আলো যার স্বরে, রেখা যার স্পর্শে

পংকজ পাল

তুমি এসেছিলে সময়ের সেরা হয়ে
শুধু কাগজের পাতার লেখক হয়ে নয়,
তুমি এসেছিলে সময়ের মতো,
শব্দ হয়ে ওঠার আগেই যার নিজস্ব ছন্দ আছে।

তোমার কলমে বাংলা পেয়েছিল প্রথম আয়না,
যেখানে নিজেকে দেখে—
ভাষা, প্রেম, প্রতিবাদ, প্রকৃতি,
সব একত্রে দাঁড়ায়:
একটি আকাশের নিচে।

তুমি গানকে শিখিয়েছিলে,
কীভাবে নিঃশব্দতাও সুর হতে পারে।
একটি পল্লব দুললেই—
তোমার “আমারো পরাণ যেন” বাজে,
সেই পল্লব আর গান আলাদা নয় তখন।

তুমি চিত্র এঁকেছিলে—
বর্ণ নয়, রেখার মধ্যে আত্মা খুঁজে;
আমরা এখনো রঙ খুঁজি রেখার গভীরে,
আর বারবার দেখি:
তোমার না বলা কথারা ক্যানভাসে হাঁটে।

তুমি নাট্যকার, তুমি সম্পাদক,
তুমি শিক্ষার বুনন-কারিগর,
তুমি ছিলেন সেই কবি—
যিনি বিদ্যালয় বানালেন বৃক্ষের নিচে,
আর বললেন—
“জ্ঞান যদি আকাশ হয়, তার শিকড় হতে হবে মাটিতে।”

আমরা যখন এখনও সাহিত্যে “মানুষ” খুঁজি,
তোমার গল্প, কবিতা, চিঠি—
সব আমাদের চালিয়ে নেয়,
যেন আলোর ভেতর দিয়ে ছায়া বোঝার পথ।

রবীন্দ্র,তোমাকে কোনো একটি ধারায় বাঁধা যায় না—
তুমি ছড়িয়ে গেছো,
গানের কমলে, নাটকের গদ্যে,
বাউলের চোখে, নগরীর ঘ্রাণে,
একটি জাতির হৃদয়ে তুমি
চিরকালের শিল্প।

তোমার জন্মদিনে শুধু ফুল নয়,ধূপ নয়,
আমি বলি একটি শব্দ,
যেটি তুমি শিখিয়েছিলে—
‘সত্য’।
সেই সত্যেই তুমি বেঁচে আছো—
কাগজের অতীত হয়ে,
কালের দীর্ঘতম আগামী হয়ে ৷

“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *