পৃথিবীটা মায়ের থেকেও ছোট

চৌধুরী রুহাশ

পৃথিবীটা মায়ের থেকেও ছোট—
মা তো জলের মতো,
নিঃশব্দে বয়ে যায়, তবু সব তৃষ্ণা মেটায়,
সব দহন নীরবে মুছে দেয়।
ছোটবেলায় মায়ের কোলে শুলে
মনে হতো পৃথিবীটা অনেক ছোট—
শুধু এই কোল, এই গন্ধ, এই শব্দ,
মায়ের বুকের ভেতর ঘুমিয়ে পড়া।
বাইরে ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক—
মায়ের আঁচলের ভাঁজে
সব ভয় চুপ করে থাকত।
মনে পড়ে, জ্বর এলে মায়ের হাত
কপালে রাখত ঠান্ডা হয়ে—
সেই হাতের কথা পৃথিবী জানে না,
পৃথিবী শুধু ঘোরে, থামে না।
মা থামতেন।
আমার কান্নার শব্দে থামতেন,
আমার ঘুমের নিঃশ্বাসে থামতেন,
আমার না-বলা কথাগুলো
তিনি শুনতেন নীরবে।
পৃথিবীর আছে সীমানা, মানচিত্র, মাপজোক—
মায়ের নেই।
ভূগোল জানে কোথায় সমুদ্র শেষ হয়,
কিন্তু মায়ের ভালোবাসা কোথায় শেষ-
সে প্রশ্নের উত্তর কোনো দার্শনিক দেননি।
আমি খুঁজেছি বইয়ে, আকাশে, নিজের ভেতরে—
পাইনি।
শুধু দেখেছি, মা রাত জেগে বসে আছেন,
যেন পৃথিবীটাকে একা ধরে রেখেছেন
দুই হাতের মুঠোয়।
এখনো মাঝে মাঝে ফিরে যাই
সেই কোলে, সেই আঁচলে,
সেই হাতের কাছে যে হাত
এখনো কপালে রাখে ঠান্ডা হয়ে।
মা আছেন—
তবু ভয় হয়,
একদিন যদি এই ছোট্ট পৃথিবীটা
হঠাৎ অনেক বড় হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *