একান্ত চাঁদ


উম্মে হাবিবা

নিখিল ভুবনে মিতালির মেলা, জোড়ায় জোড়ায় সজ্জা,
যুগলবন্দী প্রাণের হিল্লোল, ঘুচায় সকল লজ্জা।

তটিনী ধায় সাগরের পানে, মেঘে মেঘে চলে খেলা,
সবই সুন্দর জোড়াশালে বেঁধে রঙের আনন্দ মেলা।

​কিন্তু ওই যে গগন-ললাটে নিঃসঙ্গ মহীয়ান,
একাকীত্বের শুভ্র চন্দনে চাঁদ গায় মহাপ্রাণ।

সবার নয়নে সে সুধাকর, সর্বজনের প্রিয়া—
জোছনা বিলায় অকাতরে সে যে শান্ত শীতল হিয়া।

​সেখানে আমার আপত্তি নেই, চাঁদ হোক তবে সবার,
হাজার চাতক চাতকী করুক রূপের সে অভিসার।

কিন্তু আমার যে ‘চাঁদ’ আছে, হৃদ-গহীনে যার বাস,
তার তরে মোর আদিম তৃষ্ণা, একান্ত অভিলাষ।

​ভিন্নতা মোর এইখানে শুধু— সেই রূপ অনুপম,
স্পর্শ করবে না অন্য কেউ, সে যে মোর প্রিয়তম।

সবাই যাকে দেখে সে তো ওই আকাশের হিমকর,
আর আমার মানুষটি শুধুই আমার, একান্ত নিরুত্তর।

​তারে দেখার অধিকার আমি বিলিয়ে দিইনি কারো,
মোর অধিকারের প্রাচীর সেখানে সব থেকে সুউচ্চ আর গাঢ়।

চাঁদ না হয় সবার থাকুক, জোছনা বিলাক নীলে—
আমার ‘চাঁদ’টি রইবে গোপন, আমারই বক্ষ-তিল-এ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *