছকে নাখায়েই রোজা রাখফি।

আইজ খুব মিস করি সেই দিনগুলে মা,

যহন সাহরির সময় মোবাইলের ক্রিং ক্রিং আওজে ঘুম ভাঙ্গে,

নিজেরে বড্ড একা একা মনে ওয়ায়,

মনে পড়ে তোমাগো কতা।

মনে পড়ে তোমাগো সেই মায়া জরানো ডাক। 

আমার না খুব ইচ্ছে হরে মা-

তোমাগো সাথে এক প্লেটে ইফতারের পরে মুড়ি ভর্তা খাইতে!

আচ্ছা মা-

এহন কি প্রতিদিন মুড়ি ভর্তা করো?

আব্বা কি এহনো প্রতিদিন ইফতারের পরে চার দোহানে যায়?

আর তুমি বকতে থাহো-

রোজার দিনে ইফতারির পরে মানুষ একটু রেষ্ট নেয়,

তা না প্রতিদিন চার দোহানে যেতেই হবে।

তোমাগোরে বড্ড মনে পড়ে মা,

তোমাগো ছাইড়ে দুরে থাকতে মনে চায়না,

পরিশেষে দোয়ার দরখাস্ত, 

আর আব্বারে আমার সালাম দিও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *