হাসাদ : অন্তরের ব্যাধি

উম্মে আম্মার বিনতে হোসাইন : আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে নানান স্বভাবের মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়, চলাফেরা করতে হয়। আবার নানানরকম মানুষজনও দেখতে পাই, যারা ভিন্নমতের। তবে আমাদের মাঝে এমন অনেক মানুষ আছে যারা অন্যের ভালো কিছু দেখলে সহ্য করতে পারেনা, অপরের ভালো দেখলে খারাপ চেয়ে বসে। আরবিতে এটাকে হাসাদ (حسد) বলে। যার অর্থ হিংসা, ঈর্ষা বা পরশ্রীকাতরতা। হিংসা এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে কেউ অন্য কারো সুখ, সম্পদ, নিয়ামত বা যোগ্যতা দেখে কষ্ট পায় এবং কামনা করে যে, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে তা হারিয়ে যাক বা নষ্ট হয়ে যাক। মানবজাতির এই হিংসা প্রবণতা এক প্রকার ব্যাধি।
ইসলামে হিংসা (হাসাদ) করা হারাম এবং এটি কবিরা গুনাহ ও পাপের কাজ যা কালিমালিপ্ত করে আর সমাজে সৃষ্টি করে কলহ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, হিংসা নেক আমলগুলোকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে (ধ্বংস করে), যেভাবে আগুন শুকনো কাঠ পুড়িয়ে ফেলে” (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০৬)।

ঈমান আর হিংসা একসাথে থাকতে পারে না, সম্ভব না।
রাসূলুল্লাহ (সা.) হিংসা-বিদ্বেষকে ঈমান বিধ্বংসী ও অত্যন্ত ভয়াবহ ব্যাধি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমরা পরস্পরে বিদ্বেষ করো না, হিংসা করো না, ষড়যন্ত্র করো না ও সম্পর্ক ছিন্ন করো না”। হিংসা-বিদ্বেষ পোষন করাকে ইসলামের দৃষ্টিকোণে খুবই নিকৃষ্ট কাজ হিসেবে বিবেচিত। হিংসা মানুষকে ব্যক্তিগত জীবনে শুধু হেয় প্রতিপন্নই করে না বরং সামাজিক জীবনেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। কেননা সে কোনোকিছু দেখামাত্রই সে জিনিসের অধিকারী হতে চায়।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “কোন বান্দার অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্রিত হতে পারে না” (নাসাঈ)।

আর আল্লাহ তা’য়ালা হিংসাকারীকে পছন্দ করেন না। হিংসুকরা নিজের অজান্তেই রবের দেয়া নিয়ামতের শত্রু হিসেবে নিজেরা উপস্থাপিত হয়।
যে ব্যক্তি অন্যের নিয়ামত দেখে হিংসা করে, সে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে রবের করা বণ্টনের ওপর অসন্তুষ্ট হয়। ইরশাদ হচ্ছে, “আর তোমরা ওই জিনিস কামনা করো না, যা দিয়ে আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন”। লোকমান আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্রকে এসম্পর্কে বলেছেন, ‘হিংসুকের তিনটি চিহ্ন রয়েছে, পিঠ-পিছনে গীবতকরে, সামনা সামনি তোষামোদ করে এবং অন্যের বিপদে আনন্দিত হয়।’ (আল খেসালঃ১১৩)

পবিত্র কালামুল্লাহ মাজিদে হিংসুকের হিংসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে। হিংসা থেকে বাঁচার জন্য
রাসূল (সা.) হিংসা দূর করতে সালামের প্রচলন ও একে অপরকে হাদিয়া (উপহার) দেওয়ার নির্দেশ তথা উৎসাহিত করেছেন, যা পারস্পরিক ভালোবাসা তৈরিতে কার্যকর।

নিজের অন্তরে হিংসা আসলে তা দূর করতে আল্লাহর পবিত্র জিকির ও দোয়া একান্ত জরুরি। পরশ্রীকাতরতা পরিহার করে কীভাবে অন্যের সুখে আনন্দ পাওয়ার মধ্যে আছে অন্যরকম প্রশান্তি, যা রবের কাছ থেকে চেয়ে নিতে হয়।
ক্বলবে মুতমাঈন্নাহ অর্জনের জন্য এটি অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

মহান রব আমাদের সকলকে হিংসা-বিদ্বেষ থেকে হেফাজত করুন, দান করুন ক্বলবে মুতমাঈন্নাহ।

লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *