অদ্বৈতনিশীথ

উম্মেহাবিবা

আমি—বিবিক্ত,
হ্যাঁ—একান্তই নিভৃত এক তপোবনে,
মোর চেতনার গহীনে
এই -কৈবল্য’ই বড্ড প্রিয়।
ঘনকৃষ্ণ ঐ তমসাবৃত কক্ষ—
যেথা মৌনতা রচে
এক মায়াবী বিভীষিকা,
সেথা মোর আত্মিক প্রশান্তি
খুঁজিয়া পায় তার আদিম সোপান।
​যবে নিশীথিনী জাগে,
মোর বিবাগী মন
ধায় ঐ উন্মুক্ত গগন-অঙ্গনে,
শশধর-এর সাথে
রচে এক অলৌকিক -সংলাপ।
হস্তে মোর ধূমায়িত দুগ্ধ-সুধা,
যাহার ঊষ্ণ বাষ্পে
মিশিয়া যায় রজনীর হিম-কুহেলিকা,
আমি আর ঐ রূপালী গোলক—
দুই মেরুর দুই নিস্পৃহ পথিক,
পরস্পরে বাটিয়া লই
এক অখণ্ড হিরন্ময় মৌনতা।
​মোর বড্ড প্রিয়—
ঐ শব্দহীন জ্যোৎস্নার প্লাবনে
অনিকেত চরণে হাঁটা,
যেথা ছায়া লীন হয় ছায়ার গহীনে,
আর পৃথিবী ঘুমায়
তার স্থবির বিস্মৃতির ঘোরে।
সবই সুন্দর জোড়ায় জোড়ায়,
কিন্তু আমি আর আমার চাঁদ—
একান্ত -অদ্বৈত,
একান্তই রহস্যময়ী এক অনাদি আঁধার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *