উপন্যাসের শেষ পাতায়

কাজী.এস.আর.রাশিদা

গোধূলির শেষ লগ্নে ক্লান্ত রবি যখন তটিনীর কোলে আশ্রয় খোঁজে
ক্লান্তি নাশে পোড়া পাঁজরের উষ্ণতা শীতল স্রোতে ধুয়ে নিতে
ঠিক তখনি বামপন্থী উপহাসে
নির্ঝরিণী হেসে ওঠে স্নানের বিপরীতে।

অলিখিত অলংকারে ছন্দের পতন
আঁধারে ছিল শূন্যতার কোলাহল
অচেনা শহরে যার পাড়ি ভিড় ঠেলে,
বিষাদের ঘ্রাণ ছুঁয়ে মৃদু হাসি
মৃত্যুর দোরগোড়ায় যমদূতের সাক্ষাৎকারে
উপন্যাসের শেষ পাতায় দেয় দিঠি হৃদছিঁড়া চাপা যন্ত্রণায়।

নিদারুণ করুণ হাসি
বালিশ চাপা কান্নায় কাঁপা আদৌ আদৌ শীতে
বেদনার গীতে
সমাপ্তির শেষ চিহ্নে অস্তমিত হয়
রক্তাক্ত সে রবি আঁধার জমা জ্যোৎস্নারাতে।

না না জ্যোৎস্না না
তা ছিল অমাবস্যার কালো রাত
পীড়াদায়ক বড্ড পীড়াদায়ক
কল্পে সাজানো উপন্যাসে ক্ষয় ধরে
নিয়মের বেড়াজালে
সে সুখ ছিলো না ভালে
তাই বয়ে যাওয়া স্রোতে তালে
নিশিকন্যা নিশিকান্তে ডুবে মরে
না বলা বিষাদের জ্বরে।

ভাগ্যের হাড়িতে
তেপান্তরের বাড়িতে
কঠিন আড়িতে
উপন্যাসের শেষ পাতায় শূন্যতার তরী
ক্লান্ত রবির বেদনাবিধুর আলিঙ্গন
উচ্ছ্বাসের দোরগোড়ায় নেয় নির্জনে কারাবাস।

উপন্যাসের শেষ পাতা অপ্রকাশিত থাকুক
নিরবে আগন্তুকের ভিড়ে
ল্যাম্পপোষ্টের মৃদু আলোতে মৃত্যুর করুণ হাসি
চাপা থাকুক পীড়াদায়ক ব্যাধিতে।
সবই গোলকধাঁধা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *