রানা সোহেল
আজ কেমন জানি হীম শীতল দেহটা।
কেমন জানি নিজেকে নিষ্প্রাণ ফডিঙের মতো,,
পড়ে থাকা শীতার্ত মমির মতো
মনে হয়।
মনে হয় আমি নেই
দেহটা কেবল পৃথিবীতে জায়গা দখল করে আছে।
প্রেমহীন জীবন বোধয় এমনই।
আমি ভালোবাসার আরাধ্যে কতরাত করেছি ধ্যান
জলরঙে ডুবে।
কত ভোর কেটেছে নিরব সংগীতে।
কত বিকেল করেছি প্রার্থনা
ভালোবাসার ফুলে ঘুরে ঘুরে।
আমি কত ক্রোশ হেটে হেটে খুজেছি
২১টি নীল পদ্ম।
কোনো একুশ বসন্তের প্রেমদেহের জন্মদিনে
সঁপে দেবো বলে।
কই আর নীল পদ্ম
কই আর একুশ বসন্তের প্রেম দেহ।
কেবলই দাহ কালের সংলাপে পদ্মগুলো গল্পের কালো অক্ষর হয়ে যায়।
প্রেমের পিপাসায় কাতর ডানায় চড়ে
কত হাজার
চাতকের কন্ঠে ঢেলেছি অশ্রুজল।
কত পাথরে ফুটিয়েছি তরতাজা গোলাপ।
কত জলে ভাসিয়েছি কাগজের নৌকা।
লাল নীল হলদে নৌকা।
একটু প্রেমের কামনায়।
সহস্র জ্বোনাকের মিছিলে আঙুল উঁচিয়ে
শীতল মুষ্টিতে দিয়েছি নিঃশব্দ শ্লোগান।
শত রাত্তীর নির্ঘুম বেদুঈন মনে
পদাতিক ক্লান্তির শহরে
টাঙিয়েছি কবিতার পোষ্টার।
একটু ভালোবাসার লোভে।
নিজেকে মৃত নগরীর মৃত পিরামিডে
খুজি।
নিজেকে মৃত বৃক্ষের মৃত নিঃশ্বাসে খুজি।
নিজেকে মরাগাঙের মৃত অতলে খুজি।
যদি প্রাণ পাই
যদি প্রাণ পাই
দেহটা যদি নড়ে উঠে উত্তাপে
দেহটা যদি কেঁপে উঠে স্পর্শে।
দেবে?
তোমার উত্তাপ
তোমার স্পর্শ।!!!
ফড়িঙের মতো প্রাণ পাবো আবার।
আবার ভালোবাসার কবিতায়
শুয়ে তোমারই নাম গাইবো,
আমি আবার প্রেমের বাঁশিতে
তোমার সুর বাঁধবো।
তোমাকে ভালোবেসে মহাকালের গর্ভে এঁকে দেবো ইতিহাসের শিলালিপি।
শিরোনাম দেবো তোমারই নাম।
বলো
তোমার নামটি?
বলো
সে তুমি কে??
সে তোমাকেই বানাবো
অধিকার,,,
আমার সমস্ত স্বপ্নজগত যাবে তোমারই অধিকারে।
আমার অপার্থিব সাম্রাজ্ঞ চষে বেড়াবে তুমি।
যেখানে আমি বেঁচে যাই।
আমার বেদীমূলে রেখো পা
আমার শহরে রেখো পা
আমার সীমানা দখল রেখো।
আমার সবখানে
সব কালে
আধিপত্য হোক কেবলই তোমার।।
যেখানে আমি দাঁড়াবো প্রাণবন্ত প্রেমে।
যেখানে ভালোবাসার চাষাবাদে আশাবাদ জন্মাবে নুতন একটা সুর,,
আদিগন্ত প্রেমের যৌথখামারে।
তোমার ভালোবাসা পেলে
আবার মানুষ পরিচয়ে বেঁচে যাবো
এই পৃথিবীর বুকে।

















