কথা রাখেনা

রানা সোহেল মেঘদূত

কেউ কথা রাখেনি
তেত্রিশ বছর কাটলো বলে যে আক্ষেপ তোমার,
মামা বাড়ীর নাদের আলীর কথা না রাখার যে অভিমান পুষে রেখেছো
বড় হতে হতে
যে মাথা  ছাদ ভেদ করে আকাশ ছুঁতে ছুঁতে দেখে যাচ্ছো
কথা না রাখার পসরা সাজানো
১০৮টি  নীল পদ্ম!
যে তিন প্রহরের বিল
এখন এপার্টমেন্ট শপিংমলে ঝিলমিল করে।
কথা না রাখার যে কালো ভ্রমুর খেলা করছে,,
কিংবা গোখরা সাপের ফনার ভেতর
যে কপটতা দেখেছো তুমি
সেই সব রাস উৎসবে শত শত
প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার
কথা না রাখা নৃত্য।
একদিন কথা রাখবে কেউ একজন
এই কাব্যকথা,,
রুমাল ছিঁড়ে সুতোগুলো গুমট
কান্নায় নকশী ঝরা জলে
ডুব খায়,,
ভালোবাসার রুমালে আর জমা হয়না আতরের গন্ধ।
তোমার তো এখন
টাকার গন্ধে ঘুম আসে না।
একলা জেগে রও।
সত্যিকারের ভালোবাসতে গিয়ে কত কপটতায় ক্লান্ত পথিকের বিমর্ষ কবিতা!
বিশ্ব সংসারে কত শত বিবর্ণ ফুলেদের গোঙানী,,
কেউ কথা রাখেনি।
বোষ্টুমী কি আর গান থামালো!
চলেই গেলো।
শুক্লা দ্বাদশীর দিন
কিংবা
কত অমাবস্যা কেটে কুটে চলে যায়
শত অন্তরা ভেঙে চুরে গুমট কান্নায় ডুব খায়,
কেউ কথা রাখেনি,
দুরন্ত ষাড়ের চোখে  যে লাল কাপড়টি
মরা অশ্থতের ডালে দুল খায়,,
হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে প্রানপণ ছুটে চলেছি আদিগন্ত  চৌচির মাঠ।
কেবল মাংসের গন্ধে
বুকের তাজা রক্তের গন্ধে
কামনার গন্ধে
কথা না রাখার উৎসবে
লাটি লজেন্স গলতে গলতে ম্লান।
তবুও কেউ কথা রাখেনি,দদ
বরুনা কিংবা সুনীল
কেউ কথা রাখেনা।
সুজাতার  অপেক্ষার দিনলিপিতে আজ আরেকটি মোমবাতির নিভু নিভু আলো।
তুমিই তো বলেছিলে গৌতম,
মন খারাপের জন্মদিনে
তুমি ফু দিয়ে নেভাবে মোমবাতিটি।
যে যুবক বলেছিলো-
যে হাত  ছুঁয়েছে নীরার মুখ
সে হাতে  কি কোনো পাপ করতে পারি?
সে যুবকের হাতে রক্তের ছাপ।
সে যুবকের হাতে দলিত গোলাপ।
যে যুবক বলেছিলো
শুধু কবিতার জন্য এ জন্ম
শুধু কবিতার জন্য কিছু খেলা,
সে যুবক এখন কবিতার আসর থেকে পলাতক।
যে যুবক বলেছিলো-
এক বছর ঘুমোবো না, এক বছর স্বপ্নহীন জেগে বাহান্ন তীর্থের মতো তোমার ও-শরীর ভ্রমণে পুণ্যবান হবো।
সে যুবক এখন নেশার ঘোরে
ঘুম ঘুম চোখে হাতে নেয় আরেক গ্লাস হুইস্কি।
মিথ্যে কথার ফুলঝুরিতে
কথা না রাখার প্রতিযোগিতায়
তুমি জয়ী।
কেউ কথা রাখে নি।
কেউ কথা রাখে না।
তুমিও।

তুমি ভালো থেকো।
ভালো থেকো তুমি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *